কী হচ্ছে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে?


বাংলাদেশের প্রায় সিডিউল ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে ভুগছে। ব্যতিক্রম শুধু ইসলামী ব্যাংক। এখানে তারল্য সংকটের বালাই নেই। আরও কয়েক হাজার কোটি টাকা উদ্দৃত্ত আছে। ইসলামী ব্যাংক এদেশে ইসলামের নাম ব্যবহার করে সর্বপ্রথম ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করলে ধর্মবিশ্বাসী অনেকে এদিকে ঝুঁকে পড়েন। ফলে এর বিশাল পুঁজির পাহাড়ের সৃষ্টি  হয়। এখানে সুদবিহীন শব্দে আকৃষ্ট হয়ে মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ ও আংশিক অনেক ইসলামী ব্যাংক গড়ে ওঠে এবং এরা সবাই ভালো করছে।

আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি সুদবিহীন ব্যাংকিং ব্যবস্থা ৭০০ বছর আগে বেবিলন শহরে ইহুদিরা এজিবি ব্যাংক নামে প্রচলন করে। ওই ইহুদিদের পথ অনুকরণ করেই বর্তমানে ইসলামী ব্যাংক নাম দিয়ে ব্যাংকগুলো গড়ে উঠলেও বিদেশী করসপনডেন্স ব্যাংকে সুদ দেয়। ইসলামে সুদ দেয়া হারাম, সুদ নেয়াও হারাম। ব্যাংক নিয়ে আলোচনা করা আমার আজকের উদ্দেশ্য নয়। আমার উদ্দেশ্য জামায়াতিদের টাকার উৎসের বিষয়। এই টাকার উৎস বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে এদেশে কোন প্রগতিবাদী মানুষ বসবাস তো দূরের কথা, দেশটাকে মধ্যযুগে নিয়ে যাবে এরা। আমি বারবার বলেছি, সংসদেও বলেছি, হিজবুত তাহরির এদেশে ইসলামী শাসনতন্ত্র কায়েম করতে চায়। চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজের পাহাড়ঘেরা হোস্টেলগুলো এখন এদের হেডকোয়ার্টার। গত দুই সপ্তাহ পর্যন্ত চট্টগ্রাম শহরে হিজবুত তাহরির পোস্টারিং করে লাল করে ফেলেছে। প্রশাসনে লুকিয়ে থাকা এদের সদস্যদের সহযোগিতা ছাড়া এ কাজগুলো করা সম্ভব নয়। কার কাছে বলব কথাগুলো। অন্ধদের দেশে আয়নার সওদাগরি বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে কোন টাকার সমস্যা হবে না বলে মন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন। কত টাকা দেবেন? জামায়াতিদের প্রাথমিক ফান্ড একশ’ কোটি টাকার বিপরীতে ৬ কোটি টাকা নামমাত্র। তদুপরি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে কোটি কোটি টাকা এরা চাঁদা ওঠায়। আমার কথায় বিশ্বাস না হলে যে কেউ সৌদি আরবে যান, প্রগতিবাদী মানুষগুলোর সঙ্গে কথা বলুন, নাম-ঠিকানাসুদ্ধ পাওয়া যাবে।

খবরে প্রকাশ, মীর কাশেম আলী ১৯০ কোটি টাকা পাচার করে লবিস্ট নিয়োগ দিয়েছেন। মীর কাশেম আলী একজন যুদ্ধাপরাধী, তিনি কি করে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করেন সবাই বোঝেন। সময় ও সুযোগ এলে সব বেরিয়ে আসবে। এ আবার টাকা পাচার করে। অন্য কোন তদন্তের আগে তাকে গ্রেফতার করা যেত। সে যতদিন বাইরে থাকবে সুষ্ঠু তদন্তে নানা প্রতিকূলতা ও নাশকতার সৃষ্টি করবে। এটা একটা ছোট ছেলেও বোঝে। এখন আমি মূল আলোচনা জামায়াতিদের ফান্ডের কথায় আসি।

জামায়াতিদের বার্ষিক মুনাফা গড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা। এমন কোন সেক্টর নেই এরা ইনভেস্ট করেনি। টিভি, ব্যাংক, বীমা, হাসপাতাল, রিয়েল এস্টেট, কোচিং সেন্টার, স্কুল, কলেজ, ডায়গনস্টিক সেন্টার থেকে শুরু করে জীবনের প্রয়োজনীয় যা দরকার সব জায়গা এরা দখল করেছে। পক্ষান্তরে প্রগতির পক্ষের একজন ন্যায়ভিত্তিক ইনভেস্টমেন্ট করলে সবাই গেল গেল বলে চিৎকার করে। এদের অগ্রযাত্রাকে রুখতে হলে প্রগতির শক্তির পক্ষের লোকদের সুযোগ করে দিতে হবে।

এদেশে জঙ্গি উত্থানের শিরোমণি হল জামায়াত। তাদের নিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিট আয় বছরে ১৭ হাজার কোটি টাকা, যা আমাদের উন্নয়ন বাজেটের শতকরা দশ ভাগের এক ভাগ। চট্টগ্রামে গোলটেবিল বৈঠকের এক হিসাবে দেখা গেছে, ৬টি উৎস থেকে এদের জঙ্গিবাদের টাকা সংগৃহীত হয়। দেশের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি যেখানে ৬-৭ ভাগ বৃদ্ধি, সেখানে এদের প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধির হার ১২ ভাগ। এক হিসাবে এরা দেখিয়েছে জঙ্গি দল ও সংগঠনের সংখ্যা ১২৫। এদের নাম-কর্মক্ষেত্র আলাদা হলেও একটি অন্যটি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। এদের নেটওয়ার্ক আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিস্তৃত।

১৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার শতকরা ৩৩ ভাগ ব্যয় করা হয়। এদের রাজনৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ব্যয় করা হয় ৫ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা, ক্যাডারদের বেতনে ব্যয় করা হয় ২ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা। আবুল বারাকাতের গবেষণার উল্লেখ করে এমএম আকাশ যে প্রতিবেদন পাঠ করেছেন, এটা শুনলে যে কারও মাথা ঘুরে যাওয়ার কথা।

ইসলামী ব্যাংকগুলো এক সময় অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের না জানিয়ে জাকাতের টাকা কাটত। এই টাকা কোথায় ব্যয় করেছে, কাকে জাকাত দিয়েছে তার কোন হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত দিতে পারেনি। এই টাকা দিয়ে অস্ত্র কিনেছে কিনা আল্লাহ জানেন।

ব্যাংক তো আর বন্ধ করা যাবে না। কিন্তু এগুলোতে বিক্রয় হয় না এমন লোক দিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। প্রয়োজনে ভালো লোকদের বোর্ড অব ডাইরেক্টরে পুশ করার বিকল্প নেই।

এই মুহূর্তে অনেক সমস্যা আছে। ছোটখাটো সমস্যা আপাতত স্থগিত রেখে এই বড় সমস্যাটিকে হাতে নেয়ার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

(কপিপেষ্ট)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+