ক্যানাডা’র ইসলামী সংগঠন “মুসলিমস ফেসিং টুমরো” কঠিনভাবে ধরেছে আহমদ শফিকে


ক্যানাডা’র ইসলামী সংগঠন “মুসলিমস ফেসিং টুমরো” কঠিনভাবে ধরেছে আহমদ শফিকে

প্রেরক-হাসান মাহমুদ (কানাডা)

প্রকাশক-আবদুল হাকিম চাকলাদার(অনুমোদনক্রমে)

পত্রিকাটির লিংক- http://womenchapter.com/views/2258

 

 

আহমদ শফি’র বক্তৃতার প্রেক্ষিতে

Muslims Facing Tomorrow
Address:
Suite 1704, 40 Richview Road
Toronto, ON M9A 5C1 Canada

 আমরা ইউটিউবে অত্যন্ত  বিতৃষ্ণার সাথে নারী সম্পর্কে আহমাদ শফি’র বক্তৃতা দেখেছি।  তাকে তার সমর্থকেরা ইসলাম উনার উঁচু পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ মনে করে, সে কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের  চেয়ারম্যান, হেফাজত-এ ইসলাম বাংলাদেশে-এর আমীর ও একটি মাদ্রাসার পরিচালক। কিন্তু তার বক্তৃতা শুনে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বানী মুবারক মনে পড়েছে, “ইসলাম শুরু করার সময় ছিল অপরিচিত, ইসলাম আবারো অপরিচিত হয়ে যাবে”।  তার বক্তৃতায় হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই সতর্কবাণী সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।  স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, ইসলামে নারীর অবস্থান ও ইসলাম উনার বাণী সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই নেই।

নারী-পুরুষ দুজনেরই সৃষ্টি একই  উৎস থেকে, কেউ কারো চেয়ে উৎকৃষ্ট নয় এবং সমাজ ও পরিবারের মঙ্গলের জন্য দুজনেরই সমান দায়িত্ব রয়েছে। তার উদ্ভট দৃষ্টিতে পুরুষের চেয়ে নারী নিকৃষ্ট ও সামাজিক ব্যাধির উৎস। কোরান যেখানে পুরুষের সাথে নারীরকেও ”মু’মিনাত” ও ”মুসলিমাত” বলে সম্বোধন করেছে, শফি সেখানে নারীকে হীনভাবে তেঁতুল বানিয়েছে, যা পুরুষকে ব্যভিচারে প্রলুব্ধ করে।পবিত্র সুরা নিসা শরীফ নাজিলই হয়েছে নারীর ওপরে; সেই সমাজের পরিপ্রেক্ষিতে নারীর অবস্থান উন্নত করেছে যেখানে আগে গোত্রীয় সমাজে শিশুকন্যাকে মেরে ফেলা হত।

কিন্তু শফি’র বক্তৃতা পবিত্র কোরান শরীফ উনার শিক্ষার বিপরীত। সে নারীশিক্ষার নিন্দা করেছেন, পেশাজীবী নারীরা সমাজে উস্কানী দিয়ে ব্যভিচার ছড়ায় বলে অপমান করেছে, এবং নারীকে গৃহবন্দী করার দাবী করেছে। সে নারীর ক্ষমতায়নের বিরোধী, বাইরে নারীর উপস্থিতি নিয়ে ক্রুদ্ধ হয়েছে, এবং সে বলেছে নারীর একমাত্র কাজ হলো পুরুষের স্বার্থ রক্ষা করা ও সন্তান পালন করা। এটা সুস্পষ্ট যে কোরান শরীফ ও হাদীস শরীফ  সম্পর্কে শফির জ্ঞানের অভাব রয়েছে।    স্বনির্ভর নারী হিসেবে হযরত খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার উদাহরণ থেকে সর্বত্র সর্বকাল শিক্ষা নিতে হবে।  দরিদ্র ও পশ্চাদপদ জাতির জন্য এ শিক্ষা আরো প্রয়োজনীয় যে, শক্তিশালী ও স্বনির্ভর নারীরা পরিবার ও সমাজের অগ্রগতির শক্তির উৎস যে সমাজে নারী-পুরুষ সমান সম্মান ও অধিকার নিয়ে সন্তানদের গড়ে তোলে।

কোরান শরীফে যে নারীকে ইসলামে উনার প্রতি ঘৃণার জন্য নিন্দা করা হয়েছে সে হল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার  বিরুদ্ধাচারনকারী  আবু লাহাবের স্ত্রী ও আবু সুফিয়ানের বোন।  ইসলাম উনার মুখোশে আহমাদ শফি এ যুগের আবু লাহাব।  এদের জন্যই মুসলিম সমাজের একটা অংশ এখন এত অজ্ঞ, এত পশ্চাদপদ । এদের জন্যই হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরে যুগে যুগে মুসলিম উম্মাহ’র অধ:পতন হয়েছে যার সতর্কবাণী তিনি করেছিলেন।  আহমাদ শফি শঠ এবং অজ্ঞ  দুটোই।  বাংলাদেশের ভেতরে-বাইরে প্রতিটি বিবেকবান মানুষের উচিত তাঁকে সম্পূর্ণ বর্জন করা।

 

লেখক পরিচিতি: রাহিল রাজা ও ড. সলিম মনসুর, যথাক্রমে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট, মুসলিম’স ফেসিং টুমরো

 

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+