কাফির মুশরিকদের পণ্য ব্যবহার করা থেকেও তাদের প্রতি ভালোবাসার সৃষ্টি হয়


কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, একবার এক ব্যক্তি পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে অবস্থান করে দই খাচ্ছিল। দই খেয়ে সে সমালোচনা করে বলেছিলো, মদীনা শরীফ উনার দই টক। নাউযুবিল্লাহ! সেই রাত্রিতে উক্ত ব্যক্তি স্বপ্নে দেখলো, স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করছেন, “হে ব্যক্তি, তুমি আমার মদীনা শরীফ উনার দইকে টক বলার ধৃষ্টতা দেখালে। তুমি এখনই আমার মদীনা শরীফ থেকে বের হয়ে যাও।”
অর্থাৎ পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে প্রস্তুতকৃত দই পবিত্র মদীনা শরীফ উনার প্রতিনিধিত্ব করে, যে কারণে সেই দইয়ের সমালোচনা করলেও পক্ষান্তরে পবিত্র মদীনা শরীফ উনারই সমালোচনা করা হয়।
সেক্ষেত্রে কাফির-মুশরিকদের দ্বারা প্রস্তুতকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে কী হবে? কাফির-মুশরিকদের বানানো কোনোকিছুর প্রতি ভালোবাসাও কি কাফির-মুশরিকদের প্রতি ভালোবাসায় পরিণত হবে না?
আমাদের প্রায় সবারই কোনো না কোনো আত্মীয় বিদেশে থাকে। সেসব আত্মীয়রা বিদেশ থেকে দেশে আসলে স্যুটকেস ভরে বিভিন্ন বিদেশী চকলেট, জামাকাপড়, শ্যাম্পু, লোশন, সাবান এগুলো নিয়ে আসে। যারা দেশে থাকে, তারা ঐসব সাবান, লোশন, চকলেটের উপর রীতিমতো হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা যায় পরিবারের শিশুটির মধ্যে। বড়রাও তাকে উৎসাহ দেয়, শিশুটিকে শেখায় বিদেশের জিনিস ভালো। শিশুটির মনেও ছোটবেলা থেকেই একটি বিষয় গেঁথে যায়, তা হলো আমেরিকার জিনিস ভালো, কানাডার জিনিস ভালো, আর নিজ দেশের জিনিস ভালো নয়। নাউযুবিল্লাহ!
এই বোধ থেকেই সৃষ্টি হয় হীনম্মন্যতা। “কাফিরদের এটা ভালো, ওটা ভালো” শিশুকাল থেকে মনের মধ্যে পুষে রাখা এধরনের চিন্তা-ভাবনা থেকেই আস্তে আস্তে মুসলমানদের মধ্যে কাফিরদের প্রতি একটা গোলামির ভাব চলে আসে। নাউযুবিল্লাহ! এধরনের মনোভাব থেকেই মুসলমান পরিবারের মেধাবী সন্তানেরা দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যায়।

আমাদের দেশের মানুষদের মধ্যে পশ্চিমাদের প্রতি মুহব্বত পয়দা হওয়ার মূল কারণই হলো তাদের বিভিন্ন পণ্যের প্রতি নির্ভরশীল মনোভাব। কাফিরদের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রতি আসক্তিও কাফির মুশরিকদের প্রতি ভালোবাসার সমতুল্য। “সনির জিনিস ভালো, টয়োটার গাড়ি ভালো”- এই বাক্যগুলো দ্বারা মূলত জাপানকে ভালো বলা হয়, আর জাপানকে ভালো বললেই জাপানের কাফিরদেরকে ভালো বলা হয়। মুসলমানরা বোঝে না যে, নিজেদের স্বকীয়তা রক্ষার জন্য নিজেদের দেশের পণ্য ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু কাফির মুশরিকরা তা ঠিকই বুঝে থাকে।

ভারতে উৎপাদিত গাড়িগুলো নিম্নশ্রেণীর, তাও ভারতীয় হিন্দুরা বিদেশের গাড়ি চালায় না। আমেরিকা তার নিজের দেশে উৎপাদন খরচ বেশি বলে চায়না থেকে পণ্য বানিয়ে নিয়ে আসে, কিন্তু পণ্যের ব্র্যান্ডগুলো ঠিকই আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব করে।

ঠিক সেভাবেই মুসলমানদেরকেও তাদের নিজেদের পণ্য ব্যবহারে সচেষ্ট হতে হবে। মুসলমানদেরকে তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হতে হবে। যেন মুসলমান শিশুরা মুসলমানদের বানানো চকলেট খেয়ে বলে, মুসলমানদের বানানো চকলেট ভালো। মুসলমানরা যেন তাদের নিজেদের ব্র্যান্ডের গাড়িতে চড়ে বলে, মুসলমানদের বানানো গাড়ি ভালো। একজন মুসলমান শিশু যেন স্বজাতিকে নিয়ে গর্ব করতে পারে এবং মুসলমান হিসেবে বড় হতে পারে, সে লক্ষ্যে তাকে শিশুকাল থেকেই মুসলমানদের পণ্য ব্যবহারে অভ্যস্ত করতে হবে।

যারা জীবিকার স্বার্থে কাফিরদের দেশে রয়েছেন, তারা সম্ভব হলে পরিবারের জন্য বিদেশ থেকে কিছু আনবেন না। যা দরকার হয় তা দেশ থেকেই কিনে দিবেন। এই কাজটিই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিআল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা করতেন। উনারা যে কোনো বাজারে গেলে প্রথমেই খোঁজ করতেন বাজারে কোনো মুসলমান ব্যবসায়ী রয়েছে কিনা। উনারা সর্বক্ষেত্রে মুসলমান ব্যবসায়ীর জিনিসই কিনতেন, সর্বক্ষেত্রে মুসলমানদের প্রস্তুতকৃত পণ্যই উনারা ব্যবহার করার চেষ্টা করতেন। মুসলমানদের নিজেদের ঈমান-আক্বীদা রক্ষা করতে হলে এর বিকল্প নেই, কারণ কাফির-মুশরিকদেরকে ভালো বললে কোনো অবস্থাতেই আর মুসলমান থাকা যায় না।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে