এক স্বঘোষিত ঈমানহারা, বেঈমানের মুখোশ উন্মোচন


‘অসীম ইলম মুবারক উনার অধিকারী’ বিশ্বাস করলে বা বললে যদি ঈমানহারা হতে হয়, তাহলে আইনুল হুদা ওরফে আইনুশ শয়তান লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সদরল আমিনকে মাওলানা বলে এবং মাদরাসা থেকে ফারেগ হওয়া ব্যক্তিদেরকে মাওলানা বলা জায়েয বলে, সে নিজেই ঈমানহারা হয়ে বেঈমান হয়ে গেছে। অর্থাৎ সে নিজেকে স্বঘোষিত বেঈমান হিসেবে সাব্যস্ত করেছে।
কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজে মাওলানা। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ.
অর্থ: “(আয় মহান আল্লাহ পাক!) আপনি মাওলানা। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৮৬)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও মাওলান। যেমন- মহসম্মানিত ও মহাপবিত্র দুরুদ শরীফ-এ বলা হয়,
اللهم صل على سيدنا نبينا حبيبنا شفيعنا مولانا محمد صلى الله عليه وسلم
উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা ছল্লি আলা সাইয়্যিদিনা নাবিয়্যিনা হাবীবিনা শাফীয়িনা মাওলানা মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।”
আবার যারা মাদরাসা থেকে কামিল পাশ করে, তাদেরকেও মাওলানা বলা হয়।
মূলত, মহান আল্লাহ পাক তিনি আল্লাহ পাক হিসেবে মাওলানা। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে মাওলানা। আর একজন উম্মত সে তার অবস্থান থেকে মাওলানা।
ঠিক একইভাবে মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘অসীম ইলম মুবারক উনার অধিকারী’ মহান আল্লাহ পাক হিসেবে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও ‘অসীম ইলম মুবারক উনার অধিকারী’ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে। আর একজন ওলীআল্লাহ তিনিও ‘অসীম ইলম মুবারক উনার অধিকারী’ হন, তিনি উনার অবস্থান থেকে। সুবহানাল্লাহ!
এখন ‘অসীম ইলম মুবারক উনার অধিকারী’ বললে যদি ঈমানহারা হতে হয়, তাহলে আইনুল হুদা ওরফে আইনুশ শয়তান লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সদরুল আমীনকে মাওলানা বলে এবং মাদরাসা থেকে ফারেগ হওয়া ব্যক্তিদেরকে মাওলানা বলা জায়েয বলে, সে নিজেই ঈমানহারা হয়ে বেঈমান হয়ে গেছে। অর্থাৎ সে নিজেই নিজেকে স্বঘোষিত বেঈমান হিসেবে সাব্যস্ত করেছে।
অন্যদিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَاللَّهُ الْغَنِيُّ وَأَنْتُمُ الْفُقَرَاءُ.
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি গনী বা ধনী, আর তোমরা হচ্ছো ফক্বীর।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মুহম্মদ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ-৩৮)
মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সকলেই ফক্বীর। অথচ তৃতীয় খলীফা হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে ‘গনী’ বলা হয়। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে আইনুল হুদা ওরফে আইনুশ শয়তান লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কি বলবে যে, তৃতীয় খলীফা হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে ‘গনী’ বললে ঈমানহারা হতে হবে। আর যারা তৃতীয় খলীফা হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে ‘গনী’ বলেন, এই চরম জাহিল ও গ-মূর্খটা কি উনাদেরকে বলবে যে, ঈমান বাঁচাও, কুরআন সুন্নাহর পথে ফিরে আসো। না‘ঊযুবিল্লাহ!
তাহলে পাঠক আপনারাই বলুন, আইনুল হুদা ওরফে আইনুশ শয়তান লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কত বড় জাহিল, গ-মূর্খ, গোমরাহ্ ও পথভ্রষ্ট। যেটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। না’ঊযুবিল্লাহ!
এই গোমরাহটা এতো কঠিন জাহিল ও গ-মূর্খ যে, তার বাংলা ভাষা সম্পর্কে নূন্যতম জ্ঞানও নেই। সে অসীম শব্দের অর্থই জানে না। বাংলা অভিধানগুলোতে উল্লেখ রয়েছে,
অসীম /বিশেষণ পদ/ অনন্ত, সীমাহীন, যাহাকে আয়ত্ত করা যায় না। অসীম সুখ, অসীম দুঃখ, অসীম সাহস, (অসীম বীরত্ব, অসীম আগ্রহ, অসীম দূরত্ব, অসীম পিপাসা)।
অসীম: সীমাহীন; অনন্ত, অশেষ, প্রচুর।
অসীম: ঁহষরসরঃবফ, ঁহনড়ঁহফবফ
মেঘে মেঘে অন্ধ অসীম আকাশ। (কাজী নজরুল ইসলাম)
নিম্নে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও বই পুস্তক থেকে অসীম শব্দের কিছু ব্যবহার তুলে ধরা হলো-
আমরা যদি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথা একবার চিন্তা করি তাহলে দেখতে পাই, একদল অসীম সাহসী নির্ভীক তরুণসেনা ……..
অসীম মনোবল, অদম্য সাহস আর মাতৃভূমির প্রতি সীমাহীন ভালোবাসার দরুন এই বাংলা স্বাধীন হয়।
আমার যে অসীম কথামালা।
মেঘে মেঘে অন্ধ অসীম আকাশ।
তার অসীম বীরত্বের কথা সকলেই জানে।
মেঘ ছুঁয়ে দেখার অসীম বাসনা নিয়ে ছুটে চলুন খাগড়াছড়ির পথে।
এখন বলার বিষয় হচ্ছে, তাহলে যারা বাংলা ভাষায় ‘অসীম সুখ, অসীম দুঃখ, অসীম সাহস, অসীম বীরত্ব, অসীম আগ্রহ, অসীম দূরত্ব, অসীম পিপাসা, অসীম ধন, অসীম সাহসী, অসীম মনোবল, অসীম কথামালা, অসীম বাসনা’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে থাকেন বা ব্যবহার করবেন, এই গোমরাহটা কি এ সমস্ত লোকদেরকে ঈমানহারা বলবে? না‘ঊযুবিল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি গোটা মুসলিম উম্মাহকে আইনুল হুদা ওরফে আইনুশ শয়তান লা’নাতুল্লাহি আলাইহি নামক এই চরম গোমরাহ্, জাহিল, গ-মূর্খ, পথভ্রষ্ট ও মাল‘ঊনটার প্ররোচনা থেকে হিফাযত করুন। আমীন!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে