একাত্তরের ‘রাজাকার দেইল্যা’ এখন আল্লামা সাঈদী!


নেকড়ে যেমন মেষের ছদ্মবেশ নিলেও নেকড়েই থেকে যায়, তেমনি একাত্তরের নরপশু রাজাকার-আল-বাদররা স্বাধীনতার পর ভোল পাল্টালেও নরপশু রাজাকার-আল-বাদরই থেকে গেছে। পিরোজপুরের একাত্তরের ‘রাজাকার দেইল্যা’ স্বাধীনতার পর জনগণকে ধর্মকর্মের কথা শুনিয়ে ‘আল্লামা সাঈদী’ হলেও তার অধর্মের অপকর্মের কলঙ্ক এখনো মুছে যায়নি। এখনো সাঈদীরা একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী দালাল-ঘাতক-রাহাজানির নির্মমতা। নৃশংসতার ভয়ঙ্কর প্রতীক।
গণহত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, নিপীড়ন ইত্যাদির মাধ্যমে এরা জাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধিতা করেছে। এ সত্য থেকে আরো পলায়ন করতে পারে; কিন্তু সত্য নিষ্ঠুরভাবে আমৃত্যু তাদের ধাওয়া করে যাবে। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এই ঘাতক সাঈদীদের নাম উচ্চরিত হবে সীমাহীন ঘৃণায়।
স্বাধীনতার পর নেতৃত্বের অদূরদর্শিতায় দেশে স্বাধীনতার শত্রু রাজাকার-আল-বাদরদের সাময়িকভাবে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত পুনর্বাসন হয়েছে; কিন্তু লাখো বীরের রক্তের সিঁড়ি দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা অর্থাৎ একাত্তরের বাস্তবতা ইতিহাস থেকে কখনো বিস্মৃত হবে না বলে রাজাকার-আল-বাদরদের প্রশ্নটি বার বার আসবে, যতদিন না কালের আবর্তে শেষ রাজাকারটির চিহ্ন মুছে ফেলা হবে।
একাত্তরের কুখ্যাত ঘাতক রাজাকার দেইল্যা এখন আল্লামা সাঈদী। সে জামাতের মজলিসে শূরার এক সদস্য এবং চরম বিতর্কিত ব্যক্তি। সংসদের একজন সদস্যও। তার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযোগ, সে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী লাদেনের এক ভাবশিষ্য। বাংলাদেশে তালেবানী স্টাইলে ক্ষমতা দখলের অলীক স্বপ্ন যারা দেখে, তাদের একজন এই রাজাকার সাঈদী। জাতির দুর্ভাগ্য, সাঈদী সগর্বে ঘোষণা করে, তাকে রাজাকার প্রমাণ করতে পারলে সে সংসদ থেকে পদত্যাগ করবে। এমন দুঃস্পর্ধার পরও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে দাবিদার বর্তমান সরকার (২০০১ ক্ষমতায় থাকা আ’লীগ সরকার) তার বিরুদ্ধে কোনো তদন্তের উদ্যোগ নেয়নি; কিন্তু পিরোজপুরের মুক্তিযোদ্ধা বয়েজউদ্দিন পশারী ও পারেরহাট ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন গাজী তার চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ধুরন্ধর ধর্মব্যবসায়ী সাঈদী সে চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সাড়া দেয়নি।
রাজাকার সাঈদীর বিরুদ্ধে এমনও অভিযোগ রয়েছে যে, সে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ জাফর ইকবাল সাহেবের পিতা পিরোজপুরের মহকুমা পুলিশ সুপার ফয়জুর রহমান আহমেদের হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত ছিল। অভিযোগটি আর কেউ নয়, এই নিহতের কন্যা সুফিয়া হায়দার ও তার জামাতা আলী হায়দার খান করেছিলেন। ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির যুদ্ধাপরাধীর তালিকায়ও সাঈদীর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এমন অভিযোগও রয়েছে, সাঈদী একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে এত বেশি তৎপর ছিল যে, বিজয়ের প্রাক্কালে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেও আব্দুল আজিজ নামে এক মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছিল। তদন্ত করলে এ ঘটনার প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যাবে।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে