কাঠমোল্লাগুলি অজ্ঞানে যা বলতে পারছে, সজ্ঞানে তা কখনওই পারত না


গ্রাম্য এক নাপিত। সেই সেখানকার বড় ডাক্তার! টোটকা ওষুধ দেয়া থেকে শুরু করে ছোট-বড় অপারেশন সবই সে করে। এসব করতে ডাক্তাররা কত রকম প্রস্তুতি নেন! নানা রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা, যন্ত্রপাতি বাছাই করা, সেগুলো জীবাণুমুক্ত করা, নিজেরা জীবাণুমুক্ত হওয়া! নাপিত কিন্তু এসবের ধার ধারে না। কারন সে ডাক্তারির কিছুই জানেনা। সে রোগী ধরে আর তার ক্ষুর বসিয়ে দেয়। ঝামেলা এবং খরচ কম হওয়ায় সব লোক তার থেকেই চিকিৎসা নিতে যায়। নাপিতের চিকিৎসায় যদিও কেউ কেউ মারাও যায়; তবে তা তো ডাক্তারের বেলাও ঘটে। তাই দিনদিন তার পসার বাড়তেই থাকল।
অবস্থা দেখে এক বিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে সব ডাক্তাররা মিলে নাপিতকে চিকিৎসাবিজ্ঞান শিক্ষা দিতে শুরু করল। তারপর তার শিক্ষা শেষ হলে, তাকে একটি রোগীর ফোঁড়া অপারেশন করতে বলা হল। কিন্তু ছুরি হাতে নেয়া মাত্র তার হাত কাঁপতে লাগল। কেননা এখন সে জানে, মানুষের শরীর কত সূক্ষ্ম! সামান্য এদিক থেকে ওদিক হলেই সে মারা যেতে পারে। এতদিন অজ্ঞানে সে যা করতে পেরেছিল, এখন সজ্ঞানে আর তা পারল না।
 
বর্তমানে সেই নাপিতের কায়মোকাম অজস্র হাতুড়ে মোল্লা দেখা যায়। শরীয়তের ন্যূনতম জ্ঞানহীন কথিত মালানারা তো আছেই, সেই সাথে এখন যোগ হয়েছে ইউটিউবের ভিডিও দেখে ইসলাম শেখা নব্য ইসলামিস্টের দল! প্রথমে তারা রহমতপূর্ণ নাযাতদানকারী আমলগুলি যেমন শবে বরাত, শবে মিরাজ, ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বিরোধিতা শুরু করে। তারপর আরো একটু অগ্রসর হয়ে প্রথমে আউলিয়ায়ে কিরামগণ, দ্বিতীয়ত মাযহাবের বিরুদ্ধে ফতওয়া দিতে লাগল। অর্থাৎ শরীয়তের চারটি দলীলের মধ্যে দুটি, ইজমা ও কিয়াস তারা অস্বীকার করল। তারপর হাত দিল হাদীস শরীফে। “সহীহ হাদীস শরীফ ছাড়া মানা যাবে না”- এভাবে বলতে শুরু করে এখন তারা “শুধু বুখারী শরীফই গ্রহণযোগ্য” এই কথায় এসে পৌঁছেছে। অর্থাৎ হাদীস শরীফও তারা অস্বীকার করছে। কুরআন শরীফ সরাসরি অস্বীকার করতে না পারলেও মনগড়া তাফসীর করে সেটা পুষিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে তারা হাত দিয়েছে ঈমানের মূল কালিমা শরীফে। “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ” এই পবিত্র কালিমা শরীফে নাকি মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারকের সাথে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক সংযুক্ত করার ফলে শিরক হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক!
 
এই মূর্খ, নাদান, বেয়াদব গুলি কি জানে যে হাদীস শরীফে (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ) হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি “ঈমান কি?” এই প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, “ঈমান হল এই সাক্ষ্য দেয়া যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার রসূল।“ সুবহানাল্লাহ! এরা কি জানে, কোন ব্যক্তি যদি সারা জীবন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করে তবে সে কষ্মিনকালেও মুসলমান হতে পারবে না, যতক্ষণ সে মুহম্মদুর রসুলুল্লাহ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঠ না করবে। সুবহানাল্লাহ! এমনকি সকল নবী রসূল আলাইহিমুস সালামগনও নবুওয়াত ও রেসালাত পেয়েছেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান এনে, এবং খিদমত করার ওয়াদা প্রদান করে। যার স্বাক্ষী স্বয়ং আল্লাহ পাক নিজেই। সুবহানাল্লাহ!
 
সেই মূর্খ নাপিতের মতই এইসব স্বঘোষিত মালানাগুলির সমস্ত সৃষ্টিজগতের যিনি মূল, ঈমান-আমল-নাযাতের যিনি মূল, উনার বিষয়ে বিন্দুমাত্র ধারণাও নেই। যদি থাকত তাহলে তারা এরকম স্পর্ধা দেখাতে পারত না। উনার নাম মুবারক নিতে গেলেও হাজারবার চিন্তা করত। মহান আল্লাহ পাক এদের থেকে সমস্ত মুসলমানদের হেফাযত করুন!
Views All Time
2
Views Today
4
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে