কথিত নূরে মুহাম্মাদী নামের জাল হাদিসের ভয়ংকর ইতিহাস পড়ুন ওহাবী সালাফীদের এই পোষ্টের খন্ডনমুলক জবাব:-(৬)


 

ওহাবী সালাফীদের লিংক:- http://markajomar.com/?p=880

নবম হিজরী সনের শ্রেষ্ট মুহাদ্দিস ও ইমাম আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ূতি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব “খাছায়িছুল কুবরা” উনার মধ্যে বর্ণিত হাদিস শরীফ থেকে যে মুবারক বিষয়গুলো স্পষ্ট হচ্ছে তা হল-সাইয়্যিদুনা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার সৃষ্টির বহুপূর্বেই মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নছব মুবারক “কুরাইশ” মহান আল্লাহপাক উনার সম্মুখে নুর মুবারক হিসেবে অবস্হান মুবারক করছিলেন৤ অত:পর সাইয়্যিদুনা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি মুবারক করিয়া সেই সম্মানিত নুর মুবারক উনার মাঝে রেখে দেওয়া হয় এবং সেই সম্মানিত নুর মুবারক হযরত শীশ আলাইহিস সালাম ও হযরত নুহ আলাইহিস সালাম উনাদের মত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাধ্যম দিয়ে স্হানান্তরিত হয়ে পর্যায়ক্রমে সাইয়্যিদুনা হযরত আবদুল্লাহ যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাঝে তাশরীফ মুবারক নেন৤ এরপর সাইয়্যিদাতুন নিসাঈল আলামিন উম্মু রসুলিনা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যম দিয়ে নুর হিসেবে মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন৤ সুবহানাল্লাহ! এই কারনে মহান আল্লাহপাক উনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সবকিছুই ছিল নুরময়৤ সুবহানাল্লাহ৤

ঠিক অনুরুপ বর্ননা মুবারক রয়েছে, হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত নুরের সম্মানিত হাদিস শরীফখানার শেষের দিকে!সুবহানাল্লাহ. নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো:-ﺛﻢ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﺩﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
ﻣﻦ ﺍﻻﺭﺽ ﻭﺭﻛﺐ ﻓﻴﻪ ﺍﻟﻨﻮﺭ ﻭﻫﻮ ﺍﻟﺠﺰﺀ ﺍﻟﺮﺍﺑﻊ، ﺛﻢ ﺍﻧﺘﻘﻞ ﻣﻨﻪ ﺍﻟﻰ
ﺣﻀﺮﺕ ﺷﻴﺚ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﻛﺎﻥ ﻳﻨﺘﻘﻞ ﻣﻦ ﻃﺎﻫﺮ ﺍﻟﻰ ﻃﻴﺐ ﺍﻟﻰ ﺍﻥ
ﻭﺻﻞ ﺍﻟﻰ ﺻﻠﺐ ﺣﻀﺮﺕ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﻣﻨﻪ ﺍﻟﻰ ﻭﺟﻪ ﺍﻣﻰ
ﺣﻀﺮﺕ ﺍﻣﻨﺔ ﻋﻠﻴﻬﺎ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﺛﻢ ﺍﺧﺮﺟﻨﻰ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻓﺠﻌﻠﻨﻰ ﺳﻴﺪ
ﺍﻟـﻤﺮﺳﻠﻴﻦ ﻭﺧﺎﺗﻢ ﺍﻟﻨﺒﻴﻴﻦ ﻭﻗﺎﺋﺪ ﺍﻟﻐﺮ ﺍﻟـﻤﺤﺠﻠﻴﻦ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ . ﻫﻜﺬﺍ ﺑﺪﺍ ﺧﻠﻖ ﻧﺒﻴﻚ ﻳﺎ ﺟﺎﺑﺮ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ. ﺣﺪﻳﺚ ﺻﺤﻴﺢ অর্থ মুবারক:- অত:পর মহান আল্লাহপাক তিনি মাটি দ্বারা হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেন৤ এবং উনার মধ্যে ( আমার) সম্মানিত নুর মুবারক সংযোজন করে দেন৤ আর উক্ত নুর মুবারক ই হচ্ছেন সম্মানিত চতুর্থ ভাগ৤ অত:পর উক্ত সম্মানিত নুর মুবারক হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার থেকে হযরত শীশ আলাইহিস সালাম উনার মধ্যে স্থানান্তরিত হন৤ অত:পর উক্ত সম্মানিত নুর মুবারক পবিত্র ও সম্মানিত ব্যাক্তিত্ব উনাদের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়ে হযরত আব্দুল্লাহ জবিহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মধ্যে স্থানান্তরিত হন, তারপর উনার থেকে আমার সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার মধ্যে স্থানান্তরিত হন৤ অত:পর মহান আল্লাহ পাক আমার সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে আমাকে যমীনে প্রেরণ করেন৤ অত:পর মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে ভুষিত করেন সাইয়্যিুদুল মুরসালিন, খতামুন নাবিয়্যীন, এবং অতি উজ্জ্বল ব্যাক্তিত্ব উনাদের ক্বায়িদ হিসেবে৤ এই হচ্ছে আপনার নবী, নুরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সৃষ্টি মুবারক উনার সুচনা বা উৎস৤ হে জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! (মুসাননেফ ইবনে আব্দুর রজ্জাক, জান্নাতুল খুলদ লি আব্দির রযযাক, খছায়িছুল মুছতফা ছল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইনাল গুলুওউই ওয়াল জাফা, তাবরিয়াতুয যিম্মাহ, মাদারিজুন নুবুওওয়াত, আফজালুল কুরা, মাতালিউল মাসাররাত, তারিখূল খামিছ, আল মাওয়াহিব, শরহে যুরকানি, ফতওয়ায়ে হাদিছিয়াহ, নুরে মুহম্মদী, মকতুবাত শরীফ)

উপরোক্ত দলিল আদিল্লাহর মাধ্যম দিয়ে একসাথে তিনটা বিষয় প্রমাণিত হচ্ছে. প্রথম বিষয় হল নবম হিজরী সনের শ্রেষ্ট মুহাদ্দিস ও ইমাম আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ূতি রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত হাদিস শরীফখানাকে মওজু বা জাল বলেনি৤ কারন হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত হাদিস শরীফ উনার শেষের দিকের বর্ননা মুবারক উনার সাথে “খাসাইসুল কুবরা” এই কিতাব মুবারকে বর্ণিত অনেক হাদিস শরীফ উনার সাথে হুবহু মিল রয়েছে৤ সুবহানাল্লাহ৤ এছাড়াও যদি হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত হাদিস শরীফখানা মওজু হয় তবে “খাসাইসুল কুবরা” এই কিতাব মুবারকে, হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত হাদিস শরীফ উনার সমর্থনে যতগুলো হাদিস শরীফ এসেছে সবগুলোই মওজু বলে প্রতীয়মান হবে৤

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে