ওয়ালিদুর রসূল, সাইয়্যিদুল বাশার, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, মাহবূবে ইলাহী, নূরে মুয়াজ্জাম, নূরে ইলাহী, মালিকুল জান্নাহ, যাবীহুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক


সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত গায়িবী নিদা মুবারক:

বর্ণিত রয়েছে যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম উনাকে বলেছিলেন যে, হে আমার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম, আমি যখন কোনো নির্জন স্থানে যাই, তখন ‘গায়িবী নিদা তথা অদৃশ্য আওয়ায’ শুনতে পাই- কে যেন আমাকে বলেন, হে রসূল তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম, আপনাকে সালাম। সুবহানাল্লাহ!
আবার কখনো-বা বলেন, হে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা আম্মাজান আপনাকে সুসংবাদ। সুবহানাল্লাহ! সম্প্রতি একটি নতুন কথা শুনতে পেলাম। ঠিক একইরূপে কে যেন আমাকে বললেন, হে সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা আহলিয়াহ (যাওযাতুম মুর্কারামাহ), মুবারকবাদ গ্রহণ করুন। সুবহানাল্লাহ!
এরপর সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব আলাইহিস সালাম তিনি এক রাতে স্বপ্ন মুবারক দেখেন। এক বুযূর্গ ব্যক্তি উনাকে বলছেন, হে হযরত ওহাব আলাইহিস সালাম, স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার সম্মানিতা মেয়ে উনার তত্ত্বাবধান ও নিরাপত্তার ভার গ্রহণ করেছেন। আপনি উনাকে এক উত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ বংশের অধিকারী ব্যক্তিত্ব মুবারক উনার নিকট সমর্পণ করুন- যাঁকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক করার জন্য উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি মানত মুবারক করেছেন এবং মহান আল্লাহ পাক তিনিও উনার সম্মানিত কুরবানী মুবারক কবূল করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত সৌন্দর্য মুবারক:
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
كان عبد الله بن عبد المطلب أحسن رجل رئي قط
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বাধিক সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী।” সুবহানাল্লাহ! (ইমতা’ ৪/৪১)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
وأبوه: عبد الله بن عبد المطلب، كان أجمل قريش (قبيلة قريش) وأحب شبابها إليها، عاش طاهرًا كريمًا
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত কুরাইশ উনাদের সকলের মাঝে সর্বাধিক সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন এবং উনাদের সকলের নিকট সর্বাধিক প্রিয় ছিলেন। আর তিনি সর্বাধিক পবিত্রতা ও বেমেছাল সম্মান-ইজ্জত মুবারক উনার সাথে জীবন-যাপন মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (ইক্বামাতুল হুজ্জাহ ১/১০১)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,
أن عبد الله بن عبد المطلب كان يرى بين عينيه نور النبوة
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কপাল মুবারক উনার মাঝখানে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার সম্মানিত নূর মুবারক তথা নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখা যেতো।” সুবহানাল্লাহ! (ইমতা’ ৪/৩৪)
আল্লামা কারামাত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত ‘আল বারাহীনুল ক্বিত্ব‘ইয়্যাহ ফী মাওলিদি খইরিল বারিয়্যাহ’ উনার মধ্যে ‘মাদারেজুন নুবুওওয়াত কিতাব’ উনার বরাতে উল্লেখ করেন,
انه لما كان صيت حسن عبد الله وجماله مشتهرا وقصة الذبح والفداء صار سبب زيادة اشتهاره فى الدرجة القصى فصارت نساء القريش عاشقات لجماله الاكمال وطالبات لوصاله الاحلى حتى كنا يقمن على راس سبيله وتدعونه الى انفسهن ولكن كان يحفظه الله تعالى فى حجاب العفة والعصمة حفظا.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক, সর্বোত্তম গুণাবলী মুবারক এবং জামালিয়াত তথা বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক উনার সুখ্যাতি সর্বত্র প্রসিদ্ধ ছিলো। উপরন্তু সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়ার ঘটনা সারাদেশে প্রচার হয়ে উনাকে আরো বহুগুণে সুবিখ্যাত করে তুলেছিলো। তাই কুরাইশ মহিলারা উনার সম্মানিত পরিপূর্ণ সৌন্দর্য মুবারক-এ আশিকা হয়ে বিবাহ বসার উদ্দেশ্যে উনার গন্তব্য পথের মাথায় দাঁড়িয়ে থাকতো এবং নিজেদের দিকে উনাকে আহ্বান জানাতো। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক ও সম্মানিত ইছমত মুবারক উনাদের পর্দার আড়ালে সম্মানিত হিফাযত মুবারক রেখে সম্মানিত পবিত্র মুবারক রেখেছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল বারাহীনুল ক্বিত্ব‘ইয়্যাহ ফী মাওলিদি খইরিল বারিয়্যাহ, মাদারেজুন নুবুওওয়াত কিতাব)
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক:
“সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি একরাতে স্বপ্ন মুবারক দেখলেন যে, একদল বানর তলোয়ার নিয়ে উনাকে আক্রমণ করছে। কিন্তু কোনো শক্তি উনাকে শূন্যে উঠিয়ে নিলো, আর আসমান থেকে আগুন এসে তাদেরকে পুড়িয়ে দিলো।” সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনাকে এই সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক বললেন। তিনি এই স্বপ্ন মুবারক শুনে বললেন, হে সম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম, মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে সমস্ত প্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাযত মুবারক করবেন। আর আপনার সম্মানিত কপাল মুবারক যেই সম্মানিত নূর মুবারক, যেই সম্মানিত নূর মুবারক আপনার বেমেছাল শান-মান মুবারক উনার বিষয়টি বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। আর এই কারণে বহু লোক আপনার ব্যাপারে হিংসা করে। তারা আপনাকে শহীদ করার চেষ্টা করবে, কিন্তু তারা নিজেরাই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে আহলে কিতাবদের দুশমনী:
এই সম্পর্কে আল্লামা কারামাত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল বারাহীনুল ক্বিত্ব‘ইয়্যাহ ফী মাওলিদি খইরিল বারিয়্যাহ’ উল্লেখ করেন,
اهل الكتاب كانوا يعرفون عن بعض العلمات ان النبى صلى الله عليه وسلم اخر الزمان يكون من صلب حضرت عبد الله عليه السلام فيعادونه عدوانا ويقيمون فى مقام اهلاكه ويجيئون من اطراف مكة قاصدين لاهلاكه دائما ويشاهدون اثارا غريبة وامورا عجيبة فينقلبون خائبين خاسرين ندامى.
وكان حضرت عبد الله عليه السلام ذهب للصيد يوما فوصل جماعة كثيرة من جانب الشام لقصد حضرت عبد الله عليه السلام مسلين سيوفا وكان حضرت وهب بن مناف عليه السلام فى ذلك الصحراء ايضا فراى فرسانا اجلادا لايشبهون باهل عالم الشهادة ظهورا من الغيب و دفعوا الجماعة عنه دفعا.
অর্থ: “আহলে কিতাব তথা ইহুদী-খ্রিস্টানরা বিভিন্ন আলামত (এবং তাদের আসমানী কিতাব উনাদের লিখিত প্রমাণ দ্বারা) জানতো যে, আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এখনো সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ঔরস মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক এনেছেন। তাই তারা উনার প্রতি ভীষণ শত্রুতা শুরু করে দিলো। উনাকে শহীদ করার জন্য ওঁৎপেতে থাকলো এবং উনাকে শহীদ করার জন্য সর্বদা সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার আশে-পাশে গুপ্তচর আসা-যাওয়া করতে থাকলো। এই গুপ্তচরেরা বিভিন্ন অলৌকিক ও আশ্চর্য ঘটনা দেখে ভীত-সন্ত্রস্ত, লাঞ্ছিত ও লজ্জিত অবস্থায় ফিরে যেতো।
একদা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি শিকার করার উদ্দেশ্য মুবারক নিয়ে বের হলেন। এটা জেনে শাম দেশের দিক হতে শত্রুদের একটি বিরাট দল উনাকে শহীদ করার জন্য তরবারী নিয়ে এগিয়ে আসলো। এইদিকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা ওহাব ইবনে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনিও ঘটনাক্রমে সেই নির্জন ময়দানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী একদল আশ্বারোহী সৈন্য দেখতে পেলেন। ইহজগতের কোনো মানুষের সাদৃশ্য উনারা ছিলেন না (উনারা ছিলেন মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য নিয়োজিত সম্মানিত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম)। সুবহানাল্লাহ! উনারা অদৃশ্য থেকে এসে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার শত্রুদেরকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দিলেন।” সুবহানাল্লাহ!

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+