ওলীআল্লাহগণ উনাদের সমগ্র হায়াত মুবারক রহমতপূর্ণ হলেও বিশেষ বিশেষ কিছু দিনে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার ওলীগণ উনাদের ওসীলায় খাছ রহমত, মাগফিরাত ও সাকীনা বর্ষণ করেন


খালিক্ব, মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ তায়ালা উনার রহমত ওলীআল্লাহগণ উনাদের নিকটে।’

সেই বিশেষ বিশেষ দিনগুলোর মধ্যে একটি হলো বিবাহ শাদী বা নিকাহ মুবারক-এর দিন।


যেন মানুষ সেদিনগুলো পালন করতঃ তার হিস্সা লাভ করে নাজাত, সাকীনা ও মাগফিরাত লাভ করতে পারে।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বান্দা-বান্দি ও উম্মত তথা কুল-কায়িনাতের জন্য যেরূপ রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত, নাজাত ইত্যাদি লাভের কারণ তদ্রƒপ উনার বিছাল শরীফ-এর পর উনার যারা খাছ প্রতিনিধি, নায়িব ও ওয়ারিছ যামানার মহান মুজাদ্দিদগণ উনারাও কুল-কায়িনাতের জন্য রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত, নাজাত ইত্যাদি লাভের কারণ।

ওলীআল্লাহগণ উনাদের যমীনে আগমন ও অবস্থান আমভাবেই তো যমীনবাসীর জন্য রহমতস্বরূপই, তবে উনাদের এমন কতক বিশেষ মুহূর্ত বা সময় রয়েছে, যে সময়ে উনাদের ছোহবত ও খিদমতকারীগণ আরো বেশি পরিমাণে রহমত লাভ করে থাকেন। ফলে তাদের জন্য খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নৈকট্য লাভ নিশ্চিত হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!

, ওলীআল্লাহগণ উনাদের সেই বিশেষ মুহূর্তগুলির মধ্যে একটি হলো উনাদের বিবাহ-শাদী বা নিকাহ মুবারকের দিন বা মুহূর্ত। যা মূলতঃ খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নির্দেশে ও অনুসরণের নিমিত্তে সম্পাদিত হয়ে থাকে। সুবহানাল্লাহ!

, যেমন- সপ্তম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, সুলত্বানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদুর রসূল, হাবীবুল্লাহ হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চীশতী আজমিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নব্বই বছর বয়স মুবারক পর্যন্ত শাদী মুবারক করেননি। হিদায়েত, নছীহত, তাজদীদ-এর কাজে নিরন্তর ব্যাপৃত থাকায় মুবারক শাদী অনুষ্ঠানের জন্য তিনি সময় করে উঠতে পারেননি।

মূল বিষয় হলো, মুবারক নির্দেশ পাওয়া যায়নি বলে শাদী মুবারক-এর কথা উনার বিবেচনায় আসেনি। তিনি একজন মুজাদ্দিদ। আপন ইচ্ছায় উনার শাদী মুবারক অনুষ্ঠিত হবে সেটা কী করে সম্ভব? সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুবারক দীদারে একদিন বললেন:

“হে আমার প্রিয়তম আওলাদ! হে সপ্তম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ! আপনি তো দ্বীন যিন্দা করলেন, আপনি আমার প্রায় সব সুন্নতই পালন করলেন। কিন্তু একটি সুন্নত এখনো বাকি রয়ে গেলো কেন?” ঘুম থেকে উঠে সুলত্বানুল হিন্দ, আওলাদুর রসূল, হাবীবুল্লাহ হযরত খাজা মুঈনুদ্দিন হাসান চীশতী আজমিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ভাবতে থাকলেন কোন সুন্নত এখনো পালন করা হয়নি? অবশেষে গভীর পর্যবেক্ষণে তিনি বুঝে নিলেন যে, এখন পর্যন্ত উনার শাদী মুবারক করা হয়ে উঠেনি। নির্দেশ মতে অবিলম্বে তিনি আপন শাদী মুবারক সম্পন্ন করলেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার শাদী মুবারক হয় স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশে। উম্মতের পক্ষে এর সমস্ত কারণ কোনদিন অনুধাবন করা সম্ভব নয়। কিন্তু যতটুকু মানুষ উপলব্ধি করতে পারে তা হচ্ছে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর সমস্ত ইলম মানুষ শিখতে পেরেছে উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনার কাছ থেকে।

, মুজাদ্দিদগণ উনাদের সমস্ত কাজের নেপথ্যে থাকে গভীর হিকমত, যা সাধারণের পক্ষে অনুধাবন করা সম্ভব নয়। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত অনুযায়ী সকল আওলিয়ায়ে কিরামগণ উনাদের সমগ্র হায়াত মুবারক রহমতপূর্ণ;

তবে বিশেষ কিছু দিন যেমন- বিলাদত মুবারক, শাদী মুবারক, বিছাল মুবারক এছাড়াও আরও কিছু বিশেষ দিন রহমতের দিন; যেদিন অসংখ্য অগণিত রহমত নাযিল করা হয়, মানুষকে ক্ষমা করা হয়, নাজাত দেয়া হয়। মানুষ যার কমই উপলব্ধি করে। কারণ খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, ‘মানুষকে অল্প ইলম দেয়া হয়েছে।’

, খালিক্ব, মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত ওলীআল্লাহগণ উনাদের নিকটবর্তী। শুধু তাই নয়, যারা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা, মাহবুব ওলী উনাদের হায়াত মুবারক-এর বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতেও খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি অশেষ নিয়ামত, রহমত, সাকীনা নাযিল করেন।

সেই মুবারক দিনগুলোকে যারা পালন করেন, যারা তা’যীম-তাকরীম করেন, যারা উপস্থিত হন তাদের উপরও রহমত, সাকীনা নাযিল করেন। মূলত, সে দিনগুলো তাদের জন্য নাজাতের উসীলা হয়। তাই বলা হয়, “রহমতে খোদা বাহানা মি জুইয়াদ” অর্থাৎ খালিক্ব মালিক রব মহান

আল্লাহ পাক তিনি বান্দাকে ক্ষমা করার জন্য ও রহমত দান করার জন্য ওসীলা তালাশ করেন। তাই আমরা দেখতে পাই যে, পূর্ববর্তী অনেক ওলীআল্লাহগণ উনাদেরকে বিশেষ বিশেষ দিন ইলহাম-ইলকা করা হয়েছে, সেদিন সেই ওলীআল্লাহ

উনাদেরকে যিনি দেখবেন, তা’যীম-তাকরীম করবেন তাদের ক্ষমা করা হবে, নাজাত দেয়া হবে। মূলত, ওলীআল্লাহগণ উনারা মানুষকে জান্নাতী করার লক্ষ্যে, নাজাত দেয়ার লক্ষ্যে অসংখ্য উসীলা বিস্তার করেন যা মানুষ কমই উপলব্ধি করে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. MNURUNNABI says:

    আমরা সেই রহমত,বরকত, সাকীনা পাওয়ার আশা করছি। আমীন।।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে