একাত্তরে জামাত : বিদেশীদের চোখে ॥ ছড়ি ঘোরানোর ক্ষমতা দিয়ে গড়া হয় শান্তিকমিটি


রাজাকারদের অপকর্মের বর্ণনা দিয়ে ১৯৭১ ঈসায়ী সালের ২০ জুন সানডে টাইমস-এ ‘পাকিস্তানে সংঘবদ্ধ নির্যাতন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গেস্টাপো কায়দায় যখন তখন লোকজনকে তুলে নেয়ার ঘটনায় এ অঞ্চলে নতুন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রকাশ্যে।

তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ফিরে আসেনি। যারা ফিরে এসেছিল তাদের মাঝেমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুলে নিয়ে যেত রাজাকাররা। মুক্তিফৌজে যোগদানকারী বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর খালেদ মোশাররফের দুই সন্তানকে রাজাকাররা ধরে নিয়ে যায়। নিখোঁজ ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজনের ধারণা, অবাঙালিদের সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর জুনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছে রাজাকাররা। কারো কারো পরিবারের কাছে মুক্তিপণও চাওয়া হয়। একটি পরিবার মুক্তিপণ দিয়েও কোনো ফল পায়নি।’

সানডে টাইমস-এর ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘হত্যা ও নির্যাতনের বাইরেও এখন রাজাকাররা তাদের অপারেশন বিস্তৃত করেছে। তারা মেয়েদের ধরে নিয়ে পতিতা বানাচ্ছে। ধরে নেয়া তরুণীদের দিয়ে সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসারদের রাতের মনোরঞ্জনের জন্য চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে তারা একটি ক্যাম্প বানিয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কথা বলে মেয়েদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে তারা। তাদের মধ্যে অনেকেই ফিরে আসেনি।’

 

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে