ওরা মাদ্রাসায় পড়ে, তবে মুসলমান নয় হিন্দু


খবরটি ২০০৯ সালে ইরান বাংলা রেডিও ও প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিলো। খবরটি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।
…..
…..
…..


গভীর মনোযোগে বর্ণমালা পড়ছিল মেয়েটি। নাম দিপালী বর্মণ। তবে মাতৃভাষা, স্থানীয় কোনো ভাষা কিংবা ইংরেজি শিখছিল না দিপালী। তার পাঠ্য বর্ণমালা ছিল আরবি ভাষার। ভারতের উত্তর দিনাজপুরের একটি মাদ্রাসায় তার মতো হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক ছেলেমেয়ে পড়ালেখা করে। রায়গঞ্জ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রতি ১০ জন শিক্ষার্থীর ছয়জনেরও বেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের। এককথায় মাদ্রাসাটির ১০৭৭ জন শিক্ষার্থীর বেশির ভাগই অমুসলিম।
মাদ্রাসাটি নাম কসবা মাহাসো মুখদুমা হাই-মাদ্রাসা। ১৯৭৫ সালে এটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. গোলাম মোস্তফা। তিনি জানান, এখানকার ৬৫ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী হিন্দু। এ বছর হাই-মাদ্রাসা পরীক্ষায় (দ্বাদশ শ্রেণীর সমমানের) অংশ নিতে যাওয়া ৭৬ জনের মধ্যে ৪৬ জন শিক্ষার্থীই হিন্দু।
হিন্দু অধ্যুষিত কামলাবাড়ি হাট এলাকায় মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করতে জমি দান করেছিলেন সৈয়দ আবুল কাশেম। সেই স্মৃতিচারণা করে অধ্যক্ষ মোস্তফা বলেন, চারপাশে তখন জঙ্গল। দূরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কয়েকটি কুঁড়েঘর। এমন একটা জায়গায় আবুল কাশেম ও আনসেদ আলী যখন মাদ্রাসা স্থাপনের কথা বললেন, তখন সবাই তাঁদের নিয়ে উপহাস করেছিল। কিন্তু এ দুজন ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। তাঁরা জানতেন, তাঁরা ঠিক কাজটাই করছেন এবং বিষয়টা নিয়ে ঠিকভাবেই এগোচ্ছেন।’
মাদ্রাসাটি যেখানে অবস্থিত, তার আশপাশে রাজবংশী সম্প্রদায়ের বসবাস। তাঁদের সন্তানদের পড়াশোনা করানোর কোনো জায়গা ছিল না। মাদ্রাসা হওয়ায় তাঁরা যেন হাফ ছেড়ে বাঁচল! আগপিছ না ভেবেই সন্তানদের পাঠিয়ে দিলেন মাদ্রাসায়। সেই যে শুরু, আজও তা অব্যাহত আছে।
প্রথম দিকে এখানকার হিন্দু বাসিন্দারা অনেকটা বাধ্য হয়েই তাঁদের সন্তানদের এ মাদ্রাসায় পাঠাতেন। কারণ তখন আর কোনো বিকল্প তাঁদের কাছে ছিল না। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। ধারে-কাছেই গড়ে ওঠেছে হেমতাবাদ হাইস্কুল, কর্ণজোড়া হাইস্কুল, বাংলাবাড়ি হাইস্কুল ও বহুগ্রাম হাইস্কুল। কিন্তু তার পরও হিন্দু অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের ওই মাদ্রাসাতেই পাঠান।
কিন্তু কেন? এ ব্যাপারে অভিভাবক ও মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থী ইশওয়ার খান বললেন, ‘আমাদের সন্তানদের এ বিদ্যালয়ে পাঠাতে আমরা কখনো অস্বস্তি বোধ করি না। এখানকার সিলেবাস বা শিক্ষাদান পদ্ধতি নিয়েও আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’ তাঁর মেয়ে মামপি এই মাদ্রাসায় পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে।
অভিভাবকদের না হয় কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আরবি পড়তে শিক্ষার্থীদের কি কোনো সমস্যা হয় না? রজত তদফদার ও প্রভা সরকার নামের দুই শিক্ষার্থী জানালেন, এটা স্রেফ একটা ভাষা, শিখলে কোনো ক্ষতি নেই। আরবির শিক্ষক ইসমাইল কাশেম জানালেন, গতবার আরবি পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীর নাম দিপা সরকার। নামটা বলার সময় শিক্ষকের চোখে-মুখে ফুটে উঠল এক ধরনের গর্ববোধ।


পাঠক! খবরটি পড়ে কি বুঝলেন? বিষয়টি কি এতই সহজ? যেখানে হিন্দুরা মুসলমানদেরকে কটাক্ষ করে ম্লেচ্ছ-যবন বলে থাকে (নাউযুবিল্লাহ) সেখানে কি এমনিতেই কোন উদ্দেশ্য ছাড়া তারা মুসলমানদের পবিত্র ভাষা, আরবী ভাষা চর্চা করছে? এটাতো গেল একটি মাদ্রাসা। সারা ইন্ডিয়াতে বিভিন্ন মাদ্রাসায় অসংখ্য হিন্দু, শিখ ও অন্যান্য বিধর্মীরা লেখাপড়া করছে। আপনারা হয়তো জেনে থাকবেন ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ইন্ডিয়া যুদ্ধে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে একজন ইমাম ধরা পড়েছিল যে মুসলমান ছিলোনা। সে ছিলো শিখ। সে মুসলমানদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করতে এসেছিলো মুসলমান সেজে, মাওলানা সেজে। ১৮ বছর ইমামতি করেছে সে মসজিদে।

কাজেই ইন্ডিয়ার মাদ্রসাগুলোতে হিন্দু বা শিখ শিক্ষার্থীদের পড়ার কারণ কি আপনাদের কাছে স্পষ্ট?

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+