কেএমটি তাজদীদ প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে……. জিএমটি সময় আর থাকছে না


মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার তাজদীদী ক্বওল শরীফ—-
“কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, কাবা শরীফ মানব জাতির জন্য নির্মিত প্রথম ঘর। হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, কাবা শরীফ-এর নিচের অংশটুকু পৃথিবীর প্রথম যমীন। কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর অনুসরণ করতে হলে বিশ্বের সব দেশের মুসলমানদেরকে গ্রিনিচের পরিবর্তে কাবা শরীফ থেকেই প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করে নিয়ে সকল ‘টাইম জোন’ নির্ণয় করতে হবে ॥ সউদী সরকারের এ ব্যাপারে বিশেষ ভূমিকা রাখা অতীব জরুরী|”

“মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, ‘তোমরা ইহুদী, নাছারা ও মুশরিকদের অনুসরণ-অনুকরণ করো না।’
সুতরাং কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত ‘কা’বা শরীফ-এর মর্যাদার কারণেই “কা’বা শরীফ”কে কেন্দ্র করে পৃথিবীর সকল সময় অঞ্চল ভাগ করা উচিত। দেরীতে হলেও ‘গ্রীনিচ টাইম’-এর পরিবর্তে ‘মক্কা শরীফ টাইম’ প্রচলনের সউদী সিদ্ধান্ত প্রশংসার দাবি রাখে। অতএব সউদী সরকারের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- অতিসত্ত্বর আন্তর্জাতিকভাবে “মক্কা শরীফ টাইম”-এর প্রচলন করা।”

মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম তিনি  আজ থেকে দীর্ঘ অনেক বছর আগে থেকেই ‘গ্রীনিচ মিন টাইম’-এর পরিবর্তে ‘মক্কা শরীফ মিন টাইম’ প্রচলনের জন্য ‘দৈনিক আল ইহসান শরীফ’-এ বক্তব্য দিয়ে ও  যথেষ্ট লেখনী প্রকাশ করে আসছেন। সে সকল বক্তব্য ইংরেজি অনুবাদ করে বিভিন্ন ফোরামে, ব্লগে প্রকাশ করা হয়েছে। সে সব লেখনী পাঠানো হয়েছিলো সউদী আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান একাডেমী ও প্রেস এজেন্সীতে।
‘দৈনিক আল ইহসান শরীফ’-এ এ বিষয়ে প্রথম লেখা প্রকাশের পর, মুসলিম বিজ্ঞানী এবং উলামাগণ কাতারে ২০০৮ সালে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। যদিও সে সম্মেলনে তারা ‘মক্কা শরীফ তাত্ত্বিক ও তথ্যগত দৃষ্টিতে পৃথিবীর কেন্দ্র’ এই শিরোনামে আলোচনা করেন এবং এর ভিত্তিতে ‘জিএমটি’-এর পরিবর্তে ‘মক্কা শরীফ টাইম’ গ্রহণ করার আহ্বান করেন।
কিন্তু পরবর্তীতে মুজাদ্দিদে আ’যম, রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা  আলাইহিস সালাম কাতারে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের আলোচকদের ভুলগুলো শুধরে তিনি ‘দৈনিক আল ইহসান শরীফ’-এর মাধ্যমে পুনরায় অনেকগুলো ব্যানার হেডিং প্রকাশ করেন।
মহান মুজাদ্দিদে আ’যম, রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা  আলাইহিস সালাম উনার সেই তাজদীদী বয়ান শরীফ-এর কারণে বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায় থেকে ‘গ্রীনিচ মিন টাইম’-এর পরিবর্তে ‘মক্কা শরীফ মিন টাইম’ নির্ধারিত হবার বিষয়ে আলোচনা তুলে। যদিও তারা সুনির্দিষ্ট কারণটি ব্যাখ্যা করতে পারেননি। কেউ কেউ কা’বা শরীফ-এর ভৌগোলিক অবস্থান, চৌম্বকীয় অবস্থান ইত্যাদি বললেও প্রকৃত উত্তর থেকে দূরে সরে আছেন। সঠিক উত্তর গ্রহণ করতে হবে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ থেকে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা আল ইমরান-এর ৯৬ নম্বর আয়াত শরীফ-এ ইরশাদ করেন, ‘প্রকৃতপক্ষে মানব জাতির জন্য প্রথম যে ঘর তৈরি হয়েছিলো তা হচ্ছে এই বাক্কা বা কা’বা শরীফ। যা নিয়ামত দ্বারা পূর্ণ এবং মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক।’ সুতরাং ‘গ্রীনিচ’-এর পরিবর্তে ‘কা’বা শরীফ’কে কেন্দ্র করেই সমস্ত পৃথিবীর সময়-অঞ্চল নির্ধারণ করতে হবে। প্রায় ৩০০ কোটি মুসলমানের আবাস এই পৃথিবীতে। মনে রাখতে হবে এ পৃথিবীটা মুসলমানদের; কাফির-মুশরিকদের নয়।
মুজাদ্দিদে আ’যম, রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা  আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ‘মক্কা শরীফ ঘড়ি’ অনুযায়ী মুসলিম বিশ্বের সময় নির্ধারণের বিষয়টি আরব নিউজ, এএফপি (সংবাদ সংস্থা) এছাড়াও আরও কয়েকটি সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানা গেলেও সউদী কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনো বর্ণনা করেনি। ‘মক্কা শরীফ ঘড়ি’ থেকে সময় নির্ধারণের পূর্বে কা’বা শরীফ-এর উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান সি’র করা এবং সে অনুযায়ী বিশ্বের সকল দেশের সময় অঞ্চল নির্ধারণ করা এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে যা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের আলেম ও মুসলিম বিজ্ঞানীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে। কেননা, ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি পত্রিকায় এ পরিকল্পনা নস্যাৎ করার ইঙ্গিত দিয়েছে।
মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ কিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি সউদী সরকারকে সতর্কতার সাথে ‘মক্কা শরীফ টাইম’ বাস্তবায়নের জন্য পদক্ষেপ নেয়ার এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করার জন্য আহ্বান করেন।

মহান মুজাদ্দিদে আ’যম, রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা  আলাইহিস সালাম উনার ‘ক্বাবা শরীফ মিন টাইম’ সম্পর্কিত তাজদীদ অতিশীঘ্রই বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।
তার একটি বাহ্যিক প্রকাশ-

জিএমটি সময় আর থাকছে না?

আন্তর্জাতিক সময়মান হিসেবে গ্রিনউইচকে (জিএমটি) আর না রাখার একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য গত বৃহস্পতিবার লন্ডনে জড়ো হয়েছেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীরা।
সময় হিসাবের জন্য ১২০ বছর ধরে গ্রিনউইচ মিন টাইম বা জিএমটিকে মানদণ্ড ধরা হচ্ছে। কিন্তু সময়ের নতুন সংগায় এই মানদণ্ড এখন হুমকির মুখে পড়েছে। অধিকতর নিখুঁতভাবে সময় পরিমাপের জন্য বিজ্ঞানীদের বেশির ভাগই এখন পৃথিবীর ঘূর্ণনের ভিত্তিতে নয় বরং আনবিক ঘড়ির ওপর নির্ভর করার পক্ষাপাতি।
জিএমটিকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে ব্রিটেন। তা সত্ত্বেও ২০১২ সালের জানুয়ারিতে জেনেভায় এই প্রস্তাব নিয়ে অনুষ্ঠেয় সভায় ভোট হবে। ভোটে যদি নতুন প্রস্তাব অনুমোদন পায় তাহলে জিএমটি তখন হবে শুধুই ইতিহাস।
উত্তর-পশ্চিম লন্ডনে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি শুক্রবারই শেষ হবে। শীর্ষ ৫০ জন বিজ্ঞানীকে নিয়ে ওই সভাটি আয়োজন করেছে ব্রিটেনের রয়্যাল সোসাইটি।
সময়মান পরিবর্তন ইস্যুতে মাথা চাড়া দিয়েছে ব্রিটেন-ফ্রান্স মর্যাদার লড়াই। জিএমটি যেহেতু ব্রিটেন ভিত্তিক তাই ব্রিটিশরা একে তাদের জাতীয় গৌরব বলেই মনে করে।
ব্রিটিশদের অভিযোগ, জিএমটি পরিবর্তনের পেছনে কলকাঠি নাড়ছে তাদের পুরনো শত্রু ফ্রান্স।
অবশ্য সময়মান পরিবর্তনের জন্য তাগাদা দিয়ে আসছে ফ্রান্স ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ওজন ও পরিমাপ অধিদপ্তর (বিআইপিএম)।
এই প্রতিষ্ঠানের সময় বিভাগের পরিচালক এলিসা ফেলিসিতাস আরিয়াস এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি, ব্রিটেনে জিএমটির ব্যাপারে কিছু একটা হারানোর অনুভূতি কাজ করছে।’
সময়মান নির্ধারণে জিএমটিকে মানদণ্ড ধরা হয়েছে সুর্যের গতিপথের ভিত্তিতে জিরো ডিগ্রি মধ্যরেখার ওপর নির্ভর করে যা দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের গ্রিনউইচ মানমন্দিরে অবস্থিত।
১৮৮৪ সালে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে একে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
তবে ওই একই সময় ফ্রান্সও প্যারিস মিন টাইম বা পিএমটি স্বীকৃতির জন্য সম্মেলনের আয়োজন করার জন্য তদবির করেছিল।
১৯৭২ সালে আবার জিএমটির স্থলে ইউনিভার্সাল কো-অরডিন্যাটেড টাইম (ইউটিসি) ব্যবহার শুরু হয়। তবে এর হিসাব জিএমটির সঙ্গে মিলিয়ে রাখা হয়।
ইউটিএস নির্ধারণ করা হয় বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাগারে রক্ষিত ৪০০টি আনবিক ঘড়ির ওপর ভিত্তি করে। তবে এই সময়মান পৃথিবীর ঘূর্ণনগতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কয়েক সেকেন্ডের সংশোধন করা হয়েছে।
পৃথিবীর ঘূর্ণন সব সময় একই না থাকার কারণে সমস্যা রয়েই গেছে। পৃথিবীর ঘূর্ণনগতি এবং পরমাণুর গতির মধ্যে সূক্ষ্ণ পার্থক্যের কারণে গ্লোবাল পরিজশনিং সিস্টেম (জিপিএস) এবং মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কে সমস্যা সৃষ্টি হয়।
আরিয়াস বলেন, ‘এই দুই নেটওয়ার্ককে দুই সময়ের মিলিসেকেন্ড পার্থক্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সময়ের একটি সমান্তরাল সংগা দেওয়ার চেষ্টা করছি। এমন একটি বিশ্বের কথা ভাবুন, যেখানে কিলোগ্রামের একাধিক সংগা রয়েছে।’
লন্ডনের সভায় জিএমটির সময়ে কয়েক সেকেন্ড এগিয়ে থাকার ভুল সংশোধন এবং পুরোপুরি আনবিক সময়ের দিকে যাওয়ার বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
জিএমটির সঙ্গে আনবিক ঘড়ির সময়ের পার্থক্য হয় খুব ধীরে। ৬০ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে এই পার্থক্য দাঁড়াবে এক মিনিট এবং ৬শ বছরে এই পার্থক্য হবে এক ঘণ্টা।
এতে করে দুই সময়কে একই মানে আনতে এক শতকের মধ্যে দুই বার করে কয়েক মিনিট সময় সংশোধন করে নিতে হতে পারে।
ব্রিটেনের গণমাধ্যম জিএমটি পরিবর্তনের বিষয় নিয়ে নানা ধরনের কথা বলছে। কেউ বলছে এটা ভিক্টোরিয়ান পরাশক্তির একটি প্রতীক। সুতরাং ওই পরাশক্তির মতোই একেও পরিণতি বরণ করতে হতে পারে।
ব্রিটেনের বিজ্ঞানমন্ত্রী অবশ্য এই পরিকল্পনাকে অবৈজ্ঞানিক বলে বর্ণনা করছেন।
এদিকে চীনও এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে। তারা বলছে, চীনের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির ভিত্তিতেই সময় নির্ধারণ করতে চান।

ক্বাবা শরীফ মিন টাইম এখান থেকেই নির্ধারিত হবে

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+