এক দিরহাম খরচ করে জান্নাতী হতে চান নাকি একটি ডিম খরচ করে জাহান্নামী হতে চান?


মহান আল্লাহ পাক তিনি বান্দা-বান্দী ও উম্মতদেরকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার করার কারণে ঈদ বা খুশি প্রকাশ করতে সরাসরি নির্দেশ প্রদান করেছেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মাহকে জানিয়ে দিন, আল্লাহ পাক তিনি ফযল-করম হিসেবে তাদেরকে যে দ্বীন ইসলাম দিয়েছেন এবং রহমত হিসেবে উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাঠিয়েছেন, সেজন্য তারা যেনো খুশি প্রকাশ করে। এই খুশি প্রকাশ করাটা সবকিছু থেকে উত্তম, যা তারা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে।” (পবিত্র সূরা ইউনুস  শরীফঃ পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৮)

সুতরাং যেই দিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুনিয়াতে তাশরীফ মুবারক  নিয়েছেন অর্থাৎ ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ সোমবার শরীফ সেই দিনটি কুল-কায়িনাতের সকলের জন্যই সবচেয়ে বড় ঈদ তথা সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ। সেই  দিনে খুশি প্রকাশ করা শুধু জিন-ইনসানের জন্যই নয় বরং কুল-কায়িনাতের সকলের জন্য ফরয-ওয়াজিব। তাহলে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে খরচ করা কতটুকু দায়িত্ব ও কর্তব্য তা বলার অপেক্ষাই রাখেনা আর যে বা যারা সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে খরচ করবে তারা কতটুকু ফযীলত লাভ করবে তা সহজে অনুমেয়।

এ প্রসঙ্গে আল্লামা হযরত শিহাবুদ্দীন ইবনে হাজার হাইছামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশ্ব সমাদৃত ও সুপ্রসিদ্ধ কিতাব “আন নি’য়ামাতুল কুবরা আলাল আলাম” উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- “হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহি সালাম তিনি বলেন, যে ব্যক্তি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মীলাদ শরীফ পাঠ অর্থাৎ মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে এক দিরহাম ব্যয় করবে সে ব্যক্তি জান্নাতে আমার বন্ধু হয়ে থাকবে।” সুবহানাল্লাহ!

সুতরাং, যে বা যারা সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে খরচ করবে তারা অবশ্যই জান্নাতী হবে। এর বিপরীতে যারা যবন, ম্লেচ্ছ, অস্পৃশ্য নাপাক মজুছী, হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিস্টান তথা বিধর্মীয়দের উৎসব পালন করবে তাদের কি পরিনতি হবে? এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমাদের মধ্যে যারা কাফির মুশরিকদের সাথে মিল রাখবে তারা তাদেরই দলভুক্ত বলে গণ্য হবে।” নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি যার সাথে মিল রাখে তার হাশর-নছর তার সাথেই হবে।” সুতরাং যারা নওরোজ, পহেলা বৈশাখ, থার্টি ফাস্ট নাইট, পহেলা মে, এপ্রিল ফুল,ভ্যালেনটাইন ডে, ফাদার্স ডে, মাদার্স ডে,ফ্রেন্ডশীপ ডে ইত্যাদি বেদ্বীন, বদদ্বীনদের হারাম, নাজায়িয অনুষ্ঠানগুলো পালন করবে তারা মুলত বিধর্মীদের সাথে মিল থাকার কারণে তাদের অর্ন্তভুক্ত হবে এবং  জাহান্নামী হবে। এপ্রসঙ্গে হযরত ইমাম আবু হাফস কবীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি নববর্ষ বা নওরোজ উপলক্ষে একটি ডিম ব্যয় করলো সে যেনো তার পূর্ব জীবনের সমস্ত আমল বরবাদ করলো।” নাঊযুবিল্লাহ!

সুতরাং, মুসলমানদেরকে চিন্তা-ফিকির করতে হবে, তারা কি সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে, খরচ করে জান্নাতে যেতে চায় না, নাকি যবন, ম্লেচ্ছ,অস্পৃশ্য বিধর্মীদের উৎসব পালন করে, খরচ করে জাহান্নামে যেতে চায়? 

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+