কম শাস্তিই যদি কঠিন হয় তবে কঠিন শাস্তি কতই না ভয়াবহ!!!


১। “নিশ্চয় ক্বিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তির কঠিন শাস্তি হবে ,যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাকের সৃষ্টির সাদৃশ্য কোনো প্রাণীর ছুরত তৈরি করবে।” (মিশকাত শরীফ পৃঃ৩৮৫)
২। আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন,হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,ক্বিয়ামতের দিন এমন একখানা আগুনের গর্দান বের হবে,যার দুটো চক্ষু থাকবে।যদ্বারা সে দেখতে পাবে।দুটো কান থাকবে,যদ্বারা সে শুনতে পাবে।একটি মুখ থাকবে,যদ্বারা সে কথা বলবে।গর্দানটি বলবে-নিশ্চয় আমাকে তিন ব্যক্তির অভিভাবক বানানো হয়েছে-
*প্রত্যেক অহংকারী অত্যাচারী লোকের
**যারা মহান আল্লাহ পাকের সাথে অন্যকেও প্রভু ডাকে
***যারা প্রাণীর ছবি তৈরি করে। (মিশকাত শরীফ,পৃঃ৩৮৬)
৩। হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন,হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি রাখতে নিষেধ করেছেন এবং ওটা তৈরি করতেও নিষেধ করেছেন।(তিরমিযি ১ম জিঃ পৃঃ ২০৭)
ছবি সংক্রান্ত এরূপ আরো অন্নেক হাদীস শরীফ রয়ে গিয়েছে।মূল বিষয় হচ্ছে মুসলমানদের জন্য প্রাণীর ছবি তৈরি করা এবং রাখা দুটাই নিষিদ্ধ। যদিও বিষয়টা অনেকেই মানতে চায় না!আমি এক মুসলিমবেশী লোককে একজায়গায় খেলাধূলা প্রসঙ্গে বলতে শুনেছিলাম, “যে ধর্মে খেলাধূলা নিষিদ্ধ সে ধর্ম আমি মানি না” নাঊযুবিল্লাহ!
সুতরাং এখন কেউ যদি বলে “যে ধর্মে প্রাণীর ছবি নিষিদ্ধ সে ধর্ম আমি মানি না”-তবে অবাক হবো না।!সবাইই মানবে এমন তো নয়!ইসলাম শুরু হয়েছে স্বল্প সংখ্যক দিয়ে,শেষ হবেও স্বল্প সংখ্যক দিয়েই এবং স্বল্প সংখ্যক লোকই নাজাত পাবে!
না মানা,আর আমল করতে না পারা দুটা কিন্তু আকাশ পাতাল তফাৎওয়ালা কথা। কেননা যে মানলো না,সে অস্বীকারকারী।আর অস্বীকারকারী তো কাফির!
আর যে হারাম মানে কিন্তু শয়তানের ওয়াসওয়াসার কারণে,নফসানিয়তের কারণে হারামটা ত্যাগ করতে পারে না সে গুনাহগার হলেও তার কিন্তু ঈমান ঠিকই রয়েছে।সুতরাং সে মুসলমানই থাকবে।আর গুনাহ করার কারণে এই মুসলমান ব্যক্তিই আজাব ভোগ করে হলেও একসময় জান্নাতে যাবে।কিন্তু যে অস্বীকার করলো তার যত আমলই থাকুক না কেন তার ঈমান না থাকার কারণে তার কোনো আমলই তার কোনো কাজে আসবে না।
অবশ্য তওবাকারীর বিষয় সবসময়ই আলাদা।অস্বীকারকারীও যদি তওবা করে হারামকে হারাম হিসেবেই মেনে নেয় তবে তো তার পূর্ববর্তী গুনাহগুলোকেই মহান আল্লাহ পাক নেকীতে পরিণত করে দেন।
তাই প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে হারামকে হারাম হিসেবেই মেনে নেয়া,মেনে নেয়ার পরও যদি কোনো কারণে হারামে মশগুল হয়ে যায় তবে তওবা ইস্তিগফার করা,আর যতটুকুই সম্ভব হারাম পরিহারের চেষ্টা করা।
এবার প্রথম হাদীস শরীফের আলোকে একটু বলি,বলা হচ্ছে,যারা সাদৃশ্য তৈরি করবে তাদের কঠিন শাস্তি হবে।কেমন শাস্তি? জানা নেই! তবে অনুমান করা হোক…
জাহান্নামের সবচেয়ে কম শাস্তি যাকে দেয়া হবে,তাকে শুধু আগুনের জুতো পড়ানো হবে।এতে তার মাথার মগজ টগবগ করে ফুটতে থাকবে!!!
তাহলে কঠিন শাস্তি কীরূপ ভয়ংকর হতে পারে!!!!?!!!! কখনোই চিন্তা করেও অনুধাবন করা যাবে না!
মালিক পাক যেন সকলকে হেফাজত করেন।আমীন।
 trt
Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে