পবিত্র যিলহজ্জ মাসের ফযীলত ও পবিত্র কুরবানী সম্পর্কে জরুরী মাসালাসমূহ সংকলন


পবিত্র যিলহজ্জ মাসের ফযীলতঃ

সময়ের পরিক্রমায় আমরা এখন পবিত্র জিলহজ মাসের সূচনায়। সারা বছরের অন্য দিনগুলোর তুলনায় এ মাসের প্রথম দশদিন আল্লাহ পাকের কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ ও মহিমান্বিত দিন হিসেবে বিবেচিত।

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র জিলহজ মাসের প্রথম দশদিন রোজা এবং অন্যান্য আমলের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন।

পবিত্র জিলহজ মাসে শুধু কুরবানী নয় বরং মাসের শুরু থেকে কুরবানীর দিন পর্যন্ত প্রতিটি প্রহর আল্লাহ পাক এ সুযোগ দিয়ে রেখেছেন। হাদীসের গ্রন্থসমুহে  হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,  পবিত্র জিলহজের প্রথম দশদিনকে বছরের সর্বোত্তম দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

পবিত্র কুরআনে সূরা ফজরের প্রথমদিকের আয়াতে আল্লাহ পাক এ দশদিনের রাতের কসম করেছেন। এতেই এ দশদিন ও রাতগুলোর মর্যাদা প্রতীয়মান হয়।

বুখরী শরীফের বর্ণনায় সাহাবী হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম  বর্ণনা করেছেন,  হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  বলেন, আল্লাহ পাকের কাছে এ দিনগুলোর আমলের মতো প্রিয় আর আমল নেই। কেউ আরয করলেন, জিহাদও নয় কি? তিনি বললেন, না, জিহাদও নয়। তবে ওই ব্যক্তির কথা ভিন্ন যে তার জান ও মালের সব কিছু নিয়ে জিহাদে বের হয়েছে এবং সে কিছুই নিয়ে ফিরে আসতে পারেনি।

আবু দাউদ এবং সুনানে তিরমিযীসহ আরও কয়েকটি হাদীস গ্রন্থ থেকে জানা যায়   হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  এ মাসের প্রথম নয়দিন, আশুরার দিন এবং প্রতি মাসে যে কোনো তিন দিন নিয়মিত রোজা রাখতেন।

কাজেই এ দিনগুলোতে একজন প্রকৃত মুসলমানরা  তার  প্রিয়নবী ) হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম . উনার  অনুসরণ করে সাধ্যমত আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন হতে পারেন। রোজা, নামাজ ও কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে এ সময়গুলো অতিবাহিত করলে তা পূণ্যের খাতায় অনেক বড় সঞ্চয় হিসেবে সুনিশ্চিত হয়ে থাকবে।

শুধু কুরবানীর দিনটি নয়, বরং অন্যান্য দিনগুলোও আল্লাহ পাকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, সে কথাও মনে রাখা উচিত। যারা নিশ্চিতভাবে কুরবানী করার ইচ্ছা পোষণ করেন, তাদের উচিত, কুরবানীর আগে এ দশদিন যেন নিজের চুল কিংবা নখ না কাটেন। মুসলিম শরীফের বর্ণনায় উম্মে সালামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম   থেকে বর্ণিত, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন তোমরা জিলহজের চাঁদ দেখবে এবং তোমরা কুরবানীর পশু জবেহ করার ব্যাপারে সুনিশ্চিত থাকবে, তখন তোমরা এ কয়দিন নিজেদের চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকবে। তবে এ নিষেধ হারামের পর্যায়ে নয়, বরং কেউ করলে তা মাকরুহ হবে বলে উলামায়ে কেরাম মত দিয়েছেন।

পবিত্র কুরবানী, ঈদের পবিত্রতা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ঃ

উৎসব প্রিয় বাংলাদেশে কুরবানীর অনেক আগে থেকেই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। ঈদকে কেন্দ্র করে আমরা ব্যস্ত হয়ে পড়ি কেনাকাটায়।

এসবের মধ্যে যেন সীমালঙ্ঘন না হয় এবং আনন্দে বিভোর হয়ে এ দিনগুলোর ফজিলত থেকে যেন বঞ্চিত না হয়ে যাই, সেদিকেও সচেতন থাকা প্রয়োজন আমাদের। ইসলাম এভাবেই প্রতিনিয়ত আমাদের বিশুদ্ধ করার প্রয়াসে বারবার আমাদের পরম স্রষ্টার দয়া ও অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেভাবেই আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

তাই, আমাদের এ সময়গুলো যেন অবহেলায় কেটে না যায় সে ব্যাপারে আসুন আমরা যত্নবান হই।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, একদা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

‘কুরবানী কি?’

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন,

‘এটা আপনাদের পিতা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার সুন্নত মুবারক ও আদর্শ মুবারক।’ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আবার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এতে আমাদের কী লাভ?’ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘প্রত্যেক পশমের বদলে একটি করে নেকী দেয়া হবে।’ সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমাদ, ইবে মাযাহ, মিশকাত শরীফ)।
পবিত্র কুরবানী একটা ঐতিহ্যবাহী মহাপবিত্র, মহা ফযীলতপূর্ণ ইসলামী ইবাদত। তাই পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিদ্বেষী গুমরাহরা এখন কুরবানীর বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। তার সাথে যোগ দিয়েছে ধর্মব্যবসায়ী উলামায়ে ‘সূ’ গং।
, পবিত্র কুরবানী কোনো ব্যবসা নয়। অথচ হাটগুলোতে মাইক লাগিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে উচ্চস্বরে গান-বাজনা করানো হচ্ছে। যা পবিত্র কুরবানী উনার আদর্শ, ধারণা ও চেতনার চরম খিলাফ। দেখা যাচ্ছে, একটা ওয়াজিব পালন করতে গিয়ে মানুষ হাজার হাজার কবীরা গুনাহতে গুনাহগার হচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ!

প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় পবিত্র কুরবানী পশুকে নিয়ে অনেক ব্যঙ্গ চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এমনকি অনেক তাচ্ছিল্য ও অবজ্ঞামূলক তথা উপহাসমূলক মন্তব্যও করা হয়। নাঊযুবিল্লাহ!

অতীতে হিন্দু রাজারা মুসলমান প্রজাদের কুরবানী করতে দেয়নি। এখনো মুসলমানরা ভারতে ঠিকমত কুরবানী করতে পারে না। তাই এ ষড়যন্ত্রকারী মহল কুরবানীর উপর নানাভাবে বিষোদগার লেপন করে থাকে। এরাই উদ্দেশ্যমূলকভাবে কুরবানীকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়।

প্রকৃতপক্ষে পবিত্র কুরবানী বিরোধীরা পবিত্র কুরবানী উনার নামে যেসব অপতৎপরতা চালচ্ছে তা প্রকৃতপক্ষে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাকে বিকৃত করা তথা অবমাননা করার শামিল। যা এদেশসহ পৃথিবীর সব মুসলমানগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাতস্বরূপ। তাই ‘পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের বিরোধী কোনো আইন পাস হবে না’- এ প্রতিশ্রুতির সরকারের উচিত হবে, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার অবমাননাকারী ও মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী এসব অপতৎপরতাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আর পবিত্র কুরবানী উনার পশুর হাটগুলোতে গানবাজনা বন্ধে সার্বিক ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

 কুরবানী সম্পর্কিত সুওয়াল-জাওয়াবঃ

সুওয়াল:   কুরবানী  কার উপর ওয়াজিব?

জাওয়াব: যিলহজ্জ মাসের দশ, এগার, বার অর্থাৎ দশ তারিখের সুবহে সাদিক হতে বার তারিখের সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যদি কেউ মালিকে নিসাব হয় অর্থাৎ হাওয়ায়েজে আসলিয়াহ্ (নিত্যপ্রয়োজনীয় ধন-সম্পদ) বাদ দিয়ে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপা বা তার সমপরিমাণ মূল্যের মালিক হয়, তাহলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব।
উল্লেখ্য যে, যদি কারো নিকট প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থাকে এবং তা যদি নিসাব পরিমাণ হয়, যেমন- কারো পাঁচটি ঘর আছে, একটির মধ্যে সে থাকে আর তিনটির ভাড়া দিয়ে সে সংসার চালায় আর একটি অতিরিক্ত, যার মূল্য নিসাব পরিমাণ। এ ক্ষেত্রে তার উপরে কুরবানী ওয়াজিব হবে।

সুওয়াল:   ওয়াজিব ও নফল কুরবানী, ওলীমা ও  আক্বীকা এক সাথে জায়িয হবে কিনা?

জাওয়াব: হ্যাঁ, জায়িয হবে।

সুওয়াল:   আইয়ামে নহর বা কুরবানীর দিনে কুরবানীর পশু কুরবানীকরার পূর্বে অথবা কুরবানী করার সময়ে হাঁস, মুরগী, কবুতর ইত্যাদি যবেহ্ করা জায়িয আছে কি?

জাওয়াব: মুসলমানদের আইয়ামে নহর বা কুরবানীর দিনে যারা মজুসী বা অগ্নী উপাসক তারা তাদের ধর্মীয় বিধান মুতাবিক হাঁস-মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করে থাকে। এখন যদি কোন মুসলমান তাদের সাথে মুশাবা বা সাদৃশ্য রেখে কোরবানীর দিন হাঁস-মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করে, তাহলে সেটা কুফরী হবে। কারণ আল্লাহ্ পাক উনার রসূল, হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,
من تشبه بقوم فهو منهم.
অর্থ: “যে, যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত।”
আর যদি কোনো মুসলমান সাধারণভাবে উক্ত সময়ে হাঁস-মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করে, তাহলে সেটা মাকরূহ্ তাহ্রীমী হবে, যেহেতু এটাও মোশাবাহ্ হয়ে যায়।
আর যদি কোনো মুসলমান খুব জরুরতে হাঁস-মুরগী ইত্যাদি যবেহ্ করে, তাহলে সেটাও মাকরূহ্ তান্যিহী হবে। আর এমন কোনো মুসলমান, যার উপর কুরবানী ওয়াজিব অথবা ওয়াজিব নয়, তারা যদি কুরবানীর দিন হাঁস, মুরগী ইত্যাদি খেতে চায়, তাহলে তারা যেন সুব্হে সাদিকের পূর্বেই সেটা যবেহ্ করে, কেটে, পাক করে রেখে দেয় অথবা শুধু যবেহ্ করে, কেটে রেখে দিবে পরে পাক করলেও চলবে।

সুওয়াল:    কুরবানীর পশু যবেহ করার পূর্বে চামড়া বিক্রি করা জায়িয আছে কি?

জাওয়াব: কুরবানীর পশু অথবা অন্য যে কোনো হালাল পশুই হোক, তা যবেহ করার পূর্বে চামড়া বিক্রি করা জায়িয নেই। এমনিভাবে বাঁটে দুধ থাকতে, ঝিনুকে মুক্তা থাকতে, মেষের পিঠে লোম থাকতে, সে দুধ, মুক্তা, লোম বিক্রি করা নাজায়িয।

সুওয়াল:  হালাল পশুর কোন কোন অংশ খাওয়া নিষিদ্ধ?

জাওয়াব: কুরবানী বা হালাল পশুর ৮টি জিনিস খাওয়া যাবে না। (১) দমে মাছফুহা বা প্রবাহিত রক্ত হারাম, (২) অন্ডকোষ, (৩) মুত্রনালী, (৪) পিত্ত, (৫) লিঙ্গ, (৬) গুহ্যদ্বার, (৭) গদুদ বা গুটলী মাকরূহ্ তাহ্রীমী, (৮) শিরদাড়ার ভিতরের মগজ, এটা কেউ মাকরূহ্ তাহ্রীমী, আবার কেউ মাকরূহ্ তান্যিহী বলেছেন।

সুওয়াল:   কুরবানীর কিছুদিন আগে নাকি হাত ও পায়ের নখ কাটা, মোছ ছাঁটা এবং মাথার চুল ইত্যাদি কাটা যায় না? কুরবানী করার পর কাটতে হয়! কথাটা কতটুকু সত্য? বিস্তারিত জানাবেন।

জাওয়াবঃ হ্যাঁ, যারা কুরবানী দেয়ার নিয়ত রাখেন, তাদের পক্ষে যিলহজ্জের চাঁদ ওঠার পর থেকে এই চাঁদের দশ তারিখ কুরবানী করা পর্যন্ত মাথার চুল, হাতের ও পায়ের নখ ইত্যাদি না কাটা মুস্তাহাব। যেমন হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে,
عن ام سلمة عليهاالسلام قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من راى هلال ذى الحجة و اراد ان يضحى فلا ياخذ من شعره ولا من اظفاره.
অর্থঃ- “হযরত উম্মে সালামা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখলো এবং কুরবানী করার নিয়ত করলো, সে যেন (কুরবানী না করা পর্যন্ত) তার শরীরের চুল, নখ ইত্যাদি না কাটে।” (মুসলিম শরীফ)
মূলত, ছহীহ্ ও গ্রহণযোগ্য মত হলো এই যে, যারা কুরবানী করবে এবং যারা কুরবানী করবে না, তাদের উভয়ের জন্যই উক্ত আমল মুস্তাহাব ও ফযীলতের কারণ। আর এ ব্যাপারে দলীল হলো এ হাদীছ শরীফ।
যেমন হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে,
عن عبد الله بن عمرو رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم امرت بيوم الاضحى عيدا جعله الله لـهذه الامة قال له رجل يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ارايت ان لم اجد الا منيحة انثى افاضحى بـها قال لا ولكن خذ من شعرك واظفارك وتقص شاربك وتحلق عانتك فذلك تمام اضحيتك عند الله.
অর্থঃ- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, মহান আল্লাহ্ পাক উনার রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “আমি কুরবানীর দিনকে ঈদের দিন হিসেবে নির্ধারণ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি। মহান আল্লাহ পাক তিনি উক্ত দিনটিকে এই উম্মতের জন্য ঈদ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এক ব্যক্তি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি যদি একটি মাদী মানীহা (উটনী) ব্যতীত অন্য কোন পশু কুরবানীর জন্য না পাই, তাহলে আপনি কি (আমাকে) অনুমতি দিবেন যে, আমি উক্ত মাদী মানীহাকেই কুরবানী করবো। জবাবে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, না। তুমি উক্ত পশুটিকে কুরবানী করবে না। বরং তুমি কুরবানীর দিনে তোমার (মাথার) চুল ও হাত-পায়ের নখ কাটবে। তোমার গোঁফ খাট করবে এবং তোমার নাভীর নিচের চুল কাটবে, এটাই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট তোমার পূর্ণ কুরবানী অর্থাৎ এর দ্বারা তুমি মহান আল্লাহ্ পাক উনার নিকট কুরবানীর পূর্ণ ছওয়াব পাবে।” (আবু দাউদ শরীফ)
উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ আছে যে, যারা কুরবানী করবে না, তাদের জন্যও যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানী করার আগ পর্যন্ত নিজ শরীরের চুল, নখ ইত্যাদি না কাটা মুস্তাহাব। আর যে ব্যক্তি তা কাটা থেকে বিরত থাকবে, সে একটি কুরবানীর ছওয়াব পাবে।

সুওয়াল:  বর্তমান সময়ে কোনো ব্যক্তি যদি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নামে ছাগল, বকরী, ভেড়া, দুম্বা ইত্যাদি কুরবানী দেয় অথবা গরু, মহিষ, উটের সাত নামের মধ্যে যদি এক নাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারকে দেয়, তবে উক্ত নামের গোশ্তের হুকুম কী? এটা কি সকলে খেতে পারবে? অথবা এ গোশ্ত অছিয়তকৃত গোশ্তের হুকুমের অন্তর্ভুুক্ত হবে কি-না?

জাওয়াব: হ্যাঁ, উক্ত কুরবানীকৃত গোশ্ত সকলে খেতে পারবে। আর এটা অছিয়তকৃত গোশ্তের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবে না। কেননা হাদীছ শরীফ-এ আছে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বিশেষভাবে কুরবানী করার জন্য যে নির্দেশ দিয়েছেন এটা উনার জন্যই খাছ।     বর্তমান সময়ে কোনো ব্যক্তি যদি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে কুরবানী দেয়, তবে এটা তার ফযীলত, তথা বারাকাত, ফুয়ুজাত, নিয়ামত, রহ্মত, মাগফিরাত, নাজাত সর্বোপরি মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি লাভ করা ও তার কুরবানী কবুল হওয়ার একটি উসীলা হবে।
কাজেই মহান আল্লাহ্ পাক উনার রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে যদি কেউ কুরবানী দেয়, তবে উক্ত কুরবানীকৃত গোশ্ত সকলেই খেতে পারবে।

সুওয়াল: কুরবানী করার সুন্নতী পদ্ধতি এবং নিয়ত জানালে খুশি হবো।

জাওয়াব: কুরবানীর পশুর মাথা দক্ষিণ দিকে এবং পা পশ্চিম দিকে রেখে অর্থাৎ ক্বিবলামুখী করে শোয়ায়ে পূর্ব দিক থেকে চেপে ধরতে হবে, তারপর কুরবানী করতে হবে। আর  কুরবানী করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে, সীনার উপরিভাগ এবং কণ্ঠনালীর মাঝামাঝি স্থানে যেন যবেহ করা হয়। আরো উল্লেখ্য যে, গলাতে চারটি রগ রয়েছে, তন্মধ্যে গলার সম্মুখভাগে দুটি- খাদ্যনালী ও শ্বাসনালী এবং দু’পার্শ্বে দুটি রক্তনালী। এ চারটির মধ্যে খাদ্যনালী, শ্বাসনালী এবং দুটি রক্তনালীর মধ্যে একটি অবশ্যই কাটতে হবে। অর্থাৎ চারটি রগ বা নালীর মধ্যে তিনটি অবশ্যই কাটতে হবে, অন্যথায় কুরবানী হবে না। যদি সম্ভব হয়, তবে ছুরি চালানোর সময় বেজোড় সংখ্যার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
কুরবানীর নিয়ত: (যবেহ করার পূর্বে)
انى وجهت وجهى للذى فطر السموت والارض حنيفا وما انا من المشركين ان صلاتى ونسكى ومحياى ومماتى لله رب العلمين لا شريك له وبذلك امرت وانا من المسلمين. اللهم منك ولك. উচ্চারণ: ইন্নী ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাজি ফাত্বারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বা হানিফাঁও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন। ইন্না ছলাতী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহ্ইয়া ইয়া ওয়া মামাতী লিল্লাহি রব্বিল আলামীন। লা শারীকালাহু ওয়া বি যালিকা উমিরতু ওয়া আনা মিনাল মুসলিমীন। আল্লাহুম্মা মিনকা ও লাকা। এ  দোয়া  পড়ে বিস্মিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে যবেহ করতে হবে।
যবেহ করার পর এ দোয়া পড়বে-
اللهم تقبله منى كما تقبلت من حبيبك سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وخليلك سيدنا حضرت ابراهيم عليه السلام
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা তাক্বাব্বালহু মিন্নী কামা তাক্বাব্বালতা মিন হাবীবিকা সাইয়্যিদিনা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও খলীলিকা হযরত ইবরাহীমা আলাইহিস সালাম।
যদি নিজের কুরবানী হয়, তবে মিন্নী বলতে হবে। আর যদি  অন্যের  কুরবানী হয়, তবে মিন শব্দের পর যার বা যাদের কুরবানী, তার বা তাদের নাম উল্লেখ করতে হবে। আর যদি অন্যের সাথে শরীক হয়, তাহলে মিন্নী ও বলবে, অতঃপর মিন বলে অন্যদের নাম বলতে হবে।
কেউ যদি উপরোক্ত নিয়ত না জানে, তাহলে জবেহ করার সময় শুধু বিস্মিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে কুরবানী করলেও শুদ্ধ হয়ে যাবে। কারণ নিয়ত অন্তরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তবে অবশ্যই প্রত্যেক যবেহকারীর উচিত উপরোক্ত নিয়ত শিক্ষা করা। কেননা উপরোক্ত নিয়ত পাঠ করে কুরবানী করা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত।

সুওয়াল:  যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়নি, এমন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি এক নামে কুরবানী দিয়ে গোশ্ত বণ্টন করে নিতে পারবে কিনা?

জাওয়াব: হ্যাঁ, যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়নি, এমন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কুরবানী দিয়ে গোশ্ত বণ্টন করে নিতে পারবে। তবে কুরবানীর পশু গরু, মহিষ ও উটে সাত নাম এবং দুম্বা, মেষ  বা ভেড়া, বকরী, খাসিতে এক নাম দেয়ার হুকুম রয়েছে।
গরু, মহিষ, উটে সাত নামের বেশি দিলে কুরবানী দুরস্ত হবেনা। আর সাত নামের কমে কুরবানী করলে দুরস্ত হবে। আর ছাগল, দুম্বা, ভেড়া এক নামের বেশি নামে কুরবানী করলে কারো কুরবানী দুরস্ত হবে না।
যেমন- যদি ৪০ জন ব্যক্তি ৫০০ টাকা করে ২০০০০ টাকা দিয়ে একটা গরু কিনে সাত নামে বা তার থেকে কম নামে কুরবানী করে গোশ্ত বণ্টন করে নেয়, তাতেও কুরবানী শুদ্ধ হবে।
তদ্রƒপ একটা খাসি তিনজনে মিলে টাকা দিয়ে খরীদ করে, যদি এক নামে কুরবানী করে গোশ্ত বণ্টন করে নেয়, তবে সে কুরবানীও শুদ্ধ হবে।
এখন প্রশ্ন হলো- যারা সম্মিলিতভাবে টাকা দিয়ে কুরবানী করতে চায়, তারা কার নামে কুরবানী করবে?
এর জাওয়াব হচ্ছে- এরূপ কুরবানীর ক্ষেত্রে প্রত্যেকেই যেহেতু নিজস্ব নামে কুরবানী করতে চাইবে, কুরবানীর ফযীলত হাছিলের জন্য। আর গরু, মহিষ ও উটে সাত নামের বেশি এবং ছাগল, ভেড়া ও দুম্বাতে এক নামের বেশি দেয়া যায় না। কার নাম দিবে বা কার নাম বাদ দিবে, এ নিয়ে ঝগড়া-ফ্যাসাদ ও মনোমালিন্যের সৃষ্টি হবে। এছাড়াও যদি কারো নামে দেয়া হয়, অন্য কেউ  প্রকাশ্যে আপত্তি না করে কিন্তু অন্তরে সম্মতি না থাকে তাহলে কুরবানী শুদ্ধ হবে না। কারণ একজনের টাকা দিয়ে অন্যজনের নামে কুরবানী করলে কুরবানী শুদ্ধ হবে না। টাকাওয়ালার সম্মতি ব্যতীত। এজন্য উত্তম ও আদব হচ্ছে- এক নাম দিলে মহান আল্লাহ্ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক দেয়া। এরপর অন্য কারো নাম দিলে যাদের মাধ্যমে কুরবানীর বিধান চালু হয়ে আসছে, যেমন- হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম, হযরত ইসমাইল আলাইহিস্ সালাম, হযরত হাজেরা আলাইহাস সালাম উনাদের নাম মুবারক-এ কুরবানী দেয়া উত্তম। আরো বেশি নামে কুরবানী দিলে হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের নাম মুবারক-এ কুরবানী করা যেতে পারে।

সুওয়াল: মৃত ব্যক্তির নামে কুরবানী করা জায়িয কিনা?
জাওয়াব: কুরবানী মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক-এ করতে হবে। যেমন- بسم الله الله اكبر
উচ্চারণ: “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার” বলে কুরবানী করতে হবে।
এখন যদি কেউ কোনো ব্যক্তির নামে, হোক সে জীবিত অথবা মৃত-এর নামে করে, যেমন- “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার” এর পরিবর্তে আব্দুর রহীম, আব্দুল করীম, বকর, যায়িদ, আমর ইত্যাদি নামে কুরবানী করে, তাহলে কুরবানী অশুদ্ধ হবে। উক্ত পশুর গোশ্ত খাওয়াও হারাম হবে ও সাথে সাথে কুফরী ও কবীরা গুনাহ হবে। মূলত, কুরবানী একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক-এই করতে হবে। তবে পশুতে সাত নাম ও এক নাম দেয়ার কথা যে উল্লেখ করা হয়েছে, তাহলো- সাতজন অথবা একজন (চাই তারা জীবিত হোক অথবা মৃত হোক)-এর তরফ থেকে বা পক্ষ থেকে আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক-এ কুরবানী করা।
এ মাসয়ালাটি না বুঝার কারণে অনেকে সরাসরি বলে থাকে, কুরবানীর পশুতে মৃত পূর্ব পুরুষদের নাম দেয়া যাবে না। নাউযুবিল্লাহ!

সুওয়াল: যে সকল মাদরাসার লিল্লাহ্  বোডিংয়ে যাকাত, ফিতরা ও কুরবানীর চামড়া তোলা হয়, সে লিল্লাহ বোডিংয়ে উক্ত মাদরাসার শিক্ষকগণ খেতে পারবে কিনা? এবং সে টাকা দ্বারা শিক্ষকদের বেতন দেয়া ও ছাত্রদের থাকা ও পড়ার জন্য মাদরাসা ঘর তৈরি করা জায়িয হবে কিনা? বিস্তারিত জানিয়ে উপকৃত করবেন।
জাওয়াব: যাকাত, ফিতরা, কুরবানীর চামড়া বা তার মূল্য ইত্যাদি গরিব, মিস্কীন ও ইয়াতীমদের হক্ব অর্থাৎ ওয়াজিব ছদ্কা (আদায় হওয়ার জন্য) গরিব, মিস্কীন ও ইয়াতীমদেরকে তার (ছদ্কার) মালিক করে দেয়া শর্ত। তাই যে সকল মাদাসায় লিল্লাহ বোডিং অর্থাৎ গরিব, মিস্কীন ও ইয়াতীম ছাত্র রয়েছে, সে সকল মাদরাসায় যাকাত, ফিতরা ও কুরবানীর চামড়া বা তার মূল্য দেয়া যেরূপ জায়িয, তদ্রƒপ মাদরাসা কর্তৃপক্ষের জন্য তা লিল্লাহ্ বোডিংয়ে গ্রহণ করাও জায়িয।
উল্লেখ্য, উক্ত ছদ্কার টাকা দিয়ে শুধুমাত্র ছাত্রদেরকে খাওয়ালেই চলবে না; বরং ছাত্রদেরকে তা’লীম দেয়ার জন্য ওস্তাদ বা শিক্ষকের প্রয়োজন রয়েছে ও ছাত্রদের থাকার জন্য ঘরের দরকার রয়েছে, আর তার জন্যে টাকা-পয়সারও জরুরত রয়েছে। তাই সম্মানিত ফক্বীহ্গণ এরূপ ছদ্কার ব্যাপারে একটি সুন্দর সমাধান বা ফায়সালা দান করেছেন। অর্থাৎ উনারা বলেছেন, “ছদ্কার টাকা হিলা করা হলে, তা দ্বারা ওস্তাদদের বেতন দেয়া, খাওয়ার ব্যবস্থা করা ও মাদরাসার জন্য ঘর তৈরি করা সবই জায়িয।”
আর হিলার পদ্ধতি হলো- মাদরাসা কর্তৃপক্ষ কোনো গরিব, মিস্কীন বা ইয়াতীমকে উক্ত ছদ্কার টাকাগুলোর মালিক করে দিবে। অতঃপর উক্ত গরিব, মিস্কীন ও ইয়াতীম সে টাকাগুলো মাদরাসায় দান করে দিবে।
অতএব, শুধুমাত্র উক্ত ছূরতেই ছদ্কার টাকা দিয়ে ওস্তাদদের বেতন দেয়া, খাওয়ার ব্যবস্থা করা ও মাদরাসার জন্য ঘর তৈরি করা জায়িয ও শরীয়তসম্মত।

সুওয়াল : অনেকে বলে থাকে, সন্তানের নামে যে পশু আক্বীকা দেয়া হয়, তার গোশ্ত পিতা-মাতা খেতে পারবে না, এটা শরীয়তসম্মত কী-না? জানালে খুশি হবো।
জাওয়াব: যারা বলে, সন্তানের নামে যে পশু আক্বীকা দেয়া হয় তার গোশ্ত পিতা-মাতা খেতে পারবে না তাদের সে কথা শরীয়তসম্মত নয়। শরীয়তের মাসয়ালা হলো, আক্বীকার পশুর গোশতের হুকুম কুরবানীর পশুর গোশতের হুকুমের মতো। কাজেই, সন্তানের নামে যে পশু আক্বীকা দেয়া হবে তার গোশত পিতা-মাতাসহ সকলেই খেতে পারবে। এটাই শরীয়তসম্মত মাসয়ালা বা ফতওয়া।

সুওয়াল : যে ব্যক্তির উপর কুরবানী ওয়াজিব, সে তার নিজের নামে কুরবানী না দিয়ে মৃত বা জীবিত পিতা-মাতার নামে কুরবানী দিলে তার নিজের কুরবানী আদায় হবে কিনা?
জাওয়াব: আমাদের হানাফী মাযহাব মতে মালিকে নিছাব প্রত্যেকের উপর আলাদাভাবে কুরবানী করা ওয়াজিব। যার উপর কুরবানী ওয়াজিব তার পক্ষ থেকেই কুরবানী করতে হবে। যার উপর কুরবানী ওয়াজিব সে তার নামে কুরবানী না করে মৃত বা জীবিত অপরের নামে কুরবানী করলে ওয়াজিব তরকের কারণে সে কঠিন গুনাহে গুনাহগার হবে। যদিও বাবা মা-এর নামে কুরবানী করে; যাদের প্রতি কুরবানী ওয়াজিব নয়।

সুওয়াল :  কুরবানীর পশুর চামড়া বিক্রি করে সে টাকা মসজিদ কিংবা ঈদগাহের ইমামকে দেয়া জায়িয হবে কিনা?

জাওয়াব: মসজিদ ও ঈদগাহে ইমামতি করা বাবদ উক্ত টাকা ইমাম ছাহেবকে দেয়া জায়িয হবে না। অবশ্য ইমাম ছাহেব যদি ফিতরা ও কুরবানীর ছাহিবে নিছাব না হন, তাহলে দান হিসেবে উক্ত টাকা নিতে পারেন। কিন্তু ছাহিবে নিছাব হলে, তা নিতে পারবেন না। আর চামড়া বিক্রয় না করে পুরো চামড়াটিই যদি ইমাম সাহেবকে হাদিয়া হিসেবে দেয়া হয়, তবে ইমাম ধনী হলেও তা নিতে পারবেন। তবে চামড়া বিক্রি করলে তার মূল্য গরিব-মিসকীনদেরকে দিয়ে দিতে হবে।

সুওয়াল :  যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় তাদেরকে দেখা যায় যে, তারা ঈদ বা কুরবানীর দিনে কিছু লোক মিলে গরু বা ছাগল ইত্যাদি কিনে যবেহ করে গোশ্ত বণ্টন করে উক্ত দিনে খেয়ে থাকে, আবার কেউ কেউ হাটবাজার থেকে গোশ্ত কিনে উক্ত দিনে খেয়ে থাকে। এ সকল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কুরবানীর ছওয়াব লাভের কোনো উপায় আছে কি?
জাওয়াব: হ্যাঁ, যে সকল লোক এককভাবে কুরবানী দিতে অক্ষম বা যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় অথচ তারা কুরবানীর দিনে কিছু লোক মিলে গরু, ছাগল ইত্যাদি কিনে গোশ্ত বণ্টন করে অথবা হাটবাজার থেকে গোশ্ত কিনে খেয়ে থাকে এ সকল লোকেরা যদি ইচ্ছে করে তবে তারাও কুরবানীর ফযীলত ও ছওয়াব লাভ করতে পারে।      উল্লেখ্য, যারা কুরবানী দেয় না, তাদের অনেকেই সাধারণভাবে হাঁস-মুরগি ইত্যাদি রান্না করে থকে। আবার যারা কুরবানী দেয়, তাদের অনেকেও হাঁস-মুরগি ইত্যাদি যবেহ ও রান্না করে থাকে। সেক্ষেত্রে সকলেরই মনে রাখা উচিত যে, মুসলমানদের আইইয়ামে নহর বা কুরবানীর দিনে যারা মজূসী বা অগ্নি উপাসক তারা তাদের ধর্মীয় বিধান মুতাবিক হাঁস, মোরগ ইত্যাদি যবেহ করে থাকে। এখন যদি কোনো মুসলমান তাদের সাথে মুশাবা বা সাদৃশ্য রেখে কুরবানীর দিন হাঁস, মোরগ ইত্যাদি যবেহ করে, তাহলে সেটা কুফরী হবে। কারণ মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব  হুযূর  পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন-“যে ব্যক্তি, যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।” (আবূ দাউদ শরীফ)
আর যদি কোনো মুসলমান সাধারণভাবে উক্ত সময়ে হাঁস, মোরগ ইত্যাদি যবেহ করে, তাহলে সেটা মাকরূহ তাহরীমী হবে, যেহেতু এটাও মোশাবাহ হয়ে যায়।
আর যদি কোনো মুসলমান খুব জরুরতে হাঁস, মোরগ ইত্যাদি যবেহ করে, তাহলে সেটাও মাকরূহ তানযীহী হবে। আর এমন কোনো মুসলমান, যার উপর কুরবানী ওয়াজিব অথবা ওয়াজিব নয়, তারা যদি কুরবানীর দিন হাঁস, মুরগি ইত্যাদি খেতে চায়, তাহলে তারা যেনো ছুবহে ছাদিকের পূর্বেই সেটা যবেহ করে কেটে পাক করে রেখে দেয় অথবা শুধু যবেহ করে কেটে রেখে দিবে, পরে পাক করলেও চলবে। অপরদিকে যারা কুরবানী দেয় না, তাদের অনেকে বাজার থেকে গরু, মহিষ ইত্যাদির গোশ্ত ক্রয় করে থাকে।
অতএব, এ সকল ব্যক্তিদের করণীয় হচ্ছে- তারা হাটবাজার থেকে গোশ্ত না কিনে বরং কিছু লোক মিলে গরু বা ছাগল ইত্যাদি কিনে এক বা একাধিক নামে কুরবানী করা। কুরবানীর পশু গরু, মহিষ ও উটে সাত নাম এবং দুম্বা, মেষ  বা ভেড়া, বকরী, খাসিতে এক নাম দেয়ার হুকুম রয়েছে।      গরু, মহিষ, উটে সাত নামের বেশি দিলে কুরবানী দুরুস্ত হবে না। আর সাত নামের কমে কুরবানী করলে দুরুস্ত হবে। আর ছাগল, দুম্বা, ভেড়া এক নামের বেশী নামে কুরবানী করলে কারো কুরবানী দুরুস্ত হবে না।  যেমন- যদি ৪০ জন ব্যক্তি ৫০০ টাকা করে ২০,০০০ টাকা দিয়ে একটা গরু কিনে সাত নামে বা তার থেকে কম নামে কুরবানী করে গোশ্ত বণ্টন করে নেয়, তাতেও কুরবানী শুদ্ধ হবে।  তদ্রƒপ একটা খাসি তিনজনে মিলে পয়সা দিয়ে খরীদ করে, যদি এক নামে কুরবানী করে গোশ্ত বণ্টন করে নেয়, তবে সে কুরবানী শুদ্ধ হবে।      তবে স্মরণীয় যে, যারা শরীক হয়ে এ ধরনের কুরবানী দিবে তারা প্রত্যেকে চাইবে যে, নিজেদের নামে কুরবানী দিতে তখন অবশ্যই ফিতনা ও সমস্যার সৃষ্টি হবে। সেজন্য নাম দেয়ার ক্ষেত্রে আফযল ও উত্তম তরীক্বা হচ্ছে এই যে, যদি ছাগল কিংবা গরু এক নামে কুরবানী করা হয়, তাহলে তা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নামে কুরবানী করে সকল শরীক সমানভাবে গোশ্ত বণ্টন করে নিবে। এতে যেমন তাদের কুরবানী নিশ্চিতরূপে মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে কবুল ও মঞ্জুর হবে, সাথে সাথে তা তাদের জন্য ফযীলত, বারাকাত, ফুয়ুজাত, নিয়ামত, রহ্মত, মাগফিরাত, নাজাত সর্বোপরি মহান আল্লাহ্ পাক ও উনার রসূল, হুযূর  পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাদের খাছ সন্তুষ্টি লাভ করার উসীলাও হবে।      জানা আবশ্যক যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর  পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সকল উম্মতের তরফ থেকে কুরবানী করেছেন। সুতরাং উম্মতেরও দায়িত্ব ও কর্তব্য যে, সামর্থ্য থাকলে উনার পক্ষ হতে কুরবানী দেয়া। মূলত, এ ব্যাপারে হাবীবুল্লাহ হুযূর  পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশবাণীও পাওয়া যায়।
যেমন- হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর  পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে খাছভাবে এ নির্দেশ দিয়ে যান যে, তিনি যেনো প্রতি বছর উনার নাম মুবারকে কুরবানী দেন।      উল্লেখ্য, এ সকল শরীকী কুরবানীর ক্ষেত্রে যে সকল প্রাণীতে শুধু এক নামে কুরবানী করা যায়, তাতে অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব  হুযূর  পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারকে কুরবানী দেয়া উচিত এবং  তা উত্তম ও ফযীলতের কারণ বটে। কিন্তু যে সকল প্রাণীতে সাত নামে কুরবানী দেয়ার বিধান রয়েছে, তাতে প্রথমতঃ এক নাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর  পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারকে এবং বাকী ছয় নামের মধ্যে পর্যায়ক্রমে হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম, হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম, হযরত হাজেরা আলাইহাস সালাম, হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের নাম মুবারক থেকে ইচ্ছে মুতাবিক কুরবানী দিতে পারে। তাহলে এতে কোনো ফিতনা পয়দা হবে না। সাথে সাথে কুরবানীর দিন মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হচ্ছে- কুরবানী করা, তাও আদায় হলো। আর কুরবানীর বরকতময় গোশতও লাভ হলো। সাথে সাথে গুনাহর কাজ থেকেও বেঁচে গেলো।

সুওয়াল :  কুরবানীর পশুর দুধ, গোবর ও রশি দ্বারা ফায়দা  লাভ করা জায়িয আছে কি?
জাওয়াব: সাধারণতঃ কুরবানীর পশুর দ্বারা কোনো প্রকারের ফায়দা লাভ করা জায়িয নেই। যেমন- (১) কুরবানীর পশুর উপর আরোহণ করে চলাচল করা,  (২) কুরবানীর পশুর পশম কেটে বিক্রয় করা, (৩) কুরবানীর পশু হাল চাষের কাজে ব্যবহার করা, (৪) কুরবানীর পশু দ্বারা বোঝা বহন করানো, (৫) কুরবানীর পশুর দুধ পান করা,  (৬) কুরবানীর পশুর গোবর দ্বারা ফায়দা লাভ করা,  (৭) কুরবানীর পশুর রশি, নাক বন্ধ, পায়ের খুরাবৃত, গলার আবরণ, জিনপোষ, লাগাম ইত্যাদি দ্বারা ফায়দা লাভ করা।     উল্লেখ্য, (১) কুরবানীর পশুর উপর আরোহণ করে চলাচল করা জায়িয নেই, তবে যদি কুরবানীর পশুর পানীয় ও ঘাসের বন্দোবস্ত করানোর জন্য আরোহণ করে কোথাও যায়, তাতে কোন ক্ষতি নেই। অথবা পালিত পশু যদি হয়, যার উপর মালিক পূর্ব থেকেই আরোহণ করতো এখন মালিক তা কুরবানী দেয়ার নিয়ত করেছে, তাতে আরোহণ করলেও ক্ষতি হবে না। তবে কুরবানীর দিন উপস্থিত হলে কুরবানী করে দিতে হবে, আরোহণ করার জন্য রাখা যাবে না। (২) কুরবানীর পশুর পশম কেটে বিক্রয় করা জায়িয নেই। যদি কেউ বিক্রি করে, তবে তার মূল্য ছদ্কা করে দিতে হবে। তা কুরবানীর পূর্বে হোক বা কুরবানীর পরে হোক। আর কুরবানীর পর কুরবানীর পশুর পশম থেকে ফায়দা হাছিল করতে পারবে অর্থাৎ নিজ কাজে ব্যবহার করতে পারবে অথবা কাউকে হাদিয়াও দিতে পারবে। যেমন পশমী কম্বল ও চাদর ইত্যাদি। (৩) কুরবানীর পশুকে হালের কাজে ব্যবহার করা জায়িয নেই। হ্যাঁ, যদি কেউ হালের গরুকে কুরবানী দেয়ার নিয়ত করে যে, আমি হালের এই গরুটি আগামী ঈদের দিনে কুরবানী করবো, তাহলে কুরবানীর দিনের পূর্ব পর্যন্ত হালের কাজে ব্যবহার করতে পারবে। কুরবানীর দিন উপস্থিত হলে, হালের কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আর রাখা যাবে না। (৪) কুরবানীর পশুর দ্বারা বোঝা বহন করা জায়িয নেই। তবে উক্ত পশু পালিত হলে বোঝা বহন করাতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে কুরবানীর দিন উপস্থিত হলে তখন আর বোঝা বহনের জন্য রাখা যাবে না। কুরবানী করে দিতে হবে। (৫) কুরবানীর পশুর দুধ পান করা বা বিক্রি করা জায়িয নেই। যদি কেউ পান করে বা বিক্রয় করে তবে তার মূল্য ছদকা করে দিতে হবে। কিন্তু যদি উক্ত প্রাণীর দুধ মালিক পূর্ব থেকেই পান করে বা বিক্রয় করে আসছে অর্থাৎ পালিত পশু যদি হয়, তাহলে দুধ পান করতে বা বিক্রয় করতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে কুরবানীর দিন উপস্থিত হলে তা কুরবানী করে দিতে হবে। (৬) কুরবানীর পশুর গোবরের হুকুমও দুধের অনুরূপ।     স্মরণীয় যে, কুরবানীর পশু যদি আইইয়ামে নহরের মধ্যে কিনে এনে সাথে সাথে কুরবানী করে, তাহলে তা থেকে কোনো প্রকার ফায়দা হাছিল করা জায়িয নেই। যদি কুরবানী পশুর দুধ, গোশত, পশম ইত্যাদি দ্বারা ফায়দা হাছিল করে, তাহলে তার মূল্য ছদ্কা করে দিতে হবে। তবে যদি আইয়্যামে নহরের দু’চারদিন আগে কিনে এনে পশুকে খাওয়ায় বা পান করায়, তাহলে তার দ্বারা ফায়দা হাছিল করতে পারবে যেমন- উক্ত পশু দুধ দিলে তাও পান করতে পারবে খাদ্যের বিনিময়ে। (৭) কুরবানীর পশুর রশি, নাক বন্ধ, পায়ের খুরাবৃত, গলার আবরণ, জিনপোষ, লাগাম ইত্যাদি দ্বারা কোনো প্রকার ফায়দা হাছিল করা জায়িয নেই। যদি এ সমস্ত দ্রব্য দ্বারা কোনো প্রকার ফায়দা হাছিল করে, তবে তার মূল্য ছদকা করে দিতে হবে।
সুওয়াল : কুরবানীর পশুর চামড়া বিক্রয় করে নিজের বা পরিজনের জন্য খরচ করা যাবে কি?
জাওয়াব: কেউ যদি পশু কুরবানী দিয়ে নিজেই তার চামড়া বিক্রি করে, তবে উক্ত চামড়ার মূল্য ছদকা করে দেয়া তার জন্য ওয়াজিব।
উক্ত চামড়ার টাকা নিজের বা পরিবারের কাজে ব্যয় করা মাকরূহ তাহ্রীমী এবং এতে কুরবানী কবুল  না হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

সুওয়াল : মুসাফিরের উপর কি কুরবানী করা ওয়াজিব?
জাওয়াব: কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে- (১) মুসলমান হওয়া, (২) স্বাধীন হওয়া, (৩) মুক্বীম হওয়া, (৪) বালেগ হওয়া, (৫) মালিকে নেছাব হওয়া। কাজেই মুসাফিরের উপর কুরবানী করা ওয়াজিব নয়, যদিও সে মালিকে নেছাব হোক না কেন। কিন্তু যদি সে কুরবানী করে, তবে আদায় হয়ে যাবে।

সুওয়াল :  হারাম মাল কামাই করে ধনী হয়েছে- এমন ব্যক্তির উপর হজ্জ ফরয হবে কি? কুরবানী ওয়াজিব হবে কি?
জাওয়াব: না, হজ্জ ফরয হবে না। কুরবানী ওয়াজিব হবে না। কেননা হজ্জ ফরয হওয়ার ও কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য ছাহিবে নিসাব হওয়া শর্ত। এখন যেহেতু হারাম উপায়ে অর্জিত মাল তার নিজস্ব নয়, তাই তার উপর হজ্জ ফরয হবে না, কুরবানী ওয়াজিব হবে না।
বরং তার প্রধান ফরয হলো- যাদের থেকে হারাম উপায়ে মালগুলো নেয়া হয়েছে, তাদের এ সকল মাল ফেরত দেয়া।

সুওয়াল :  কোনো কোনো গ্রামে-গঞ্জে বা মহল্লায় দেখা যায়, সেখানে যত পশু কুরবানী করা হয় প্রত্যেক কুরবানীদাতার কুরবানীকৃত পশুর এক তৃতীয়াংশ গোশত এক স্থানে জমা করে উক্ত এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ জমাকৃত গোশতগুলিকে এলাকার গরিব মিসকীন ও ধনী অর্থাৎ যারা কুরবানী করেছে আর যারা কুরবানী করেনি তাদের প্রত্যেককেই সমহারে বণ্টন করে দেয়।     প্রশ্ন হলো, এই বণ্টনের কারণে গরিব মিসকীনের হক কি নষ্ট হয় না? যদি নষ্ট হয় তবে এর জন্য কে জবাবদিহি করবে বা কে দায়ী থাকবে?
জাওয়াব: কুরবানীকৃত পশুর গোশত কুরবানীদাতার জন্য আত্মীয় স্বজনকে হাদিয়াস্বরূপ দেয়া বা গরিব মিসকীনকে দান করা ফরয, ওয়াজিব বা সুন্নতে মুয়াক্কাদা কোনটাই নয়। এ প্রসঙ্গে কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে- “কুরবানীর গোশত বণ্টন করার মুস্তাহাব নিয়ম হচ্ছে- এক তৃতীয়াংশ নিজের জন্য রাখবে, এক তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশীর জন্য হাদিয়াস্বরূপ দিবে আর এক তৃতীয়াংশ গরিব-মিসকীনের জন্য দানস্বরূপ দিবে। আর যদি কুরবানীকৃত পশুটি ওছিয়তকৃত হয়ে থাকে তাহলে সম্পূর্ণটাই গরিব-মিসকীনকে দান করে দিতে হবে।” অর্থাৎ কুরবানীদাতার জন্য কুরবানীকৃত পশুর গোশ্ত কাউকেও দেয়া বা না দেয়া তার ইখতিয়ারের অন্তর্ভুক্ত। সে ইচ্ছা করলে সম্পূর্ণটাই দান করে দিতে পারে, আবার ইচ্ছা করলে সম্পূর্ণটাই রেখে খেতে পারে। এতে কুরবানীর কোনো ত্রুটি হবে না।
তবে একটা বিষয় অবশ্যই লক্ষ্যণীয় তা হলো- কুরবানীদাতা যদি এমন কোনো পশু “কুরবানী করে থাকে যার গোশ্ত- ১০/১২ কেজি বা তার চেয়ে কম হয় অথবা শরীকে কুরবানী দিয়েছে, সেখান থেকে সে ১০/১২ কেজি গোশ্ত বা তার চেয়ে কম পেয়েছে। অথচ তার বাড়ীতে স্ত্রী-পুত্র, সন্তান-সন্ততি ইত্যাদি মিলে তার অধীনে প্রায় ২০/২৫ জন রয়েছে। যাদের ভরণ-পোষণ করার দায়িত্ব তার। তখন সে কুরবানীদাতার জন্য ফরয হবে তার অধীনস্থ লোকদেরকে ঈদের দিনে খাওয়ার ব্যবস্থা করা। এখন যদি কুরবানীদাতা যে গোশ্ত পেয়েছে তার এক তৃতীয়াংশ রেখে বাকী সব বণ্টন করে দেয় তাহলে দেখা যাবে তার ঘরে মাত্র প্রায় চার কেজি বা তা চেয়ে কম গোশ্ত থাকবে। যা দিয়ে সে তার অধীনস্থ লোকদেরকে ঈদের তিন দিনের প্রথম দিনই তৃপ্তিসহকারে খাওয়াতে পারবে না। এখন তার জন্য উত্তম হবে এবং ফযীলতের কারণ হবে গোশত বণ্টন করে না দিয়ে সবটাই রেখে অধীনস্থ লোকদের তৃপ্তিসহকারে খাওয়ানো।
হ্যাঁ, এরপরও কথা থেকে যায় সেটা হলো- যদি কুরবানীদাতা ও তার অধীনস্থ সকলেই আল্লাহ্ পাক-উনার সন্তুষ্টির জন্যে এক তৃতীয়াংশ রেখে বাকী গোশ্ত অথবা সম্পূর্ণ গোশ্ত মহান আল্লাহ্ পাক-উনার রাস্তায় দান করে দেয় তাহলে অবশ্যই সেটা আরো উত্তম, আরো ফযীলতের কারণ।     উল্লেখ্য, ফরয, ওয়াজিব, সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ্ ও মুস্তাহাব সুন্নত, তরতীব মতো আমল করাই সবচাইতে ফযীলতপূর্ণ ও মর্যাদার কারণ।      কুরবানীদাতা যদি এমন হয় যার স্ত্রী, পুত্র, সন্তান-সন্ততি ইত্যাদি যাদের ভরণ-পোষণ তার যিম্মাদারিতে রয়েছে তাদের সংখ্যা ৮/১০ জন। আর কুরবানীদাতা একাই দুই তিনটা গরু কুরবানী করল যা থেকে সে গোশ্ত পেল প্রায় ৮/১০ মণ বা তার চেয়ে বেশি। এখন এ থেকে এক তৃতীয়াংশ গোশ্ত রাখলেও তার অধীনস্থ লোকদের পক্ষে অনেকদিন ধরে খেয়েও শেষ করা সম্ভব হবে না। তাই এ কুরবানীদাতা যদি দুই তৃতীয়াংশের পরিবর্তে নয় দশমাংশ অর্থাৎ দশ ভাগের নয়ভাগই দান করে দেয় তাতেও কোনো অসুবিধা নেই।
উল্লেখ্য, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ যদি প্রকৃতপক্ষেই গরিব-মিসকিনদের উপকার করতে চায় তাহলে তাদের উচিত হবে এলাকার ঐ সমস্ত কুরবানীদাতাদের নিকট থেকে এক তৃতীয়াংশ গোশত সংগ্রহ করা, যারা এক তৃতীয়াংশ গোশত দেয়ার পরও তাদের পরিবার বা অধীনস্থদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ গোশত থেকে যায়, অথবা যারা স্বেচ্ছায় দান করে। যাদের নিকট পর্যাপ্ত পরিমাণে গোশত নেই অর্থাৎ যারা এক তৃতীয়াংশ গোশ্ত দিয়ে দিলে তারা তাদের পরিবারবর্গ বা অধীনস্থদেরকেই ঈদের দিন তৃপ্তিসহকারে খাওয়াতে পারবে না এমন ব্যক্তির নিকট থেকে জবরদস্তি করে গোশত সংগ্রহ করলে ছওয়াবের পরিবর্তে গুনাহই হবে।      আর বণ্টনের ক্ষেত্রে ঐ সমস্ত লোকদেরকে গোশ্ত দিতে হবে যারা কুরবানী দেয়নি অথবা যদি কুরবানী দিয়েও থাকে তথাপিও তারা চাহিদা মুতাবিক গোশত পায়নি। কুরবানী দেয়ার কারণে যাদের নিকট পর্যাপ্ত পরিমাণে গোশত রয়েছে তাদেরকে মিসকীনের অংশ থেকে গোশত দেয়া কখনই নেকীর কাজ হবে না।      আরো উল্লেখ্য, এলাকাবাসী যদি গরিব-মিসকীনকে বণ্টন করে দেয়ার জন্যই এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে গোশত দিয়ে থাকে। তাহলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হবে- শুধুমাত্র গরিব-মিসকিনদের মধ্যেই উক্ত গোশ্ত বণ্টন করে দেয়া। এলাকার গণ্যমান্য  ব্যক্তিগণ যদি বিপরীত কাজ করে তাহলে তারাই গরিব-মিসকীনের হক নষ্টকারী হিসেবে সাব্যস্ত হবে এবং এর জন্য তাদেরকেই জবাবদিহি করতে হবে। আর তারাই দায়ী থাকবে।

সুওয়াল : বন্য গরু বা মহিষের দ্বারা কুরবানী দেয়া জায়িয আছে কিনা?
জাওয়াব : বন্য পশু গরু হোক, মহিষ হোক তা দ্বারা কুরবানী করলে কুরবানী আদায় বা জায়িয হবেনা। কারণ কুরবানীর জন্য গৃহপালিত পশু হওয়া শর্ত।
যেমন এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কুরবানী নির্ধারিত করেছিলাম, যেনো তারা ঐ নির্দ্দিষ্ট গৃহপালিত পশুগুলির উপর (যবেহ করার সময়) আল্লাহ পাক-উনার নাম মুবারক উচ্চারণ করে যা তিনি তাদেরকে রিযিক হিসেবে দান করেছেন।” (সূরা হজ্জ: আয়াত শরীফ ৩৪)
উল্লেখ্য, পশুর নছব বা পরিচিতি হলো- মায়ের দ্বারা। অর্থাৎ পশু গৃহপালিত বা জংলী তা চেনার জন্য সহজ পন্থা হলো- যে পশুর মা গৃহপালিত হবে, সে পশুটি গৃহপালিত বলে গণ্য হবে। আর যে পশুর মা জংলী হবে, সে পশুটি জংলী বলে গণ্য হবে।
গৃহপালিত ছাড়া অন্যান্য পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়িয হবে না। তা হরিণ হোক অথবা বন্য গরু, ছাগল, বকরী, ভেরা ইত্যাদি যাই হোক না কেন।

সুওয়াল : পবিত্র কুরবানী করার কোনো পশু খরীদ করে হারিয়ে গেলে?

জাওয়াব : ধনী ব্যক্তি যদি পবিত্র কুরবানী করার জন্য কোনো পশু খরীদ করে আর তা হারিয়ে যায়, অতঃপর পবিত্র কুরবানী করার জন্য আর একটি খরীদ করে আর দ্বিতীয় পশুটি খরীদ করার পর যদি প্রথম পশুটি, যা হারিয়ে গিয়েছিল তা পাওয়া যায়, তবে ধনী ব্যক্তির জন্য দুটি পশুর যেকোনো একটি পশু কুরবানী করা জায়িয রয়েছে। কারণ শরীয়ত তার উপর আলাদাভাবে একটি পশুই কুরবানী করা ওয়াজিব করেছে। তবে শর্ত হচ্ছে- প্রথম পশুটি যে মূল্যে খরীদ করা হয়েছে দ্বিতীয় পশুটি তার চেয়ে বেশি অথবা তার সমপরিমাণ মূল্যে খরীদ করতে হবে। যদি কম মূল্যে খরীদ করে এবং দ্বিতীয় পশুটি পবিত্র কুরবানী করে, তাহলে দ্বিতীয় পশুটি প্রথম পশু হতে যে পরিমাণ কম মূল্যে খরীদ করেছে, সে পরিমাণ মূল্য সদ্কা করে দিতে হবে।

আর যদি কোনো গরিব ব্যক্তি, যার উপর পবিত্র কুরবানী করা ওয়াজিব নয়, সে যদি কোনো পশু পবিত্র কুরবানী করার জন্য খরীদ করে, আর যদি তা হারিয়ে যায়। এরপর যদি আবার সে আরো একটি পশু খরীদ করে কুরবানী করার জন্য, অতঃপর প্রথম কেনা পশু যা হারিয়ে গিয়েছিল, তা যদি পাওয়া যায়, তাহলে সে উভয়টি পবিত্র কুরবানী করবে- যদি উভয়টি আইয়ামে নহরের মধ্যে খরীদ করা হয়ে থাকে। কারণ শরীয়ত তার উপর পবিত্র কুরবানী করা ওয়াজিব করেনি, বরং সে নিজেই প্রত্যেকটি পশু আলাদাভাবে আইয়ামে নহরের মধ্যে খরীদ করে নিজের উপর কুরবানী করা ওয়াজিব করে নিয়েছে। কেননা গরিব ব্যক্তি আইয়ামে নহরের মধ্যে একটি পশু খরীদ করে নিজের উপর পবিত্র কুরবানী ওয়াজিব করার পর সেটা যদি হারিয়ে যায়, তাহলে তার জন্য দ্বিতীয় কোনো পশু খরীদ করে পবিত্র কুরবানী করা ওয়াজিব নয়। আর হারানো পশুটি যদি আইয়ামে নহরের পরে পাওয়া যায়, তাহলে সেটা সদ্কা করে দেয়া ওয়াজিব।

আর প্রথম পশু যা হারিয়ে গিয়েছিল সেটা যদি আইয়ামে নহরের পূর্বে খরীদ করা হয়ে থাকে এবং পবিত্র কুরবানী করার জন্য অন্য একটি পশু আইয়ামে নহরের মধ্যে খরীদ করা হয়, অতঃপর হারানো পশুটি পাওয়া যায়, যা আইয়ামে নহরের পূর্বে খরীদ করা হয়েছিল, তখন শুধু তাকে দ্বিতীয় পশুটি যা আইয়ামে নহরের মধ্যে খরীদ করেছে, সেটাই পবিত্র কুরবানী করা ওয়াজিব। অর্থাৎ গরিব ব্যক্তি আইয়ামে নহরের পূর্বে যতটি পশুই খরীদ করুক না কেন সেটা তার জন্য নির্দিষ্টভাবে কুরবানী করা ওয়াজিব হয় না; বরং আইয়ামে নহরের মধ্যে পবিত্র কুরবানী করার জন্য যতটি পশুই খরীদ করবে, প্রত্যেকটিই তার জন্য পবিত্র কুরবানী করা ওয়াজিব হবে।

আর যদি ধনী হয়, সে পশু খরীদ করার পর সেটা যদি হারিয়ে যায়, আবার খরীদ করে, আবার হারিয়ে যায়, এভাবে ধনী ব্যক্তি যদি একশতটি পশুও খরীদ করে আর সেগুলি হারিয়ে যায় এরপরও যদি সে ধনী থাকে, তাহলে তার জন্য আরো একটি পশু খরীদ করে পবিত্র কুরবানী করা ওয়াজিব। কারণ তার উপর আলাদাভাবে একটি পশু পবিত্র কুরবানী করা ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত।

 

সুওয়াল : ধর্মব্যবসায়ীদের মাদ্রাসাতে তথা সন্ত্রাসী তৈরিকারী মাদ্রাসাগুলোতে কুরবানীর চামড়া দেয়া জায়িয হবে কি?
জাওয়াব : ধর্মব্যবসায়ীদের মাদ্রাসাতে তথা সন্ত্রাসী তৈরিকারী মাদ্রাসাগুলোতে কুরবানীর চামড়া দেয়া জায়িয হবে না। কুরবানীর চামড়া দেয়ার উত্তম স্থান হলো ‘মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ’।
কুরবানী প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন- “আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামায আদায় করুন এবং কুরবানী করুন।” (সূরা কাওছার : আয়াত শরীফ ২)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ করেন- “প্রত্যেক উম্মতের জন্য আমি যবেহ্র বিধান দিয়েছিলাম যা তারা অনুসরণ করে। সুতরাং আপনার সাথে এ ব্যাপারে বিতর্কে প্রবৃত্ত হওয়া তাদের উচিত নয়।” (সূরা হজ্জ : আয়াত শরীফ ৬৭)
কুরবানী একটি ঐতিহ্যবাহী শরয়ী বিধান ও ইসলামী কাজ। যা উম্মতে হাবীবী ছল্ল্াল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জন্য ওয়াজিব। কাজেই কুরবানী দেয়ার সাথে সাথে কুরবানীর চামড়া সঠিক স্থানে দেয়াও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
উল্লেখ্য, কুরআন শরীফে সবস্থানে মহান আল্লাহ পাক তিনি আগে ‘ঈমান’ আনার কথা বলেছেন পরে ‘আমলের’ কথা বলেছেন।
এক খোদা তায়ালা উনাকে প্রায় সবাই মানে কিন্তু হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে না মানার কারণেই অর্থাৎ আক্বীদার পার্থক্যের কারণেই পৃথিবীতে মুসলমান ব্যতীত হাজারো বিধর্মী তথা কাফিরের দল রয়েছে। কুরআন শরীফ-এর ভাষায় তারা সবাই জাহান্নামী যদি তওবা-ইস্তিগফার করে ঈমান না আনে।
স্মরণীয় যে, শুধু কাফির সম্প্রদায়ই নয়, মুসলমান নামধারী অনেক মাওলানা, মুফতী,  মুহাদ্দিছ, মুফাস্সির, শাইখুল হাদীছ, ইমাম, খতীব তথা অনেক ইসলামী দলও রয়েছে যাদের মূলতঃ মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে আক্বীদা খারাপ রয়েছে। কাজেই তারা মুসলমান নামধারী হলেও তারা মুসলমানের অন্তর্ভুক্ত নয়। তারা ইসলামী দল নামধারী হলেও আসলে তারা মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
উল্লেখ্য, ইসলামে মৌলবাদ, সন্ত্রাসী, সন্ত্রাসবাদ হারাম। ইসলামের নামে ব্যবসা করা হারাম। ইসলামের নামে গণতান্ত্রিক দল করা হারাম। ইসলামের নামে নির্বাচন করা হারাম। ইসলামের নামে ভোট চাওয়া হারাম।
আরো উল্লেখ্য, বর্তমানে অধিকাংশ মাদ্রাসাগুলোই হচ্ছে জামাতী, ওহাবী, খারিজী মতাদর্শের তথা সন্ত্রাসী তৈরির সূতিকাগার। ইসলামের দোহাই দিয়ে, ইসলামের নামে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক স্বার্থ ও প্রতিপত্তি হাছিলের প্রকল্প। ইসলামের নামে নির্বাচন করার ও ভোটের রাজনীতি করার পাঠশালা- যা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।
কাজেই কুরবানীর চামড়া কোথায় দেয়া হচ্ছে তা দেখে দিতে হবে। জামাতী, খারিজী, ওহাবী ও সন্ত্রাসী-মৌলবাদী তথা ধর্মব্যবসায়ীদের মাদ্রাসাতে কুরবানীর চামড়া দিলে তা কস্মিনকালেও জায়িয হবে না।
জামাতী, ওহাবী তথা সন্ত্রাসীদের মাদ্রাসায় কুরবানীর চামড়া দিলে তাতে বদ আক্বীদা ও বদ আমলের প্রচারে সহায়তা করা হবে। সন্ত্রাসী-জামাতী ও ধর্মব্যবসায়ী তৈরিতে সাহায্য করা হবে। তাতে লক্ষ-কোটি কবীরাহ গুনাহে গুনাহগার হতে হবে।
মূলত, ধর্মব্যবসায়ীদের মাদ্রাসায় কুরবানীর চামড়া, যাকাত-ফিতরা ইত্যাদি দান-ছদকা না দেয়া মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ তথা সন্তুষ্টির কারণ।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ-এ নির্দেশ করেন- ‘তোমরা নেক কাজে পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করো। বদ কাজে পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করো না। আর এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তিদাতা’ (সূরা মায়িদা : আয়াত শরীফ ২)
মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি  ইরশাদ করেন- “হযরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, যে কেউ একটা বদ কাজের সূচনা করলো যতজন তাতে শরীক হলো তাদের সবার গুনাহ যে বদকাজের সূচনা করেছে তার উপর গিয়ে পড়বে।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
পত্রিকার রিপোর্টে পাওয়া যায়, জামাতী-খারিজীরা তাদের নিয়ন্ত্রিত মাদ্রাসায় সংগৃহীত যাকাত, ফিতরা, কুরবানীর চামড়ার মাধ্যমে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা আয় করে। যা মূলত তাদের বদ আক্বীদা ও বদ আমল তথা ধর্মব্যবসার কাজেই ব্যয়িত হয়।
অনুরূপভাবে কোনো জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনকেও কুরবানীর চামড়া দেয়া জায়িয হবে না। কারণ তারা তা আমভাবে খরচ করে থাকে। যেমন রাস্তা-ঘাট, পানির ব্যবস্থা, বেওয়ারিশ লাশ দাফন করার কাজে। অথচ কুরবানীর চামড়া গরিব মিসকীনদের হক্ব। তা গরিব মিসকিনদের মালিক করে দিতে হবে।
আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যাকাতের একটি রশির জন্যও জিহাদ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। কাজেই যাকাতের একটি রশির মতোই কুরবানীর একটি চামড়াও যাতে ভুল উদ্দেশ্যে ও ভুল পথে পরিচালিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “কুরবানীর রক্ত ও গোশত কিছুই আল্লাহ পাক উনার দরবারে পৌঁছায় না। পৌঁছায় তোমাদের বিশুদ্ধ নিয়ত।“ কাজেই বিশুদ্ধ নিয়তে কুরবানীর চামড়া ঠিক জায়গায় দিতে হবে। অনেকে পাড়ার মাস্তান, গুন্ডা-পান্ডা, ছিনতাইকারী ও হিরোইনখোরদের ভয়ে বা হাতে রাখার উদ্দেশ্যে তাদেরকে কম দামে কুরবানীর চামড়া দেয়। এতে কিন্তু নিয়ত বিশুদ্ধ হবে না এবং কুরবানীও আদায় হবে না।
তাই বর্তমান হিজরী শতাব্দীর মহান মুজাদ্দিদ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস্ সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, হুজ্জাতুল ইসলাম, সাইয়্যিদুল আওলিয়া, আওলাদে রসূল, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেছেন, বর্তমানে হক্ব মত-পথ ও সুন্নতী আমলের একমাত্র ও উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো, ‘মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ’।
কাজেই যাকাত-ফিতরা বা কুরবানীর চামড়া দিয়ে যারা ছদকায়ে জারীয়ার ছওয়াব হাছিল করতে চায় তাঁদের জন্য একমাত্র ও প্রকৃত স্থান হলো ‘মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ’ ৫ নং আউটার সার্কুলার রোড, রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা।

(দলীলসমূহ: আলমগীরী, শামী, নুরুল হিদায়া, বাজ্জাজিয়া, কাযীখান, দুররুল মুখতার, আইনুল হিদায়া, নাওয়াদিরুল ফতওয়া, আইনুল হিদায়া ও বাহর ইত্যাদি।}

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. পুরো নিয়ম-কানুন গুলো যেন করতে পারি আমিন আমিন আমিন আমিন

  2. Qurbanir dine Qurbanir poshu Qurbanir pore haas,murgi jobeh kora jabe???naki Qubanir 3din e haas,murgi jobeh kora jabena???

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে