কোনো মুসলমান মৌলবাদী নয় আর কোনো মৌলবাদী মুসলমান নয়


মৌলবাদ শব্দের শাব্দিক বা আভিধানিক অর্থ হলো যে কোন ধর্ম বা মতবাদের মূলতত্ত্ব, মৌলিক বা মূল বিষয়সমূহ অথবা মৌলিক বা মূল মতবাদসমূহ। আর ব্যবহারিক অর্থে ধর্মান্ধ চরমপন্থী আমেরিকান খৃষ্টান প্রোটেষ্ট্যান্ট সম্প্রদায়ের বাইবেল সম্পর্কীয় মতবাদকে মৌলবাদ বলে এবং এ অর্থেই এটা ব্যাপকভাবে পরিচিত। আর এই ধর্মান্ধ চরমপন্থী আমেরিকান খৃষ্টান প্রোটেষ্ট্যান্ট সম্প্রদায়ই মৌলবাদী বলে পরিচিত। এরাই সর্বপ্রথম মৌলবাদী বলে পরিচিতি লাভ করে, যারা বাইবেলের প্রতিটি বিষয়ের যথার্থতায় এবং আক্ষরিক ব্যাখ্যায় যুক্তিহীনভাবে, যাচাই-বাচাই ব্যতিরেকে, অন্ধের ন্যায়, কুসংস্কারাচ্ছন্ন চরমপন্থীদের মতো বিশ্বাসী ছিল।

মৌলবাদী আন্দোলন আমেরিকান খৃষ্টান প্রোটেষ্ট্যান্টদের একটি ব্যাপক আন্দোলনের নাম। স্বাধীন চিন্তাবিদদের বিরুদ্ধে খৃষ্টধর্মের মূলতত্ত্বসমূহকে সংরক্ষণের জন্য মৌলবাদী আন্দোলন হয়েছিল। ১৯১২ সালের দিকে কিছু বেনামী লেখক ১২টি ছোট ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভলিউমে “The Fundamentals” নামে বই বের করে এবং এই বইয়ের নামকরণ থেকেই এই আন্দোলন “Fundamentalist Movement” বা “মৌলবাদী আন্দোলন” নামে আখ্যায়িত হয়।

এই মতবাদে খ্রীষ্টীয় ধর্মতত্ত্বের মৌলভিত্তি হিসেবে যা গণ্য করা হয় ছয়টি বিষয়কে। এগুলো হলো :

(১) বাইবেলের আক্ষরিক সত্যতা বা প্রামাণ্যতা (নাউযুবিল্লাহ্), (২) মেরী তথা হযরত মরিয়াম আলাইহাস সালাম উনার কুমারী অবস্থায় হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার জন্মগ্রহণ (৩) যীশু তথা হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি দেবত্ব আরোপ (নাউযুবিল্লাহ্),(৪) বিশ্ব মানবের পাপের প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ যীশুর ক্রশবিদ্ধ হওয়া (নাউযুবিল্লাহ্), (৫) যীশুর শারীরিক পুনরুত্থান এবং দ্বিতীয় দফা আগমন (নাউযুবিল্লাহ্), আর (৬) (খ্রীষ্টীয় মৌলবাদে) বিশ্বাসীদের দৌহিক পুনরুত্থান।(নাউযুবিল্লাহ্)

এই মতবাদটি উৎপত্তির পর থেকে পর্যায়ক্রমে প্রচার-প্রসার লাভ করতে থাকে। এমনকি ১৯৩০ সালের দিকেও এই খৃস্ট মৌলবাদ টিকে ছিল। ১৯৫০ সালের দিকে নব্য মৌলবাদীদের একটি নতুন জাগরণ হয়েছিল। এদের প্রচারের ফলে তা অন্যান্য দেশেও বিস্তার লাভ করে।

কাজেই মুসলমানদেরকে মৌলবাদী বলা বা মুসলমানগণ নিজেদেরকে মৌলবাদী বলে দাবী করা কখনো কোন মতেই শরীয়তসম্মত হবে না। কারণ যারা বাইবেলের প্রতিটি বিষয়ের যথার্থতায় এবং আক্ষরিক ব্যাখ্যায় যুক্তিহীনভাবে, যাচাই-বাচাই ব্যতিরেকে, অন্ধের ন্যায়, কুসংস্কারাচ্ছন্ন চরমপন্থা অবলম্বন করেছিল তারাই মৌলবাদী। তাদেরই শেয়ার বা চিহ্ন বা আলামত মৌলবাদ।

মৌলবাদ শব্দের অর্থ মূল হতে আগত মতবাদ হওয়ার পরও মৌলবাদ ধারণা বা শব্দ ইসলামে পছন্দনীয় নয়। কারণ-

(১) এতে কাফির সম্প্রদায়ের সাথে বিশেষ করে খৃষ্টান প্রোটেষ্ট্যান্টদের সাথে তাশাব্বুহ্ বা মিল হয়, (২) এটি ভাল অর্থে চেয়ে মন্দ অর্থেই বেশী পরিচিত, (৩) এটি অশালীন ও অশোভনীয় লক্বব বা উপাধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, (৪) এর দ্বারা মুসলমানদের দোষী সাব্যস্ত করা হয় ও অপবাদ দেয়া হয় এবং মুসলমানদের মনে কষ্ট দেয়া হয়, ইত্যাদি।

অতএব, শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন মুসলমানের পক্ষে মৌলবাদী নাম ধারণ করে ফখর বা গর্ব করা বা গর্ববোধ করা জায়িয নেই। এ প্রসঙ্গে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সে আমাদের দলভূক্ত নয় যে বানানো মতবাদের দিকে আহ্বান করে।”

মহান আল্লাহ পাক তিনি উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে মুসলমান, মু’মিন, ঈমানদার, মুত্তাকী হিসেবে সম্বোধন করেছেন। অতএব, মুসলমানগণকে মুসলমান না বলে মৌলবাদী বলা ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নাজায়িয, হারাম ও কাট্টা কুফরী। তবে যদি কোন বিধর্মী বা নাস্তিকরা মুসলমানদেরকে মৌলবাদী বলে সম্বোধন করে, তাহলে সেটাও শরীয়তের দৃষ্টিতে গালী হিসেবে গণ্য হবে। (নাউযুবিল্লাহ্)

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+