কুরবানীকে সংকুচিত করার অপচেষ্টা ও মুসলিম অস্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ


দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর ফারুক রদ্বিআল্লাহু তায়ালা আনহু উনার দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করার পর সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি কী? আমরা পাঠ্যপুস্তকে পড়ে এসেছি যে, তিনি দ্বীন ইসলাম গ্রহণের পূর্বে প্রকাশ্যে ইসলাম পালন কেউ করতে পারত না। অতি গোপনে, পরিচয় গোপন রেখে তখন মুসলমানরা দ্বীন ইসলাম পালন করতো। তাই হযরত উমর ফারুক রদ্বিআল্লাহু তায়ালা আনহু ইসলাম গ্রহণ করে প্রথমেই ক্বাবা শরীফ উনার সম্মুখে প্রকাশ্যে নামায আদায় করেছিলেন।

এই যে প্রকাশ্যে নামায আদায় বনাম গৃহকোণে নামায আদায়, এর পার্থক্য বিস্তারিত বর্ণনা করে দিতে হয় না। একটির দ্বারা আত্মরক্ষা ও পশ্চাৎপদতা প্রকাশ পায়, আরেকটি দ্বারা স্বাধীনতা ও নিজস্ব অস্তিত্বের জানান দেয়া হয়। প্রকাশ্যে নামায আদায় করেই হযরত উমর ফারুক রদ্বিআল্লাহু তায়ালা আনহু উপাধি পেয়েছিলেন ‘ফারুক’, সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী।

মসজিদের মিনার, নামাজের জামায়াত এগুলো হচ্ছে মুসলিম অস্তিত্বের সাথে সম্পর্কিত, আর বাংলাদেশে সে জন্যই কুরবানীর হাটগুলো শহরের বাইরে বার করে দেয়ার প্রচেষ্টা চলছে। বলা হচ্ছে, সব জায়গায় কুরবানী করা যাবে না, নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানী করতে হবে।

শয়তানকে যখন নির্দেশ দেয়া হয়েছিল হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সিজদা করার জন্য, তখন শয়তান তার মনোভাব গোপন করতে বলেছিল “আয় আল্লাহ পাক, আপনি ছাড়া আর কাউকে কি আমি সিজদা দিতে পারি?” অর্থাৎ স্বয়ং আল্লাহ পাককেও সে ইনিয়ে-বিনিয়ে ধোঁকা দিতে চেয়েছিল।ঠিক সেভাবেই যারা এদেশে কুরবানীর বিরোধী, তারা শয়তানের মতো সরাসরি কুরবানী না করার কথা বলে ইনিয়ে-বিনিয়ে বলছে, “মক্কা-মদীনার আদলে নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানী করুন”।

প্রতি বছর এদেশে ভারতীয় শিল্পীদের এনে গানের আসর বসায় ‘বেঙ্গল ফাউন্ডেশন’, যেটি ‘বেঙ্গল গ্রুপ’ এর অর্থায়নে পরিচালিত। এই ‘বেঙ্গল গ্রুপ’ এর অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে ‘বেঙ্গল মিট’ নামক প্রতিষ্ঠানটি, যেটি প্রতিবার কুরবানী আসলেই ফেসবুক ও অন্যান্য মাধ্যমে ‘অনলাইনে কুরবানী’ দেয়ার প্রচারণা চালাতে থাকে। তারা এভাবে প্রচার চালায়, আপনাকে কোনো কষ্ট করতে হবে না, আপনি খালি ছবি দেখে গরু পছন্দ করবেন। আমরা কুরবানীর দিন নিজ দায়িত্বে গরু জবাই করে, গোশত কেটে আপনার বাসা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আসব।

Bengal Meat এর পেজে অনেক মূর্খ লোককে দেখা যায়, ওদের ঐসব বিজ্ঞাপনে আগ্রহী হয়ে নিজের ফোন নম্বর দিতে, গরুর দরদাম কতো তা জিজ্ঞেস করতে। অথর্বগুলো বোঝে না যে, প্রতিবছর ভারতীয় হিন্দু গায়ক-নটি ডেকে আনা এই বেঙ্গল মিট কোন ভালো উদ্দেশ্যে এরকম বিজ্ঞাপন দিচ্ছে না, সে চাচ্ছে মুসলমানদের দ্বীনি অনুষ্ঠানগুলোকে সংকুচিত করতে, প্রকাশ্য ময়দান থেকে ফ্যাক্টরির মধ্যে নিয়ে আসতে। পশ্চিমের দেশগুলোতে মুসলমানদের কুরবানী করতে দেয়া হয় না, তাদেরকে বাধ্য করা হয় এভাবে ফ্যাক্টরীতে অর্ডার দিয়ে খ্রিস্টান কসাইয়ের কাটা গরু দিয়ে ‘কুরবানী’ পালন করতে।

Bikroy.com কেও দেখা যাচ্ছে এভাবে অনলাইনে গরু কেনাবেচা করতে। এই বিক্রয়.কম হচ্ছে চরম ইসলামবিদ্বেষী ব্লগ সামহোয়্যারইনব্লগ এর আরিল্ড ও জানার তৈরী করা প্রতিষ্ঠান। এই সামহোয়্যারইনব্লগ দ্বারাই এদেশে আসিফ মহিউদ্দীনের মতো ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিকদের উত্থান হয়েছিল এবং জার্মানদের মাধ্যমে এদেশে ইসলামবিদ্বেষী গ্রুপ তৈরী হয়েছিল।

এখন মুসলমান অথর্ব হয়ে রয়েছে, কারণ সে তার অস্তিত্বকে অনুভব করতে পারছে না। পূর্বে শল্যচিকিৎসায় আফিম ব্যবহার করা হতো রোগীকে অবশ করার জন্য, এখন মুসলমানদের অবস্থাও তদ্রুপ হয়েছে। কয়েকদিন আগে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেছিল, ‘আমরা আফিম খেয়েছি। এটায় কোনো সন্দেহ নেই। কারণ, এই যে চালের দাম বাড়ল, একটা প্রতিবাদ বা মিছিল হলো না। আমরা বাঙালিরা খুব প্রতিবাদী জাতি ছিলাম। সেই প্রতিবাদী চরিত্র আমাদের আর নেই। এই যে বাজেট হলো, আগে দুই-চারটা মিছিল হতো। এখন কিছুই শুনি না।’

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে