সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

কুরবানী নিয়ে সরকারের নতুন নিয়ম চাপিয়ে দেয়া সংবিধান পরিপন্থী এবং আইন যদি সবার জন্য সমান হয়, তবে সরকারও হবে অপরাধী


 

সরকারের একটি মহল অনেকটা জোর করেই কুরবানী সংক্রান্ত কিছু কালাকানুন জনগণের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। বলা হচ্ছে- এবার কুরবানীর পশুর হাটের সংখ্যা গতবারের তুলনায় কমানো হবে, কিছু হাট রাজধানীর বাইরে স্থানান্তর করা হবে। আরো বলা হচ্ছে, যার যার স্বাধীন মতো কুরবানী করা চলবে না, বরং সরকারের নির্ধারিত স্পটে সরকারের নির্ধারিত নিয়মনীতি মোতাবেক পশু জবাই করতে হবে। তবে এই নিয়মনীতি হঠাৎ করেই জারি করা হচ্ছে জনগণের কোনো প্রতিক্রিয়া কিংবা মতামত না নিয়েই।
গণতন্ত্রের ভাষা অনুযায়ী জনগণের মত না নিয়ে শুধু এককভাবে সরকারের নীতিকে চাপিয়ে দেয়া অগণতান্ত্রিক আচরণ। তাছাড়াও সংবিধানের আইনেও এই নতুন নীতি বৈধ নয়।
সংবিধানের ২ (ক) ধারা মোতাবেক, “প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন।”
১২ (ঘ) ধারায় বলা হয়েছে, “কোনো বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাহার উপর নিপীড়ন বিলোপ করা হইবে।”
এছাড়াও ২৮ (১) ধারায় উল্লেখিত আছে, “কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।”
সংবিধানের উপরোক্ত ধারাগুলো থেকে এটা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ সরকার সকল ধর্মের অনুসারীদের ‘ধর্ম পালন’-এর মধ্যে কোনোরূপ বৈষম্য করতে পারবে না। প্রত্যেককে ধর্মপালনে সমপরিমাণ স্বাধীনতা দিতে হবে। অর্থাৎ ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ সবার সমান। এ ব্যাপারে কোনোরূপ বিধিনিষেধ আরোপ করা চলবে না।
কুরবানী নিয়ে সরকার যে নিয়মনীতি জোরপূর্বক জারি করতে যাচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ হওয়ায় সংবিধান মোতাবেক অবৈধ এবং সংবিধান লংঘনের অপরাধে সরকারও অপরাধী বলে সাব্যস্ত হবে।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে