এক বাতিল ফিরক্বার লোকের সাথে কথোপকথন!


এক বাতিল ফিরক্বার লোকের সাথে কথোপকথন!
আল হিলাল

তবলীগী: একজন ওলীআল্লাহ উনার দরবারে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি মানুষ উনাকে সিজদা করছে।
আল হিলাল: আপনি যেখানে গিয়েছিলেন সেখানে আমি বহু বছর ধরে যাচ্ছি কিন্তু আমি কাউকে কখনোই উনাকে সিজদা করতে দেখিনি।
তবলীগী: কিন্তু আমিতো দেখলাম সিজদার মতো উপুড় হচ্ছে।
আল হিলাল: আপনার সামনে এক গ্লাস জুস আর এক গ্লাস পানি রাখলে দেখতে দুটো গ্লাসই একই রকম মনে হবে। তাই বলে দুটো জিনিষ কি এক? আপনি ‘মতো’ কি দেখলেন তা গুরুত্বপূর্ণ; না-কি আসলে কি হচ্ছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ?
আরো অবাক বিষয় হচ্ছে- আপনি যাদেরকে দেখেছেন সিজদার মতো করতে উনাদের প্রত্যেকের কাছে আলাদাভাবে জানতে চাইলে উনারা সকলেই বলবেন, ‘সিজদা করা হারাম।’ আর উনাদের অন্তরের অনুভুতিতেও নেই যে, উনারা সিজদা করেছেন। অথচ আপনি ভেবে যাচ্ছেন লোকজন সিজদা দিচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!
তবলীগী: তাহলে আমি যে দেখলাম, উপুড় হচ্ছেন। সেটা কি?
আল হিলাল: উপুড় আবার কি? উনারা ক্বদমবুছি করছেন। সোজা ভাষায় ক্বদম মুবারকে চুমু দিচ্ছেন।
তবলীগী: বুঝলাম ক্বদম মুবারকে চুমু দিচ্ছেন; কিন্তু সেখানে মাথা নোয়ানো হচ্ছে ফলে সিজদা হয়ে যাচ্ছে না?
আল হিলাল: কোথাও মাথা নোয়ালেই সিজদা হয়ে যায় না। আচ্ছা! আপনি যখন জামাতে নামায আদায় করবেন তখন আপনার মাথা থাকছে সামনের সারির লোকের পায়ের ঠিক পেছেন। তহলে কি আমরা বলবো- আপনি ঐ লোকের পায়ে সিজদা দিচ্ছেন?
তবলীগী: না, তা কেন? সেটাতো নিয়তের সাথে সম্পর্কিত। আমি নামাযের নিয়তে দাঁড়িয়েছি। সেখানে সিজদা হবে কেন? তাছাড়া আমার সামনের সারিতে থাকা মানুষটা আমার কাছে অপরিচিত এবং গুরুত্বহীন একজন।
আল হিলাল: আপনার কথা থেকেই তাহলে বোঝা যাচ্ছে মূল বিষয়টা নিয়তের সাথে জড়িত। তাহলে ক্বদমবুছীর নিয়ত করা হলে, কেন সেটা সিজদা হয়ে যাবে? আর ক্বদম মুবারকে চুমু দিতে গেলে মাথা একটু নুয়ে যেতেই পারে। মূল হচ্ছে নিয়ত, কি বলেন আপনি? আর আপনি বোঝাতে চাচ্ছেন, সিজদা একজন অপরিচিত এবং গুরুত্বহীন মানুষকে দেয়া যায় না। কেবল বিশেষ মানুষকেই অর্থাৎ পীর সাহেবকেই মানুষ সিজদা দিয়ে থাকে।
আসলে কোনো হক্ব ওলীআল্লাহ উনাকে মানুষ কখনোই সিজদা দিতে পারে না, পারবেও না। উনারাই সেটা বাধা দিয়ে থাকেন। তবে মানুষ নামের কলঙ্ক যারা, যারা ভ-, প্রতারক তারাই সিজদা নিয়ে থাকে ও সিজদা গ্রহণ করে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!
আর ক্বদমবুছী সবসময় বিশেষ মানুষকেই করতে হয়। যেমন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ক্বদমবুছী করতেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে।
তবলীগী: কিন্তু এই ক্বদমবুছী থেকেইতো শিরকের জন্ম নিতে পারে। তাহলে সেটা না করলে কি হয় না? বর্তমান সময়ের আলাম-উলামারাও তো এটা পছন্দ করেন না।
আল হিলাল: হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের থেকে শুরু করে হযরত তাবেয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম, হযরত তাবে তাবিয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা উনাদের সম্মানিত শায়েখ উনাদেরকে ক্বদমবুছী করেছেন। এখন সেই সুন্নত মুবারক বাদ দিয়ে বর্তমানের কয়েকটা ফাসিক-ফুজ্জার, দুনিয়াদার মালানা অর্থাৎ উলামায়ে ‘সূ’রা কি বললো সেটা মানতে হবে?
মহিলাদের মসজিদে গিয়ে নামায আদায় করা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পরবর্তীতে ফিতনা হতে পারে বলে বন্ধ করে দিয়ে গেলেন। অথচ সেটা এখন বর্তমানের উলামায়ে ‘সূ’রা চালু করতে চায় আর ক্বদমবুছী যা সুন্নত মুবারক; সেটা শিরক হতে পারে বলে বন্ধ করতে চায়। বিষয়গুলো অবাক করার মতো নয় কি?
তবলীগী: যিনি ওলীআল্লাহ তিনিতো সম্মানিত। উনাকে ক্বদমবুছী না করলেও সম্মানিত। ক্বদমবুছী না করলেতো মানুষ সিজদা নিয়ে বিভ্রান্ত হয় না।
আল হিলাল: পূর্বে মানুষ ক্বদমবুছী নিয়ে বিভ্রান্ত হতো না। এখন কেন হয়? কারণ এটা বিভ্রান্তির বিষয় তা কখনো মানুষের মাথায় আসেনি। কিন্তু বিগত ৫০-৬০ বছর ধরে ওহাবীরা এই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে এবং এটা এতই ব্যাপকতা লাভ করেছে যে, ওহাবীদের কারণে মানুষ আজ পবিত্র কলেমা শরীফ নিয়েও বিভ্রান্তিতে পড়ে যাচ্ছে। পবিত্র কলেমা শরীফ উনার মধ্যে ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” বলা ও নাকি শিরক। নাউযুবিল্লাহ! তাহলে বুঝা গেল- ক্বদমবুছী নিয়ে বিভ্রান্তি মানুষের সৃষ্টি। এছাড়াও আপনার কথা থেকে অনেকগুলো বিষয় বের হয়ে এসেছে। যে বিষয়ে আপনার আক্বীদা ঠিক করে নিতে হবে।
১) সম্মানিত ওলীআল্লাহ উনাদের ক্বদমবুছী করা হয় উনাদের সম্মান বৃদ্ধির জন্য নয়; বরং মানুষ নিয়ামত মুবারক হাছিলের জন্য।
২) ক্বদমবুছী বন্ধ করে দিলে শিরক হবার সম্ভাবনা থাকবে না’ কিন্তু ক্বদমবুছীর সুন্নত আমলটা বন্ধ হয়ে যাবে।
৩) আর ক্বদমবুছী চালু থাকলে শিরক হবার সম্ভাবনাও থাকবে না এবং একটি অবলুপ্ত সুন্নত মুবারক চালু হবে।
৪) সিজদা নিয়তের সাথে সম্পর্কিত ফলে বিভ্রান্তির কিছু নেই।
আজ এ পর্যন্তই। ভালো থাকবেন। আল্লাহ হাফিয।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে