কলকাতার বুদ্ধিজীবীকলকাতার বুদ্ধিজীবী নামক শৃগালদের থেকে সাবধান! নামক শৃগালদের থেকে সাবধান! দাঙ্গা সৃষ্টিকারী কলকাতার বিধর্মী সম্প্রদায় আজ সুর পাল্টে ‘দুই বাংলা এক করা’র কথা বলছে


বর্তমান সরকারের আমলে এদেশে কলকাতার লেখক-সাহিত্যিক ও শিল্পীদের আনাগোনা চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পত্রিকার পাতা খুললে প্রতিনিয়তই দেখা যায়- কলকাতার অমুক গায়ক অথবা তমুক লেখক এদেশের কোনো না কোনো সেমিনারে বক্তৃতা করেছে। সবার মুখে একই গৎবাঁধা বুলি, ‘এই দেশ তো আমারই দেশ!’ ‘এই দেশের সংস্কৃতি আর পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি এক’ ‘এপার বাংলা ওপার বাংলা কোনো পার্থক্য নেই’ ইত্যাদি ইত্যাদি।

এদেশের নির্বোধ আম জনসাধারণের অধিকাংশই এসব মিষ্টি মিষ্টি কথা শুনে আবেগে আপ্লুত হয়। ইতিহাস সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা না রাখা এদেশের অধিকাংশ স্কুল-কলেজ পাস করা মুসলমানরা এসব মিথ্যাবাদী জালিয়াত বিধর্মী লেখকদের কথায় বিভ্রান্ত হয়ে ধারণা করে যে, বাংলা ভাগের পেছনে বিধর্মীরা নয়, বরং ‘সাম্প্রদায়িক’ মুসলমানরাই বোধহয় দায়ী ছিল! নাঊযুবিল্লাহ!

ব্রিটিশরা যখন প্রথম আদমশুমারি পরিচালনা করেছিল, তখনই এটি স্পষ্ট হয়েছিল যে- উত্তরপ্রদেশ কিংবা ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় বাংলায় বিধর্মীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, বরং মুসলমানরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাই সাতচল্লিশের বহু আগে থেকেই এই বিষয়টি নিশ্চিত ছিল যে, বাংলা অঞ্চলটি ভারতের অন্তর্ভুক্ত হবে না, বরং তা মুসলমানদের আলাদা রাষ্ট্র হবে। কিন্তু বাঙালি বিধর্মী সম্প্রদায় কোনো অবস্থাতেই মুসলিম শাসিত রাষ্ট্রে অবস্থান করতে রাজি ছিল না, কারণ তারা বাঙালি মুসলমানদেরকে মানুষ বলেই গণ্য করতো না। তাই বাংলা ভাগ করে, পশ্চিমবঙ্গকে বিধর্মী আবাসভূমি হিসেবে তৈরি করতে ১৯৪৬ সালের ১৬ই আগস্ট কলকাতায় বিধর্মীরা ভয়াবহ এক দাঙ্গার সূত্রপাত ঘটায়।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জয়া চ্যাটার্জির লেখা ‘বাঙলা ভাগ হল: বিধর্মী সাম্প্রদায়িকতা ও দেশ বিভাগ’ গ্রন্থের ২৭৭ পৃষ্ঠায় এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “হত্যাযজ্ঞের পর অব্যাহতভাবে অসন্তোষের মধ্যে মুসলমান জনতার মাঝে বোমা নিক্ষেপের জন্য বিধর্মীদের মধ্য থেকে গ্রেফতারকৃত একজন বিধর্মী ছিল বর্ধমানের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মহেন্দ্রনাথ সরকার। সে স্বীকার করে: ‘এখন আমি একজন কংগ্রেস নেতা। আগে আমি ছিলাম বিধর্মী মহাসভার সদস্য। বাঙলা বিভাগের পক্ষে আমি এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছি।’… ছাত্র, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী এবং দোকানদার ও পাড়ার ভাড়াটে গু-া মার্কা ছেলেদের অভাবিত ঐক্যের ফলে বিধর্মী জনতার রক্তক্ষয়ী বিজয় হয় কলকাতার রাস্তায়, ১৯৪৬ সালে। এটাই বাঙলা ভাগ এবং একটা পৃথক বিধর্মী আবাসভূমি গঠনের জন্য বিধর্মী আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করেছে।”

আমাদের দেশে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস কিংবা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত যে কোনো দিবসে অন্যান্যদের সাথে জামাত-শিবিরকেও সেমিনার করতে দেখা যায়। সেখানে তারা একাত্তরে তাদের দলের ভূমিকাকে বেমালুম চেপে গিয়ে নির্লজ্জের মতো বলে উঠে, ‘স্বাধীনতা এনেছি, স্বাধীনতা রাখবো!’
তবে তাদের জনসভায় জুতা নিক্ষেপের কথা শোনা যায়, প্রকাশ্য মিথ্যাচার করতে গিয়ে শিবির কর্মীদের লাঞ্ছিত হওয়ার সংবাদও পত্র-পত্রিকায় পাওয়া যায়। কিন্তু ঠিক একইরকম মিথ্যাচার কলকাতার লেখক-সাহিত্যিকরা প্রতিনিয়ত এদেশের মাটিতে করে পার পেয়ে যাচ্ছে কেন? কেন তাদের সমাবেশে জুতা ছুঁড়ে মারা হচ্ছে না, কেন পচা ডিম নিক্ষেপ করা হচ্ছে না তাদের নাপাক চেহারাগুলো লক্ষ্য করে?

বাঙালি মুসলমানদের এই দ্বিমুখী আচরণের মূল কারণ এদেশের পাঠ্যপুস্তক ও মিডিয়ার দ্বিমুখী নীতি। একাত্তরের চেতনার নামে এদেশে ঢালাওভাবে মুসলিমবিদ্বেষী আবহ তৈরি করা হলেও বিধর্মীদের দোষগুলো চেপে গিয়ে তাদেরকে ধোয়া তুলসীপাতা বানানো হয়েছে, ইতিহাসে তাদের সাম্প্রদায়িকতার হাজারো নজির থাকলেও তা নিয়ে একটি বাক্য ব্যয়ও করা হয়নি এদেশের মিডিয়াও পাঠ্যপুস্তকগুলোতে। এ প্রসঙ্গে ভাষাসৈনিক অলি আহাদ তার প্রখ্যাত গ্রন্থ ‘জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫-৭৫’-এর ২৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন যে, “আমাদের দেশে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে ভাষা আন্দোলনের বিরাট আইকন হিসেবে প্রচার করা হয়। যদিও এই ধীরেন্দ্রই সাতচল্লিশে অখণ্ড- বাংলা গঠনের প্রয়াসের বিরুদ্ধে, গান্ধী-নেহরু-প্যাটেল-শ্যামাপ্রসাদকে সমর্থন করে বিধর্মী পশ্চিমবঙ্গ গঠনের সাম্প্রদায়িক বিলে ভোট দিয়েছিল।”

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে