“এই ধর্মের নাম ডেমোক্র্যাটিক ধর্ম”


“এই ধর্মের নাম ডেমোক্র্যাটিক ধর্ম”

কিছুদিন আগে এক স্ট্যাটাসে বলেছিলাম- ওয়াল্র্ড ওয়াইড ডেমোক্র্যাটিক ব্লক সমাজের অনেকগুলো মতাদর্শীকে তাদের সাথে সংযুক্ত করতে পেরেছে। এর মধ্যে নাস্তিক আছে, আস্তিক আছে, সমাজতান্ত্রিক আছে, গণতান্ত্রিক আছে, আছে সাংবাদিক, ছাত্র, এনজিও, উকিল-বিচারক, নারীবাদী, সমকামী, পরিবেশবাদীসহ আরো অনেক গ্রুপ।
এই কাজটি করতে ডেমোক্র্যাটিকদের কিছু পলিসি করতে হয়। প্রথমে ডেমোক্র্যাটিকরা অন্য মতাদর্শগুলোর ডাইরেক্ট বিরোধীতা না করে তার মধ্যে নিজের কিছু পলিসি ঢুকায় দেয়, কিন্তু সেই পলিসিকে গুরুত্ব দেয়ার কারণে পূর্বেকার অনুসারীরা ঐ মতাদর্শের মেইন স্টি্রম থেকে সরে নিয়ে নতুন একটা ভার্সন চালু করে ফেলে। সেই ভার্সনটাই পরবর্তীতে যোগ দেয় ডেমোক্র্যাটিকদের সাথে।
এর আগে ‘মর্ডান মুসলিম’রা ছিলো ডেমোক্র্যাটিকদের অন্যতম অনুসারী। এবার নতুন করে তাদের দলে যোগ দিলো সোশ্যাল ডিসটেন্স পালনকারীরা। উল্লেখ্য, মুসলমানরা এর আগে কখন মসজিদে এমন দেড় মিটার দূরত্বে দাড়িয়েছিলো বলে আমার জানা নাই। বরং মুসলমানরা মসজিদে পরস্পর কাছাকাছি দাড়ানোটাই বাধ্যতামূলক মনে করতো। কিন্তু এবার সোশ্যাল ডিসটেন্স নামক বিভেদের বীজ ইসলামের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে ডেমোক্র্যাটিকরা। ফলে ছবির এই নামাজকে আপনারা মুসলমানদের নামাজ না বলে বরং ডেমোক্র্যাটিক ধর্মের উপসনা বললেই আমার মনে হয় ভালো হবে।

আসলে ডেমোক্র্যাটিকদের বড় অস্ত্র হচ্ছে মিডিয়া।
তারা মিডিয়ার নাম দিয়েছে গণমাধ্যম, যার অর্থ দাড়ায় জনগণের মাধ্যম।
বাস্তবে তারা জনগণের মাধ্যমের নাম দিয়ে নিজেদের বিশ্বাসগুলো জনগণের মধ্যে বিস্তার করে।

এক্ষেত্রে তারা দুটো পলিসি নেয়-

এক. সরকার প্রশাসনে চাপ দিযে তাদের পলিসিকে আইন হিসেবে তৈরী করে। কেউ না মানলেই তাকে শাস্তি দেয়। যেমন- আজকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে একটা মসজিদে নামাজের সময় মুসল্লীরা সোশ্যাল ডিসটেন্স না মানায় শতাধিক মুসল্লীকে জরিমানা করা হয়েছে। (https://bit.ly/3bWQHdX)

দুই. কেউ তাদের পলিসির পক্ষে বললেই তাকে মিডিয়া দিয়ে সেলিব্রেটি বানিয়ে দেয়, আর বিরুদ্ধে বললেই নাজেহাল করে। এজন্য কেউ তাদের পলিসির বিরুদ্ধে বলে মিডিয়ায় জনগণের সামনে নাজেহাল হতে চায় না। বরং বরং মেনে নিয়ে সেলিব্রেটি হতে চায়।

যেমন- আজকে মসজিদে কথিত সোশ্যাল ডিসটেন্সের কথা বলে শতাধিক মুসল্লীকে জরিমানা করা হলো, কোন হুজুর কিন্তু এর বিরুদ্ধে কিছু বলেনি। কারণ সোশ্যাল ডিসটেন্সিং হলো ডেমোক্র্যাটিক ইস্যু। আর কেউ ডেমোক্র্যাটিক ইস্যুর বিরোধীতা করে নাজেহাল হতে চায় না, বরং পক্ষে থেকে মিডিয়া সেলিব্রেটি হতে চায়।

ডেমোক্র্যাটিকদের ইস্যুতে তাদের এই অবস্থানের কারণেই মুসলিম সমাজ আজ ইসলাম ধর্ম থেকে সরে ডেমোক্র্যাটিক ধর্মের অনুসারী হতে চলেছে। কথাটা শুনতে কষ্ট হলেও বাস্তবতা এখন মুসলমানদের মেনে নেয়া উচিত।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে