:::::::::ক্বিয়ামত::::::::::


অন্যান্য মাখলূকাতের মধ্যে পাহাড় সবচেয়ে শক্তিশালী।কারণ কোনো কোনো পাহাড় পাথরের তৈরি আর কোনো কোনো পাহাড় লোহার মত শক্ত পদার্থ দিয়ে তৈরি।এ পাহাড় দিয়ে মহান আল্লাহ পাক পৃথিবীকে স্থির করেন।অর্থাৎ পৃথিবী যখন সৃষ্টি করা হয়েছিল তখন পৃথিবী দুলতেছিলো।এ দোদুল্যমান অবস্থা থেকে পৃথিবীকে স্থির করার লক্ষ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি পাহাড় সৃষ্টি করেন।
এতো শক্ত,শক্তিশালী পাহাড়!অথচ সেদিন এটি তুলার মতো ,পশমের মত উড়ে যাবে!!!!
সেটাই মহান আল্লাহ পাক পবিত্র সূরা আল ক্বারিয়াহ শরীফে ইরশাদ মুবারক করেছেন,

يَوْمَ يَكُونُ النَّاسُ كَالْفَرَاشِ الْمَبْثُوثِ ﴿٤﴾ وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ الْمَنفُوشِ ﴿٥﴾
অর্থ মুবারকঃ সেদিন (ক্বিয়ামতের দিন) মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের ন্যায়।এবং পর্বতসমূহ হবে ধুনিত তুলা বা রঙ্গিন পশমের ন্যায়।

মানুষ সেদিন দিগ্বিদিক জ্ঞানশূণ্য হয়ে,পেরেশান হয়ে ছুটবে।
সেই পেরেশানী এখনি মানুষকে তাড়িয়ে বেড়াবে এমন হওয়াই উচিত ছিলো না??
অথচ অবস্থা কি?!?
হযরত রাবেয়া বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি দোযখ পানি দ্বারা নিভিয়ে দিতে চাইতেন,বেহেশতকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিতে চাইতেন এজন্য যে মানুষের মধ্যে কিছু মানুষ ইবাদত করে জাহান্নামের ভয়ে অথবা জান্নাতের আশায়।
কিন্তু উচিত ছিলো শুধুমাত্র রব তায়ালা উনার নির্দেশ তাই উনার সন্তুষ্টির লক্ষ্যেই ইবাদত বন্দেগী করা।
আর এখন মানুষ জান্নাতের লোভেও ইবাদত করে না,জাহান্নামের ভয়েও করে না।যে কতিপয় লোক মোটামুটি ইবাদত করে থাকে তার পিছনে উদ্দেশ্য থাকে লোকের সন্তুষ্টি অর্জন।যেদিকে হাওয়া সেদিকে পাল তোলা।হজ্ব করলে লোকে হাজী বলবে তাই হজ্ব করা,মনকে বুঝায় আল্লাহ পাক উনার ঘর যিয়ারত করে আসছে।সেখানে দান করবে না যে খানে দান করলে কবুল হবে।বরং সেখানেই করবে যেখানে লোকে দেখবে ,লোকে প্রশংসা করবে,দানশীল বলবে,তার সাথে গদগদ ব্যবহার করবে।
অসীম,সর্বশক্তিমান মালিকের অসীম ক্ষমতা সম্পর্কে বেখবর হওয়ার দরুন এই অবস্থা!
যখন ক্বিয়ামত হবে তখন কি অবস্থা হবে ভাবা যায় কি???
আর যারা এখনও আল্লাহ পাক উনার ডাকে সাড়াই দিলো না হারামেই মশগুল রইলো তাদেরই বা কি অবস্থা হবে???
মানুষ চিন্তা ,উদ্বিগ্নতা ,উৎকন্ঠা নিয়ে কতক্ষণ থাকতে পারে বলুন তো???
বেশিক্ষণ চিন্তা করলেই তো মানুষ অসুস্থ হয়ে যায়,কত জটিল রোগে ঘিরে ধরে।
আর সেদিন উৎকন্ঠা নিয়ে যখন মানুষ ছুটতে থাকবে ,আকাশ বিদীর্ণ হবে,চিৎকার, চেঁচামেচি ,শোরগোলের মধ্য দিয়ে ছুটবে আবার মরবেও না ঐদিনের অবস্থা কি হবে????
দুনিয়ার কিছুসময়ের উৎকন্ঠা তো বহুযুগের সমান মনে হয়!
আর সেই ক্বিয়ামত দিবস তো হবে ৫০ হাজার বছরের সমান লম্বা!!!!!!!!!
আল্লাহ পাক রক্ষা করুন,সেদিন আমাদের ইতমিনানে রাখুন ।আর সেই দিন ইতমিনানে থাকার জন্য এখন যেমন থাকা উচিত সে অবস্থা দান করুন।আমীন।wvwy

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে