এ দেশের সরকারী আমলারা জন্মগত মুসলিম দাবি করলেও আত্মিকভাবে কি? সেটা প্রশ্ন থেকে যায়!


বাংলাদেশের এমপি-মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রশাসনের সবাই সময়-সুযোগ মত নিজেদের মুসলিম দাবি করে অনেক কিছুই বলে। কিন্তু তাদের এসব আলোচনা আর তাদের কার্যকলাপে একটি সংশয় উঠে আসে- এসব আমলারা জন্মগতভাবে মুসলিম হলেও আত্মিকভাবে কি?
আসলে এ প্রশ্নটি আসে তাদেরই কিছু মন্তব্য এবং কর্মকা-ে। যেমন তারা মাঝে মাঝে বলে, পবিত্র মদীনা সনদ উনার অনুসরণে দেশ চলবে, “দেশে পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র সুন্নাহ শরীফ বিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করা হবে না”, এবং “ধর্মের দোহাই দিয়ে মহিলাদের ঘরে আটকে রাখা যাবে না।” তার প্রথম মন্তব্য দুটি পরবর্তীটির সাথে সাংঘর্ষিক। দেশ যদি পবিত্র মদীনা সনদ উনার অনুসরণে চলে এবং দেশে যদি পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ বিরোধী কোনো আইন প্রণীত না হয়, তাহলে নারী অধিকার এমনিতেই নিশ্চিত হবে। হৈহুল্লোড় করে নারী দিবস পালন করে সেখানে বুলি আওড়াতে হবে না- “ধর্মের দোহাই দিয়ে মহিলাদের ঘরে আটকে রাখা যাবে না”। স্মর্তব্য, ঘরের বাইরে নিয়ে এলেই নারীর অধিকার নিশ্চিত হয় না।
এত কিছুর পর তারাই আবার কেন পূজায় গিয়ে ঢোল পিটায়, সিঁদুর পরে? কেন দ্বীন ইসলাম উনার মুখালিফ মূর্তির মিছিলসহ পহেলা বৈশাখ পালনে উৎসাহ যোগায় এবং অর্থের যোগান দেয়? সকল মুসলমানের প্রাণের অনুষ্ঠান পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের সুমহান উপলক্ষে তারা কত টাকা বরাদ্দ করেছে সরকারি বা ব্যক্তিগত তহবিল থেকে- এই তথ্য তো কোথাও হতে পাওয়া যায় না।
আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, কথিত সংবিধান থেকে “সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক উনার প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” এরাই তুলে দিয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই যদি কারো অন্তরে উদয় হয়- আসলে এসব আমলারা জন্মগতভাবে মুসলিম হলেও আত্মিকভাবে কি? তাহলে এর জন্য তাকে দোষারোপ করা যাবে না বলে মনে করি।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে