এলমে মারিফাত বা গুরুবাদের অপ্রিয় সত্য যাহা


সকল পাঠকের অবগতির জন্য তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহির পক্ষ থেকে একটি বিষয় উপস্থাপন করতে চাই। সম্মানিত পাঠক, অপ্রিয় হলেও সত্য এই যে, প্রতিটি শিক্ষার ই একটা ধারাবাহিকতা আছে, এবং প্রতিটি শিক্ষারই শুরু এবং শেষ আছে, এবং শিক্ষা গ্রহণে প্রতিটি ক্লাশ বা শ্রেণী বা ধাপ এর নির্দিষ্ট নাম আছে। আর সেই ক্লাশসমূহের প্রত্যেক ক্লাশ উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু একমাত্র এই এলমে তাসাউফ বা গুরুর কাছে বাইয়াত গ্রহণের পরে শিক্ষানবিশ বা শিষ্যের শিক্ষা বিষয়ের কোন ধারাবাহিকতা নাই। নাই শিক্ষার কোন ক্লাশ বা শ্রেণী বা ধাপ। সেই সাথে নাই শিষ্যত্ব গ্রহণের পরে কত সময় বা কত দিন বা কত মাস বা কত বছর পরে একজন শিষ্য তাঁর শিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রী লাভ করবে।

আপনি আপনার শিশু সন্তানকে স্কুল বা মাদরাসায় প্রেরণ করলে, সেই স্কুল বা মাদরাসা সেই শিশু সন্তানকে প্রথমে প্রাইমারী স্কুল বা প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্লাস ওয়ান বা প্রথম শ্রেণীতে, আর মাদ্রাসা মতে এবতেদায়িতে ভর্তি করে নেবে। প্রতি এক বছর পর পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণের পরে পরবর্তী ক্লাস বা শ্রেণীতে যাবে। এভাবেই একজন ছাত্র সর্বোচ্চ ডিগ্রী লাভ করে। স্কুল বা মাদ্রাসার যে কোন ছাত্রকে কোন ক্লাসে পড়ো প্রশ্ন করলেই সে ছাত্র বলে দেয় যে বর্তমানে সে কোন ক্লাসে পড়ছে। আর এর মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কতটুকু। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য এই যে, এলমে মারিফাত শিক্ষা বা গুরুর কাছে বাইয়াত গ্রহণকারী যে কোন শিষ্যকে প্রশ্ন করুন-

কতো বছর আগে বাইয়াত গ্রহণ করেছেন?

খুব ভাব গাম্ভীর্যের সহিত জবাব দেয়, ৩০ বছর তো হবেই।

দ্বিতীয়ে প্রশ্ন করুন, তা- বর্তমানে কোন ক্লাসে অবস্থান করছেন?

এবার তিনি লা জবাব হয়ে যাবেন।

আসলে তারা এলমে মারিফাত বা গুরুবাদি শিক্ষার ক্লাস বিষয়ে কোন জ্ঞানই রাখে না। তারা এটাও জানে না যে, গুরুবাদি শিক্ষায় মোট কতোটি ক্লাস আছে, ও কতো বছরে সে সকল ক্লাস সমূহ উত্তীর্ণ হয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রী লাভ করা যায়। সুদীর্ঘ ১৪ শত বৎসরে এলমে মারিফাত বা গুরুবাদি শিক্ষায় আজ অবধি কোন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় নি। এলমে মারিফাত বা গুরুবাদে এটা একটা অনেক বড় ব্যর্থতা, সেই সাথে অনেক বড় লজ্জার। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এলমে মারিফাত বা গুরুবাদি বিদ্যাকে একটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে। আর সে লক্ষ নিয়েই তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহির যাত্রা শুরু করলাম।

এলমে মারিফাত বা গুরুবাদি বিদ্যায় মোট ক্লাস বা শ্রেণী আছে ১২টি। সে ক্লাস সমূহের নাম-

মাহযিন বা আর্ত- ইবতেদায়ি বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস বা শ্রেণী মোট পাঁচটি-

১। হুঁশ দরদম  ২। নযর বার কদম  ৩। সফর দর তন  ৪। খেলাওয়াতে দ্বার আঞ্জুমান  ৫। হেবজে মুবাতিশ।

প্রতিটি ক্লাস শিক্ষা শেষ করতে এক বৎসর করে সময় লাগে।

ওয়াহাজা ইয়াইনি বা অর্থাতি- দাখিল বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস বা শ্রেণী মোট পাঁচটি-

৬। মোজাহিদা  ৭। মোশাহিদা  ৮। মোরাকাবা  ৯। মোয়াইনা  ১০। মোকাশাফা।

প্রতিটি ক্লাস শিক্ষা শেষ করতে এক বৎসর করে সময় লাগে।

আলে আবিদ বা ভক্ত- ফাযিল বা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস একটি-

১১। ফানা

এই ফানা ক্লাসটি তিনটি বিভাগে বিভক্ত। যথা- (ক) ফানাফিস শায়খ (খ) ফানাফির রাসুল (গ) ফানাফিল্লাহ।

তিন বিভাগ নিয়ে এই ক্লাস এর শিক্ষা শেষ করতে এক বৎসর সময় লাগে।

আইসতিফসারিয়ান বা জিজ্ঞাসু- কামিল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস একটি-

১২। বাকা বিল্লাহ।

এই ক্লাস এর শিক্ষা শেষ করতে এক বৎসর সময় লাগে।

কেবল মাত্র বাকাবিল্লাহ এর ক্লাস পাড়ি দিলেই, এলমে মারিফাত বা গুরুবাদি বিদ্যায় খেলাফত প্রাপ্তির যোগ্যতা অর্জন করে।

তবে, প্রতিটি ক্লাশ উত্তীর্ণ হলে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যেমন উত্তীর্ণ সনদ দেয়, এলমে মারিফাত বা গুরুবাদি শিক্ষাতেও প্রত্যেক ক্লাস উত্তীর্ণ হলে, তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ সনদ দেওয়া হবে।

মূল লেখাটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

————————————————————————————————————————————————————————

 

Views All Time
3
Views Today
4
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে