কায়িনাতের বুকে এক অভূতপূর্ব এবং বেমেছাল সম্মানিত তাজদীদ মুবারক: সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন ‘সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূর আলাইহিস সালাম’


 

সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ ام المؤمنين حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ أَوْحَى إِلَيَّ أَنْ زَوِّجَ كَرِيـْمَتَيَّ مِنْ حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَضْرَتْ رُقَيَّةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَحَضْرَتْ أُمَّ كُلْثُوْمٍ عَلَيْهَا السَّلَامُ
“উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার নিকট সম্মানিত ওহী মুবারক প্রেরণ করেছেন, আমি যেন আমার সম্মানিতা দুই আওলাদ আলাইহিমাস সালাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাদের সম্মানিত শাদী মুবারক হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে সুসম্পন্ন করি।” সুবহানাল্লাহ! (মা’রিফাতুছ ছাহাবা-লিআবী নাঈম ২২/২২৪)
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عن حَضْرَتْ ابن عباس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَوْحَى إِلَيَّ أَنْ أُزَوِّجَ كَرِيمَتَيَّ مِنْ حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ يعنى حَضْرَتْ رقية عَلَيْهَا السَّلَامُ وحَضْرَتْ أم كلثوم عَلَيْهَا السَّلَامُ.
“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার নিকট সম্মানিত ওহী মুবারক প্রেরণ করেছেন, আমি যেন আমার সম্মানিতা দুই আওলাদ আলাইহিমাস সালাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাদের সম্মানিত শাদী মুবারক হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে সুসম্পন্ন করি।” সুবহানাল্লাহ!, (ফাদ্বাইলুছ ছাহাবা ১/১১২, আল মু’জামুল আওসাত্ব ৪/১৮, আল মু’জামুছ ছগীর ১/২৫৩, মাজমাউয যাওয়াইদ ৫/৩৮৯, আল ফাতহুল কাবীর ১/৩০৪, জামিউল আহদীছ ৭/৪৭৬, ইবনে আদী ৫/৭০, ইবনে আসাকির ৩৯/৪১, জামউল জাওয়ামি’ ১/৮৩৭২, যাখয়েরুল উক্ববা লি-মুহিব্বে ত্ববরী ১/১৬৩, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৩৩, আর রিয়াদ্বুন নাদ্বরাহ ১/২০২ ইত্যাদি)
সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি এই শাদী মুবারক উনার ফলশ্রুতিতে একটি লক্বব মুবারক-এ ভূষিত হন। আর সেই সম্মানিত লক্বব মুবারক হলো যুন নূরাইন অর্থাৎ সম্মানিত দুই নূর মুবারক উনাদের অধিকারী। এই সম্মানিত দুই নূর হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুই সম্মানিতা আওলাদ আলাইহিমাস সালাম তথা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
এই সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
وإني زوجته ابنتي فذلك سماه الله عند الملائكة ذا النور وسماه في الجنان ذا النورين، فمن شتم عثمان فقد شتمني.
অর্থ: “আর নিশ্চয়ই আমি আমার সম্মানিতা দুই আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান আলাইহিস সালাম উনার সাথে শাদী মুবারক দিয়েছি। তাই মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের নিকট হযরত উছমান আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারক রেখেছেন ‘যুন নূর’ এবং সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ উনার সম্মানিত নাম মুবারক রেখেছেন ‘যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! তাই যে ব্যক্তি উনাকে তিরস্কার করলো, সে মূলত আমাকেই তিরস্কার করলো।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (কানযুল উম্মাল ১৩/৫৩)
এই সম্পর্কে বিশ্বখ্যাত সীরত বিশারদ হাফিয আবুল ফিদা আল্লামা ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
ثُمَّ زوَّجه بِأُخْتِهَا الْأُخْرَى أم كلثوم بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلِهَذَا كَانَ يُقَالُ لِعُثْمَانَ بْنِ عفان ذو النورين
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ পাওয়ার পর উনার অপর বোন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান ইবনে আফ্ফান আলাইহিস সালাম উনার সাথে সম্মানিত শাদী মুবারক দেন। এই জন্য উনাকে ‘যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম’ বলা হয়।” (আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ৩/৪১৯)
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল মুহাদ্দিছীন মিনাল আউওয়ালীনা ইলাল আখিরীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনাকে এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাক শাদী মুবারক করার কারণে তিনি হচ্ছেন ‘যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তথা দুই সম্মানিত নূর মুবারক উনাদের মালিক।’ সুবহানাল্লাহ! অনুরূপভাবে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ ইবনে রবী’ আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন ‘যুন নূর আলাইহিস সালাম তথা সম্মানিত এক নূর মুবারক উনার মালিক’। সুবহানাল্লাহ! কেননা তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আওলাদ, বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক করেছেন এবং উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন। কাজেই উনাকে ‘সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূর আলাইহিস সালাম’ বলতে হবে। সুবহানাল্লাহ! একইভাবে সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত শাদী মুবারক করার কারণে এবং উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার কারণে সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনিও হচ্ছেন ‘যুন নূর আলাইহিস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! তবে তিনি যেহেতু কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম হিসেবে মাশহূর হয়ে গেছেন। তাই উনাকে সাইয়্যিদুনা কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম বলা হবে।” সুবহানাল্লাহ!
কাজেই সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ ইবনে রবী’ আলাইহিস সালাম উনাকে ‘সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূর আলাইহিস সালাম’ বলা হবে। সুবহানাল্লাহ!

 

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে