কে বেশি শক্তিশালী: সরকার নাকি সিন্ডিকেট?


সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের আমদানি শুল্ক হ্রাস করলেও খাদ্যদ্রব্যের মূল্য কমেছে এমন নজির বাংলাদেশে নেই। বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ জানতে, একটি বিশেষ গবেষণার জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মূল কারণ সিন্ডিকেট ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা এবং রাজনীতিবিদদের দুর্নীতি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলি জনগনের নিকট এই বলে ওয়াদা করে তাদের দল ক্ষমতায় গেলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীল থাকবে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর এই ওয়াদা পালনে তাদের কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যায় না।

মুসলমানদের জন্য অতি পবিত্র মাস পবিত্র রমযান শরীফ আগত। পবিত্র রমযান শরীফে দ্রব্যমূল্যর দাম স্বাভাবিক রাখতে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সাথে ব্যবসায়ীদের কয়েকবার বৈঠক হয়। সেসব বৈঠকের পর জনসাধারণকে জানানো হয় পর্যাপ্ত মজুদ আছে, সরবরাহ স্বাভাবিক তাই পবিত্র রমযান মাসে দ্রব্যমূল্যের দাম স্বাভাবিক থাকবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, কেউ কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির চেষ্টা করলে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্ত বাস্তব হচ্ছে সম্পূূর্ণ ভিন্ন প্রায় প্রত্যেকটি দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত প্রত্যেকটি দ্রব্যের রয়েছে পর্যাপ্ত সরবরাহ, বাজারে কোনো জিনিসের অভাব নেই, কিন্তু দাম স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। তাহলে প্রত্যেকটি দ্রব্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরেও দ্রব্যমূল্যের দাম বেশি কেন?
মূলত, আমাদের দেশে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের নিকট রয়েছে কোটি-কোটি অবৈধ টাকা। দ্রব্যসামগ্রীর উচ্চমূল্য এবং অতিউচ্চমূল্য এইসব অবৈধ টাকার মালিকদের কাছে কোনো বিষয়ই নয়। আর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিকারী সিন্ডিকেট এই সুযোগটা নিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মজুদ করে বেশি দামে বিক্রি করছে।

সরকার দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না এটা সম্পূূর্ণ অবিশ্বাস বিষয়। আমরা দেখেছি অনেক বড় অপরাধীকে সরকার বিদেশ থেকে এনে শাস্তির ব্যবস্থা করেছে। তাহলে এদেশের দ্রবমূল্য বৃদ্ধিকারী সিন্ডিকেটের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে নির্মূল করা সরকারের কাছে কোনো বিষয়ই না।

সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা দ্রবমূল্য বৃদ্ধিকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লোক দেখানো হুমকি-ধামকি না দিয়ে সত্যিকারভাবে প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে অতি অল্প সময়ে দ্রব্যমূল্যে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সরকার যদি দ্রবমূল্য বৃদ্ধিকারী সিন্ডিকেটকারীদের নির্মূল করে দ্রব্যমূল্যে সাধারণ মানুষের ত্রুয় ক্ষমতার মধ্যে রাখে। তাহলে এদেশের কোটি-কোটি মানুষ অন্তর থেকে সরকারের জন্য দোয়া করবে। সরকার নিশ্চয়ই কোটি- কোটি মানুষের দোয়া চায়? আমরা আশা করব সরকার প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহীনিকে কাজে লাগিয়ে অতি সত্বর দ্রবমূল্য বৃদ্ধিকারী সিন্ডিকেটকারীদের নির্মূল করবে। এখন আমরা দেখতে চাই কে বেশি শক্তিশালী সরকার না সিন্ডিকেট ?

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে