একটি শিক্ষনীয় ঘটনা: বিজাতীয় পদ্ধতি পরিহার করুন, খাবার অপচয় রোধ করুন


ঘটনাটি খুবই মশহুর এবং ঐতিহাসিক। মুসলিম জানবাজ বাহিনীর তীব্র আক্রমণে পরাজয় বরণ করে লানতগ্রস্ত খ্রিস্টান বাহিনী। তারা মুসলমানদের প্রথম কাবা বায়তুল মুকাদ্দাস তথা পুরো জেরুজালেমের কর্তৃত্ব মুসলিম বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়। খ্রিস্টান বাহিনীর আরজু অনুযায়ী তাদের দাওয়াত কবুল করে মুসলিম জাহানের মহামান্য খলিফা হযরত উমর বিন খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু জেরুজালেমে তাশরীফ আনেন এবং তাদের নিকট থেকে নগরীর চাবি গ্রহণ করেন।

খ্রিস্টান বাহিনীর প্রধানরা এবং তাদের ধর্মীয় নেতৃবর্গ মুসলিম জাহানের মহামান্য খলিফার সম্মানার্থে একটি রাজকীয় ভোজসভার আয়োজনের নিমিত্তে মহামান্য খলিফার খিদমতে অনুমতি প্রার্থনা করে। খলিফাতুল মুসলিমীন হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সদয় অনুমতি প্রদান করলে বিশাল ভোজসভার আয়োজন সম্পন্ন হয়। যথাসময়ে ভোজসভাস্থলে মহামান্য খলিফা তাশরীফ আনেন। খাবার পর্ব শুরু হয়। পরিপূর্ণ সুন্নতী তর্জ-তরীকায় সুন্নতী খাদ্য রুটি ও গোশত গ্রহন করেন খলিফাতুল মুসলিমীন হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। রুটি খাওয়ার সময় রুটির কিছু ছোট ছোট টুকরা স্বাভাবিক ভাবেই সুন্নতী চামড়ার দস্তরখানায় পড়ে যায়। খলিফাতুল মুসলিমীন হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু দস্তরখানা থেকে রুটির টুকরাগুলো আঙ্গুল দিয়ে তুলে খেতে থাকেন। ভোজসভাটির প্রধান আকর্ষণ ছিলেন খলিফা স্বয়ং নিজেই। তাই উনার প্রত্যেকটি কাজই বিধর্মী নেতৃবর্গ খুব মনোযোগ সহকারে লক্ষ্য করছিল। অবস্থা দর্শনে মুসলমান এক ব্যক্তি বললেন, “হে আমিরুল মু’মিনীন, খলিফাতুল মুসলিমীন এটাতো রাজা-বাদশাহ্, আমীর-উমরাদের দরবার, এখানে এ রকম খুটে খুটে খেলে মানুষ কি মনে করবে?” তখন মহামান্য খলিফাতুল মুসলিমীন হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, “হে ব্যক্তি আমি কি এই সব আহমক, বেদ্বীন, কাফের লোকদের জন্য আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত কে ছেড়ে দিব? মূলতঃ আমরাতো ঐ সম্প্রদায় যাদেরকে আল্লাহ পাক ইসলাম (সুন্নত) দ্বারা সম্মানিত করেছেন।” তিনি পড়ে থাকা সব টুকরাগুলোই টুকে টুকে খেয়ে নিলেন। (সুবহানাল্লাহ্)

এখানে খুব ফিকির যোগ্য বিষয় যে, সুন্নতের বিষয়ে হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম কত বেশী সুদৃঢ় ছিলেন এবং বিধর্মীদের রীতি-নীতি তর্জ-তরীকা কত মূল্যহীন ছিল উনাদের নিকট। যার কারণে সারাবিশ্বে উনারা ইসলামকে চরম সম্মানিত পর্যায়ে নিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছিলেন। পক্ষান্তরে আজকের মুসলিম সমাজে ইহুদী-খ্রিস্টানরা কুটকৌশলে সব বিজাতীয় রীতি-নীতি রসম-রেওয়াজ ঢুকিয়ে দিচ্ছে। খাবার অপচয় করা এমনই একটি বিজাতীয় বদ রসম বা খারাপ রীতি। যে কোন অনুষ্ঠানে গেলে তথাকথিত কিছু নামধারী মুসলমানকে দেখা যায়, অতি সাহেবী কায়দায় খাবার পুরোপুরি না খেয়ে প্লেটে কিছু খাবার রেখে নষ্ট করে তথা অপচয় করে। চেটে খাবার খাওয়ার সুন্নত যেমন তারা আদায় করে না, তেমনি আদায় করে না দস্তরখানায় পড়ে থাকা খাবার টুকে টুকে খাওয়ার সুন্নত। সামগ্রিক ভাবে কথিত ভদ্রতার দোহাই দিয়ে ও সাহেবগিরি দেখাতে গিয়ে প্রতিটি অনুষ্ঠানে এবং বাসা-বাড়ি-রেস্টুরেন্টে প্রচুর খাবার নষ্ট ও অপচয় করে। মহান আল্লাহ পাক অপচয় প্রসঙ্গে কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।” আরেকটি বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, কেউ যদি কোন অনুষ্ঠানে পরিবেশিত খাবারগুলো চেটে খায় অথবা পড়ে যাওয়া খাবারগুলো দস্তরখানা থেকে টুকে টুকে খায় তাহলে অনেকেই তার দিকে তাচ্ছিল্যের সাথে তাকায়। ভাবখানা এমন যেন, চেটে খাওয়া এবং দস্তরখানায় পড়ে থাকা খাবারগুলো টুকে টুকে খাওয়া অভদ্রতা- অসভ্যতা। (নাউযুবিল্লাহ্)

এ ধরনের ধারণা বা আক্বীদা যারা পোষণ করবে তারা কাট্টা কাফির হয়ে যাবে। কারণ হাদীছ শরীফে আছে, “সুন্নতের অবজ্ঞা করা কুফরী।” তাই বিন্দু পরিমানও সুন্নতকে অবজ্ঞা করলে কাফির হয়ে যায়। আমাদের মনে রাখতে হবে, সুন্নতের মাঝেই সমস্ত মর্যাদা, সুন্নতের মধ্যেই সভ্যতা, সুন্নতের মধ্যেই আভিজাত্যতা, সুন্নতের মধ্যেই ভদ্রতা, সুন্নতের মধ্যেই শালীনতা, সুন্নতের মধ্যেই সৌন্দর্য তথা সর্বোপরি সুন্নতের মধ্যেই সমস্ত কল্যাণ নিহিত। তাই আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো, খাবার অপচয় করে শয়তানের ভাই না হয়ে এবং বিজাতীয় পন্থায় কথিত সাহেবগিরি না করে সুন্নত অনুযায়ী খাবার চেটে খাওয়া এবং দস্তরখানায় পড়ে থাকা খাবারগুলো টুকে টুকে খাওয়া।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+