একটি ঐতিহাসিক ঘটনা: যারা হীনম্মনায় ভোগে, সে সকল মুসলমানদের জন্য!


সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত মুবারক পরিচালনাকালে তিনি হযরত যায়ীদ বিন আমের আল জুমাহী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে হিমসের গভর্নর করে পাঠালেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি কিছুদিন পর হিমসের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য হিমসে গেলেন।
হিমসের জনগণ সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নিকট অভিযোগ দিলেন- হযরত যায়ীদ বিন আমের আল জুমাহী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনি মাঝে মাঝে বেহুঁশ হয়ে যান। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হযরত যায়ীদ বিন আমের আল জুমাহী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন- তিনি কেন মাঝে মাঝে বেহুঁশ হয়ে যান। তখন তিনি বললেন, একটি ঘটনা যা আমার মনে পড়লে আমি বেহুঁশ হয়ে যাই। সেই ঘটনাটি হলো- হযরত খুয়াইব ইবনে আদি রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ঘটনা। আর সেই ঘটনাটি হচ্ছে- পবিত্র বদর জিহাদে চরম পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে কাফিররা হযরত খুবাইব ইবনে আদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বন্দি করে। তারপর কাফিররা ঢোল পিটিয়ে উনাকে শহীদ করার দৃশ্য উপভোগ করতে মক্কাবাসীদেরকে খবর দেয়। জনসমুদ্রের মাঝে কাফিররা উনাকে শাররীকভাবে চরম জুলুম নির্যাতন করছিল এবং বলছিল- হে হযরত খুবাইব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনি কি দ্বীন ইসলাম ত্যাগ করতে রাজি আছেন? তারপর কাফিরা তরবারি দিয়ে উনার একটি অঙ্গ বিচ্ছিন করে জিজ্ঞাসা করল হে হযরত খুবাইব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনি কি রাজি আছেন? আপনাকে ছেড়ে কাফিরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করুক? নাউযুবিল্লাহ! তখন হযরত খুবাইব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি কাফিরদের উদ্দেশ্য করে বললেন- আমি এবং আমার পরিবার-পরিজন জীবিত থাকা পর্যন্ত সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জিসিম মুবারকে একটি আঁচড় লাগতে দিবো না। সুবহাননাল্লাহ!
তারপর কাফিররা হযরত খুবাইব ইবনে আদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বললো- পবিত্র দ্বীন ইসলাম ত্যাগ না করলে আপনাকে শহীদ করা হবে। কাফিরদের এই ঘোষণার পরে হযরত খুবাইব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উচ্চস্বরে পবিত্র কালিমায়ে শহাদাত শরীফ পাঠ করতে লাগলেন।
তারপরে কাফিররা হযরত খুবাইব ইবনে আদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ফাঁসির মঞ্চের দিকে নিয়ে গেলে তিনি কাফিরদেরকে বলেন, আমাকে দুরাকাত নামায পড়তে হবে। অতঃপর হযরত খুবাইব ইবনে আদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের শুকরিয়া মুবারক আদায় করে নামায আদায় করলেন।
নামায শেষে হযরত খুবাইব ইবনে আদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি কাফিদেরকে বললেন, তোমরা মনে করো না যে আমি ফাঁসির ভয়ে নামায দীর্ঘায়িত করছি। বরং আমি হযরত খুবাইব ইবনে আদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের শুকরিয়া মুবারক করে নামায আদায় করেছি। উনারা যেন আমাকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার উপর ইস্তিকামত থেকে শহীদী শান মুবারক প্রকাশ করার তওফীক দান করেন।
এরপর কাফিররা হযরত খুবাইব ইবনে আদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে উনার পবিত্র দেহ মুবারক উনার উপর তীর, বর্ষা ও খঞ্জর নিক্ষেপ করে উনার দেহ মুবারক ক্ষত-বিক্ষত করে ফেললো। হযরত খুবাইব ইবনে আদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনি আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন- ইয়া আল্লাহ পাক! আপনি সাক্ষী থাকুন, অতঃপর উচ্চস্বরে কলেমা শাহাদাত পাঠ করতে করতে শহীদী শান মুবারক প্রকাশ করলেন। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
আমরা তো ওই ক্বওম- মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মাধ্যমে আমাদেরকে সম্মানিত করেছেন।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে