কোনো মুসলমান মৌলবাদী নয় আর কোনো মৌলবাদী মুসলমান নয়


মৌলবাদ শব্দের শাব্দিক বা আভিধানিক অর্থ হলো যে কোন ধর্ম বা মতবাদের মূলতত্ত্ব, মৌলিক বা মূল বিষয়সমূহ অথবা মৌলিক বা মূল মতবাদসমূহ। আর ব্যবহারিক অর্থে ধর্মান্ধ চরমপন্থী আমেরিকান খৃষ্টান প্রোটেষ্ট্যান্ট সম্প্রদায়ের বাইবেল সম্পর্কীয় মতবাদকে মৌলবাদ বলে এবং এ অর্থেই এটা ব্যাপকভাবে পরিচিত। আর এই ধর্মান্ধ চরমপন্থী আমেরিকান খৃষ্টান প্রোটেষ্ট্যান্ট সম্প্রদায়ই মৌলবাদী বলে পরিচিত। এরাই সর্বপ্রথম মৌলবাদী বলে পরিচিতি লাভ করে, যারা বাইবেলের প্রতিটি বিষয়ের যথার্থতায় এবং আক্ষরিক ব্যাখ্যায় যুক্তিহীনভাবে, যাচাই-বাচাই ব্যতিরেকে, অন্ধের ন্যায়, কুসংস্কারাচ্ছন্ন চরমপন্থীদের মতো বিশ্বাসী ছিল।

মৌলবাদী আন্দোলন আমেরিকান খৃষ্টান প্রোটেষ্ট্যান্টদের একটি ব্যাপক আন্দোলনের নাম। স্বাধীন চিন্তাবিদদের বিরুদ্ধে খৃষ্টধর্মের মূলতত্ত্বসমূহকে সংরক্ষণের জন্য মৌলবাদী আন্দোলন হয়েছিল। ১৯১২ সালের দিকে কিছু বেনামী লেখক ১২টি ছোট ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভলিউমে “The Fundamentals” নামে বই বের করে এবং এই বইয়ের নামকরণ থেকেই এই আন্দোলন “Fundamentalist Movement” বা “মৌলবাদী আন্দোলন” নামে আখ্যায়িত হয়।

এই মতবাদে খ্রীষ্টীয় ধর্মতত্ত্বের মৌলভিত্তি হিসেবে যা গণ্য করা হয় ছয়টি বিষয়কে। এগুলো হলো :

(১) বাইবেলের আক্ষরিক সত্যতা বা প্রামাণ্যতা (নাউযুবিল্লাহ্), (২) মেরী তথা হযরত মরিয়াম আলাইহাস সালাম উনার কুমারী অবস্থায় হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার জন্মগ্রহণ (৩) যীশু তথা হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি দেবত্ব আরোপ (নাউযুবিল্লাহ্),(৪) বিশ্ব মানবের পাপের প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ যীশুর ক্রশবিদ্ধ হওয়া (নাউযুবিল্লাহ্), (৫) যীশুর শারীরিক পুনরুত্থান এবং দ্বিতীয় দফা আগমন (নাউযুবিল্লাহ্), আর (৬) (খ্রীষ্টীয় মৌলবাদে) বিশ্বাসীদের দৌহিক পুনরুত্থান।(নাউযুবিল্লাহ্)

এই মতবাদটি উৎপত্তির পর থেকে পর্যায়ক্রমে প্রচার-প্রসার লাভ করতে থাকে। এমনকি ১৯৩০ সালের দিকেও এই খৃস্ট মৌলবাদ টিকে ছিল। ১৯৫০ সালের দিকে নব্য মৌলবাদীদের একটি নতুন জাগরণ হয়েছিল। এদের প্রচারের ফলে তা অন্যান্য দেশেও বিস্তার লাভ করে।

কাজেই মুসলমানদেরকে মৌলবাদী বলা বা মুসলমানগণ নিজেদেরকে মৌলবাদী বলে দাবী করা কখনো কোন মতেই শরীয়তসম্মত হবে না। কারণ যারা বাইবেলের প্রতিটি বিষয়ের যথার্থতায় এবং আক্ষরিক ব্যাখ্যায় যুক্তিহীনভাবে, যাচাই-বাচাই ব্যতিরেকে, অন্ধের ন্যায়, কুসংস্কারাচ্ছন্ন চরমপন্থা অবলম্বন করেছিল তারাই মৌলবাদী। তাদেরই শেয়ার বা চিহ্ন বা আলামত মৌলবাদ।

মৌলবাদ শব্দের অর্থ মূল হতে আগত মতবাদ হওয়ার পরও মৌলবাদ ধারণা বা শব্দ ইসলামে পছন্দনীয় নয়। কারণ-

(১) এতে কাফির সম্প্রদায়ের সাথে বিশেষ করে খৃষ্টান প্রোটেষ্ট্যান্টদের সাথে তাশাব্বুহ্ বা মিল হয়, (২) এটি ভাল অর্থে চেয়ে মন্দ অর্থেই বেশী পরিচিত, (৩) এটি অশালীন ও অশোভনীয় লক্বব বা উপাধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, (৪) এর দ্বারা মুসলমানদের দোষী সাব্যস্ত করা হয় ও অপবাদ দেয়া হয় এবং মুসলমানদের মনে কষ্ট দেয়া হয়, ইত্যাদি।

অতএব, শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন মুসলমানের পক্ষে মৌলবাদী নাম ধারণ করে ফখর বা গর্ব করা বা গর্ববোধ করা জায়িয নেই। এ প্রসঙ্গে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সে আমাদের দলভূক্ত নয় যে বানানো মতবাদের দিকে আহ্বান করে।”

মহান আল্লাহ পাক তিনি উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে মুসলমান, মু’মিন, ঈমানদার, মুত্তাকী হিসেবে সম্বোধন করেছেন। অতএব, মুসলমানগণকে মুসলমান না বলে মৌলবাদী বলা ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নাজায়িয, হারাম ও কাট্টা কুফরী। তবে যদি কোন বিধর্মী বা নাস্তিকরা মুসলমানদেরকে মৌলবাদী বলে সম্বোধন করে, তাহলে সেটাও শরীয়তের দৃষ্টিতে গালী হিসেবে গণ্য হবে। (নাউযুবিল্লাহ্)

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

২০টি মন্তব্য

  1. bajjat says:

    কারো নাম সাদিক এবং সে মিথ্যাবাদী।তাই বলে কি সাদিক অর্থ মিথ্যাবাদী হয়ে যাবে?

    আমি মৌলবাদের প্রকৃত অর্থবোধক মৌলবাদী।কু-সংস্কারবাদী নই।

    আমি প্রমান করে দিব, যাদেরকে মৌলবাদী বলা হয়,তারা মূলতঃ মৌলবাদী নয়।তারা কু-সংস্কারবাদী।

    আমি মৌলবাদী বলছি।।

  2. কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা রঈনা বল না, উনজুরনা বল এবং শ্রবণ কর (বা শুনতে থাক) আর কাফিরদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।” (সূরা বাক্বারা শরীফ : আয়াত শরীফ ১০৪)
    আয়াত শরীফ উনার শানে নযুলে বলা হয়েছে, ইহুদীরা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেবার জন্য ‘রঈনা’ শব্দ ব্যবহার করত যার একাধিক অর্থ। একটি অর্থ হল ‘আমাদের দিকে লক্ষ্য করুন’ যা ভালো অর্থে ব্যবহার হয়। আর খারাপ অর্থ হল ‘হে মূর্খ, হে মেষ শাবক’ এবং হিব্রু ভাষায় একটি বদ দোয়া। ইহুদীরা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘রঈনা’ বলে সম্বোধন করত। যাতে প্রকৃতপক্ষে তাদের উদ্দেশ্য ছিল খারাপ অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করা। আর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ‘রঈনা’ শব্দের ভালো অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন করলে ইহুদীরা খারাপ অর্থ চিন্তা করে হাসাহাসি করতো। এতে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কষ্ট পেতেন তবুও তিনি কিছু বলতেন না; কেননা মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ওহী ছাড়া কোনো কথা বলতেন না। যেমন কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ হয়েছে, “তিনি (হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওহী ব্যতীত নিজের থেকে মনগড়া কোন কথা বলেন না”। (সূরা নজম : আয়াত শরীফ ৩, ৪)
    এর ফলশ্রুতিতে মহান আল্লাহু পাক তিনি কুরআন শরীফ উনার আয়াত নাযিল করে ‘রঈনা’ শব্দের বদলে ‘উনজুরনা’ শব্দ ব্যবহার করতে বললেন। কারণ ‘রঈনা’ শব্দ ভালো-খারাপ উভয় অর্থে ব্যবহার হলেও ‘উনজুরনা’ শব্দ শুধুমাত্র ভালো অর্থে ব্যবহার। তাই যে সকল শব্দের ভালো-খারাপ উভয় অর্থে ব্যবহার হয়, সে সকল শব্দের পরিবর্তে উপরোক্ত আয়াত মুতাবিক ওটার সমার্থক অর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করতে হবে, যা শুধুমাত্র ভালো অর্থেই ব্যবহার হয়।

  3. আপনি লিখেছেন “আমি মৌলবাদের প্রকৃত অর্থবোধক মৌলবাদী” অর্থাৎ আপনি খৃষ্টান প্রোটেষ্ট্যান্ট তাই নয় কি?

  4. কেননা কোন ঈমানদারের পক্ষে মহান আল্লাহ পাক প্রদত্ত মুসলমান, মু’মিন, ঈমানদার, মুত্তাকী সম্বোধন বাদ দিয়ে মৌলবাদী হতে পারে না।
    পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে কোথাও মৌলকাদী হতে বলা হয়নি বরং মুসলমান, মু’মিন, ঈমানদার, মুত্তাকী হতে বলা হয়েছে।

  5. আম বাগানআম বাগান says:

    Moulobad er utpotti theke buja jay ata musolman unader na..ata hosse bidormider. Musolman hobe mumin, muttaqi etc. R jara ku songiskar totha moulobadi te jibon vore niyese,tara prokrito musolman unader somman bujbe na. Tader ghoramy e jibon

  6. bajjat says:

    নিভৃত পথচারী-

    আপনি আর ও জানার চেষ্টা করুন।

    আমি মৌলবাদী বলছি।।

  7. bajjat says:

    মৌলবাদ না হওয়া পর্যন্ত কেউ মুসলমান হতে পারবে না।

    মীর জাফর বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে বলেই কি,মীর জাফর নাম রাখা অন্যায় হবে?

    আল্লাহ ও নবী সৃষ্টির মৌল আর রাসুলেরা মৌলবাদের প্রচারক এবং যারা রাসুলের দেয়া বাণীকে অনুসরণ করে তারাই মৌলবাদী।।সুত্রানুসারে আমি মৌলবাদী।

    আমি মৌলবাদী বলছি।।

  8. মহানন্দামহানন্দা says:

    bajjat কে বলছি–

    মৌলবাদীরাই গোঁড়া ও কুসংস্সূকার বাদী এবং কুত্তার বাঁকা লেজের মতো। আর বজ্জাত তো বটেই। তাই পবিত্র বাক্বারা শরীফ উনার ১০৪ নম্বর ত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীর তথা ব্যাখ্যা না মেনে গোঁ ধরেছো।

  9. bajjat says:

    মহানন্দা কে-

    কু-সংস্কারবাদীরা গোঁড়া ও অন্ধ।আর মৌলবাদীরা সঠিক ও সত্য।

    আমি মৌলবাদী বলছি।।

  10. নাছারা শব্দটি সাধারণতঃ দু’অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। (১) আভিধানিক, (২) ব্যবহারিক। আভিধানিক অর্থে নাছারা শব্দের অর্থ হলো- সাহায্যকারী অর্থাৎ যারা সাহায্য করে আর ব্যবহারিক বা প্রচলিত অর্থে নাছারা হচ্ছে ঐ সম্প্রদায়ের নাম যারা সারা বিশ্বে খৃষ্টান নামে পরিচিত। যাদেরকে ঈসায়ীও বলা হয়।
    অনূরূপ, শিয়া শব্দটি দু’অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। (১) আভিধানিক, (২) ব্যবহারিক। আভিধানিক অর্থে শিয়া শব্দের অর্থ হলো- ফিরক্বা, গোত্র, দল, অনুসারী, সাহায্যকারী ইত্যাদি আর ব্যবহারিক বা প্রচলিত অর্থে শিয়া হচ্ছে ঐ সম্প্রদায়ের নাম যারা ইমামিয়া বা রাফেজী ফিরক্বা নামে পরিচিত। যারা হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর অনুসরণকারী বলে দাবী করে।
    অনূরূপ আরো একটি শব্দ হচ্ছে হিন্দু। এ শব্দটিও সাধারণতঃ দু’অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে- (১) আভিধানিক, (২) ব্যবহারিক। আভিধানিক অর্থে হিন্দু শব্দের অর্থ হলো- চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী, গোলাম, মাশুক, পছন্দনীয়, প্রিয় ইত্যাদি আর ব্যবহারিক বা প্রচলিত অর্থে হিন্দু হচ্ছে ঐ সম্প্রদায়ের নাম যারা সারাবিশ্বে মুর্তিপূজক হিসেবে পরিচিত।
    আরো উল্লেখ্য, সুন্নী সম্প্রদায়ের কাউকেও যদি কেউ শিয়া বলে সম্বোধন করে তাহলে কোন সুন্নী মুসলমান ব্যক্তি সেটা পছন্দ করবে না। অনূরূপ যদি কোন মুসলমানকে তার কোন আমলের কারণে হিন্দু বলে সম্বোধন করে তাহলে সেটা কোন মুসলমানই পছন্দ করবে না। অনূরূপ নাছারা শব্দটি কুরআন শরীফে থাকার পরও কোন মুসলমান নাছারা সম্বোধন গ্রহণ করতে নারাজ। এতে সে ব্যবহারিক বা প্রচলিত খৃষ্টান অর্থই গ্রহণ করে চটে যায়। কারণ নাছারারা ইসলামের দৃষ্টিতে বাতিল ধর্মাবলম্বী, চির জাহান্নামী ও কাট্টা কাফিরের অন্তর্ভূক্ত। আর শিয়া শব্দটি দল বা সম্প্রদায় অর্থে কুরআন শরীফের প্রায় ১০ স্থানে উল্লেখ থাকার পরও এই শব্দটি আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের কেউই ব্যবহার করেন না। কেননা শিয়া শব্দটির আভিধানিক অর্থ দল বা সম্প্রদায় হলেও এ অর্থে শব্দটি প্রচলিত নয়। বরং শিয়া শব্দটির প্রচলিত বা ব্যবহারিক অর্থ হলো ইমামিয়া বা রাফেজী ফিরক্বা, যারা আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের ফতওয়া মুতাবিক মুসলমানের অন্তর্ভূক্ত নয়। আর হিন্দু শব্দের একটি অর্থ মাশুক বা প্রিয় হলেও অর্থাৎ এই অর্থ ইসলামে গ্রহণীয় বা পছন্দনীয় হলেও কোন মুসলমানকে হিন্দু বললে প্রচলিত মুর্তিপূজক অর্থই সে গ্রহণ করে, হিন্দু হিসেবে স্বীকৃত হতে পছন্দ করবে না।
    উপরোক্ত আলোচনার দ্বারা সহজেই প্রমাণিত হয় যে, নাছারা শব্দের অর্থ সাহায্যকারী হওয়ার পরও নাছারা শব্দ যেমন মুসলমানদের কাছে পছন্দনীয় নয়। শিয়া শব্দের অর্থ দল বা সম্প্রদায় হওয়ার পরও শিয়া যেমন আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের কাছে পছন্দনীয় নয়। হিন্দু শব্দের একটি অর্থ মাশুক বা প্রিয় হওয়ার পরও হিন্দু যেমন পছন্দনীয় নয়। তেমনি মৌলবাদ শব্দের অর্থ মূল হতে আগত মতবাদ হওয়ার পরও মৌলবাদ ধারণা বা শব্দ ইসলামে পছন্দনীয় নয়।
     

  11. নাছারা শব্দটি সাধারণতঃ দু’অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। (১) আভিধানিক, (২) ব্যবহারিক। আভিধানিক অর্থে নাছারা শব্দের অর্থ হলো- সাহায্যকারী অর্থাৎ যারা সাহায্য করে আর ব্যবহারিক বা প্রচলিত অর্থে নাছারা হচ্ছে ঐ সম্প্রদায়ের নাম যারা সারা বিশ্বে খৃষ্টান নামে পরিচিত। যাদেরকে ঈসায়ীও বলা হয়।
    অনূরূপ, শিয়া শব্দটি দু’অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। (১) আভিধানিক, (২) ব্যবহারিক। আভিধানিক অর্থে শিয়া শব্দের অর্থ হলো- ফিরক্বা, গোত্র, দল, অনুসারী, সাহায্যকারী ইত্যাদি আর ব্যবহারিক বা প্রচলিত অর্থে শিয়া হচ্ছে ঐ সম্প্রদায়ের নাম যারা ইমামিয়া বা রাফেজী ফিরক্বা নামে পরিচিত। যারা হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর অনুসরণকারী বলে দাবী করে।
    অনূরূপ আরো একটি শব্দ হচ্ছে হিন্দু। এ শব্দটিও সাধারণতঃ দু’অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে- (১) আভিধানিক, (২) ব্যবহারিক। আভিধানিক অর্থে হিন্দু শব্দের অর্থ হলো- চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী, গোলাম, মাশুক, পছন্দনীয়, প্রিয় ইত্যাদি আর ব্যবহারিক বা প্রচলিত অর্থে হিন্দু হচ্ছে ঐ সম্প্রদায়ের নাম যারা সারাবিশ্বে মুর্তিপূজক হিসেবে পরিচিত।
    আরো উল্লেখ্য, সুন্নী সম্প্রদায়ের কাউকেও যদি কেউ শিয়া বলে সম্বোধন করে তাহলে কোন সুন্নী মুসলমান ব্যক্তি সেটা পছন্দ করবে না। অনূরূপ যদি কোন মুসলমানকে তার কোন আমলের কারণে হিন্দু বলে সম্বোধন করে তাহলে সেটা কোন মুসলমানই পছন্দ করবে না। অনূরূপ নাছারা শব্দটি কুরআন শরীফে থাকার পরও কোন মুসলমান নাছারা সম্বোধন গ্রহণ করতে নারাজ। এতে সে ব্যবহারিক বা প্রচলিত খৃষ্টান অর্থই গ্রহণ করে চটে যায়। কারণ নাছারারা ইসলামের দৃষ্টিতে বাতিল ধর্মাবলম্বী, চির জাহান্নামী ও কাট্টা কাফিরের অন্তর্ভূক্ত। আর শিয়া শব্দটি দল বা সম্প্রদায় অর্থে কুরআন শরীফের প্রায় ১০ স্থানে উল্লেখ থাকার পরও এই শব্দটি আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের কেউই ব্যবহার করেন না। কেননা শিয়া শব্দটির আভিধানিক অর্থ দল বা সম্প্রদায় হলেও এ অর্থে শব্দটি প্রচলিত নয়। বরং শিয়া শব্দটির প্রচলিত বা ব্যবহারিক অর্থ হলো ইমামিয়া বা রাফেজী ফিরক্বা, যারা আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের ফতওয়া মুতাবিক মুসলমানের অন্তর্ভূক্ত নয়। আর হিন্দু শব্দের একটি অর্থ মাশুক বা প্রিয় হলেও অর্থাৎ এই অর্থ ইসলামে গ্রহণীয় বা পছন্দনীয় হলেও কোন মুসলমানকে হিন্দু বললে প্রচলিত মুর্তিপূজক অর্থই সে গ্রহণ করে, হিন্দু হিসেবে স্বীকৃত হতে পছন্দ করবে না।
    উপরোক্ত আলোচনার দ্বারা সহজেই প্রমাণিত হয় যে, নাছারা শব্দের অর্থ সাহায্যকারী হওয়ার পরও নাছারা শব্দ যেমন মুসলমানদের কাছে পছন্দনীয় নয়। শিয়া শব্দের অর্থ দল বা সম্প্রদায় হওয়ার পরও শিয়া যেমন আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের কাছে পছন্দনীয় নয়। হিন্দু শব্দের একটি অর্থ মাশুক বা প্রিয় হওয়ার পরও হিন্দু যেমন পছন্দনীয় নয়। তেমনি মৌলবাদ শব্দের অর্থ মূল হতে আগত মতবাদ হওয়ার পরও মৌলবাদ ধারণা বা শব্দ ইসলামে পছন্দনীয় নয়।
     

  12. bajjat says:

    মূলতঃ বিষয়টি এরুপ নয়।যেমন-
    রাজাকার শব্দটি ফার্সি শব্দ,যার বাংলা আভিধানিক অর্থ সাহায্যকারী। আর এর ব্যাবহারীক অর্থ ৭১ সালে যারা বাঙ্গালী হয়েও পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ করেছে,এক কথায় আমরা যাদেরকে যুদ্ধাপরাধী বলছি।

    তাই বলে কি আসল সাহায্যকারীকে রাজাকার বলা যাবে না?

    আমি মৌলবাদী বলছি।।

  13. Shaan_M says:

    rajakar juddhaporadhi akoi bakti k nirdesh kore , kintu moulobadi same noy, moulobad shobdo t controvarsy toiri kore. kajei apnar musolman, munin, muttaqi shobdo babohar korte somossa kothae.

    মৌলবাদ শব্দের অর্থ মূল হতে আগত মতবাদ হওয়ার পরও মৌলবাদ ধারণা বা শব্দ ইসলামে পছন্দনীয় নয়। কারণ-

    (১) এতে কাফির সম্প্রদায়ের সাথে বিশেষ করে খৃষ্টান প্রোটেষ্ট্যান্টদের সাথে তাশাব্বুহ্ বা মিল হয়, (২) এটি ভাল অর্থে চেয়ে মন্দ অর্থেই বেশী পরিচিত, (৩) এটি অশালীন ও অশোভনীয় লক্বব বা উপাধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, (৪) এর দ্বারা মুসলমানদের দোষী সাব্যস্ত করা হয় ও অপবাদ দেয়া হয় এবং মুসলমানদের মনে কষ্ট দেয়া হয়, ইত্যাদি
    দেখুন, ‘রঈনা’ শব্দের বদলে ‘উনজুরনা’ শব্দ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

  14. হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ‘রঈনা’ শব্দের ভালো অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন করলে ইহুদীরা খারাপ অর্থ চিন্তা করে হাসাহাসি করতো। এর ফলশ্রুতিতে মহান আল্লাহু পাক তিনি কুরআন শরীফ উনার আয়াত নাযিল করে ‘রঈনা’ শব্দের বদলে ‘উনজুরনা’ শব্দ ব্যবহার করতে বললেন। কারণ ‘রঈনা’ শব্দ ভালো-খারাপ উভয় অর্থে ব্যবহার হলেও ‘উনজুরনা’ শব্দ শুধুমাত্র ভালো অর্থে ব্যবহার হয়।
    ঠিক একইভাবে, রাজাকার শব্দের ভালো অর্থ থাকলেও রাজাকার শব্দটি যেহেতেু যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় তাই রাজাকার শব্দটি শুধুমাত্র যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
    অনুরূপভাবে, কাবিল, শাদ্দাদ, ফেরাউন, নমরূদ, হামান, কারুন, আবূ লাহাব, ওতবা, শায়বা ইত্যাদি কাফিরদের নামের ভালো অর্থ থাকলেও কোন মুসলমান উক্ত নাম রাখবে না। যেমনটি রাখবে না বজ্জাত নামটি। বজ্জাত নামের যদি কোন ভালো অর্থও থেকে থাকে তবে এর মন্দ অর্থের দিকে খেয়াল করে কোন মুসলমান এ নামে তার নাম রাকবে না। নিখাঁদ গণ্ডমূর্খ ব্যতীত।

  15. মহানন্দামহানন্দা says:

    রাজাকার শব্দ অপভ্রংশে বাংলা ভাষার শ্ব্দ হয়ে গেছে; রাজাকার ফর্সি শব্দ নয়। মূল শব্দ রেযাকার।
    অপভ্রংশে বাংলা ভাষার শব্দ রাজাকার আসল সাহায্যকারীর ক্ষেত্রে কোনো মতেই ব্যবহারযোগ্য নয়। অন্ধ-বুজদিল মৌলবাদীরা কখনোই তা বুঝতে সক্ষম নয়।

  16. মহানন্দামহানন্দা says:

    ওরে bajjat!
    জেনে নাও-
    সাদিক (সত্যবাদী) নামীয় ব্যক্তি মিথ্যা কথা বললে সে কখনো মৌলবাদী হয় না। হয় ফাসিক।

    আরো জেনে নাও-
    মুসলমান কখনো মৌলবাদী নয়। মুসলমান নেক কাজ করলে মুমিন, মুত্তাকী, ছিদ্দীক্ব ইত্যাদি অভিধায় ভূষিত হয়। আর পাপ কাজ করলে- ফাসিক হয়; কিন্তু মৌলবাদী হয় না।
    মৌলবাদীরা- গোঁড়া, অন্ধ, অসভ্য, বর্বর, যালিম, কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয়। যেমন খ্রিস্টান প্রটেস্ট্যানরা তথা অগ্রাসী ক্রুসেডার খ্রিস্টানরা মৌলবাদী। আর সেখান থেকে তাবত বিধর্মীরা শাব্দিক অর্থে নিজেদেরকে মৌলবাদী দাবি করে। কোনো মুসলমানই কস্মিনকালেও মৌলবাদী নয়।

    ওরে bajjat!
    মৌলবাদ, মৌলবাদী (সম্পর্কে জানতে এনসাইক্লপিডিয়াগুলো খুলে দেখো। তবে মৌলবাদীরা অন্ধ-বুজদিল হওয়ায় দেখতে ও উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হবে স্বীয় গোঁড়ামীর কারণে।

    ওরে bajjat!
    আরো জেনে নাও-
    মীর জাফর ঘাতকতা করায় তার নামের বানান পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়ে মীর্জাফর হয়েছে। মীর জাফর>মীর্জাফর অর্থ: বিশ্বাসঘাতক, প্রতারক, শঠ ইত্যাদি ব্যবহারিকভাবে প্রচলিত হয়েছে। তুমি গোঁড়া, অন্ধ, মরিচাগ্রস্ত তথা মৌলবাদী বলেই বুঝো না। আর মীর জাফর নাম পরিবর্তিত হয়ে মুখে মুখে উচ্চারণে মীর্জাফর হয়ে যেতে পারে আশঙ্কায় সে নামটি কেউ রাখে না। অন্ধ বলেই তুমি দেখো না। বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক হওয়া মীর্জাফর নামটিতে কেউ রাখে না।
    যদিও মীর জাফর>মীর্জাফর নাম রাখা শরীয়তে নিষিদ্ধ নয়; কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ খারাপ প্রকাশ হওয়ায় এমনটি হয়েছে। তবে মৌলবাদীরা গোঁড়া ও অন্ধ দিলের বিধায় বুঝবে না।

    ওরে bajjat!
    আরো জেনে নাও-
    শুধুমাত্র মুসলমানরাই আলোকিত ও সভ্য; মৌলবাদীরা নয়।

  17. আমার মতে, ডারউইন সবচেয়ে বড় মৌলবাদী। কারণ, সে সবকিছুর মূল খুঁজতে গিয়া মানুষের মূল হিসেবে বানরকে আবিষ্কার করে। আর তারমতো মালবাদীরা যে মুসলিম সমাজে কী হিসেবে পরিচিত তা নিশ্চয়ই আর নতুন করে বলার দরকার নাই।

  18. মহানন্দামহানন্দা says:

    সিংহশাবক
    সহমত

  19. বজ্জাত , তালগাছটা আপনি ছাড়তে চাননা । বাংলা অভিধান ও ইংরেজী অভিধান এ এই শব্দটার অর্থ পড়ে আসুন ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে