এদেশের মুসলমানরা আর কতদিন হিন্দুঘেঁষা মিডিয়ার (দালাল সাংবাদিকদের) তৈরি রবীন্দ্র ঠগীয় গোলকধাঁধাঁয় ঘুরপাক খাবে?


রবীন্দ্র ঠগ ব্রিটিশদের সহযোগী দালাল ছিল, যা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু যা অধিকাংশ লোকই জানে না, তা হলো- ব্রিটিশরা তাদের এই দালালটির খ্যাতি-বৃদ্ধির জন্য নিয়োগ করেছিল কিছু এজেন্ট তথা ভাড়াটে লেখকদের। সেসব সাদা চামড়ার এজেন্টরা রবীন্দ্রের নামে প্রচলিত ইংরেজি লেখাগুলো লিখে দেয়ার কারণেই সেগুলো পাশ্চাত্যে ‘সাহিত্য’ বলে খ্যাতি পেয়েছিল এবং রবীন্দ্রের পক্ষে নোবেলপ্রাইজ পাওয়াটাও সম্ভব হয়েছিল। এসবের বিনিময়েই রবীন্দ্র ব্রিটিশদের গুণগান করতো, তাদের স্বার্থরক্ষা করতো।

রবীন্দ্রের ইংরেজি লেখার কারিগর সি. এফ. অ্যানড্রুজ :

রবীন্দ্র ঠগের একজন প্রধান সহযোগী ছিল মি. অ্যানড্রুজ। রবীন্দ্র যার নাম দিয়েছিল ‘দীনবন্ধু’। ‘দীনবন্ধু অ্যানড্রুজ’ নামেই সে রবীন্দ্রের ভক্তদের নিকট পরিচিত। নীরদ সি চৌধুরী তার ‘আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ’ গ্রন্থে এই অ্যানড্রুজের ব্যাপারে উল্লেখ করেছে, “সে রবীন্দ্রনাথের ইংরেজি যেখানে উচ্চাঙ্গের বলিয়া মনে করিতেন না,  উহাকে সাহিত্যিক করিয়া দিত।… রবীন্দ্রনাথের যে সব মত তাহার ভাল লাগিত না, তাহা বদলাইয়া নিজের বিচার অনুযায়ী পরিবর্তন করিয়া দিত। অর্থাৎ তিনি রবীন্দ্রনাথকে যতটুকু সম্ভব শ্রেষ্ঠ অ্যানড্রুজ বলিয়া দেখাইতেই চাহিত।” (তথ্যসূত্র: আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ-অখ- সংস্করণ, দ্বিতীয় খ-, মিত্র এন্ড ঘোষ পাবলিশার্স, কলকাতা, পৃষ্ঠা ১০৮)

নীরদ সি চৌধুরী স্পষ্টভাবেই উল্লেখ করেছে, এই অ্যানড্রুজ সে রবীন্দ্র ঠগের লেখা কাটছাঁট করতো, পরিবর্তন করতো, এমনকি রবীন্দ্র ঠগের লেখা যতটুকু সম্ভব উন্নত করে দেখাতে চাইতো। উল্লেখ্য, ব্রিটেনের ছাত্রজীবনে এই অ্যানড্রুজ ছিল খুবই সফল।

“১৮৯০ সালে সে কেমব্রিজের পেমব্রোক কলেজে আসে। ১৮৯৩ সালে ক্ল্যাসিকাল ট্রাইপস এ প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়। আর ১৮৯৫ সালে থিওলজি ট্রাইপসেও প্রথম শ্রেণীতেই পাস করে। উহাতে ডবল ফার্স্ট হওয়া, শিক্ষাজীবনে বিশেষ কৃতিত্বেরই পরিচায়ক।” (তথ্যসূত্র: আ.র.-২য় খ-, পৃষ্ঠা ৯২)

সে ১৯০৪ সালের মার্চ মাসে প্রথম ভারতে আসে। ১৯১২ সালে রবীন্দ্র ঠগ যখন ব্রিটেনে যায়, তখন অ্যানড্রুজও ব্রিটেনে গিয়ে তার সাথে মিলিত হলো। রবীন্দ্র ঠগ লন্ডনে অ্যানড্রুজকে দেখতে পেয়ে যেভাবে আনন্দিত হয়েছিল তা অ্যানড্রুজ নিজেই উল্লেখ করেছে এভাবে- ÒOh Mr. Andrews, I have so longed to see you. I cannot tell how much I have longed to see you.” (তথ্যসূত্র: আ.র.-২য় খ-, পৃষ্ঠা ৯৪)

অ্যানড্রুজের নিজের লেখা এই বক্তব্য থেকেই প্রমাণিত হয়, ১৯১৩ সালে নোবেল প্রাইজ পাওয়ার বহু আগে থেকেই রবীন্দ্র ঠগের সাথে তার অত্যন্ত গভীর সম্পর্ক ছিল। কেউ কারো অত্যন্ত পূর্বপরিচিত না হলে তাকে এভাবে সম্বোধন করা যায় না, যেভাবে রবীন্দ্র অ্যানড্রুজকে দেখে করেছিল।

বাইবেল থেকে চুরি করা গীতাঞ্জলির পেছনের কাহিনী :

রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছিল গীতাঞ্জলির জন্য নয়, বরং গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ Ôsong offerings’-এর জন্য। এখন রবীন্দ্র হলো বাংলাভাষী, ইংরেজিতে কবিতা লিখে নোবেল প্রাইজ পাওয়াটা তার মতো ব্যক্তির পক্ষে একদমই অসম্ভব। কিন্তু এই অসম্ভবটাই সম্ভব হয়েছিল, কারণ পর্দার আড়ালে থেকে কলম ধরেছিল সাদা চামড়ার পাদ্রী সি. এফ. অ্যানড্রুজ।

‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদ কিন্তু বাংলা থেকে হুবহু অনুবাদ ছিল না, বরং তা ছিল ভাবানুবাদ। এখন আশ্চর্যের বিষয় হলো, কথিত সেই ইংরেজি অনুবাদের ভাব সম্পূর্ণ মিলে গিয়েছিল খ্রিস্টানদের বাইবেল ও তাদের ধর্মীয় সাধকদের রচনার সাথে। যে প্রসঙ্গে গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদের ভূমিকার লেখক, কবি ইয়েটস বলেছিল ‘Yet we are not moved because of its strangeness, but because we have met our own image’। অর্থাৎ ‘গীতাঞ্জলি’র ভাব ও ভাষার সাথে পশ্চিমাদের নিজস্ব মনোজগতে লালিত খ্রিস্টীয় ভাবধারা সম্পূর্ণ মিলে গিয়েছিল। ইয়েটস তার বক্তব্যের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে সেন্ট বার্নার্ড, টমাস-এ-  কেম্পিস ও সেন্ট জন অফ দি ক্রসের সাথে ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদের মিল উল্লেখ করেছিল। অন্যান্য পশ্চিমা সাহিত্য সমালোচকরাও বাইবেলের Songs of Solomon ও সেন্ট ফ্রান্সিসের সাথে রবীন্দ্র ঠগের সমধর্মিতা অনুভব করেছিল। (তথ্যসূত্র: আ.র.-১ম খ- ,পৃষ্ঠা ১৪৫)

নীরদ চৌধুরী তার বক্তব্যের স্বপক্ষে দলিলপ্রমাণ দিতে ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদের ২৬নং কবিতা ও ইংরেজি বাইবেলের ঝড়হমং Songs of Solomon-এর ৫: ২-৬ নম্বর শ্লোক, এ দুটো পাশাপাশি রেখে তাদের মিল তুলে ধরে। তাছাড়া সেন্ট ফ্রান্সিসের রচিত খ্রিস্টীয় গান Canticle এবং ইংরেজি গীতাঞ্জলির ৮৬নং কবিতাও পাশাপাশি রেখে তাদের মিল দেখিয়েছে নীরদ চৌধুরী তার ‘আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ’ গ্রন্থে। এখন পূর্বে যে ‘দীনবন্ধু অ্যানড্রুজ’কে নিয়ে আলোচনা করেছি আমরা, তার শিক্ষাগত জীবনের দিকে আরেকটু ফিরে তাকালেই ইংরেজি ‘গীতাঞ্জলি’তে খ্রিস্টীয় ভাবধারার উপস্থিতির বিষয়টি স্পষ্ট হবে পাঠকদের নিকট।

পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে, ১৮৯৫ সালে অ্যানড্রুজ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে থিওলজি ট্রাইপসে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়। এই থিওলজি (Theology) অর্থ খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্ব। খ্রিস্টানরা যাজক হওয়ার জন্য এই বিষয়ের উপর ডিগ্রি নেয়। এই থিওলজি বিষয়ে পড়ানো হয় বাইবেলের বিভিন্ন অধ্যায় ও শ্লোকের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, যীশুর জীবনী, বিভিন্ন খ্রিস্টীয় সাধকদের জীবনী ও তাদের বিভিন্ন কবিতা ও ধর্মীয় বক্তব্যের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। যাজক হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রশিক্ষণও দেয়া হয় এই বিষয়ের ছাত্রদের।

এখন অ্যানড্রুজ ছিল খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্বে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ, তাও আবার ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে, এই অ্যানড্রুজ সে রবীন্দ্র ঠগের লেখাগুলো সংশোধন করতো। যেখানে যেখানে রবীন্দ্র ঠগের ইংরেজি তার নিকট উচ্চাঙ্গের মনে হতো না, সেখানে সেখানে সাহিত্যের ভাষা দিতো। স্বাভাবিকভাবেই তার সংশোধনী ও কাটছাঁটের পর রবীন্দ্র ঠগের লেখাগুলো খ্রিস্টীয় ভাবধারা লাভ করতো, কারণ সে নিজেই হলো খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্বের ছাত্র। শুধু তাই নয়, পাস করার পর ১৮৯৭ সালে সে অ্যাংলিকান চার্চের যাজক হিসেবেও (priest of the holy orders) নিয়োজিত হয়েছিল। (তথ্যসূত্র: আ.র. -২য়  খ-, পৃষ্ঠা ৯৩)

ইংরেজি গীতাঞ্জলির কবিতাগুলো কিভাবে খ্রিস্টীয় ভাবধারার এত গভীরে গেল, তা নিশ্চয়ই এখন বুঝতে পারছেন পাঠকেরা? কারণ তা কোনো হিন্দু কবির লেখা নয়, বরং পর্দার আড়ালে এক সাদা চামড়ার অভিজ্ঞ খ্রিস্টান যাজকের লেখা।

রবীন্দ্র ঠগের চুরি একটি দুটি নয়,

বরং ভূরিভূরি :

এতক্ষণ আমরা সি.এফ. অ্যানড্রুজ ওরফে ‘দীনবন্ধু অ্যানড্রুজে’র সহযোগিতায় রবীন্দ্র ঠগের নামে খ্রিস্টীয় ভাবধারার কবিতা কিভাবে প্রচলিত হলো তার ইতিহাস আলোচনা করলাম। তবে শুধু সি.এফ. অ্যানড্রুজই নয়, রবীন্দ্র ঠগের ‘শান্তিনিকেতনে’ আরবী-ফারসী-ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী বহু সহযোগী ও এজেন্ট ছিল রবীন্দ্র ঠগের, যারা তার হয়ে লিখে দিতো। ফলশ্রুতিতে মধ্যযুগের আরবী-ফারসী ভাষার বিখ্যাত মুসলিম কবি-সাহিত্যিকদের রচনার ভাব ও ভাষার সাথে রবীন্দ্র ঠগের কবিতার মিল সুস্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছিল। যেমন রবীন্দ্র গবেষকদের বক্তব্য যে, রবীন্দ্রের ‘ভারততীর্থ’ কবিতাটি বুযূর্গ কবি হযরত মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিম্নোক্ত ফারসী কবিতার নকল:

“বায আঁ, বায আঁ

হর আঁচে হাস্তী বায আঁ

গর কাফির গর গবরওয়া

বোত পরস্তি বায আঁ”

এই কবিতার ভাব চুরি করে রবীন্দ্র লিখেছে:

“এসো হে আর্য, এসো অনার্য

হিন্দু মুসলমান

এসো এসো আজ তুমি ইংরাজ

এসো এসো খ্রিস্টান”

রবীন্দ্র মধ্যযুগের মুসলিম কবি-সাহিত্যিকদের লেখার ভাব চুরি করেছে, এই কথাটিকে ঘুরিয়ে বিদ্রƒপাত্মকভাবে লেখা হলো ‘সমাজ দর্পণে : “কবির জন্মের পূর্বেই মধ্যযুগের সাধকেরা বিনা স্বীকৃতিতেই চুরি করে নিয়েছেন। অদৃশ্য সিঁধ কাটবার কোথাও কোনো পথ নিঃসন্দেহে আছে।”

রবীন্দ্র ঠগের ‘চিত্রা’ কাব্যের ‘এবার ফিরাও মোরে’ এবং ‘মানসী’ কাব্যের ‘বধূ’ কবিতা দুটির ভাব ও কাঠামো ইংরেজ কবি শেলী ও ওয়ার্ডসওয়ার্থের কবিতার অনুরূপ বলে অনেক গবেষকদের মত।

“নারায়ণ বিশ্বাস প্রথমে ধরে দেয় ‘গোরা ও ‘ঘরে বাইরে’ নকল। একথা অবশ্য আগে বলবার চেষ্টা করেছিল প্রিয়রঞ্জন সেন। তারপর পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণারত একটি মেয়েও ‘গোরা’ ও ‘ঘরেবাইরে’র সাথে দুটি ইংরেজি উপন্যাসের সাদৃশ্যের কথা বলেছিল। এর বেশি বলতে সাহস পায়নি। কালীমোহন ধরে দিয়েছিল রবীন্দ্র কবিতার নকল।… এই রবীন্দ্রই ড. ডেভিসের মধ্যস্থতায় এন্ডারসনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ‘চার অধ্যায়’ লেখে। এটা এখন প্রমাণ হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, ‘ঘরে বাইরে’ও তাকে টাকা দিয়ে লেখানো হয়।” (তথ্যসূত্র: দৈনিক বাংলাবাজারে প্রকাশিত ড. আহমদ শরীফের সাক্ষাৎকার, তারিখ ০১/০৫/১৯৯৭ ঈসায়ী)

এক্ষেত্রে বলতে হয়, রবীন্দ্র ঠগের ‘চার অধ্যায়ে’ রয়েছে ইংরেজের দালালি ও গুণগান। ইংরেজ সরকারের পক্ষ থেকে উক্ত বইটির হাজার হাজার কপি বিভিন্ন কারাগারে আটক রাজবন্দিদের কাছে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ গ্রামে-গঞ্জে যাত্রা ও নাটকে অভিনয় করে দেখানো হয়েছিল।

রবীন্দ্র যে শুধু সাহিত্যের ক্ষেত্রেই চৌর্যবৃত্তি দেখিয়েছিল তা নয়, বরং সে তার গানগুলোর ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সুরকারের সুর নকল করেছিল। এই সত্যটি রবীন্দ্রপূজারীরাও স্বীকার করে। কারণ রবীন্দ্রের ভাইঝি ইন্দিরা দেবীই এ ধরনের ২৩৪টি গানকে আলাদা করে তালিকা করেছিল। অন্যান্য সুরকার বা গীতিকারের গান বা সুর থেকে সরাসরি নকল করা এসব গানের নাম দেয়া হয়েছিল ভাঙা গান।

এখন রবীন্দ্রের রচিত মোট গানের সংখ্যা হলো বাইশশ’র উপর। অর্থাৎ রবীন্দ্রের রচিত গানের এক-দশমাংশই হলো ঘোষণা দিয়ে চুরি করা, আর অঘোষিত চুরির কোন হিসাব নেই। যেমন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতটিও রবীন্দ্র ঠগের অঘোষিত চুরির ফসল। কুষ্টিয়ার এক বাউল গগন হরকরার ‘আমি কোথায় পাবো তারে’ গানের সুর নকল করেই রবীন্দ্র ঠগ ‘আমার সোনার বাংলা’ লিখেছিল।

রবীন্দ্রনাথের অসংখ্য গান আছে বিদেশী সুর থেকে নেয়া, অনেক গান আছে লোকসংগীত থেকে নেয়া, অনেক গান আছে বাউল সুর থেকে নেয়া। এখন এই ঠগের গান কি একটি মুসলমান অধ্যুষিত দেশের জাতীয় সঙ্গীত হতে পারে? আমাদের দেশের মুসলমানরা কি রবীন্দ্র ঠগের চুরি করা গানের মাধ্যমে বিশ্বদরবারে নিজেদেরকে পরিচিত করাতে চায়?

রবীন্দ্র ঠগ ও হাল আমলের ইউনূস মেয়া:

রবীন্দ্র ঠগকে বর্তমান সময়ে অনেকে দেবতার আসনে বসাতে চায়। অথচ এই রবীন্দ্র ঠগ ছিল তার জীবদ্দশায় রীতিমতো তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের পাত্র। বড় ভাইয়ের স্ত্রী কাদম্বরী দেবীর সাথে তার পরকীয়ার কাহিনী নিয়ে গোটা কলকাতায় ছি ছি পড়ে গিয়েছিল।

রবীন্দ্র ঠগ যে বছর নোবেল প্রাইজ পেয়েছিল, তার পরের বছর অর্থাৎ ১৯১৪ সালের ম্যাট্রিক পরীক্ষায় একটি প্রশ্ন এসেছিল। তাতে রবীন্দ্র ঠগের ‘ছিন্নপত্রে’র থেকে একটি অংশ তুলে দিয়ে বলা হয়, “Rewrite the following in chaste and elegant Bengali” অর্থাৎ, “নিম্নোক্ত অংশটি শুদ্ধ ও রুচিশীল বাংলাতে লেখ।”

লেখক নীরদ সি চৌধুরী সেই ম্যাট্রিক পরীক্ষার ছাত্র হিসেবে তার ‘আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ-২য় খ-’-এর ২৬ পৃষ্ঠায় লিখেছে “মনে নাই, তাহার বাংলাকে কিভাবে chaste and elegant করিয়াছিলাম।”

তখন ম্যাট্রিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। তারাই রবীন্দ্র ঠগের অশুদ্ধ লেখাকে শুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল পরীক্ষার্থীদের। নীরদ সি চৌধুরীর ভাষায়, “তখনও (অর্থাৎ নোবেল পাওয়ার পরও) কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তারা রবীন্দ্র ঠগের ইংরেজিজ্ঞান দূরে থাকুক, বাংলাজ্ঞান পর্যন্ত আছে তাহা স্বীকার করিতে প্রস্তুত ছিল না। বরঞ্চ ইংরেজিতে বই লেখা (অর্থাৎ ইংরেজিতে গীতাঞ্জলি লেখা) অমার্জনীয় স্পর্ধা বলিয়াই মনে করিয়াছিল।”

এখন পাঠকরাই বোঝার চেষ্টা করুন, এই রবীন্দ্র ঠগ দেবতা তো দূরের কথা, আদৌ কোনো সম্মানিত ব্যক্তি ছিল কি না? উল্লেখ্য, আমাদের দেশেও নোবেল প্রাইজ পাওয়া এক ভাঁড় রয়েছে ইউনূস মেয়া। যদিও নোবেল প্রাইজের দুনিয়াবী মূল্য বহু, কিন্তু এই নোবেল পাওয়ার পরই সে এদেশের অধিকাংশ জনমানুষের নিকট হয়েছে ধিকৃত ও সুদখোর হিসেবে চিহ্নিত।

ঠিক একই হাক্বীক্বত ছিল এই রবীন্দ্র ঠগের। নীরদ সি চৌধুরী, রবীন্দ্র ঠগের সমকালীন ব্যক্তি হিসেবে এ বিষয়টি তুলে ধরে বলেছেÑ “তখন পর্যন্ত অধিকাংশ বাঙালির মনে তাহার সম্বন্ধে যে মনোভাব বিরূপতা মাত্র ছিল, তাহা নোবেল পুরস্কারের পর বিদ্বেষে পরিণত হইল ও এই বিদ্বেষ ক্রমশ বাড়িয়াই চলিল। যাহারা আজকাল অস্বীকার করে যে, তখন বেশির ভাগ বাঙালির মধ্যে রবীন্দ্রনাথের সম্বন্ধে বিদ্বেষ, এমন কি বিরূপতা পর্যন্ত ছিল না, তাহারা হয় অজ্ঞ, নয় মিথ্যাবাদী।” (তথ্যসূত্র: আ.র.-২য় খ-, পৃষ্ঠা ৯)

উপসংহার:

বাংলায় ‘ঠক’ কিংবা ‘ঠগ’ বলতে বোঝায় সেই ব্যক্তিকে, যে মিথ্যা ভেক বা ছদ্মবেশ ধরে মানুষকে ধোঁকা দেয়। যেমন কারো এমবিবিএস ডিগ্রি না থাকলেও সে যদি নিজেকে ডাক্তার দাবি করে, তাহলে সেই লোকটি হলো একটি ‘ঠগ’।

রবীন্দ্র ঠগকে এজন্য ঠগ বলা হবে যে, তার সাহিত্য লেখার যোগ্যতা ছিল না, কিন্তু বিখ্যাত সাহিত্যিকদের লেখা নকল করে সাহিত্যিক সাজতো। সে ছিল কট্টর মুসলিমবিদ্বেষী, কিন্তু তারপরও মুসলমানী পোশাক-আশাক পরতো মানুষের চোখে ধুলো দিতে।

তাছাড়া তার জমিদার দাবি করার মধ্যেও তার ‘ঠগ’ নামের সার্থকতা ফুটে উঠেছে। তার পূর্বপুরুষ জমিদার তো ছিলই না, উল্টো তারা ছিল অত্যন্ত গরিব। রবীন্দ্র ঠগের দাদা দ্বারকানাথ ছিল দেড়শ টাকা বেতনের ইংরেজ ট্রেভর প্লাউডেনের চাকর মাত্র।

এই দ্বারকানাথ ধনী হয়েছিল অনৈতিক ব্যবসার দ্বারা। কলকাতার লেখক রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছে, “রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর্দা, দ্বারকানাথ ঠাকুরের তেতাল্লিশটা বেশ্যালয় ছিল কলকাতাতেই।” কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার ২৮শে কার্তিক ১৪০৬ সংখ্যায় ছাপা হয়েছেÑ “অতএব, মদের ব্যবসায় নামলেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর্দা। কিছুদিনের মধ্যে আফিংয়ের বাণিজ্যেও হাত পাকালেন এবং বাজিমাত করতেন কুরুচির রেসে।” (তথ্যসূত্র: গোলাম আহমাদ মোর্তজা রচিত ‘এ এক অন্য ইতিহাস’ গ্রন্থের ‘অসাধারণ দ্বারকানাথ’ অধ্যায় দ্রষ্টব্য)

পরিশেষে ইউনূস মেয়ার প্রসঙ্গ দিয়েই শেষ করতে হয়। সে যদিও জনমানুষের নিকট ধিকৃত, তারপরও মিডিয়াতে সক্রিয় একদল স্তাবক বা চাটুকার তার রয়েছে। যদি আমরা বর্তমান সময়ের ইতিহাসকে বাঁচিয়ে না রাখি, তাহলে এই স্তাবকদল ভবিষ্যতে একসময় আমাদের উত্তর প্রজন্মের নিকট দাবি করবে, এই ইউনূসের জীবদ্দশায় এদেশের মানুষ তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধাভক্তি করতো। (নাউযুবিল্লাহ)

ঠিক সেভাবেই এই রবীন্দ্র ঠগেরও একটি মিথ্যা ভাবমূর্তি সৃষ্টি করে আমাদেরকে ধোঁকা দেয়া হচ্ছে, নেপথ্যে রয়েছে রবীন্দ্র ঠগের স্তাবকদল হিসেবে দায়িত্ব পালনরত হিন্দুঘেঁষা মিডিয়া ও কথিত সুশীল সমাজ। ঠগ তার জীবদ্দশায় ধিকৃত হলেও এখন তাকে দাবি করা হচ্ছে দেবতা হিসেবে। ঠগের উত্তরসূরী এই মহাঠগ মিডিয়া ও কথিত সুশীলদেদর ঠগীয় গোলকধাঁধাঁ থেকে মুসলমানদেরকে অবশ্যই সাবধান থাকতে হবে।

মুসলমানদেরকে অবশ্যই ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। যে ইতিহাস জানে না, তাকেই অতীত সম্পর্কে বিভ্রান্ত করাটা সম্ভবপর।

 

 

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে