কেমন ছিলেন শের-ই-মহীশূর ?


পরদিন বিকাল ৪ টার কাছাকাছি সময়, 
 
যখন সুলতানের লাশ কেল্লা থেকে বাইরে আনা হলো সেরিংগাপটমের (বর্তমান কর্ণাটক) নারী পুরুষ, শিশু , বৃদ্ধ, জাতি ধর্ম নির্বিশেষে তাদের আশ্রয়স্থল থেকে বেরিয়ে জানাযায় শরীক হলো। মানুষের অন্তর থেকে ইংরেজদের ভয় চলে গেল , যেন তারা তাদের শাসকের লাশকেও মনে করছে তাদের রক্ষক।
জানাযা উঠানোর সময়ে হাওয়া বন্ধ ছিল। গরমের ত্রীবতা ও গুমোট শ্বাস রুদ্ধের পালা। একটা প্রচন্ড ঝড়ের পূর্বাভাস দেখা যাচ্ছিল। কিছুক্ষনের মধ্যে অন্ধকার ঝড় সারা আকাশে ছেয়ে গেল। জানাযা লালবাগে পৌছালো। শহরের কাযী জানাযা পড়ালেন। লাশ যখন কবরে নামানো হলো, চারদিক থেকে আকাশে তখন বিজলীর ভযাবহ গর্জন শুনা যাচ্ছিল।লোকের মাঝে একটা কম্পন অনুভূত হতে লাগলো। গোটা সেনাবাহিনীকে সালামীর হুকুম দেওয়া হলো। অন্ধকার বেড়ে চললো বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুৎচমক অারো ত্রীব হয়ে উঠলো। যে সব গাদ্দাররা ইংরেজদের সাথে এসেছিলো, তারা ভয়ে সংকুচিত হয়ে গেল। সুলতানের দাফনে শেষ হতেই নেমে এলো অঝোর বৃষ্টি। সেরিংগাপটেমের নদী ও বাজার নদীনালার মতো রুপ নিল।
এক বৃদ্ধ অফিসার বুক চাপড়ে বলতে লাগলো , ‘আমার সারা জীবনে মে মাসের প্রথম হফতায় কাবেরী নদীতে এমন সয়লাব কখনো দেখি নি।মহীশূরের গাদ্দাররা, হায় ! তোমরা যদি আর একটা দিন সবর করতে ! কুদরত আমাদের সাহায্য করতে চেয়েছিলেন , কিন্তু তোমরা সে মওকা দাওনি। আজ যদি সেরিংগাপটমের সব দরজা দুশমনের জন্য খুলে দিতে , তাহলে আমরা একটি গুলিও নষ্ট না করে তাদের সংকল্প মাটিতে মিশিয়ে দিতে পারতাম।
বন্ধুগণ! আমাদের সুলতান এই দিনটিরই ইন্তেজার করছিলেন। কতো বদকিসমত আমরা ! যে মেঘে নেমে আসতো আমাদের বিজয়ের খোশ খবর, তাই আজ ধুয়ে নিচ্ছে পরাজিত সিপাহীদের অশ্রুধারা’।
 
[সুলতান টিপু’র মৃত্যুর পর মহীশূর ইংরেজদের দখলে চলে গয়েছিলো]
 
প্রতিটি কথার পৃষ্টেই কথা থাকে, সুলতান টিপুর শহীদ হওয়ার পর মানুষ সুলতানের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করলেও আজ প্রায় ২২০ বছর পর একশ্রেনী সুলতানকে অত্যাচারী, নিষ্ঠুর, জালেম অপবাদ দিতে ব্যস্ত।
 
মূলত কেমন ছিলেন সুলতান টিপু ?
 
তিনি শুধু শাসকই ছিলেন না তিনি বিশিষ্ট যোদ্ধা ,আমলদার আলেম ও কবি ছিলেন। বর্তমানে বিভিন্ন বই কিংবা অনলাইনে উনার নামে ছবি প্রদর্শিত হয়,  যা কশ্চিনকালেও উনার না। উনার যখন ৭/৮ বছর তখন জৈনিক দরবেশ উনার কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নেন , শাসক হওয়ার পর একটি মসজিদ নির্মাণের । তিনি যখন শাসক হন তখন ‘মসজিদে আলা’ নামে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন এবং সে মসজিদে তিনি নিজে ইমামতি করতেন।উনি সারা জীবন অব্যাহতভাবে যুদ্ধে লিপ্ত থাকার সত্ত্বেও , বালেগ হওয়ার পর কখনো নামায ক্বাযা হয়নি।তিনি প্রতিনিয়ত অধিক পরিমাণে কুরআন শরীফ তেলওয়াত করতেন।উনার লজ্জাশীলতা ইতিহাস সাক্ষী দেয় উনার দু’পায়ের টাখনু, দুই হাত ও মুখমন্ডল ব্যতীত সমস্ত শরীর আবৃত থাকতো , যা তিনি কারো সামনে অনাবৃত করতেন না।
এদ্বারা একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব কেমন হতে পারে, তা সহজেই বুঝা যায়।
Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে