কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারকে আসার, অবস্থান করার “আদব”


গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছাত্র অবস্থায় থাকাকালীন বাগদাদ শরীফ-এ একজন গাউছ রহমতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন। যিনি প্রায়শঃই গায়েব বা অদৃশ্য থাকতেন।

একবার গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং ইবনুছ ছাক্কাহ ও আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ নামক ২ (দুই) জন সহপাঠী উক্ত গউছ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাক্ষাৎ লাভের ইচ্ছায় উনার ছোহবত মুবারকে রওনা হলেন।

রাস্তা দিয়ে গমনকালে ইবনুছ ছাক্কাহ বললো, “আমি উক্ত গউছ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে এমন প্রশ্ন করবো যার জওয়াব তিনি দিতে পারবেন না।” নাউযুবিল্লাহ

আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ বললো, “আমিও একটি প্রশ্ন করবো, দেখি তিনি কি জওয়াব দেন।” নাউযুবিল্লাহ

গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, “আমি যাঁর ছোহবত মুবারকে নিয়ামত হাছিল করবো, উনার সামনে উপস্থিত হয়ে কোনো প্রশ্ন করবো না।” সুবহানাল্লাহ

উনারা যখন উক্ত গাউছ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকটে উপস্থিত হলেন তখন তিনি গায়েব বা আদৃশ্য ছিলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি যাহির হলেন।

তারপর তিনি ইবনুছ ছাক্কাহর দিকে অসন্তুষ্ট অবস্থায় তাকালেন এবং বললেন, হে ইবনুছ ছাক্কাহ! তোমার জন্য আফসুস, তুমি আমার নিকট এরূপ প্রশ্ন করবে, যার জওয়াব আমি দিতে পারবো না। তোমার সে প্রশ্ন এই, তার উত্তর এই। আমি দেখতে পাচ্ছি, তুমি কুফরীর আগুনের মধ্যে দাউ দাউ করে জ্বলতেছো।

এরপর তিনি আবু সাঈদ আব্দুল্লাহর দিকে দৃষ্টিপাত করে বললেন, তুমি বলেছো আমার নিকট এরূপ একটি প্রশ্ন করবে, যার জওয়াব আমি দিতে পারি কিনা তা তুমি দেখবে। তোমার প্রশ্ন এই, তার উত্তর এই। আমি দেখতে পাচ্ছি, তুমি দুনিয়ার মোহে মোহগ্রস্ত হয়ে গেছো।

তারপরে তিনি গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দিকে অত্যন্ত সন্তুষ্টচিত্তে দৃষ্টিপাত করলেন এবং বললেন, আপনি যে আদব রক্ষা করেছেন সেজন্য যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা আপনার প্রতি অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়েছেন। আমি দেখতে পাচ্ছি আপনি বলতেছেন, “আমার ক্বদম হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের গর্দানের উপর।” এবং আপনার সময়ের সমস্ত হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা সেটা মেনে নিবেন। সুবহানাল্লাহ্, তারপর উক্ত গউছ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি গায়েব বা অদৃশ্য হয়ে গেলেন।

পরবর্তীতে দেখা গলো-
ইবনুছ ছাক্কাহ ইলমে ফিক্বাহ বা কিতাবী ইলিম শিক্ষা করে তাতে পরাদর্শী হয়েছিলো। তার সাথে বাহাছে কেউ বিজয় লাভ করতে পারেনি। তৎকালীন খলীফা তাকে উন্নত পদে সমাসীন করলেন এবং তাকে কনস্টান্টিনোপালের খ্রিস্টান রাজার নিকট দূতরূপে পাঠালেন। খ্রিস্টান রাজার চোখে সে অত্যন্ত সম্মানিত প্রতিপন্ন হলো। এক পর্যায়ে সে রাজ কন্যাকে দেখে বিমুগ্ধ হয়ে রাজার নিকট বিবাহের প্রস্তাব দিলো। রাজা তার খ্রিস্টান হওয়া ব্যতীত বিবাহে সম্মত হলো না। তখন ইবনুছ ছাক্কাহ খ্রিস্টান হয়ে রাজ কন্যাকে বিবাহ করলো এবং সে কুফরী অবস্থায় মারা গেলো। নাউযুবিল্লাহ!

আর সুলতান নুরুদ্দীন শাহী তিনি আবু সাইদ আব্দুল্লাহকে যেহেতু সে পড়াশুনা ভালো ছিলো, সেজন্য তাকে দামেস্কে নিয়ে এসে ওয়াকফ সম্পত্তিগুলোর কর্তৃত্ব দিয়ে ছিলেন। এখানে এসে সে দুনিয়ায় মোহে মোহগ্রস্ত হয়ে সম্পূর্ণরূপে দুনিয়াদারিতে মশগুল হয়ে গেল। নাঊযুবিল্লাহ!

আর গাউছুল আ’যম হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন প্রকাশিত হলেন, তার এক পর্যায়ে তিনি বলেছেন, “আমার ক্বদম হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের গর্দানের উপর।” তখন উনার সময়ের সমস্ত হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা সেটা মেনে নিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ্

একজন সম্মানিত গাউছ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে বেয়াদবী করার কারণে ইবনুছ ছাক্কাহ সে কুফীর করে মারা গেলো আর আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ সে দুনিয়ার মোহে মোহগ্রস্ত হয়ে গলো। নাউযুবিল্লাহ!

অপরদিকে গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “আদব” বজায় রাখার কারণে বিশেষ নিয়ামত হাছিল করলেন। সুবহানাল্লাহ!

এই ওয়াক্বিয়া মুবারক উনার মধ্যে অনেক #ইবরত_নহীহত রয়েছে,
১) কোনো অবস্থাতে কামিল শায়েখ উনার সাথে বেয়াদবী করা যাবেনা অন্যথায় ইহকাল ও পরকালে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।

২) সম্মানিত রিযামন্দি সন্তুষ্টি মুবারক অর্জন করার উদ্দেশ্য খালিছ নিয়তে কামিল শায়েখ উনার ছোহবত মুবারকে আসতে হবে।

৩) কামিল শায়েখ উনার দীদার মুবারক বা সাক্ষাৎ মুবারক লাভের জন্য আদবের সাথে অপেক্ষা করতে করতে হবে।

৪) কামিল শায়েখ উনার ছোহবত মুবারকে এসে অত্যন্ত আদবের সাথে, মুহব্বতের সাথে মনোযোগ দিয়ে নছীহত মুবারক শুনতে হবে। যার মাধ্যম দিয়ে ফায়িয-তাওয়াজ্জুহ এবং নিয়ামত মুবারক হাছিল হবে।

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে হাক্বীক্বীভাবে যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, শায়েখে কামিল ওয়া মুর্শিদে মুকাম্মিল, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি সর্বোচ্চ আদব বজায় রাখার এবং উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারকে এসে আদবের সাথে, মুহব্বতের সাথে মনোযোগ সহকারে উনার নছীহত মুবারক শুনে ফায়িয-তাওয়াজ্জুহ ও নিয়ামত মুবারক হাছিল করার তৌফিক দান করুন। আমীন

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে