কাবিল যেভাবে সমস্ত হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী, ঠিক সেভাবে বিশ্বের মুসলিম হত্যার জন্য বিধর্মীরা দায়ী


ফিলিস্তিনের গাজায় বর্তমানে ইসরায়েলিদের যে হত্যাকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে, তাতে সকলেই দোষারোপ করছে ইহুদিদের বন্ধু পাশ্চাত্যের খ্রিস্টানদেরকে। কিন্তু মুসলিম নির্যাতনের জন্য দায়ী এই যে বর্তমান বিশ্বের খ্রিস্টীয় মেরুকরণ, তার পেছনে কে দায়ী তা নিয়ে কিন্তু কেউই কোনো ফিকির করে না। বর্তমান বিশ্বের খ্রিস্টীয় ক্ষমতায়নের পেছনে দায়ী হলো ভারতবর্ষের বিধর্মীরা, একদম নির্দিষ্ট করে বললে আমাদেরই প্রতিবেশী বাঙালি বিধর্মীরা তথা বাংলাভাষী বিধর্মীরা।
ভারতীয় মুসলিম ইতিহাসবিদ গোলাম আহমাদ মোর্তজা তার রচিত ‘এ এক অন্য ইতিহাস’ গ্রন্থের ‘নবভারতের সূতিকাগৃহ কলকাতা’ অধ্যায়ে এ সম্পর্কে কলকাতার বিভিন্ন বিধর্মী লেখকদের উদ্ধৃতি তুলে ধরেছেন, যার মধ্যে একটি হলো-
“এই কলকাতাকে কেন্দ্র করেই ব্রিটিশরা ভারতে সাম্রাজ্য স্থাপন ও বিস্তার করে। এ রাজ্য শাসনকাল শুধু বাংলার নয়, সারা ভারতের অন্ধকারের কাল। শোষণ, অত্যাচার, রক্তঝরা আর স্বজন হারানোর বেদনায় সমাকীর্ণ। আর এই ভারত-শোষণের অর্থে ইংল্যান্ডে হয়েছে শিল্প বিপ্লবÑ এই শোষিত শক্তির দাপটে ইংরেজরা বিশ্বময় এমন সাম্রাজ্য স্থাপন করেছে যেখানে সূর্য অস্ত যায় না। আর, এ বিজয় বৈজয়ন্তীর সূচনা হয়েছে জব চার্নকের কলকাতায় পদার্পণে। কলকাতার ইতিহাস সমগ্র বাঙালির ইতিহাস, আরো বড় করে বললে বলা যায় গোটা ভারতের ইতিহাস।”
অর্থাৎ পাঠকেরা বুঝতেই পারছেন যে, ব্রিটিশরা কলকাতাকে কেন্দ্র করেই গোটা ভারতবর্ষ দখলে নিয়েছিল। ফলশ্রুতিতে আজকের দিল্লী কিংবা করাচী নয়, বরং কলকাতাই ছিল তখনকার দিনে গোটা পাক-ভারত উপমহাদেশের রাজধানী! কারণ বাঙালি বিধর্মীরা ছিল ব্রিটিশদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত গোলাম, এককথায় তারা ছিল স্রেফ ‘বিধর্মী রাজাকার’। যে কারণে গোলাম আহমাদ মোর্তজা বাঙালি বিধর্মীদের শহর কলকাতাকে উল্লেখ করেছেন ‘নবভারত’ তথা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ভারতের সূতিকাগৃহ তথা জন্মস্থান হিসেবে।
ভারতবর্ষের ধন-সম্পদ ব্যবহার করেই খ্রিস্টানরা গোটা ইউরোপকে ধনী করেছিল। শুধু তাই নয়, এ ভারতবর্ষের অর্থ ব্যবহার করেই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে উপনিবেশ স্থাপন করে সেসব জায়গাকে খ্রিস্টানদের দেশে পরিণত করেছিল ব্রিটিশরা। যার ফলশ্রুতিতে বিশ্বে আজ এতগুলো খ্রিস্টান দেশ হয়েছে এবং মুসলমানদের হাত থেকে বৈশ্বিক ক্ষমতার দণ্ড খ্রিস্টানদের হস্তগত হয়েছে।
অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার পুত্র হযরত হাবিল আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করার কারণে যেভাবে কাবিলের আমলনামায় ক্বিয়ামত পর্যন্ত সংঘটিত সমস্ত হত্যাকা-ের গুনাহ লেখা হবে, ঠিক সেভাবে বর্তমানে পাশ্চাত্যের খ্রিস্টীয় দেশগুলো যে এত এত মুসলমান শহীদ করছে, তারও দায়ভার বর্তাবে বাঙালি বিধর্মীদের উপর। কারণ কাবিলের মাধ্যমে যেভাবে মানুষ হত্যার অপরাধের শুরুটা হয়েছিল, ঠিক সেভাবে বাঙালি বিধর্মীদের দ্বারা সূচনা হয়েছিল খ্রিস্টান প্রভাবিত বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে