কয়লা উত্তোলন পদ্ধতি চূড়ান্ত হয়নি


কয়লার ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করলেও কয়লা উত্তোলনের পদ্ধতির ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী ড. আবুল মাল আব্দুল মুহিত ।
গতকাল ইয়াওমুছ ছুলাছায়ি বা মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পেট্রোসেন্টারে ‘জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস’ উপলক্ষ্যে জ্বালানি বিভাগ আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, সিদ্ধান্তটা কষ্টকর। কারণ এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি। পরিবেশের বিষয়টি এবং পলিমাটির কারণে ভূমিধসের বিষয়টিও ভাবতে হচ্ছে। পানির অপর নাম জীবন হলে, ‘জ্বালানির অপর নাম উন্নয়ন’ বলেও এ সময় মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, সমস্যা হচ্ছে একটি বা দু’টি জ্বালানি উৎসের উপর নিভআতা ভালো নয়। আমরা বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এর প্রতিফলন এখনও দেখতে পাচ্ছে না জনগণ। তবে শীঘ্রই এর প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, ভারত থেকে বিদ্যুৎ আসবে চলতি বছর। আর কাতার থেকে গ্যাস আসতে আরও ২ বছর লাগতে পারে। এগুলো হবে বিকল্প উৎস।
তবে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়ার দৃষ্টান্ত অনুসরণ চলবে না মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া অপচয়ের একটি নিদর্শন। সুইজারল্যান্ড ও জাপান ভালো নির্দশন হতে পারে।
মূল প্রবন্ধে দেশের পার ক্যাপিটা (মাথাপিছু) জ্বালানির ব্যবহার ১৪৭ কেজি (কয়লা সমপরিমান) উল্লেখ করা হলেও এটি সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন আমাদের এখন পার ক্যাপিটা জ্বালানির ব্যবহার ১৯৮ কেজি হবে। ৫শ’ কেজিতে উঠতে পারলে দেশ মালয়েশিয়া হবে।
জ্বালানির ব্যবহার ৫শ’ কেজি হলে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ডলার হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি ২০২১ সালের মধ্যেই এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। তিনি বলেন, অনেকেই বলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়বহুল হয়েছে। ভর্তুকি দিয়ে হিসেবে করলে চলবে না। অর্থনীতিতে এর কি প্রভাব রয়েছে সেটাও দেখতে হবে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে রপ্তানি আয় বেড়েছে, জনগণের আয় বেড়েছে। স্বাস্থ্য ও যোগাযোগসহ অন্যান্য খাতের উন্নয়ন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের কারণে মূল্যস্ফীতি কমে গেছে। এই খাতকে বিছিন্নভাবে না দেখে সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুবিদ আলী ভূঁইয়া এমপি বলেন, পাইপ লাইনে গ্যাস দেওয়া কঠিন। সবচেয়ে ভালো হয় সিলিন্ডার সহজলভ্য করা গেলে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর বলেন, আমাদের গ্যাসের ব্যবহার কমাতে হবে।
বিপিসি চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেন, ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন(বিপিসি) গঠনকালে ৯ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি হ্যান্ডলিং করত। এখন বছরে ৫৫ লাখ মেট্রিক টন হ্যান্ডল করছে। কিন্তু জনবল বাড়েনি বিপিসির। এ কারণেই বিপিসি সংকটে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জ্বালানি বিভাগের সচিব মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুল হক, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ইমদাদুল হক।
উল্লেখ্য, মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে ২০১০ সালে ০৯ আগস্টকে জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস ঘোষণা করা হয়। চলতি বছর ৯ আগস্ট ঈদ উল ফিতর হওয়ায় ২৭ আগস্ট দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। সেমিনারের আগে সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শেষ হয় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে।
প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট তিতাস, বাখরাবাদ, হবিগঞ্জ, রশিদপুর এবং কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্রসহ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিশন কোম্পানির শেল অয়েলের সব শেয়ার নামমাত্র মূল্যে কিনে নেন। পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র এবং তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ১০ শতাংশ শেয়ারের বিনিময় মূল্য তখন ধরা হয়েছিল মাত্র সাড়ে ৪ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড, যা ১৮ বছরে মোট ৩৬টি কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য হিসেবে চুক্তি সম্পাদন করা হয়।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, ওই ৫টি গ্যাসক্ষেত্রে সে সময় গ্যাস মজুদ ছিল ১৩ দশমিক ৩৩৫ টিসিএফ। ২০০৮ সাল পর্যন্ত ওই ক্ষেত্রগুলো থেকে আসতো দেশের মোট উৎপাদনের ৭৫ শতাংশ গ্যাস। বর্তমানে দেশের মোট উৎপাদিত প্রায় ২৩ কোটি ঘনফুট গ্যাসের মধ্যে প্রায় পৌনে ৯ কোটি ঘনফুট গ্যাসই আসছে ওই ৫টি ক্ষেত্র থেকে। প্রতিদিন উৎপাদিত এ গ্যাসের মূল্য ১০ কোটি টাকার বেশি। জানা গেছে এখনও সেখানে ১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা মূল্যমানের জ্বালানি সম্পদ রয়েছে।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে