ওহাবীরাই দাজ্জালের চেলা এ কারণে যে তাদের কথিত এক মুরুব্বী বলেছে ‘উম্মত’ বলা যাবে না ‘গোলাম’ বলতে হবে; মূলত উম্মত শব্দটি পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে অসংখ্যবার উল্লেখ রয়েছে, গোলাম শব্দটি তো রয়েছেই। সুবহানাল্লাহ!


পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে
عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يكون فى اخر الزمان دجالون كذابون يأتونكم من الاحديث بما لم تسمعوا انتم ولا ابائكم فاياكم واياهم لا يضلونكم ولا يفتنونكم
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আখিরী যামানায় অনেক মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বের হবে, তারা এমনসব (আজগুবি) কথাবার্তা বলবে যা কোনো দিন তোমরাও শুননি, তোমাদের বাপ দাদারাও শুনেনি। তোমরা তাদের থেকে দূরে থাক এবং তাদেরকেও তোমাদের থেকে দূরে রাখ। তাহলে তারা তোমাদের গোমরাহ করতে পারবে না ও ফিতনায় ফেলতে পারবে না। (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
উল্লেখ্য যে বর্তমান সময়ের লা-মাযহাবী ওহাবীরা এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব। মিথ্যাবাদী ও দাজ্জালের এই সকল চেলারা বলে ‘আমাদেরকে উম্মত বলা যাবে না।’ নাউযুবিল্লাহ!
বিশেষভাবে স্মরণীয় যে, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে অসংখ্য বার আমাদের ক্ষেত্রে এই উম্মত (امة) শব্দ মুবারক ব্যবহৃত হয়েছে। খ¦ালিক, মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللّٰهِ ۗ
অর্থ: তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানব কল্যাণের জন্য তোমাদেরকে প্রেরণ করা হয়েছে, সুতরাং তোমরা নেক কাজে আদেশ দাও এবং অসৎ কাজে বাধা প্রদান করো। (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১১০)
উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে امتى (উম্মত) বলে বর্ণনা মুবারক করেছেন।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عن حضرت ابى هريرة رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال كل أمتي يدخلون الجنة إلا من أبى، قيل ومن يأبى يا رسول الله قال: من أطاعني دخل الجنة، ومن عصاني فقد أبى.
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা উনার থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার প্রত্যেক উম্মতই সম্মানিত জান্নাত উনার মধ্যে প্রবেশ করবে, কেবলমাত্র যারা অস্বীকার করেছে তারা ব্যতীত। অতঃপর প্রশ্ন করা হলো, কে অস্বীকার করেছে ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উত্তরে তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যিনি আমার ইতায়াত করেছেন তিনিই সম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করবেন আর যারা আমার অবাধ্য হলো তারাই অস্বীকার করলো বা জাহান্নামী হলো। (বুখারী শরীফ, মিশখাত শরীফ)
এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যেও امتى (আমার উম্মত) শব্দ মুবারক ব্যবহৃত হয়েছে।

পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত হয়েছে-
عن حضرت ابى هُرَيْرَةَ رضى الله تعالى عنه النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهم عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ اِنَّ أُمَّتِي يُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنْ آثَارِ الْوُضُوءِ فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يُطِيلَ غُرَّتَهُ فَلْيَفْعَلْ
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই আমার উম্মতগণের ওযূর অংঙ্গগুলী উজ্জল আকারে জ্বল জ্বল করা অবস্থায় উনাদেরকে ক্বিয়ামতের দিন আহ্বান করা হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি চায় তার উজ্জ¦লতা আরো বৃদ্ধি পাক সে যেনো বেশি বেশি অযু করে। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অন্যতম প্রসিদ্ধ কিতাব কানযুল উম্মাল উনার ২৮৬৮২নং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اختلاف امتى رحمة
আমার উম্মতের ইখতিলাফও রহমতপূর্ণ। (কানযুল উম্মাল, নাছরুল মুকাদ্দাসী, বাইহাক্বী ফী রিসালায়ে আশয়ারিয়্যাহ)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من تسمك بسنتى عند فساد امتى فله اجر مأت شهيد
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার উম্মতের ফিতনা ফাসাদের যামানায় যে ব্যক্তি, আমার একটি মাত্র পবিত্র সুন্নত উনাকে আঁকড়ে ধরে অনুসরণ করবে, তার জন্য একশত সম্মানিত শহীদ উনাদের ফযীলত দেয়া হবে। (আহমদ শরীফ, বাইহাক্বী শরীফ, মিশকাত শরীফ ৩০)
এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে امتى (আমার উম্মত) শব্দ মুবারক ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়া আরো অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফে امتى উম্মতী (আমার উম্মত) এ শব্দ মুবারক স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বর্ণনা মুবারক করেছেন। সুতরাং যারা বলবে যে, امتى শব্দ বলা যাবে না। তারা যে মিথ্যাবাদী দাজ্জালের চেলা তা সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হলো।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে