এত সুন্দর নামায! সুবহানাল্লাহ!


আজ থেকে অনেক বছর আগের কথা, আনুমানিক ১৯৯৫/১৯৯৬ খৃঃ সনে হবে। পবিত্র রাজারবাগ দরবার শরীফ সংলগ্ন রাস্তাটি হচ্ছে ৫নং সার্কুলার রোড নামে পরিচিত। এ রোডের সাথে ঘেঁষে ছিল তিন তলা বিশিষ্ট মার্কেট। মাঝ বরাবর সুন্নতী জামে মসজিদ গেইট এবং রাস্তার বিপরীত পার্শ্বে পশ্চিম দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন ৩নং গেইট অবস্থিত। এ রাস্তার মধ্যেই এক পাশে দাঁড়িয়ে কথা হচ্ছিল উর্দূ ছূফি নামে পরিচিত এক পীর ভাইয়ের সাথে। তিনি কিভাবে দরবার শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নিকট বাইয়াত হলেন তা জানতে চাওয়া হলো। তিনি বললেন, কোন এক প্রয়োজনে তিনি এই তিন তলা মার্কেট ভবনে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ ছলাতুয যুহর অথবা ছলাতুল আছর উনার আযান প্রচারিত হলো। তিনি তখন নামায পড়ার জন্য পুলিশ লাইন ৩নং গেটের ভিতরের মসজিদে যাওয়ার জন্য ইচ্ছা করলেন সেই মুহূর্তে উনার পাশে থাকা এক ব্যক্তি বললেন, নামায পড়ার জন্য রাস্তার ওপাড়ে পুলিশ লাইন মসজিদে যেতে হবে না। কাছে এখানেই ভিতরে মসজিদ আছে। তিনি তখন মার্কেটের ভিতর দিকে অবস্থিত সুন্নতী জামে মসজিদে গিয়ে ওজূ করে সুন্নত নামায পড়ে ফরয নামায পড়ার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। ঠিক যখন জামায়াতের সময় নিকটবর্তী হলো তিনি দেখতে পেলেন মসজিদের ডান দিকের দরজা মুবারক দিয়ে একজন নূরানী ছূরত বুযূর্গ ব্যক্তি তিনি প্রবেশ করে ইমামতির স্থানে দাঁড়ালেন আর সাথে সাথে ইক্বামত দেয়া হলে তিনি তাকবীরে তাহরীমা বলে নামায শুরু করলেন। অতঃপর সূরা ক্বিরায়াত শেষে তিনি রুকূতে গেলেন। উক্ত পীর ভাইয়ের বক্তব্য, তিনি ৩ বার রুকূর তাসবীহ পড়ে কিছুক্ষণ চুপ থেকে পুনরায় ৫ বার, ৭ বার, ৯ বার, ১১ বার পর্যন্ত তাসবীহ পড়ার পর হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ বলে মাথা মুবারক উত্তোলন করলেন। এভাবে দীর্ঘ সময় সিজদাতেও অতিবাহিত করে পুরো ৪ রাকায়াত ফরয নামায যথারীতি শেষ করেন। তারপর দুআ মুবারক করেন। নামায শেষে মুছল্লীদের দিকে ফিরে বসেন। উনার পিছনে এই নামায আমাকে এমনভাবে আকৃষ্ট করলো আমি নিজেকে সামলাতে পারলাম না, উনার পরিচয় জেনে উনার নিকট বাইয়াত হয়ে গেলাম। সুবহানাল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে