একই হোটেলে উঠছেন হাসিনা, মোদি ও নেওয়াজ


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিউইয়র্কে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৈঠকের দিনক্ষণ এখনও ঠিক না হলেও বৈঠক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন অধিবেশনের বৈঠকের সময় ও দুই নেতার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার সময় বিবেচনা করেই দিনক্ষণ ঠিক হবে। দুই নেতার মধ্যে দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। মোদির সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকের ব্যাপারটি অনেকটা চূড়ান্ত হলেও এবার মার্র্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামার সঙ্গে শেখ হাসিনার আলাদা করে কোনো বৈঠক হচ্ছে না। তাদের মধ্যে ওই ধরনের কোন বৈঠক না হলেও দুই নেতার সঙ্গে দেখা হবে একাধিকবার। পাঁচটি অনুষ্ঠানে তাদের দেখা হবে। ওই সময়ে কথাও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৭০তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাবেন। সেখানে তার সঙ্গে যাবেন প্রায় শতাধিক প্রতিনিধি। তিনি ফিরবেন ৩ অক্টোবর।
সূত্র জানায়, এরমধ্যে ছয়জন মন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ছাড়াও থাকছেন তার তিন উপদেষ্টা, ছয়জন সাংসদ ও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। এছাড়াও প্রায় অর্ধ শত প্রতিনিধি থাকছেন যারা নিজ খরচে নিউইয়র্কে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী এবার সফরকালে নিউইয়র্কের হোটেল ওয়ালডর্ফ এস্টোরিয়ায় থাকবেন। এ হোটেলে উঠবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরীফ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। বিশেষ করে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আবদুল মোমেন ও তার স্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীও নিউইয়র্কে ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
এদিকে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী যে হোটেলে উঠবেন ওই হোটেলে এর আগে ওবামা থাকলেও এবার সে সেখানে উঠবে না। কারণ এখন ওই হোটেলের মালিকানা নিয়েছে চীনের একটি কোম্পানি। নিরাপত্তা ও আড়িপাতার আশঙ্কায় সে সেখানে উঠবে না। অন্য হোটেলে উঠবে। চীনা মালিকানায় যাওয়া ছাড়াও ওই হোটেলে ওবামার কথাবার্তায় আড়িপাতার আশঙ্কাও করছে হোয়াইট হাউস। এই কারণে সেখানে তার না থাকার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখন কোন হোটেলে উঠবে সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে ওই হোটেলে ওবামা না উঠলেও বাংলাদেশের সরকার প্রধানসহ আরো ১৯ জন রাষ্ট্রপ্রধান ওই হোটেলেই উঠবে। তারা তাদের সফরকালে সেখানেই থাকবে। তাদের আড়ি পাতার আশঙ্কার কথা ওই সব দেশ বিবেচনা করছে কিনা তা জানা যায়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর ফোনে আড়ি পাতার বিষয়ে সাংবাদিকরা মোমেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি এই প্রসঙ্গে স্পষ্ট করে কোন কথা না বললেও বলেছেন, সেখানে আরো ১৯ জন রাষ্ট্রপ্রধান থাকবেন।
এদিকে জানা গেছে এবার প্রধানমন্ত্রী তার সফরের খরচও কমাতে চান। এই কারণে হোটেল ও পরিবহন খাতে খরচ কমিয়ে আনার জন্য জাতিসংঘে বাংলাদেশের অফিসকে বলেছেন। সেই হিসাবে তারা কাজ করছেন। এরই অংশ হিসাবে প্রতিবছর তার বহরের প্রতিনিধিদের জন্য লিমোজিন গাড়ি ভাড়া করা হয়। তাতে অনেক টাকা ব্যয় হয়। এবার গাড়ি ভাড়া করা হলেও মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ছাড়া অন্য কারো পক্ষে এক এক জনের জন্য একটি গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। প্রতিটি গাড়ি একাধিক যাত্রীর জন্য বরাদ্দ দিবে ওই অফিস। এছাড়াও এবার তারা খরচ কমানোর জন্য জাতিসংঘের সদর দপ্তর ও প্রতিনিধিদলের জন্য নির্ধারিত হোটেল খুব কাছাকাছি ঠিক করেছেন। যাতে করে তারা গাড়ির বদলে পায়ে হেঁটে কম সময়ে জাতিসংঘে পৌঁছুতে পারে। এতেও খরচ অনেকটা কমবে। গাড়ি ও থাকার খরচ ছাড়াও অন্যান্য ব্যয়ও এবার আব্দুল মোমেন কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগেরও একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন। মুখোমুখি হতে পারেন সেখানকার মিডিয়া প্রতিনিধিদের সঙ্গেও। গতবার প্রধানমন্ত্রী সফর সঙ্গী হয়েছিলেন শতাধিক ব্যক্তি। এনিয়ে অনেক কথাও উঠে। এবারও বহর বড়। এই জন্য নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে এত বড় প্রতিনিধিদলের যৌক্তিকতা নিয়ে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের জানান, সামরিক শাসনামল থেকে এই নিয়ম চলে আসছে। এখন তা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এই কারণে প্রতিবছরই বড় বহর যায়।
বারাক হোসেন ওবামার সঙ্গে কোন বৈঠক হবে কিনা এনিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই। তবে মোমেন আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক সফরকালে প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামার সঙ্গে এবার কোনো একান্ত বৈঠক হবে না। তবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দুই নেতার মোট পাঁচবার দেখা হবে। ২৯ সেপ্টেম্বর ওবামার ব্যক্তিগত অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী আইসিস ও সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধ শীর্ষক একটি বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে তাদের মধ্যে কথা হতে পারে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে