কাফির-মুশরিকরা ধ্বংস হবেই হবে। ইনশাআল্লাহ!


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘যদি তোমরা অর্থাৎ মুসলমানগণ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের উপর ইস্তিকামত থাকো এবং হাক্বীক্বী মুত্তাক্বী হও, তবে কাফির-মুশরিক অর্থাৎ বিধর্মীদের কোনো ষড়যন্ত্রই তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ সুবহানাল্লাহ!

বর্তমানে মুসলমানগণ উনারা যে দেশে বিদেশে অর্থাৎ সারাবিশ্বে যুলুম ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে কাফিরদের দ্বারা, তার একটাই কারণ- মুসলমানগণ উনারা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। নাউযুবিল্লাহ! তাই মুসলমানগণ উনাদের জন্য ফরয হচ্ছে-খালিছ ইস্তিগফার তাওবা করে কাফির-মুশরিকদের অনুসরণ অনুকরণ করা পরিপূর্ণভাবে ছেড়ে দিতে হবে, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার উপর ইস্তিকামত বা দৃঢ়চিত্ত থাকা এবং হাক্বীক্বী মুত্তাক্বী হওয়া। তাহলে মুসলমানগণ উনাদের উপর থেকে কাফির-মুশরিকদের যুলুম-নির্যাতন বন্ধ হবে, চরম অশান্তি দূর হবে এবং কাফির মুশরিকগুলো মুসলমানগণ উনাদের গোলাম হয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ! আর মুসলমানগণ উনাদের জন্য আরেকটা দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে শক্তভাবে বদ দোয়া করা। তাহলে কাফির-মুশরিকগুলো অবশ্যই ধ্বংস হচ্ছে এবং ধ্বংস হবে সমূলে। ইনশাআল্লাহ! কাফির-মুশরিকগুলো মুসলমান উনাদের যুলুম-নির্যাতন করার ফলে মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে প্রতিনিয়ত তাদের উপর নতুন নতুন আযাব গযব নাযিল হচ্ছে।

আবু দাউদ শরীফ, দায়লামী শরীফ, শরহুস সুন্নাহ শরীফ, মিশকাত শরীফ ইত্যাদি কিতাবে বর্ণিত আছে, হযরত ছাওবান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিকট ভবিষ্যতে মুসলমান উনাদের বিরুদ্ধে, মুসলমান উনাদের ক্ষতিসাধন করার জন্য বিশ্বের অন্যান্য জাতিরা তথা ইহুদী, খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ, মজুসী, মুশরিকরা একে অপরকে আহবান করবে। যেমন খাদ্যগ্রহণকারী খাবারের পাত্রের দিকে অন্যান্যদেরকে আহবান করে থাকে অর্থাৎ তারা মুসলমানগণ উনাদেরকে পরিপূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চাইবে। নাউযুবিল্লাহ!

বর্ণনাকারী বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এরূপ হাদীছ শরীফ শুনে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্য থেকে একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কি এজন্য হবে যে, মুসলমানগণ উনারা সেই সময় সংখ্যায় কম হবেন? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, না বরং মুসলমান সেই সময় সংখ্যায় অনেক বেশি হবে। কিন্তু মুসলমানগণ উনাদের অবস্থা হবে স্রোতে ভেসে যাওয়া পানির বুদ বুদের ন্যায়। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি মুসলমানগণ উনাদের আমলের কারণে অর্থাৎ মুসলমানগণ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার থেকে দুরে সরে যাওয়ার কারণে, শত্রুদের অন্তর থেকে মুসলমানদের প্রতি শত্রুদের যে ভয়-ভীতি ছিল তা দূর হয়ে যাবে এবং মুসলমানগণ উনাদের অন্তরে ‘ওহান’ পয়দা হবে। তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্য হতে একজন জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ‘ওহান’ কি? জবাবে তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, দুনিয়ার মুহব্বত এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা। (অর্থাৎ দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার আকাঙ্খা)।”

মুসলমান উনাদের অন্তরে ‘ওহান’ প্রবেশ করার কারণে মুসলমান উনারা কাফির মুশরিকদের যুলুম অত্যাচারের শিকার হচ্ছে। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে, ওলীআল্লাহ উনাদের সম্মানিত ছোহবত মুবারকে যেতে হবে বেশি বেশি। উনাদের ছোহবত মুবারকে গেলে সম্মানিত রহমত মুবারক লাভ করা যাবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত ওলীআল্লাহ উনাদের নিকটবর্তী।”

ওলীআল্লাহ উনাদের ছোহবত মুবারকে আসলে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের ছহীহ ইলম বা ছহীহ সমঝ অর্জন করা, সঠিক আমল করা যাবে, রহমত মুবারকও হাছিল করা যাবে। আমরা মুসলমান যারা রয়েছি আমাদের কর্তব্য হবে, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ মুতাবেক আক্বীদা পোষণ করা, আমল করা, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, প্রতিরোধ করা। কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে কঠিনভাবে বদদোয়া করা। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সেই তাওফীক দান করুন। আমীন!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে