কুমিল্লায় সবজির বাম্পার ফলন দাম না থাকায় লোকসানের মুখে চাষিরা


কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী জনপদ হিসেবে সুপরিচিত নিমসার। শতাধিক বছর পূর্বে এই নিমসার বাজারে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী ত্রিপরা সম্প্রদায়ের লোকেরা নানারকম হাতের তৈরি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বিক্রি করত এই বাজারে । কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে তাদের এই আদি পেশা। সেই জায়গায় এখন গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ সবজি বাজার নিমসার। অর্ধশতবছরের ঐতিহ্যবাহি কুমিল্লার নিমসার কাঁচাবাজার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশেই রাস্তার দুপাশে বিশাল এলাকাজুড়ে অবস্থিত। ময়নামতি সেনানিবাস থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে রাস্তার দুপাশের ১ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত অর্ধশত বছরের পুরনো এই বাজারটিতে প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত চলে সবজি কৃষক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে চলে বেচাকেনা। এরপর শুরু হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে সবজি প্রেরণ, ব্যস্ত হয়ে উঠে পাইকারি ব্যবসায়ীরা। প্রত্যেক শীতের মৌসুমেই এই বাজারটি শীতের সবজিতে কানায় কানায় র্পূণ থাকে। এই শীতের মৌসুমেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। সরেজমিনে নিমসার কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষকরা ট্রাক-ভ্যান ভর্তি করে এই বাজারে সবজি জড়ো করছে। স্থানীয় কৃষক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার বাতাইছড়ি, ফয়ালগাছা, আমড়াতলী, সদর দক্ষিণ উপজেলা, সদর উপজেলার বামিশা, ধনপুর, লালমাই, শ্রীমন্তপুর, চৌয়ারা, দেবিদ্বার উপজেলার সুলতানপুর, প্রজাপতি, রাজবাড়ী, বি-পাড়া উপজেলা, লাকসামের দুর্লভপুর, বুড়িচংয়ের ভরাসার, ইছাপুরা, নানুয়ারবাজার, শশীদল, সংকুচাইল, বাকসিমুল, নিমসার এলাকার মিতলমা, পাচকিততা, বারাইল, হামিদপুর, লোহারচর, কুমিল্লার বাইরে পাবনা, বগুড়া, জয়পুরহাট, জামালপুর, নাটোর, নওগাঁ, মাগুরা, নিলফামারী, চট্টগ্রাম প্রভৃতি জেলা থেকে প্রতিদিন কৃষক, পাইকারি ব্যবসায়ী ও ফড়িয়ারা শত শত ট্রাক ভর্তি করে শতশত টন শীতকালীন সবজি এই বাজারে নিয়ে আসে। বাজার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন ৪-৫ ট্রাক আলু যার আনুমানিক পাইকারি দর প্রায় আড়াই লাখ টাকা, ৬-৭ ট্রাক বেগুন যার আনুমানিক পাইকারি দর প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা, ৫-৬ ট্রাক টমেটো যার আনুমানিক পাইকারি দর প্রায় ৬ লাখ টাকা, ৩০০-৪০০ ঝুড়ি ধনিয়াপাতা যার আনুমানিক পাইকারি দর প্রায় এক লাখ টাকা, ৫-৬ ট্রাক শিম যার আনুমানিক পাইকারি দর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা, ১৫-১৬ ট্রাক ফুলকপি ও বাঁধাকপি যার আনুমানিক পাইকারি দর প্রায় ২ লাখ টাকা, ২-৩ ট্রাক কাঁচামরিচ যার আনুমানিক পাইকারি দর প্রায় ৫ লাখ টাকা, ৫-৬ ট্রাক শসা যার আনুমানিক পাইকারি দর প্রায় ৪ লাখ টাকাসহ আরো বিভিন্ন ধরনের সবজি, মসলাসহ প্রায় ৫ কোটি টাকার নিত্যপণ্য এই বাজার থেকে পাইকাররা ক্রয় করে ঢাকা-চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর,বি-বাড়িয়া,লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লার বিভিন্ন নিত্যপণ্যের বাজারে প্রেরণ করে।কৃষকরা জানান, তারা পাইকারদের কাছে প্রতি কেজি মরিচ ১৪ টাকা দরে বিক্রি করে। এখন মরিচ বিক্রি করে তেমন লাভ হচ্ছে না। করল্লা আসে সীতাকুন্ড থেকে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, তারা কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি করল্লা ৩৫ টাকা দরে কিনে ৫০ টাকা দরে বাজারে বিক্রি করে।নিমসার বাজারে কৃষকরা সবজি বিক্রি করে বর্তমানে লাভের মুখ না দেখলেও পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা অল্প দামে সবজি কিনে জেলার বিভিন্ন বাজারে ভালো দামেই বিক্রি করছে।একদিকে কৃষকদের হতাশা আরেকদিকে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের অধিক লাভ- এই দুই চিত্রই ফুটে উঠেছে অর্ধশত বছরের পুরনো এই বাজারে। তবে কৃষকরা আশাহত হলেও আশায় বুক বাঁধছেন আবার সবজি চাষ করে মুনাফা লাভের আশায়।

 

 

 

সূত্র: আমাদের অর্থনীতি

Views All Time
2
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+