ঐতিহাসিক সুমহান ১৭ রমাদ্বান শরীফ


সুমহান ঐতিহাসিক ১৭ রমাদ্বান শরীফ। যেই পবিত্র দিন বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন উম্মাহাতুল মুমিনীন উনাদের মধ্যে সর্বপ্রথম উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম।

যিনি মহিলাদের মধ্যে সর্বপ্রথম পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে গ্রহণকারীনি। উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দ্বীন ইসলাম উনার খিদমত মুবারক করার জন্য সর্বদিক থেকে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। যার কারণে তিনি হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে অত্যন্ত মুহব্বত করতেন। আর উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি যেহেতু উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম সেহেতু উনার মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উনার কথা তো বলার অপেক্ষাই রাখে না। কারণ যারা উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালামগণ উনাদের শান মুবারকে মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম আপনারা অন্য কোনো মহিলাদের মতো নন। সুবহানাল্লাহ!

অর্থাৎ হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক অপরিসীম। সুবহানাল্লাহ!

১৭ই রমাদ্বান শরীফে আরো পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন উম্মুল মুমিনীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম। উনারও মর্যাদা-মর্তবা অপরিসীম। কারণ উনার শান মুবারকেও মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি অসংখ্য আয়াত শরীফ নাযিল করেছেন এবং উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করেছেন। আমীন!

একই তারিখে আরো পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, আসাদুল্লাহিল গালিব, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম। তিনি হলেন, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আহাল বা স্বামী। উনার একখানা বিশেষ লক্বব মুবারক হেছ, আসাদুল্লাহিল গালিব অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য বিভিন্ন জিহাদেই তিনি বীর যোদ্ধা হিসেবে ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

আরো সংঘটিত হয়েছে, ঐতিহাসিক বদর জিহাদ। যেই জিহাদে মুসলমানগণ উনাদের সংখ্যা ছিলো মাত্র ৩১৩ থেকে ৩১৫ জন। আর কাফিরদের সংখ্যা ছিলো ১ হাজারেরও বেশি। কিš সেই জিহাদ উনার মধ্যে মুসলমান মুজাহিদগণই বিজয় লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ!

একই তারিখে সম্মানিত মক্কা শরীফ বিজয় হয়

কুল মাখলুক্বাতের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় মহান পবিত্রতম দিনটি হেছ পবিত্র ১৭ই রমাদ্বান শরীফ

কুল-মাখলুক্বাতের মূল তথা সৃষ্টির মূল হেছন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। আর উনারই সর্বপ্রথম পবিত্রতমা আহলিয়া, সর্বপ্রথম উম্মুল মুমিনীন, সর্বপ্রথম পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণকারিণী, সর্বপ্রথম পবিত্র ঈমান ও ওহী মুবারক উনার মর্মবাণী সাদরে অন্তর মুবারকে ধারণকারিণী, যিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সেবায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বতে গরক হয়ে স্বীয় জান মুবারক, মাল মুবারক সবকিছুই বিলীন করে মহান আল্লাহ পাক উনার সšষ্টি মুবারক উনার সর্ব শীর্ষ মাক্বামে অধিষ্ঠিত, যিনি ত্বাহিরা, ত্বইয়িবা, জামীলা, কামিলা, ছবিরা, হামীদা, ফক্বীহা, ফাহীমা, সাইয়্যিদাহ, ছহিবাতুল কুরআন, ছহিবাতুল ঈমান, ছহিবাতুন নাবিইয়ি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উম্মুল মুমিনীন, খাতুনে জান্নাত হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্রতম বিছালী শান মুবারক প্রকাশের দিন হেছ পবিত্রতম ১৭ই রমাদ্বান শরীফ।

ঠিক একইভাবে ওই ১৭ই রমাদ্বান শরীফই অপর এক উম্মুল মুমিনীন, ত্বাহিরা, ত্বইয়িবা, যাকিয়া, ফাক্বীহা, জামীলা, সাইয়্যিদা, ছাহিবাতুল কুরআন, ছাহিবাতুল ঈমান, ছাহিবাতুন নাবিইয়ি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনিও পবিত্রতম বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।

অনুরূপভাবে এই পবিত্রতম ১৭ই রমাদ্বান শরীফ তারিখেই খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মুমিনীন, বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম, ছহিবুল ইসলাম, ছহিবুল কুরআন, আসাদুল্লাহিল গালিব, হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলাইহিস সালাম তিনিও বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।

ঠিক একইভাবে সত্য মিথ্যার প্রভেদকারী এক যুগান্তকারী পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার প্রথম জিহাদ, হিজরী ২য় বর্ষের ১৭ই রমাদ্বান শরীফ তারিখে পবিত্র মক্কা শরীফ উনার ৮০ মাইল দূরে অব¯িত বদর নামক ¯ানে বাদাল জুমুয়ায় সংঘটিত হয়। এই জিহাদের মাধ্যমে একেবারেই উজ্জ্বল হয়ে উঠলো পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিজয় যাত্রা।

আর কাফিরদের চিরদিনের জন্য পরাজয়ের গ্লানি অবধারিত হয়ে গেল এবং ৮ম হিজরী সনের ১৭ই রমাদ্বান শরীফ পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয় হয়। কাজেই সার্বিক দিক বিবেচনায় পবিত্র ১৭ই রমাদ্বান শরীফ মুসলিম বিশ্বেই শুধু নয়, বরং কুল-কায়িনাতের মাঝেই অবিস্মরণীয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে যেন অতি উত্তমভাবে উক্ত মহান ১৭ই রমাদ্বান শরীফ পালন করার তাওফীক্ব দান করেন। আমীন।

 

পবিত্র ১৭ই রমাদ্বান শরীফ হয়ে রইল অবিস্মরণীয়

শাহরুল আযম মাহে রমাদ্বান শরীফ বিশেষ করে কয়েকটি কারণে সম্মানিত। তবে শুধু পবিত্র ১৭ই রমাদ্বান শরীফ দিনটি ৫টি কারণে সম্মানিত। কারণগুলো হলো- এ দিনে যিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হৃদয় সঙ্গিনী, জান-মাল উৎসর্গকারিণী সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম এবং হুমায়রা, ত্বাহিরা, ত্বইয়িবা, উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম এবং পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার চতুর্থ খলীফা, আসাদুল্লাহিল গলিব সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনারা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার মুবারক দীদারে মিলিত হন। আর চতুর্থ কারণ হেছ- এই দিনেই সংঘটিত হয় পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার প্রথম জিহাদ তথা ঐতিহাসিক পবিত্র বদর জিহাদ। যে পবিত্র জিহাদ মূলত ছিলো পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও কুফরের মধ্যে এক বিরাট পার্থক্যকারী। আর এই জিহাদে মুসলমানদের সংখ্যা ছিলো ৩১৩ থেকে ৩১৫ জন। আর কাফিরদের সংখ্যা ছিলো ১০০০ জন। এই জিহাদের মাধ্যমে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিজয় হয়ে উঠলো একেবারে উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর আর কাফিরদের চিরদিনের জন্য অবধারিত হয়ে গেলো পরাজয়ের গ্লানি। আর পঞ্চম কারণ হেছ, এইদিন সম্মানিত মক্কা শরীফ মুসলমানগণ বিজয় করেন। ফলে পবিত্র কাবা শরীফসহ সর্বত্র ¯ান থেকে মূর্তিসমূহ নিশ্চিহ্ন করা হয়। সুতরাং সার্বিক দিক বিবেচনায় সমগ্র জাহানে পবিত্র ১৭ই রমাদ্বান শরীফ হয়ে রইল অবিস্মরণীয়। পবিত্র ১৭ই রমাদ্বান শরীফ উনার মতো এমন ফযীলতপূর্ণ দিন খুব কমই হয়, যেদিন একই সাথে এতো মহিমান্বিত অনুষঙ্গ সংযুক্ত থাকে। সেক্ষেত্রে এই পবিত্র ১৭ই রমাদ্বান শরীফ উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জন্য এক আলাদা, রহমত ও বরকতের কারণ। আর এই ১৭ই রমাদ্বান শরীফ সম্পর্কে মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র ১৭ই রমাদ্বান শরীফ খুলুছিয়ত সহকারে পালন করলে সব গুনাহখতা মাফ হবে এবং সবার দোয়া কবুল হবে। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র ১৭ই রমাদ্বান শরীফ ও কুল-কায়িনাতের জন্য সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিস্মরণীয় দিন!

পবিত্র মাহে রমাদ্বান শরীফ উনার মধ্যে মুসলমানদের জন্য কিš বিশেষ দিন রয়েছে, যা অনেক মুসলমানরাই জানে না। আরবী মাসের নবম মাসটি হলো পবিত্র মাহে রমাদ্বান শরীফ। এ পবিত্র মাহে রমাদ্বান শরীফ উনার ১৭ই রমাদ্বান শরীফ উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। ত্বহিরা, ত্বইয়্যিবা, যাকিয়া, ফক্বীহা, জামীলা, ছাহিবাতুল কুরআন, ছাহিবাতুল ঈমান, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। অনুরূপভাবে এই পবিত্র ১৭ রমাদ্বান শরীফ তারিখেই খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মুমিনীন, বাবুল ইলম ওয়াল হিকমা, আসাদুল্লাহিল গালিব, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত স্মরণীয় হেছ- কুল-কায়িনাতের প্রথম জিহাদ, যা পবিত্র ১৭ই রমাদ্বান শরীফ তারিখে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার ৮০ মাইল দূরে অব¯িত বদর নামক ¯ানে মহাস্মরণীয় বদর জিহাদ সংঘটিত হয়। এ জিহাদেই হলো মুসলমান উনাদের বিজয় শুরু।

অষ্টম হিজরী সনের ১৭ই রমাদ্বান শরীফ পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয় হয়। তাই আমাদের সকলের জন্য এই সুমহান দিনটি অতি স্মরণীয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদের সকলকে ওই পবিত্র ও সুমহান ১৭ই রমাদ্বান শরীফ পালন করার এবং যথাযথভাবে এই ১৭ই রমাদ্বান শরীফ উনাকে সম্মান-মর্যাদা দেয়ার তাওফীক দান করেন। আমীন!

 

 

আমীরুল মুমিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদুনা  ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার মহান কারামত মুবারক

 

মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার ওলী উনাদেরকে অনেক মর্যাদা-মর্তবা, সম্মান দিয়েছেন। সেই মহান মর্যাদা-মর্তবার বহিঃপ্রকাশ হেছ উনাদের কারামত। কারামত সত্য। সমষ্টিগত কারামত উনাকে অবিশ্বাস করা কুফরী। তবে ব্যক্তি বিশেষে কারামতকে অস্বীকার করা আমভাবে কুফরী না হলেও খাছভাবে গুমরাহী বা বিভ্রান্তির কারণ।

আমীরুল মুমিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিষয়টি ব্যতিক্রম। উনার কোনো বিষয়েই কোনো প্রকার চু-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করা যাবে না। করলে কুফরী হবে।

এছাড়াও তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অন্তর্ভুক্ত হলেও উনার হাক্বীক্বী বা প্রকৃত পরিচয় হেছ তিনি হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত ও ইমাম। কারামত উনার আর কোনো পরিভাষা রচিত না হওয়ায় আমরা উনার মহান শান মুবারকে কারামত শব্দটিই ব্যবহার করতে বাধ্য হিছ।

তিনি কোনো বাহন ছাড়া শুধুমাত্র মুবারক পায়ে হেঁটে ১৫বার পবিত্র হজ্জ মুবারক সম্পাদন করেছেন। সুবহানাল্লাহ! একবার তিনি পবিত্র হজ্জ করার জন্য মুবারক পায়ে হেঁটে পবিত্র মক্কা শরীফ গমন করছিলেন। পথিমধ্যে উনার পা মুবারক ফুলে গেলো। তা দেখে উনার খাদিম আরজ করলেন, হে আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বেয়াদবি ক্ষমা চাই, আপনি যদি কোনো সাওয়ারীতে আরোহণ করতেন তাহলে খুবই ভালো হতো। আপনার পা মুবারক উনার ব্যথা কমে যেতো এবং ফুলাটাও সেরে উঠতো। তিনি সেই খাদিম উনার আবেদন কবুল করলেন না; বরং তিনি বললেন, আপনি নিকটেই কোথাও গিয়ে দেখুন, কোনো একটি গৃহে পৌঁছে একজন হাবশীকে দেখতে পাবেন। তার কাছে কিছু তেল থাকবে। আপনি তা কিনে নিবেন। তার সাথে কোনো প্রকার ফিতনা-ফাসাদ, ঝগড়া-বিবাদ করবেন না।

খাদিম বললেন, আমার মা-বাবা আপনার জন্য কুরবান হোক। আমরা কোথাও এরূপ কোনো লোক দেখতেছি না। যার কাছে এমন ওষুধ আছে। এখানে কোথায় তাকে পাওয়া যাবে? কিš পরের মঞ্জিলে পৌঁছার পরেই এক হাবশী লোক দৃষ্টিগোচর হলো। আমীরুল মুমিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তখন বললেন, এই হাবশী সম্পর্কেই আমি আপনাকে বলেছিলাম। যান তার কাছ থেকে তেল নিয়ে আসুন।

খাদিম সেই হাবশী লোকের কাছে গিয়ে তেল চাইলেন। হাবশী জিজ্ঞাসা করলো, এই তেল কার জন্য চােছন? সেই খাদিম বললেন, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য। তখন হাবশী ব্যক্তি বললেন: আমাকে উনার নিকট নিয়ে চলুন। খাদিম তাকে নিয়ে সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পৌঁছলেন। হাবশী ব্যক্তি উনাকে বললেন, হে আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা আপনাদের গোলাম। কাজেই, আমি তেলের কোনো মূল্য নিবো না। আপনি আমার স্ত্রীর জন্য দোয়া করুন। তার এখন সন্তান দুনিয়ায় আসার সময়কাল চলছে। সে অত্যন্ত বেদনা কাতর। আপনি মেহেরবানী করে দোয়া করুন- যেন মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে একটি সুন্দর ও সু¯-সবল সন্তান দান করেন।

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, নিজের ঘরে ফিরে যাও। মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে এমনিই একজন শিশু সন্তান দান করবেন- যেমনটি আপনি চেয়েছেন। মনে রাখবেন, সে সন্তান আমার অনুসারী হবেন। হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বতে সবসময় গরক থাকবেন। হাবশী ব্যক্তি ঘরে ফিরে গেলেন এবং তিনি যা বলেছেন, হুবহু তেমনি পেলেন। সুবহানাল্লাহ!

আমীরুল মুমিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ,

ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান

আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন

মুস্তাজাবুদ দাওয়াত

 

আমীরুল মুমিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন মুস্তাজাবুদ দাওয়াত। যে মহান ব্যক্তিত্ব উনার সব দোয়াই কবুল করা হয়, উনাকে মুস্তাজাবুদ দাওয়াত বলা হয়। উনার সব দোয়া মুবারকই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট মকবুল। তিনি যখন যা চাইতেন মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে তখনই তা দিতেন। উনার কোনো চাওয়াই মহান আল্লাহ পাক তিনি অপূর্ণ রাখেননি। এ ব্যাপারে পবিত্র মুবারক জীবনী গ্রšে অসংখ্য-অগণিত ঘটনা রয়েছে। বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য শুধুমাত্র একটি ঘটনা মুবারক উল্লেখ করছি।

একদিন ইমামুল হুমাম আউওয়াল ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার সাথে হযরত যুবায়ের ইবনে আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কোনো একজন ছেলে সফরে ছিলেন। উনারা একটি শুষ্ক খেজুর বাগানে শিবির ¯াপন করলেন। সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য বাগানের এক পার্শ্বে এবং হযরত যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়লা আনহু উনার পুত্রের জন্য সেই বাগানের অপর পার্শ্বে তাঁবু টাঙ্গানো হলো।

হযরত যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সেই ছেলে বললেন, যদি এই বাগানে তাজা খেজুর থাকতো তাহলে খুবই ভালো হতো। আমরাও খেতে পারতাম অন্যান্য যারা আছেন তারাও উপকৃত হতো।

আমীরুল মুমিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একথা শুনে বললেন, আপনি কি তাজা খেজুর চান?

তিনি বললেন, হ্যাঁ! আমি চাই। তখন সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া মুবারকের জন্য হাত মুবারক উঠালেন এবং ঠোঁট মুবারক নেড়ে কিছু পড়লেন; যা কেউ জানতে পারলো না। আর সাথে সাথে খেজুর গাছগুলো সবুজ সতেজ ও ফলবান হয়ে গেলো। তাতে তাজা খেজুর উৎপন্ন হলো। সুবহানাল্লাহ!

উনার উট চালক খাদিম বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! এটা তো প্রকাশ্য যাদু মনে হেছ। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, এটা যাদু নয়। বরং মুবারক দোয়া উনার তাছীর বা প্রভাব। যা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আওলাদ তিনি করেছেন। তারপর সেই খেজুর গাছ হতে খেজুর নামিয়ে আনলেন এবং পরিতৃপ্ত হয়ে খেয়ে সবাই উনার শুকরিয়া আদায় করলেন। সুবহানাল্লাহ! (শাওয়াহেদুন নুবুওওয়াত- ২৩০)

 

সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ইমামুল আউওয়াল, বাবুল ইলমি ওয়াল হিকাম সাইয়্যিদুনা হযরত আলী

কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার অসীয়ত মুবারক

 

অন্তিম উপদেশ বা পরামর্শকে অসীয়ত বলে। আর সাধারণ উপদেশ বা পরামর্শকে নছীহত বলে। নছীহতের চেয়ে অসীয়তের গুরুত্ব ও তাৎপর্য ব্যাপক অর্থবোধক এবং গুরুত্ববহ। যার ফলে অধিক গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ এবং গুরুত্ববহ উপদেশের ক্ষেত্রে অসীয়ত শব্দটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

হযরত আহলে বাইত শরীফ উনাদের প্রথম ইমাম, আসাদুল্লাহিল গালিব, আমিরুল মুমিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, বাবুল ইলমি ওয়াল হিকাম সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার মুবারক শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা, বর্ণনার অপেক্ষা রাখে না। মুসলিম বিশ্বে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে, উনার সম্পর্কে জানে না। এমনকি কাফির-মুশরিক, বেদ্বীন-বদদ্বীনরা উনাকে চিনে, জানে যে, তিনি খুলাফায়ে রাশিদীন উনাদের চতুর্থ খলীফা। ইলমে ফিকাহ তো রয়েছেই এমনকি ইলমে তাসাউফের প্রায় সব সিলসিলার মূলেও তিনিই রয়েছেন।

তিনি নিজ আওলাদ- যিনি আহলে বাইত শরীফ আইহিমুস সালাম উনাদের দ্বিতীয় ইমাম, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনাকে যে মহামূল্যবান অসীয়ত মুবারক করেছেন তা উত্তরকালে বংশ পরম্পরায় উনারা সেই অসীয়ত মুবারক নিজেদের জীবন মুবারকে বাস্তবায়ন করেছেন এবং নিজের গদ্দিনসীনসহ সকল সন্তান-সন্ততি উনাদেরকে সেই মুবারক অসীয়তই করতেন। যা আগত-অনাগত সকলের জন্য বিরাট ইবরাত-নছীহত। সকলের উচিত নিজের জীবনে তা বাস্তবায়ন করা। তিনি সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলেন, হে প্রিয় বৎস! আমি আপনাকে চারটি অতঃপর চারটি বিষয়ে অসীয়ত করছি। আপনি যদি তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে পারেন তাহলে কেউ কখনো আপনার কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন করতে পারবে না। এক. আক্বল বা সমঝ হেছ- শ্রেষ্ঠতম সম্পদ। দুই. নির্বুদ্ধিতা বা আক্বলহীনতা হেছ সর্বাপেক্ষা দরিদ্রতা। তিন. অহঙ্কার বা আত্মম্ভরিতা হেছ সবচেয়ে নিঃসঙ্গতা। চার. আর উত্তম চরিত্র হেছ সর্বাপেক্ষা সম্মানিত অর্থাৎ উত্তম চরিত্র দ্বারা শ্রেষ্ঠতম মর্যাদা-মর্তবা লাভ হয়।

প্রিয় বৎস! * আপনি আহমক বা আক্বল-সমঝহীন ব্যক্তির সাথে বন্ধুত্ব করবেন না। তাদের সংস্পর্শে যাবেন না। কেননা সমঝহীন ব্যক্তি আপনার উপকার করতে গিয়ে নিজের অজান্তে আপনার ক্ষতি করে বসবে।

* আপনি বখীল বা কৃপণ ব্যক্তির সাথে বন্ধুত্ব করবেন না। তাদের সংস্পর্শে যাবেন না। কেননা, সে আপনার কাছে সবসময় ফায়দা হাছিল করবে কিš আপনার প্রয়োজনের সময় আপনার কাছ থেকে সে দূরে সরে যাবে।

* আপনি পাপী ব্যক্তির সাথে বন্ধুত্ব করবেন না। পাপী ব্যক্তির সংস্পর্শে যাবেন না। কেননা, সে সামান্যতম জিনিসের বিনিময়ে আপনাকে বিক্রি করে দিবে। অর্থাৎ সে তার পাপের সাথে আপনাকে সংযুক্ত করতে দ্বিধাবোধ করবে না।

* আপনি মিথ্যাবাদীর সাথে বন্ধুত্ব করবেন না। মিথ্যাবাদীর ছোহবতে যাবেন না। কেননা, মিথ্যাবাদী হেছ মরীচিকার মতো। সে দূরবর্তীকে নিকটবর্তী আর নিকটবর্তীকে দূরবর্তী করবে। অর্থাৎ ধোঁকা দিবে। মরীচিকা বলা হয়- মরুভূমিতে রোদ্রের তাপে দূর থেকে পানির মতো দেখা যায়। পিপাসার্ত ব্যক্তি সেই পানি দেখে পানের জন্য সেদিকে অতি দ্রুতগতিতে ধাবমান হয়। যতই যায় দৃশ্যত সেই পানিও তত দূরে যায়।

এভাবে ক্বিয়ামত পর্যন্ত যদি সেই পিপাসার্ত পথিক ধাবিত হতে থাকে কখনোই তা লাভ করতে পারবে না। মিথ্যাবাদী এরূপ মরীচিকার মতো ছলনাকারী। নাউযুবিল্লাহ!

সাইয়্যিদুশ শুহাদা, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, ইমামুছ ছানী সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনাকে যারা মুহব্বত ও অনুসরণ করবে, তারা অবশ্যই নাজাত পাবে

 

পবিত্র শাবান শরীফ মাস উনার ১৫ তারিখে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাওয়াসা, বেহেশতী যুবক উনাদের সাইয়্যিদ, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম। যিনি হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম।

উনাকে যারা মুহব্বত ও অনুসরণ করবে, তারা অবশ্য অবশ্যই নাজাত পাবে। কেননা মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, আমার আওলাদ (সম্মানিত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম) উনারা হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার কিশতীর ন্যায়। যারা তাতে প্রবেশ করবে অর্থাৎ উনাদেরকে মুহব্বত ও অনুসরণ-অনুকরণ করবে তারা অবশ্যই নাজাত পাবে। সুবহানাল্লাহ!

তাই প্রত্যেকের উচিত সাইয়্যিদুশ শুহাদা, সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যথাযথ মুহব্বত, তাযীম, তাকরীম ও অনুসরণ-অনুকরণ করা।

 

 

উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার অবদান

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যখন আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত প্রকাশিত হলো এবং তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম প্রচার করতে আরম্ভ করলেন তখন উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনিই ছিলেন উনার একমাত্র সাহায্যকারিণী। আরবভূমির বুকে উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি পূর্ব হতেই যথেষ্ট খ্যাতি ও প্রতিপত্তি অর্জন করেছিলেন বলে অনেকেই উনার প্রভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধাচরণ করতে সাহস পেতো না। যখন এ পবিত্র আয়াত শরীফখানা নাযিল হলো-

فاصدع بما تؤمر واعرض عن المشركين

অর্থ: আপনাকে যা আদেশ মুবারক করা হয়েছে, তা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার করুন এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন।

এ পবিত্র আয়াত শরীফখানা নাযিল হওয়ার পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন আনুষ্ঠানিকভাবে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার প্রচার শুরু করলেন তখন পবিত্র মক্কা শরীফ শহরের সকল মুশরিকরা উনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালো। উনার সাথে চরম শত্রুতা আরম্ভ করে দিলো এবং তারা যখন-তখন, পথে-ঘাটে, যেখানে-সেখানে উনাকে কষ্ট দিতে লাগলো। এহেন সঙ্কটজনক মুহূর্তে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য এমন একজন সহযোগীর প্রয়োজন ছিলো যিনি উনাকে সমবেদনা দেখাবেন এবং সাথে সাথে ধনে, জনে, বিদ্যা, বুদ্ধি ও বীরত্বে সকল মুশরিকের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সমর্থ হবেন। এই ব্যাপারে উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার কর্মতৎপরতা অসীম। তিনি কেবলমাত্র নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সান্তনা দান করেই ক্ষান্ত হতেন না, তিনি উনার কর্মতৎপরতার দ্বারা মুশরিকদেরকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধাচরণ হতে বিরত রাখতেও সাধ্যাতীত চেষ্টা করতেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি উনার সমস্ত মাল-সামানা ও ধন-ঐশ্বর্য পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার খিদমতের জন্য নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পদতলে উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন। তিনি বলতেন, আমি আপনার। আমার সমস্ত ধন-দৌলত সেগুলো আপনারই জন্য। আপনার যেভাবে ইছা, সেভাবেই আপনার কাজে ব্যবহার করুন। সুবহানাল্লাহ!

উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার এই ত্যাগের কথা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কখনো ভুলেননি। তাই তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বে মাঝে মাঝে বলতেন, প্রথমা উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার এবং পরে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাদের মাল-সম্পদে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার যতখানি খিদমত করেছেন, অন্য কারো ধন-দৌলতে এতোখানি করতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে প্রথমদিকে উম্মুল মুমিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার অর্থের দ্বারাই পবিত্র দ্বীন ইসলাম লালিত-পালিত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

 

১০

উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বৈশিষ্ট্য মুবারক

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অন্যান্য হযরত আহলিয়া উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের তুলনায় উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি যে সমস্ত বিশেষ বৈশিষ্ট্য মুবারক উনার অধিকারিণী ছিলেন তাহলো-

তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রথমা আহলিয়া।

তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারক ও খিদমত মুবারকে সবচেয়ে বেশি সময় অতিবাহিত করেছেন। তিনি একাধারে সুদীর্ঘ ২৫ বছর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সান্নিধ্য মুবারক লাভে ধন্য হয়েছেন।

তিনি এমন সময় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জীবনসঙ্গিনী হন, যখন উনার দুঃখ-বেদনা ব্যক্ত করার মতো আপনজন বলতে কেউই ছিলেন না।

পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সেই প্রাথমিক পর্যায়ে উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ধন-সম্পদ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এতো প্রয়োজনে এসেছিলো, যা কারো ভাষায় তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তিনি যতোদিন পবিত্র হায়াত মুবারকে ছিলেন ততোদিন অন্য কোনো হযরত উম্মুল মুমিনীন আলাইহাস সালাম উনাদের কেউ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে আসেননি।

তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপ¯িতিতেই বা সামনেই পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের কারণে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এতো দুঃখ পান যে, উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের বছরকে আমুল হুযন বা দুঃখের বছর নামে অভিহিত করা হয়।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ৮ জন সন্তান আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে কেবল হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত ৭ জনই উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার রেহেম শরীফ মুবারক হয়ে যমীনে আগমন করেন। আর উনারই বিনতু সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরানী বংশ মুবারক যমীনে বিদ্যমান।

স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে সুসংবাদ দান করেছেন এবং উনাকে সালাম পাঠিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

 

১১

ত্বাহিরা, আউওয়ালুল মুমীনা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল শান-মান মুবারক

মহান রব্বুল আলামীন তিনি স্বয়ং ত্বহিরা, আউওয়ালুল মুমীনা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার শান, মান ও মর্যাদা মুবারককে বুলন্দ করেছেন এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং উনার উছ¡সিত প্রশংসা করেছেন, ছানা-ছিফত করেছেন। কাজেই কোনো মাখলুকাত উনার ছানা-ছিফত, মর্যাদা মুবারক বর্ণনা করতে কস্মিনকালেও পারবে না।  মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি ইরশাদ মুবারক  করেন, হে নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলিয়াগণ! আপনারা অন্য কোনো নারীদের মতো নন। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩২)

অর্থাৎ উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি অন্য কোনো সাধারণ নারীদের মতো নন। উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সবচেয়ে বড় খুছুছিয়াত তিনি যাওজাতু রাসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এছাড়াও উনার অসংখ্য অগণিত খুছুছিয়াত মুবারক রয়েছে, যা খাতা কলমে লিখা সম্ভব নয়। তারপরেও কিছু বৈশিষ্ট্য মুবারক উল্লেখ করার চেষ্টা করবো।

* নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে বেশ কয়েকজন উম্মুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছিলেন এবং একই সাথে একই সময়ে অনেকজনই ছিলেন। কিš উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন একা। উনার সময়ে অন্য কোনো উম্মুল মুমিনীন আলাইহাস সালাম উনারা ছিলেন না। সুবহানাল্লাহ!

* উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে শুধু একজন আওলাদ ব্যতীত সব আওলাদ উনারা তাশরীফ মুবারক এনেছেন। সুবহানাল্লাহ!

* মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নসব মুবারক জারি হয়েছে উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে। সুবহানাল্লাহ!

* উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মুনকার-নাকিরের প্রশ্নের জওয়াব স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই দিয়ে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

* স্বয়ং মহান রব্বুল আলামীন তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার প্রতি সালাম পাঠান। সুবহানাল্লাহ!

* মহান আল্লাহ পাক তিনি উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে শান্তিপূর্ণ কোলাহলমুক্ত জান্নাত উনার সুসংবাদ দান করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

* স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্পর্কে বলেছেন- যমীনের বুকে সর্বোত্তম উম্মুল মুমিনীন আলাইহাস সালাম হেছন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

* তিনি ছিলেন পরিপূর্ণ পবিত্রা। জাহেলিযুগেও তিনি মূর্তিপূজা থেকে পবিত্রা ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

* উনার খিদমত মুবারকের উনার আঞ্জাম দিয়েছেন জান্নাতী চার জন মহিলা। যথা-

(১) উম্মুল বাশার সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাওয়া আলাইহাস সালাম।

(২) উম্মু যাবিহিল্লাহিছ ছানীয়া সাইয়্যিদাতুনা হযরত সারাহ আলাইহাস সালাম।

(৩) উম্মু রূহীল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম।

(৪) উখতু কালীমীল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মে কুলসুম আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

মোদ্দাকথা, উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মর্যাদা খুছুছিয়ত মুবারক কোনো কাগজ ও কোনো কলম লিখতে পারবে না, চিন্তা করাও সম্ভব নয়। উনাদের খুছুছিয়ত ওয়ারাউল ওয়ারা, ওয়ারাউল  ওয়ারা, ওয়ারাউল ওয়ারা। এখন আমাদের দায়িত্ব কর্তব্য হবে উনাকে তাযীম-তাকরীম করা, খিদমত উনার আনজাম দেয়া। তবে তা কিভাবে সম্ভব? বর্তমানে যিনি নারীদের হিদায়েতের আলোকবর্তিকা, নকশায়ে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারক উনার আনজাম দিলে, উনাকে তাযীম-তাকরীম করলেই সেই ফযীলত হাছিল করা সম্ভব।

হে মুসলিমা! যদি চাও সেই নিয়ামত হাছিল করতে তাহলে আজি চলে আসুন আযীমুশ শান রাজারবাগ শরীফে।

 

১২

 

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ত্বাহিরা, ত্বইয়িবা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি পৃথিবীর সকল মহিলাদের জন্য আদর্শ

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

يا نساء النبى لستن كاحد من النساء

অর্থ: হে নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলিয়াগণ! আপনারা অন্য কোনো মহিলাদের মতো নন। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩২)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেন,

انما يريد الله ليذهب عنكم الرجس اهل البيت ويطهركم تطهيرا

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদের (আহলে বাইত উনাদের) থেকে সর্বপ্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি, অপ্রিয়-অপছন্দনীয় বিষয়গুলি দূর করে পূত-পবিত্র করতে চান। অর্থাৎ হযরত আহলু বাইত শরীফ উনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)

মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত আহলে বাইত শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে পূত-পবিত্র করেই সৃষ্টি করেছেন। উনারা আগত-অনাগত সকল মুমিন-মুমিনাগণের আদর্শ। সেক্ষেত্রে উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বিষয়টি আরো প্রণিধানযোগ্য। কেননা তিনি হেছন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ঘোষিত সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন তথা পৃথিবীর সকল মহিলাদের সাইয়্যিদা। সুবহানাল্লাহ!

যারা উনাকে অনুসরণ-অনুকরণ করবে, মুহব্বত-খিদমত করবে তারা সবাই মহান আল্লাহ পাক উনাকে পাবে। উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাবে। মারিফত-মুহব্বত, সšষ্টি-রেযামন্দি নৈকট্য-তায়াল্লুক হাছিল হবে।

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ত্বাহিরা, তইয়িবা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না।

দুনিয়াবাসী সবাই বিস্ময়ে অভিভুত হয় যে, আরবের সেই ঘোর অন্ধকার যুগে কিভাবে একজন মহিলা সম্পূর্ণ দ্বিধাহীন চিত্তে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত উনার প্রতি বিশ্বাস ¯াপন করেছেন। এ ব্যাপারে উনার মধ্যে কোনো কিছুমাত্র সংশয়-সন্দেহ ছিলো না।

সাধারণ মহিলা হউক বা পুরুষ হউক যারা অতি নিকটে থাকেন তারা স্বামী বা উদ্দিষ্ট ব্যক্তির কামালিয়ত বুযুর্গ বা সম্মানের বিষয়টি অতি সহজে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে উনার সম্মানিত নুবুওওয়াত ঘোষণার পূর্ব থেকে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি দৃঢ় প্রত্যয়ী ছিলেন যে, তিনি নবী হবেন। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত ঘোষণার ক্ষণিকের জন্যও উনার মনে একটুও ইতস্ততভাব দেখা দেয়নি। এতে উনার দূরদৃষ্টি ও তীক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার গভীরতা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। সুবহানাল্লাহ!

আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত ঘোষণার পূর্বে ও পরে সবসময় তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অত্যন্ত সম্মান করতেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে যথাযথভাবে আদব বজায় রাখতেন। উনার প্রতিটি কথা মুবারকই তিনি দ্বিধাহীন চিত্তে বিশ্বাস করেছেন। প্রতিটি আদেশ-নিষেধই যথাযথভাবে তামিল করেছেন। শুধু তাই নয়, বরং আকার-ইঙ্গিতে যদি বুঝতে পারতেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অমুক বিষয়টি পছন্দ করেন, তাহলে সাথে সাথে তা করেছেন। পঁচিশ বছরের দাম্পত্য জীবনে মুহূর্তের জন্য উনার মনে কোনো প্রকার সন্দেহ দানা বাঁধতে পারেনি। আইয়ামে জাহিলাতের সেই অন্ধকার দিনেও তিনি ছিলেন ত্বাহিরা লক্বব মুবারকে সম্বোধিতা। সবাই উনাকে পূত-পবিত্র বলে জানতেন, মানতেন। তিনি কখনো মূর্তিপূজা করেননি। জাহিলিয়াতের জিহালতপূর্ণ কাজ থেকে তিনি ছিলেন সর্বদা বিরত।

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি শুধু প্রথম বিশ্বাস ¯াপনকারিণীই নন; তিনি ছিলেন প্রথম ছালাত বা নামায আদায়কারিণী। ঈমান ও ইসলাম উনাদের অনেক কাজই তিনি সর্বপ্রথম শুরু করেছেন। সেই ঘোর অন্ধকার দিনে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার জন্য তিনি যে শক্তি যুগিয়েছেন চিরদিন তা অম্লান হয়ে থাকবে। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সূচনা লগ্নে প্রকৃতপক্ষেই তিনি ছিলেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরামর্শদাত্রী। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতের সুযোগ পাওয়ার পরপরেই সমস্ত ধন-সম্পদ উনার মুবারক হাতে তুলে দেন। হযরত যায়িদ ইবনে হারিসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ছিলেন উনার প্রিয় গোলাম। উনাকেও উনার মুবারক খিদমতে হাদিয়া করে দেন। সুবহানাল্লাহ!

হযরত আল্লামা ইবনে হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ভাতিজা হযরত হাকীম ইবনে হিশাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সিরিয়ার বাজার থেকে অনেকগুলো গোলাম কিনে আনেন। তাদের মধ্যে হযরত যায়িদ ইবনে হারিসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি একজন ছিলেন। ফুফু উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি গেলেন ভাতিজা হযরত হাকীম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে দেখা করতে। তখন ভাতিজা বললেন, ফুফু এ গোলামদের মধ্যে যাকে পছন্দ হয় আপনি বেছে নিতে পারেন। উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হযরত যায়িদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে পছন্দ করলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত যায়িদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দেখে পছন্দ করলেন। হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি তা বুঝতে পেরে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া দিয়ে দিলেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে গোলামী থেকে মুক্তি দিয়ে পালিত পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! (সীরাতে ইবনে হিশাম- ১/২৪৮)

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অত্যন্ত গভীরভাবে মুহব্বত করতেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের, আত্মীয়-স্বজন উনাদেরকেও সম্মান করতেন, খোঁজ-খবর নিতেন এবং উনাদের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াতেন।

একবার নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুধমাতা হযরত হালীমা সাদীয়া আলাইহাস সালাম তিনি আসলেন দেখা করতে। হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আপন শাশুড়ির মতো সম্মান-মর্যাদা দিয়ে উনার সেবা-যতœ করলেন।

 

১৩

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সুমহান শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত ও খুছুছিয়ত মুবারক

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সুমহান শানে ইরশাদ মুবারক করেন,

يا نساء النبي لستن كاحد من النساء.

অর্থ: হে হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম আপনারা দুনিয়ার অন্য কোনো মহিলাদের (মানুষের) মতো নন।

উল্লেখ্য যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার নিজের শান মুবারকে ইরশাদ মুবারক করেন,

لستن كاحدكم

আমি তোমাদের কারো মতো নই। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

তেমনি হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাও অন্য কোনো মানুষ বা মাখলুকাতের মতো নন। বরং খালিক্বে কায়িনাত মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি উনাদেরকে সীমাহীন মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক হাদিয়া করেছেন।

নিম্নে উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সীমাহীন খুছূছিয়াত মুবারক থেকে যৎসামান্য বর্ণনা করা হলো-

উম্মুল মুমিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রথম আহলিয়া। সুবহানাল্লাহ!

তিনি হায়াতে ত্বইয়িবা মুবারকে থাকা অব¯ায় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অন্য কোনো উম্মুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে গ্রহণ করেননি।

একমাত্র তিনিই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহা সম্মানিত ৮ জন আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে ৭ জনের সম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

 

উনারই সম্মানিতা কন্যা হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে নববী সিলসিলা মুবারক ক্বিয়ামত পর্যন্ত জারি হয়েছে ও থাকবেন। সুবহানাল্লাহ!

শাদী মুবারক সংঘটিত হওয়ার পূর্বে আরব জাহানে তিনিই শীর্ষ¯ানীয় সম্পদশালিনী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

শাদী মুবারক সংঘটিত হওয়ার পরেই উনার সমস্ত সম্পদ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্বদম মুবারকে সোপর্দ করেন। সুবহানাল্লাহ!

সর্বপ্রথম যেদিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে বিশেষ সাক্ষাৎ মুবারক সংঘটিত হয়, সেদিন তিনি রাস্তায় প্রতি ক্বদম মুবারকের নিচে স্বর্ণের প্লেট বিছিয়ে দিয়ে সাদর সম্ভাষণ জানান। সুবহানাল্লাহ!

তিনিই সমস্ত মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র ওহী মুবারক নাযিল হওয়ার পরে তিনিই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সান্তনা মুবারক দেন। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে শুরুর দিকের সমস্ত যুলুম নির্যাতনে একমাত্র তিনিই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সান্তনা মুবারক দান করেন ও সার্বিক খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেন। সুবহানাল্লাহ!

ওহী মুবারক নাযিলের পূর্বে হেরা পর্বতে ধ্যানেমগ্ন থাকাব¯ায় একমাত্র তিনিই সীমাহীন কষ্ট করে পর্বত আরোহণ করে সার্বিক খিদমতের আনজাম দেন। সুবহানাল্লাহ!

উনার মুবারক খিদমতে খুশি হয়ে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি উনাকে সালাম দেন। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  তিনি আখাছুল খাছ ও দায়িমীভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার নিসবতে থাকাব¯ায়ও তিনি উনার সার্বিক খিদমতের আনজাম দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক উনার জীবনী মুবারক থেকে সকলকে ইবরত-নছীহত হাছিল করার তাওফীক দান করেন। আমীন।

 

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে