একাত্তরে পিরোজপুর জুড়ে দেইল্যা রাজাকার সাঈদীর নৃশংসতা


একাত্তরে পিরোজপুর জুড়ে দেইল্যা রাজাকার সাঈদীর নৃশংসতা-২

 

[২০১০ সালে আটক হয় দেইল্যা রাজাকার সাঈদী। এরপর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দেইল্যা রাজাকার সাঈদীর ফাঁসির দন্ডাদেশ হয়। কিন্তু পরে আপিল বিভাগের রায়ে রহস্যজনভাবে শাস্তি কমিয়ে আমৃত্যু কারাদন্ড দেয়া হয়। আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি বের হওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছে। এখন শুনানির অপেক্ষা। যথাযথ রিভিউ হলে অবশ্যই এই কুখ্যাত নরঘাতকের ফাঁসির আদেশ হতে পারে বলে দেশপ্রেমিক সচেতন মহলের দৃঢ় বিশ্বাস।
এদিকে ট্রাইব্যুনালে অপরাধকর্ম প্রমাণিত হওয়ার পরও ঘাতক যুদ্ধাপরাধী দেইল্যা রাজাকার সাঈদীর ফাঁসি কার্যকর না হওয়ায় দেশবাসী হতবাক। দেশবাসী ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী দ্রুত দেইল্যা রাজাকারের ফাঁসি কার্যকর দেখতে চায়।
১৯৭১ সালে আজকের জামাত নেতাদের মধ্যে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ভূমিকা পালন করেছিল, তাদের মধ্যে মালানা দেয়াওয়ার হোসাইন সাঈদী ওরফে দেইল্যা রাজাকার কুখ্যাততম। তার অপকর্মের কিছু নমুনা তুলে ধরা হলো।]

‘রাজাকার দেইল্যা’ হলো লাদেনের ভাবশিষ্য: ‘রাজাকার দেইল্যা’র বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও রয়েছে যে, সে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী লাদেনের এক ভাবশিষ্য। বাংলাদেশে তালেবানী স্টাইলে ক্ষমতা দখলের অলীক স্বপ্ন যারা দেখে, তাদের একজন এই রাজাকার সাঈদী। জাতির দুর্ভাগ্য যে, রাজাকার সাঈদী ২০০১ সালে সগর্বে ঘোষণা করেছিল যে, তাকে রাজাকার প্রমাণ করতে পারলে সে সংসদ থেকে পদত্যাগ করবে। এমন দুঃস্পর্ধার পরও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে দাবিদার তখনকার সরকার (২০০১ ক্ষমতায় থাকা আ’লীগ সরকার) তার বিরুদ্ধে কোনো তদন্তের উদ্যোগ নেয়নি; কিন্তু পিরোজপুরের মুক্তিযোদ্ধা বয়েজউদ্দিন পশারী ও পারেরহাট ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন গাজী তার চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ধুরন্ধর ধর্মব্যবসায়ী সাঈদী সে চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সাড়া দেয়নি।
রাজাকার সাঈদীর বিরুদ্ধে এমনও অভিযোগ রয়েছে যে, সে জাফর ইকবালের পিতা পিরোজপুরের মহকুমা পুলিশ সুপার ফয়জুর রহমান আহমেদের হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত ছিল। অভিযোগটি আর কেউ নয়, এই নিহতের কন্যা সুফিয়া হায়দার ও তার জামাতা আলী হায়দার খান করেছিলেন। ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির যুদ্ধাপরাধীর তালিকায়ও রাজাকার সাঈদীর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এমন অভিযোগও রয়েছে, রাজাকার সাঈদী একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে এত বেশি তৎপর ছিল যে, বিজয়ের প্রাক্কালে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেও আব্দুল আজিজ নামে এক মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছিল।

 

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে