একটি ইতিহাস পর্যালোচনা: দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধিতায় মূর্তিপূজারী পুরুষদের চেয়ে পূজারী নারীরা কোন অংশেই কম নয়!


বাংলায় ২০০ বছরব্যাপী সুলতানী আমলের শ্রেষ্ঠ শাসক হযরত গিয়াসউদ্দীন আযমশাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি উনার অধীনস্থ এক বিশ্বাসঘাতক বিধর্মী কর্মচারী গণেশের চক্রান্তে শহীদ হয়েছিলেন।
এই গণেশ পরবর্তীতে বাংলাদেশের শাসনক্ষমতা হাতে পেয়ে মুসলিম ওলীআল্লাহ ও ছূফী-দরবেশগণ উনাদের শহীদ করতে শুরু করে। ফলশ্রুতিতে বাংলায় চীশতিয়া তরীক্বা উনার এক বিশিষ্ট বুযূর্গ হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জৈনপুরের (উত্তরপ্রদেশের) শাসক ইবরাহীম শর্কীকে সৈন্যসামন্ত নিয়ে গণেশকে আক্রমণের আহবান জানান।
ইবরাহীম শর্কী যখন সৈন্যসামন্ত নিয়ে বাংলার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন, তখন গণেশ দেখলো যে তার মৃত্যু অনিবার্য। সে সাথে সাথে হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ক্বদম মুবারকে পড়ে উনার নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করলো।
হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি গণেশকে এই শর্তে মাফ করতে রাজি হলেন যে, গণেশকে মুসলমান হতে হবে। গণেশ প্রথমদিকে এই শর্তে রাজি ছিল, কিন্তু তাকে কুমন্ত্রণা দিয়ে মুসলমান হওয়া থেকে ফিরিয়ে রাখলো তার স্ত্রী।
গণেশ তার স্ত্রীর কূটবুদ্ধি অনুযায়ী হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট আর্জি পেশ করলো, “হুযূর আমি তো বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছি, তাই আমার জায়গায় আমার নাবালক পুত্র যদু’কে মুসলমান বানিয়ে তাকে সিংহাসন প্রদান করুন।”
ফারসী ভাষায় রচিত বাংলার ইতিহাস সম্পর্কিত বিখ্যাত গ্রন্থ ‘রিয়াজ-উস-সালাতীন’ এ উপরোক্ত ইতিহাস বর্ণিত রয়েছে। গণেশের অনুরোধ হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার নিজের মুখ থেকে এক টুকরো পান মুবারক যদু’র মুখে প্রবেশ করিয়ে তাকে কলেমা শরীফ পাঠ করালেন এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে দীক্ষিত করলেন। নাবালক যদু ধর্মান্তরিত হয়ে জালালউদ্দীন মুহম্মদ শাহ নামধারণ করলেন এবং সিংহাসনে আরোহন করলেন।
এ ঘটনার পর ইবরাহীম শর্কীকে তার সৈন্যসহ আক্রমণ না করেই ফিরে যেতে হয়। এরপরই গণেশ ফের তার পূর্বের রূপ ধারণ করে এবং তার স্ত্রীর কুবুদ্ধি অনুযায়ী নাবালক জালালউদ্দীনকে সিংহাসন থেকে সরিয়ে ফের বাংলার ক্ষমতা দখল করে। এরপর গণেশ তার প্রথম দফার শাসনের তুলনায়ও বেশি নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করতে শুরু করে। এমনকি হযরত নূর কুতুবে আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পুত্র হযরত আনোয়ার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে শহীদ করে ফেলে এই কুচক্রী গণেশ।
স্ত্রীর চক্রান্ত অনুযায়ী গণেশ তার নাবালক পুত্র জালালউদ্দীনকে ফের স্বধর্মে ফিরিয়ে আনার জন্য ব্রাহ্মণদের ডেকে শুদ্ধি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কিন্তু এখানেই গণেশের পরিকল্পনা মার খেয়ে যায়। জালালউদ্দীন কিছুতেই দ্বীন ইসলাম ত্যাগ করলেন না। ফলশ্রুতিতে গণেশের মৃত্যুর পর জালালউদ্দীন সিংহাসনে বসলে বাংলায় ফের মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
ভারতে মুসলিম শাসকগোষ্ঠীর বিপর্যয়ের পেছনে মূর্তিপূজারী পুরুষরা যতোটা না ভূমিকা রাখতে পেরেছে, তার চেয়ে ঢের ঢের বেশি রেখেছে পূজারী মহিলারা। মোগল বাদশাহ আকবরকে গুমরাহ করার পেছনে প্রাসাদে মূর্তিপূজারী মহিলাদের অনুপ্রবেশই সবচেয়ে বেশি দায়ী ছিল। রাজপুত মূর্তিপূজারী মহিলারা মুসলিম রাজবংশে যেই দূষণ প্রবেশ করিয়েছিল, তার ফলশ্রুতিতেই মোগলরা আস্তে আস্তে তাদের নৈতিক চরিত্রকে বিসর্জন দিয়ে মূর্তিপূজার কালচারকে গ্রহণ করা শুরু করে। ফলে শেষপর্যন্ত এ ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের অবসান ঘটে।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে