এক হারামখোর ধর্মব্যবসায়ী ওলামায়ে সূ’র পহেলা বৈশাখকে হালাল করার চেষ্টা ও তার বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের দাঁতভাঙ্গা জবাব


ইসলাম অপব্যাখ্যাকারী মদের ব্যবসায়ী দৈনিক যুগান্তরে ইসলামী পাতায় হারাম পহেলা বৈশাখকে হালাল করার জন্য মিথ্যা ফতওয়া : প্রত্যেক বক্তব্যের খণ্ডনমূলক জবাব

গত বছর দৈনিক যুগান্তরে ইসলামী পাতায় ভ্রান্ত যুক্তি দিয়ে হারাম পহেলা বৈশাখকে হালাল করার অপচেষ্টা করা হয়েছিলো। (http://www.jugantor.com/islam-and-life/2015/04/10/247269)।

এখানে লেখকের প্রত্যেকটি বিষয় দলিল দিয়ে খণ্ডানো হলো:

১) লেখক তার লেখায় বলেছে: “তাই ধর্মের দোহাই দিয়ে বা অন্য কোনো আজুহাতে কোনো দেশ, সম্প্রদায় বা জাতির সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা করার যেমন সুযোগ নেই”
এ কথাটা সম্পূর্ণ ভুল। কেননা পবিত্র কুরআন পাকে আছে “যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন (নিয়মনীতি, অন্য ধর্ম) তালাশ করে, তা কখনোই তার থেকে গ্রহণ করা হবেনা এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে।” (সূরা আলে ইমরান-৮৫)

“হযরত আমর বিন শুয়াইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ঐ ব্যক্তি আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে বিজাতীয়দের সাথে সাদৃশ্য রাখে।” (মিশকাত)
উপরের দলিল দ্বারা স্পষ্ট, অন্য ধর্মের সংস্কৃতি মুসলমান কখনই গ্রহণ করতে পারে না। অর্থ্যাৎ মুসলমান কোন বিজাতীয় সংস্কৃতি গ্রহণ করতে পারবে না, সে মুসলমান থাকতে চাইলে আগে ইসলামী সংস্কৃতি গ্রহণ করবে এবং আদেশ-নিষেধ মেনে চলবে।

২) লেখক তার লেখায় পোষাক-আষাক, খা্বার পদ্ধতি নিয়ে এলাকা ভিত্তিক সংস্কৃতি ভাগ করেছে, যা সম্পূর্ণ ভুল। সঠিক হচ্ছে নবীজি যেমন পোষাক পরেছেন, খাদ্য যেভাবে গ্রহণ করেছেন সেটা গ্রহণ করাই সুন্নত, সেটা পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক। নবীজি বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমার কোন সুন্নতকে অস্বীকার করবে সে আমার উম্মত নয়।”

৩) লেখক বলেছে, “আসমানের কোনো কিতাব বা আল্লাহর কোনো প্রতিনিধি কোনো যুগেই কোনো জাতির সংস্কৃতির সংস্কার বা সংশোধনে হাত দিয়েছেন এরকম নজির ইতিহাসে নেই।” অথচ সত্য হচ্ছে নবীজি যখন হিজরত করে মদীনা শরীফ যান, তখন সেখানে দুটি উৎসব জারি ছিলো । একটি হচ্ছে বছরের প্রথম দিন উদযাপন বা নওরোজ, অন্যটির নাম ছিলো মিহিরজান। তিনি দুটো উৎসব বন্ধ করে দুই ঈদ চালু করেন।

৪) লেখক বলেছে: “হিজরি বর্ষ যে মহামহিম খোদার দান বাংলা বর্ষও তারই দান। হিজরি নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে সুন্দর আগামীর পরিকল্পনা করা যেমন পুণ্যের কাজ ….”। এর উত্তর হচ্ছে, নওরোজ বা বছরের প্রথম দিন পালন করার রীতি ইসলামে নেই, এটা পার্সী মজুসীদের (অগ্নিউপাসক) অুনকরণ। এ সম্পর্কে হাদীস শরীফে এসেছে: “যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করে সে তাদের দলভুক্ত।” ইমাম হাফস কবীর রহমতুল্লাহি বলেন:“নওরোজ বা বছরের প্রথম দিন উপলক্ষে যদি কেউ একটা ডিমও দান করে, তবে তার ৫০ বৎসরের আমল থাকলে তা বরবাদ হয়ে যাবে”

৫) লেখক তার লেখায় বলেছে: “ধর্ম-বর্ণের বেড়াজালকে ছিন্ন-ভিন্ন করে মানব ঐক্যের দৃঢ় প্রাচীর র্নিমাণের সাজসরঞ্জাম প্রস্তুত করে নিয়ে আসে পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখ বলে যায় ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’। ”
খেয়াল করুন: ‘ধর্মের বেড়াজাল ছিন্ন’, এটা তো মুসলমানের কথা নয়,নাস্তিকদের কথা। আর ‘সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপর নাই’ এটা তো হিন্দু কবি চন্ডীদাসের কবিতা। চন্ডীদাসের এ কবিতা পবিত্র ইসলাম ধর্ম কখণই সাপোর্ট করে না। কারণ মানুূষের উপর অবস্থান করছে আমাদের রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এবং উনার উপর অবস্থান করছেন স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালা।

৬) লেখক বলেছে: “বিশেষত বাংলা বর্ষের সঙ্গে যেহেতু এ দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার সম্পর্ক তাই বাংলা বর্ষকে মাবুদের শোকর আদায়ের মাধ্যমে স্বাগত জানানো আমাদের দায়িত্বও বটে।” এর জবাবে বলতে হয়, বছরের প্রথম দিন পালন করাই তো নিষিদ্ধ, আর নিষিদ্ধ জিনিসের মাধ্যমে শোকর আদায় করা কখনই জায়েজ নেই।

৭) লেখক বলেছে, “ পহেলা বৈশাখে দু’মুঠো পান্তাভাত খেয়ে এ দেশের ভুখানাঙ্গার মানুষগুলোর প্রতি একটু সহমর্মিতা প্রকাশ করলে,……….অসুবিধা কোথায়?”
এর উত্তরে বলতে হয়, ১০০০ টাকায় লোক দেখানো ইলিশ পান্তা খেয়ে গবীরের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন !!!! সত্যিই বলতে, এতই যখন সহমর্মিতা প্রদর্শনের ইচ্ছা তখন ১০০০ টাকায় এক প্লেট পান্তা-ইলিশ না খেয়ে মানুষকে ঐ টাকা দান করে দিন, তাহলেই তো হয়।

যুগান্তরের ইসলামী পাতায় “যার যার সংস্কৃতি খোদাপ্রদত্ত নেয়ামত” শিরোনামে লেখাটি অবশ্যই নাস্তিক দ্বারা লেখা হয়েছে, যার ইসলাম সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জ্ঞান নাই। ইসলামী পাতায় নাস্তিক দিয়ে লেখা লেখার অপরাধে দৈনিক যুগান্তরের মালিক, প্রকাশক, সম্পাদক ও লেখকের বিচার দাবি করছি।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে