কালামুল্লাহ শরীফ সবার জন্য হিদায়েত নয়,শুধু্মাত্র যারা মুত্তাক্বী উনাদের জন্যই হিদায়েত


আসলে মুসলমান ভাব ধরে থাকা সহজ,সত্যিকার মুসলমান হওয়া অনেক কঠিন! জন্মসূ্ত্রে মুসলমান তো অনেকেই হয় কিন্তু প্রকৃত মুসলমান কয়জন হয়!?! ggg
সূ্রা ত্বোয়া-হা শরীফ উনার প্রথম ৮খানা আয়াত শরীফ শুনে আমীরুল মু্’মিনীন হযরত ফারূকে আযম আলাইহিস সালাম উনি কি উপলব্ধি করলেন যে উন্মুক্ত তলোয়ার কোষাবদ্ধ করে শান্ত,ধীর-স্থির হয়ে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করার আনুষ্ঠানিকতা প্রকাশ করলেন। (সুবহানাল্লাহ্‌) অথচ সম্পর্কে উনারই মামা আবু জাহিল, স্বয়ং হুযু্র পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানায় উপস্থিত থেকেও,আয়াত শরীফ শুনেও জাহিলই রয়ে গেল, বিরোধিতাই করলো । (নাঊযুবিল্লাহ্‌)
সেই আয়াত শরীফ তো এখনো আছে ,কতটুকু বুঝি আমরা??? আবু জাহিল তো আরবী ভাষীই ছিলো সে কেনো বুঝলো না!?!হযরত ফারূকে আযম আলাইহিস সালাম উনিতো বুঝলেন,কি বুঝেছিলেন উনি!!!আমি এখনো বুঝতে পারি না! শুধু এতোটুকুই বুঝি যে নিজ থেকে বুঝতে গেলেই ভু্ল হবে! প্রত্যেকটা আয়াত শরীফ উনার মধ্যে নিগূঢ় অর্থ, অনেক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ নিহিত রয়েছে যা সাধারণ মানুষের পক্ষে বুঝাটা কখনোই সম্ভব নয়। কেননা অসাধারণ যা কিছু তা তো সাধারণের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকবে,এটাই স্বাভাবিক। এই কালাম পাক উনার মধ্যে মহান আল্লাহ্‌ পাক সমস্ত কিছুই বর্ণনা করেছেন,কোনো কিছুই বাদ দেননি,অথচ মাত্র ৩০ পারা উনার মধ্যেই সব! সুবহানাল্লাহ্‌ । অথচ তাফসীরের কিতাব এর সংখ্যা কত আর কত খন্ড খেয়াল করুন !!!
শুধু বঙ্গানুবাদ দেখেই ,মুখস্থ করেই,পড়েই যদি সব বুঝা যেত তবে এতো তাফসীরের কিতাব কি প্রয়োজন ছিলো!?! আর বঙ্গানুবাদেই (/অনুবাদেই) সব বুঝা গেলে গিরিশচন্দ্র হতো সবচেয়ে ঈমানদার,আর আবু জাহিলও বেঈমান হতো না! অথচ আজকাল কিছু ব্যক্তি দেখা যায় যারা অর্থ জানা আছে বলেই গর্বিতো,আর কিছু আছে ঘরে বসে অনুবাদ পড়েই জানতে এবং শিখতে আগ্রহী। তারা কি জানে এই কুরআন শরীফ পড়েই অনেকে বিভ্রান্ত হয় সহীহ ইলিম না পাওয়ার কারণে ,না থাকার কারণে!??! আর কু্রআন শরীফ যে সবার জন্য হিদায়েত না তাও আল্লাহ্‌ পাক জানিয়ে দিয়েছেন একেবারে শু্রুতেই । সূ্রা বাক্বারা শরীফ উনার মধ্যে আল্লাহ্‌ পাক জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই কিতাব মুত্তাক্বী যারা উনাদের জন্যই হিদায়েত । সুবহানাল্লাহ্‌ ।
কাজেই আল্লাহ্‌ পাক উনাকে ভয় করুন,জেনে রাখুন যে আমাদের অল্প ইলিম ব্যতীত প্রেরণ করা হয়নি, অযথাই নিজেকে জ্ঞানী ভেবে মূর্খে পরিণত হওয়া থেকে বিরত থাকুন । আর অবশ্যই তাক্বওয়া হাছিল করতে পারলে তথা মুত্তাকি হলেই মহান আল্লাহ্‌ পাক দয়া মায়া করে ইলিম বৃদ্ধি করে দিবেন যেমন পূর্বে ছিলো , যেমনিভাবে মুসলিম বিজ্ঞানী উনাদের মাধ্যমেই উনাদের, হাতে ধরেই আজকের বিজ্ঞান এসেছে ঠিক সেভাবেই আবারো সোনালী অতীত ,ঐতিহ্য ফিরে আসবে, নব নব বিজ্ঞানময় আবিষ্কারের সূচনা ঘটবে। শুধু প্রয়োজন নিজের জ্ঞানকে তুচ্ছ মনে করে হক্বানী রব্বানী ওলী আল্লাহ্‌ উনাদের সোহবত ইখতিয়ার করে মুত্তাক্বী হওয়া,নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা—মহান আল্লাহ্‌ পাক নিয়ামত বৃদ্ধি করে দিবেন ।
মহান আল্লাহ্‌ পাক যেন আমাদের সকলকেই সহীহ ইলিম দান করে হাক্বীক্বী মুসলিম হওয়ার তৌফিক দান করেন। আমীন ।।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে