সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

কোন মুসলমান সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ছেড়ে অন্য কোনো তর্জ-তরীক্বা বা নিয়ম-নীতি পালন করলে সে কশ্মিনকালেও মুসলমান হিসেবে সাব্যস্ত হবে না।


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ছেড়ে অন্য কোনো ধর্ম বা মতবাদ ও নিয়ম-নীতি তালাশ করবে তার থেকে সেটা কবুল করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”
কোন মুসলমান সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ছেড়ে অন্য কোনো তর্জ-তরীক্বা বা নিয়ম-নীতি পালন করলে সে কশ্মিনকালেও মুসলমান হিসেবে সাব্যস্ত হবে না।
স্মরণীয়, কেউ যদি মুসলমান দাবি করে এবং মুসলমান হিসেবে যমীনে বসবাস করতে চায় এবং মুসলমান হিসেবে ইন্তিকাল করতে চায়, তাহলে তার জন্যে ফরয হচ্ছে- অবশ্যই ইহুদী, মুশরিক, নাছারা, হিন্দু, বৌদ্ধ, মজুছী তথা বিধর্মীদের সর্বপ্রকার নিয়ম-নীতি ও তর্জতরীক্বা অনুসরণ করা থেকে বিরত থেকে সর্বাবস্থায় পবিত্র ও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার উপর ইস্তিকামত থাকা।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কিতাব ‘দারিমী শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ’ উনাদের মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, একদিন হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পবিত্র তাওরাত শরীফ উনার একটি কপি এনে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এটি পবিত্র তাওরাত শরীফ উনার একটি কপি। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি চুপ করে রইলেন। হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি তা পড়তে আরম্ভ করলেন। আর এদিকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেহারা মুবারক লাল হতে লাগলো। অর্থাৎ অসন্তুষ্টির ভাব ফুটে উঠলো। এটা দেখে হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম! আপনার জন্য আফসুস! আপনি কি দেখছেন না যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেহারা মুবারক কিরূপ ধারণ করছে? তখন হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেহারা মুবারকের দিকে তাকালেন এবং অসন্তুষ্টির ভাব লক্ষ্য করে বললেন, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার অসন্তুষ্টি থেকে এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অসন্তুষ্টি থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পানাহ চাচ্ছি। এবং আমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে মহান রব হিসেবে, সম্মানিত ইসলাম উনাকে দ্বীন হিসেবে ও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নবী হিসেবে পেয়ে খুশি হয়েছি। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, সেই মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! যাঁর অধিকারে আমার প্রাণ মুবারক রয়েছে, এ সময় যদি আপনাদের নিকট হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম (যাঁর উপর পবিত্র তাওরাত শরীফ কিতাব নাযিল হয়েছে) তিনি জাহির বা প্রকাশ হতেন আর আপনারা আমাকে ছেড়ে উনার অনুসরণ করতেন তবুও আপনারা সরল পথ থেকে অবশ্যই বিচ্যুত অর্থাৎ গুমরাহ হয়ে যেতেন। এমনকি তিনি যদি এখন হায়াতে থাকতেন আর আমাকে পেতেন তাহলে তিনিও অবশ্যই আমার অনুসরণ করতেন।” সুবহানাল্লাহ!

প্রশ্ন হচ্ছে- হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মতো জলীলূল ক্বদর রসূল উনার প্রতি নাযিলকৃত পবিত্র তাওরাত শরীফ হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মতো সম্মানিত হযরত হযরত ছাহাবী আলাইহিস সালাম তিনি নিয়ে আসার পরও যদি তা অনুসরণীয় ও গ্রহণযোগ্য না হয় এবং মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অসন্তুষ্টির কারণ হয় তবে অন্যান্য ধর্ম ও মতবাদগুলো গ্রহণ করা বা অনুসরণ করা কতটুকু মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অসন্তুষ্টির কারণ হবে? তা সহজেই অনুমেয়।

মূলকথা হলো- কোন মুসলমান সম্মানিত ইসলাম ছেড়ে অন্য কোনো তর্জ-তরীক্বা বা নিয়ম-নীতি পালন করলে সে কশ্মিনকালেও মুসলমান হিসেবে সাব্যস্ত হবে না। কাজেই সকলের জন্য ফরয হচ্ছে, সব অবস্থায় এবং সর্বক্ষেত্রে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকেই অনুসরণ করা। কেউ যদি মুসলমান দাবি করে এবং মুসলমান হিসেবে যমীনে বসবাস করতে চায় এবং মুসলমান হিসেবে ইন্তিকাল করতে চায়, তাহলে তাকে অবশ্যই ইহুদী, মুশরিক, নাছারা, হিন্দু, বৌদ্ধ, মজুছী তথা বিধর্মীদের সর্বপ্রকার নিয়ম-নীতি ও তর্জ-তরীক্বা অনুসরণ করা থেকে বিরত থেকে সর্বাবস্থায় পবিত্র ও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার উপর ইস্তিকামত থাকতে হবে।
-০-

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে