একজন হক্কানী ওলীআল্লাহ উনার সোহবতে না গেলে কাফির মুশরিকদের চক্রান্ত বুঝা সম্ভব হবে না


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন –

وَاِن تَصْبِرُوْا وَتَتَّقُوا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا

অর্থ: “যদি তোমরা  ধৈর্য্যধারণ করো এবং তাক্বওয়া অবলম্বন করো অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের উপর ইস্তিক্বামত থাক তবে কাফির মুশরিকদের কোন ষড়যন্ত্রই তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১২০) হক্ব এবং না-হক্বের দ্বন্দ্ব সৃষ্টির শুরু থেকেই। মুসলমানগণ উনারা যেহেতু হক্বপন্থী, তাই না-হক্বপন্থী  ইবলিস শয়তান ও তার দোসর কাফির-মুশরিকরা সর্বদা মুসলমান উনাদের বিরুদ্ধে শত্রুতা করে থাকে। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন- “নিশ্চয়ই মুসলমান উনাদের সবচেয়ে বড় শত্রু ইহুদী, অতঃপর মুশরিক”। (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৮২)

সেটাই আমরা দেখতে পাই যে, কাফির-মুশরিকরা প্রতিনিয়ত নানান উপায়ে, নানাভাবে মুসলমান উনাদের ক্ষতি করতে বদ্ধ পরিকর। এজন্য তারা বিভিন্ন ধরনের চক্রান্তও করে থাকে। ত্রয়োদশ ঈসায়ী শতাব্দীতে শেষ ক্রুসেড যুদ্ধে কাফিররা যখন হযরত সালাহুদ্দিন আইয়ূবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট চরমভাবে পরাজিত হয়, তখন তারা বুঝতে সক্ষম  হয়, তারা আর কখনই সম্মুখযুদ্ধে মুসলমান উনাদের সাথে পেরে উঠবে না। কারণ মুসলমান উনাদের নিকট রয়েছে এমন এক কুদরতি শক্তি, যাকে বলা হয় ঈমানী কুওওয়াত। এই শক্তি যতক্ষণ মুসলমান উনাদের নিকট থাকবে ততক্ষণ হাজার চেষ্টা করেও মুসলমান উনাদেরকে পরাজিত করা সম্ভব হবে না।  তবে যদি মুসলমান উনাদের থেকে সেই কুদরতি শক্তিখানা সরিয়ে দেয়া যায়, তবেই মুসলমান উনাদের পরাজিত করা সম্ভব, তখন মুসলমান উনারা সংখ্যায় যত বেশি হওক, সেটা সমস্যা হবে না।

সেই থেকে কাফির-মুশরিকরা মুসলমান উনাদের সম্মুখযুদ্ধে হারানোর চিন্তা বাদ দেয়, গ্রহণ করে ভিন্ন চক্রান্ত অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। এই পরিকল্পনায় মুসলমান উনাদের ঈমানী কুওওয়াত নষ্ট তথা নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয় সৃষ্টিকেই অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। বর্তমানে আমেরিকা, ইসরাইল, ভারত, রাশিয়া, চীন, জাপান, বার্মা, ব্রিটেন অর্থাৎ ইউরোপসহ তাবৎ কাফিররা যে মুসলমান উনাদের উপর যুলুম-নির্যাতন করে যাচ্ছে তার পেছনে রয়েছে কাফিরদের সেই দীর্ঘ মেয়াদী প্ল্যানের বাস্তবায়ন।

এখন কেউ ইহুদী-খ্রিস্টান তথা কাফির মুশরিকদের চক্রান্ত বুঝতে সক্ষম হবে না এবং তাদের চক্রান্ত থেকে বাঁচতেও পারবে না যতক্ষন পর্যন্ত না সে  একজন হক্কানী ওলীআল্লাহ উনার নিকট বাইয়াত গ্রহন না  করে, এবং ছোহবত ইখতিয়ার না করে। কারণ হক্কানী ওলী আল্লাহগণ উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে ইলমে গায়িব উনার অধিকারী হন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: “তোমরা যারা জানো না, যাঁরা আহলে যিকির বা আল্লাহওয়ালা উনাদের কাছে জিজ্ঞাসা করে জেনে নাও।” (পবিত্র সূরা নাহল শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৩) সুতরাং সকলের জন্য একজন হক্কানী ওলীআল্লাহ উনার নিকট বাইয়াত গ্রহন করা ফরয।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে