কুকুর মরলে দুঃখ পাবো, কাফির মরলে নয়


একদিন বিকেলে, রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময়ে রাস্তার মাঝখানে প্রায় দশ-বারোটি কুকুরছানা আমার চোখে পড়লো। ছানাগুলো একটি মাদী কুকুরকে ঘিরে কাড়াকাড়ি করে দুধ খাচ্ছে। একেকটি ছানার দুধ খাওয়া শেষ হচ্ছে, আর সেই ছানাটি এগিয়ে গিয়ে মাদী কুকুরটির মুখ চেটে দিচ্ছে। দৃশ্যটি দেখে আমার মনে কেমন যেন মায়া জেগে উঠলো।
পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে ভাবলাম, না এটি ঠিক হচ্ছে না। বর্তমানে যেভাবে মুসলমানগণ উনাদের উপর নির্যাতন হচ্ছে, তাতে করে কতগুলো কুকুরছানার দুধ খাওয়া দেখে মায়া জাগাটা বিলাসিতা ছাড়া কিছু নয়। কিন্তু সাথে সাথে দ্বিতীয় খলীফা সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার একখানা ক্বওল শরীফও আমার স্মরণে আসলো, যেখানে বলা হয়েছে- “ফোরাতের তীরে একটি কুকুর না খেয়ে থাকলেও তার জন্য আমি হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম দায়ী”।
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনারই একখানা বিশেষ লক্বব মুবারক হলো “আশিদ্দাউ আলাল কুফফার” অর্থাৎ যিনি কাফিরদের প্রতি কঠোর। অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি কুকুরকে মায়া করেছেন, কিন্তু কাফিরকে নয়।
পাঠকেরা হয়তো অনেকে পত্র-পত্রিকায় পড়ে থাকবেন, পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রায়ই কথিত ‘পরিবেশ রক্ষা’ বিষয়ক বিভিন্ন সভা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেসব দেশের নেতানেত্রীরা ঐসব অনুষ্ঠানে শপথ নেয়, তারা বাঘ রক্ষা করবে, কুমীর রক্ষা করবে, বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী রক্ষা করবে ইত্যাদি।
অপরদিকে মুসলমানদের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান সম্পূর্ণ উল্টো। কাফিরদের দেশগুলোর রাজনৈতিক নেতারা মুসলমান বিরোধী বক্তব্য দিয়েই ক্ষমতায় আসে। কাফিরদের দেশগুলোর রাজনৈতিক নেতারাই মুসলমান দেশগুলোতে বোমা হামলা করে থাকে। একদিকে এরা পশুর জীবন বাঁচানোর কথা বলে, অপরদিকে এরা মুসলমান হত্যা করে। মোদি তো সরাসরিই বলেছিলো, গাড়ির চাকায় কুকুরছানা মরলে দুঃখ পাবো, কিন্তু মুসলমান মরলে নয়। নাউযুবিল্লাহ!
এই বিচারে মুসলমানদের এরূপ মনোভাবই তো হওয়া উচিত যে, “কুকুর মরলেও দুঃখ পাবো, কিন্তু কাফির মরলে নয়”। রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ সাইয়্যিদুনা হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি খিলাফত মুবারক পরিচালনা করবেন, তা আমরা জানি। সেই খিলাফত মুবারক উনার মধ্যে এতো প্রাচুর্য হবে যে, একটি কুকুরও না খেয়ে থাকবে না।
কিন্তু কাফির-মুশরিকদের প্রতি কোনো দয়া-মায়া করা হবে না। কাফিরেরা না খেয়ে মরলেও কেউ ফিরে তাকাবে না। কোনো কাফির তৃষ্ণায় কাতর হয়ে এক ঢোক পানি চাইলেও তা তাকে দেয়া হবে না।
স্বপ্নের ন্যায় সেই খিলাফত মুবারক আজও আমাদের অধরা। কারণ সাধারণ মুসলমানরা আজও কাফিরদের প্রতি ভীষণভাবে অনুরক্ত। নাউযুবিল্লাহ! তারা কুকুরের তুলনায় কাফিরকে নিকৃষ্টজ্ঞান করা তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে কাফিরদের গোলামি করতে গিয়ে তারা নিজেরাই কাফিরদের পোষা কুকুরের পর্যায়ে নেমে যায়। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি প্রতিনিয়ত কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে দুয়া করেন, যে দুয়া আমাদের অন্তর ইছলাহ হওয়ার একটি বড় মাধ্যম। অন্তর থেকে কাফির-মুশরিকদের প্রতি মুহব্বত দূর করতে না পারলে খিলাফত মুবারক লাভ করাটা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়, আর কাফির-মুশরিকদের প্রতি মুহব্বত দূর করা সম্ভব কেবলমাত্র সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মক্ববুল মুনাজাত শরীফ উনার মধ্যে শামিল থাকার মাধ্যমে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে তা নছীব করুন। আমীন!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে