একাত্তরে পিরোজপুর জুড়ে দেইল্যা রাজাকার সাঈদীর নৃশংসতা-৩


একাত্তরে পিরোজপুর জুড়ে দেইল্যা রাজাকার সাঈদীর নৃশংসতা-৩
আল ইহসান ডেস্ক:
[২০১০ সালে আটক হয় দেইল্যা রাজাকার সাঈদী। এরপর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দেইল্যা রাজাকার সাঈদীর ফাঁসির দন্ডাদেশ হয়। কিন্তু পরে আপিল বিভাগের রায়ে রহস্যজনভাবে শাস্তি কমিয়ে আমৃত্যু কারাদন্ড দেয়া হয়। আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি বের হওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছে। এখন শুনানির অপেক্ষা। যথাযথ রিভিউ হলে অবশ্যই এই কুখ্যাত নরঘাতকের ফাঁসির আদেশ হতে পারে বলে দেশপ্রেমিক সচেতন মহলের দৃঢ় বিশ্বাস।
এদিকে ট্রাইব্যুনালে অপরাধকর্ম প্রমাণিত হওয়ার পরও ঘাতক যুদ্ধাপরাধী দেইল্যা রাজাকার সাঈদীর ফাঁসি কার্যকর না হওয়ায় দেশবাসী হতবাক। দেশবাসী ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী দ্রুত দেইল্যা রাজাকারের ফাঁসি কার্যকর দেখতে চায়।
১৯৭১ সালে আজকের জামাত নেতাদের মধ্যে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ভূমিকা পালন করেছিল, তাদের মধ্যে মালানা দেয়াওয়ার হোসাইন সাঈদী ওরফে দেইল্যা রাজাকার কুখ্যাততম। তার অপকর্মের কিছু নমুনা তুলে ধরা হলো।]

দ্রুত পাকী বাহিনীর নৈকট্য লাভ: সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকী সেনাদের হাতে মুক্তিযোদ্ধাদের তুলে দেয়া, হত্যা, দোকানপাট, বাড়িঘর লুটপাট, নির্যাতন-নিপীড়নে ‘দেইল্যা’ নামে পরিচিত রাজাকার সাঈদীর অপকর্মাদি নতুন প্রজন্মের কাছে অজানা হলেও পাড়েরহাটের বাসিন্দারা আজো তা ভোলেনি। স্বাধীনতাযুদ্ধই সউদখালী গ্রামের ইউসুফ আলী সিকদারের পুত্র দেলাওয়ার হোসেন ওরফে দেইল্যার ভাগ্যকে বদলে দিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে এই দেইল্যা ছিল পাড়েরহাটের বাদুরা গ্রামের ইউনুস মুন্সীর ‘আশ্রিত’। শ্বশুরালয়ে থাকা দেইল্যা ছিল বেকার। একটি মুদি দোকানে বসে আড্ডা মারতো।
স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হলে দেইল্যা সাঈদী সে ‘রাজাকার বাহিনী’তে নাম লেখায়। মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক ব্যক্তি ও পরিবারের উপর নিষ্ঠুরতা ও নির্মমতায় সে এত ভয়ঙ্কর ছিল যে, দ্রুতই পাকী সেনাদের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠে। তাকে তিনশ’ সদস্যের এক রাজাকার বাহিনীর নেতৃত্ব দেয়া হয়। জোর করে তরুণদের ধরে এনে রাজাকার ও আল-বাদর বহিনীতে নাম লেখাতে বাধ্য করতো সাঈদী। কেউ রাজাকার বা আল-বাদর না হতে চাইলে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করতো। এ সময় সে রাজাকার ও শান্তিকমিটির নেতা মালানা দানেশ মোল্লা, মোছলেম মালানা ও সেকান্দার সিকদারের নৈকট্য লাভ করে। পরবর্তীতে পিরোজপুর মহকুমার রাজাকারপ্রধান মাণিক খোন্দকার তাকে আল-বাদর বাহিনী গঠনের দায়িত্ব দেয়।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে