এবার নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ শিক্ষকের কটূক্তি (নাউযুবিল্লাহ)


রংপুর মেডিকেল কলেজের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কুলাঙ্গার ডা. এ কে এম নুরুন্নবী লাইজু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিয়ে কটূক্তি করেছে। এ ঘটনায় গোটা ক্যাম্পাসে ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ সভাসহ কলেজের অধ্যক্ষকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। দ্রুত বিচার না করা হলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এর আগে সাতক্ষীরায় একটি স্কুলের নাটকের সংলাপে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিয়ে কটূক্তি করার ঘটনায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ক্লাসে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, গত বুধবার সকাল ১০টায় ৩৮নং ব্যাচের ওয়ার্ড সি গ্রুপের ক্লাসে অধ্যাপক ডা. এ কে এম নুরুন্নবী লাইজু বলেছিল, তোমরা সিনিয়র মেয়েদের দিকে নজর দেবে না, কারণ তাদের আগেই বিয়ে হয়ে যায়। এ জন্য সব সময় জুনিয়র মেয়েদের দিকে নজর দেবে। তাহলে কাজ হয়ে যাবে। এ কথার প্রেক্ষিতে ওই ক্লাসের হাসান নামের এক ছাত্র দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করে—স্যার, আমাদের নবী হযরত মোহাম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি তার সিনিয়র হযরত খাদিজা রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা উনাকে বিয়ে করেন। তখন ওই শিক্ষক বললো, ‘আরে নবী তো খাদিজাকে বিয়ে করেছে অর্থের লোভে । শুধু কি তাই, তিনি তো তার পালক পুত্র জায়েদের স্ত্রীকেও বিয়ে করেছেন, এ জন্য আল্লাহর কাছ থেকে ওহি নাযিল করে বৈধ করে নিয়েছে (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক)।’

এছাড়াও সে এক ছাত্রকে উদ্দেশ করে বলে, ‘আল্লাহ কি আছে রে! তাহলে দুনিয়াতে এত ইসলামী দল কেন। এত হানাহানি কেন?’(নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক)

এর আগের দিন সোমবার একই সময়ে ৩৯নং ব্যাচের ক্লাসে ওই শিক্ষক বলে, ‘আল্লাহ কি আছে?’ আল্লহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিয়ে এমন কটূক্তি করার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষোভে ফেটে পড়ে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীরা। তারা তাত্ক্ষণিক প্রতিবাদ করতে না পারায় মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মজিবুর রহমান ও ডেন্টাল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাফিজকে বিষয়টি জানায়। ওই দিন রাত এগারোটায় মেডিকেল কলেজের জিয়া হোস্টেলের নামাজ কক্ষে এক প্রতিবাদ সভা করে তারা। সভায় অবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়। বর্তমানে ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ চলছে। অভিযুক্তর বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আব্দুর রউফকে লিখিতভাবে জানিয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থীরা তাদের সামাজিক ওয়েবসাইট ফেসবুকে বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছে।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কটূক্তি করার ঘটনা প্রকাশ করায় রংপুর মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগ কর্মীরা বেশ ক’জন ছাত্রকে  নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ আমার দেশকে জানায়, আমি বিষয়টি জেনেছি, ব্যবস্থা নেয়ার মতো হলে ব্যবস্থা নেব।
আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কটূক্তিকারী শিক্ষক ডা. এ কে এম নুরুন্নবী লাইজু জানায়, শিক্ষকদের একটি পক্ষ আমাকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্যই এটা রটাচ্ছে। আমি এসব কথা বলিনি।

 

সূত্র : আমার দেশ ০৬-০৪-২০১২

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+