কার পিছনে নামায পড়া হচ্ছে সে বিষয়টি যাচাই করা সবচেয়ে জরুরি।


জামায়াতে নামায পড়তে হবে সে ব্যাপারে যেরূপ তাগিদ রয়েছে; তার চেয়ে বেশি তাগিদ হচ্ছে কার পিছনে নামায পড়া হচ্ছে সে বিষয়টি যাচাই করা

বিনা কারণে স্বেচ্ছায় জামায়াত তরক করা মাকরূহ তাহরীমী; তথা গুনাহে গুনাহগার হওয়া। কেননা জামায়াতে নামায পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। সুস্থ, সবল, সক্ষম, মুক্বীম পুরুষদের জন্য অবশ্যই জামায়াতে নামায আদায় করতে হবে। অন্যথায় নামায পূর্ণরূপে আদায় হবে না। মসজিদের পড়শি মুছল্লীদের জন্য মসজিদে গিয়ে পাঞ্জেগানা ও জুমুয়ার নামায় আদায় করা কর্তব্য। ওয়াক্তিয়া মসজিদে জামায়াতে নামায আদায়ে ২৫ থেকে ২৭ গুণ ফযীলত বা ছওয়াব রয়েছে আর জুমুয়ার মসজিদ হলে ৫০০ গুণ ছওয়াব রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
তবে মসজিদ ও জামায়াতে নামায আদায়ের এই ফযীলত বা ছওয়াব কেবল তখনই পাওয়া যাবে যখন ইমাম ছাহিবের আক্বীদা ও আমল- আখলাক্ব শুদ্ধ থাকে। কারণ ইমাম ছাহেবের আক্বীদা যদি অশুদ্ধ হয় অর্থাৎ কুফরী থাকে তাহলে তার পিছনে নামায পড়াই জায়িয নেই। যেমন ইমাম ছাহেব টিভিতে প্রগ্রাম করে, টিভি দেখা জায়িয মনে করে; তাহলে এরূপ ইমাম ছাহেব হারাম সমর্থন ও জায়িয মনে করার কারণে কুফরী করেছে। সুতরাং তার পিছনে নামায আদায় করলে নামাযই আদায় হবে না, সেখানে জামায়াতের ছওয়াবের প্রশ্নই অবান্তর।
আর যদি ইমাম ছাহিব বেপর্দা হয়, বেগানা মহিলার সাথে দেখা- সাক্ষাৎ করে, কথা-বার্তা বলে, বালেগা ছাত্রীদের পড়ায়; এক্ষেত্রে ইমাম ছাহেব চরম ফাসিকের অন্তর্ভুক্ত হবে। এরূপ ইমাম ফাসিকের অন্তর্ভুক্ত। আর মাকরূহ তাহরীমীর সাথে নামায আদায় করা হলে সে নামায পুনরায় দোহরানো ওয়াজিব।
কাজেই মসজিদে ও জামায়াতে নামায আদায়ের গুরুত্ব ও ফযীলত নির্ভরশীল ইমাম ছাহেবের শুদ্ধ আক্বীদা ও আমল-আখলাক্বের উপর।
অতএব, শুরুতেই ইমাম ছাহেবের আক্বীদা ও আমল-আখলাক্ব যাচাই করতে হবে। যদি শুদ্ধ থাকে আলহামদুলিল্লাহ! অন্যথায় একাকীভাবেই নামায আদায় করতে হবে। এ ফতওয়াই দিয়েছেন হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

Views All Time
2
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

২টি মন্তব্য

  1. তাসাউফ শুন্য ইমামের পিছনে নামাজ পড়লে নামাজ হবে না।

    এদের পিছনে এক্তেদা করাই কুফরী।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে