কৃত্রিমভাবে সন্তান প্রজননের জন্য ‘স্পার্ম ব্যাংক’! নেপথ্যে উদ্দেশ্য কি?


প্রতিবেদনটি কপিপেস্ট করা হলঃ

শিরোনাম: “স্পার্ম ব্যাংক: প্রজননে আশার আলো”

বিয়ের প্রথম বছরেই চাকুরি পেয়ে স্ত্রী রিনাকে (ছদ্মনাম) নিয়ে কানাডায় প্রবাসী হন শফিক (ছদ্মনাম)। কিন্তু কিছুদিন যাওয়ার পর নতুন চাকরিতে আর ভালো লাগছিল না। এদিকে বিয়ের পর বেশ কয়েকটি বছর কেটে গেলেও বাচ্চা হচ্ছিল না শফিক দম্পতির। কানাডায় বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের পরামর্শও নিলেন। সমস্যা হচ্ছে, শফিকের শুক্রাণুতে (স্পার্মে)। এক সময় চিকিৎসকরা দাতা’র (ডোনারের) স্পার্ম নেওয়ার পরামর্শ দিলেন।  ভাঙ্গামন নিয়ে দেশে ফিরলেন এই দম্পতি। কিছুদিন পর দেশে নতুন চাকুরি হলো শফিকের। এরপর দেশেই এক ডাক্তারের শরণাপন্ন হলেন।
ধানমণ্ডির হারভেস্ট ইনফার্টিলিটি কেয়ার লিমিটেডের এমব্রায়োওলজিস্ট ও সায়েন্টিফিক ডিরেক্টর ডা. মুসতাক আহমেদ সবকিছু শুনে দুই ঘন্টার মতো পরামর্শ দিলেন এই দম্পতিকে।
হারভেস্ট ইনফার্টিলিটি কেয়ার লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে এই দম্পতির একটি মেয়েশিশুর জন্ম হয়।
এ প্রসঙ্গে ডা. মুশতাক আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘কানাডার ভিন্ন পরিবেশ এবং যোগাযোগে ভাষার সীমাবদ্ধতা তাদের সন্তান প্রজননের অন্তরায় ছিল। সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে মনকে স্থির এবং প্রফুল্ল রাখতে হয়। এছাড়াও অনেকেই বিদেশে গিয়ে তাদের নিজেদের চাকুরি বা ব্যবসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। আমি শফিককে বলেছিলাম, আপনি চিন্তামুক্ত হয়ে কয়েকটি দিন কাটান।’
২০০২ সালে বাংলাদেশে প্রথম টেস্টটিউব বেবির জন্ম হয়। টেস্টটিউব বেবির বিভিন্ন দিক নিয়ে বাংলানিউজের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন বাংলাদেশে টেস্টটিউব বেবির অন্যতম বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মুসতাক আহমেদ।
কিভাবে হারভেস্ট ইনফার্টিলিটি নিয়ে কাজ শুরু করলেন জানতে চাইলে বলেন, ‘মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তির একটি হচ্ছে সন্তান। আসলে যারা নিঃসন্তান তাদের হাহাকার কোনও ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। যার দুটি হাত নেই, নিজের খাওয়ার পয়সাও নেই, সেও একটি বয়সে এসে নিজের সন্তানের জন্যে ব্যাকুল হয়ে ওঠে। ’
তিনি বলেন, ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে বোঝা যাচ্ছিল বিশ্বে তিন ধরনের রোগীদের ভাল চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে। এগুলো হচ্ছে কিডনি রোগ, ক্যান্সার এবং ইনফার্টিলিটি (উর্বরতাহীনতা বা সন্তান জন্মদানে অক্ষমতা) ।
কিডনি এবং ক্যান্সারের রোগীদের সাহায্যে সরকার এগিয়ে এলেও জন্মদানে অক্ষমতার  (ইনফার্টিলিটি’র) শিকারদের সরকারের পক্ষে সাহায্য করা সম্ভব হবে না। এ প্রসঙ্গে ডা. মুসতাক আহমেদ আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল দেশে নিঃসন্তানদের জন্যে সরকারের অর্থব্যয় খুব সহজ কাজ হবে না। তাদেরকে মোটামুটি একটি প্রাকৃতিক ভারসাম্য (ন্যাচারাল ব্যালান্স) হিসেবেই ধরা হয়। এছাড়াও (উর্বরতাহীনতা) ইনফার্টিলিটির চিকিৎসাকে এখনো আমাদের  দেশে মৌলিক স্বাস্থ্যের অংশ হিসেবে দেখা হয় না।’
তিনি বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে ১৮ বছর পরেও আমাদের ধারণাই সত্যি হয়েছে। তবুও এখন পর্যন্ত সরকার কোনও ধরনের উদ্যোগ নেয়নি।’
বাংলাদেশে টেস্টটিউব বেবির ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেখানে ১৯৭৯ সালে বিশ্বে প্রথম টেস্টটিউব বেবি হয়ে গেল, সেটি আমরা চিন্তা করেছি ১৯৯৪ সালে। প্রায় ১৫ বছর পার করে।’
১৯৯৫ সালে ইনফার্টিলিটির উপর পড়াশোনা করতে সুইজারল্যান্ড যান ডা. মুসতাক। এরপর ইংল্যান্ডে প্রজনন প্রযুক্তি (রিপ্রোডাকশন টেকনোলজি) নিয়ে মাস্টার্স করেন। প্রজনন প্রযুক্তি হল প্রজননে সহায়তা করা বা প্রজননে অক্ষমদের প্রজনন-সক্ষম করে তোলার প্রযুক্তি। অর্থাৎ যাদের প্রজনন (রিপ্রোডাকশন) সাধারণ প্রাকৃতিক নিয়মে হচ্ছে না এই প্রযুক্তি দিয়ে তাদের প্রজননে  সহায়তা করা।
মুসতাক আহমেদ বলেন, ‘একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বা (গাইনোকোলজিস্ট) এবং ভ্রূণ বিশেষজ্ঞ (এমব্রায়োলজিস্ট) নিয়ে ২০০২ সালে আমরা প্রথম প্রজনন (হার্ভেস্ট) করলাম। এরপর ২০০৩ সালে প্রথম বেবি হয়। ৯৭ থেকে ২০০২ সালের এ সময়টা ব্যয় হয়েছে বিনিয়োগ ও যন্ত্রপাতি জোগাড় করতে। এরই মধ্যে আমরা প্রায় দেড়শো’র মতো টেস্টটিউব বেবি সফলভাবে জন্ম দিতে পেরেছি। শততম টেস্টটিউব বেবির জন্মদিন হয়ে গেল ২০০৯ সালে।’
সন্তান উৎপাদনের ব্যাপারে মুশতাক আহমেদ বলেন, ‘সাধারণত ১টি মেয়ের ১৪-১৫ দিনে একটি পরিপক্ক ভ্রূণ (ওবাম) বের হয়। এটি জরায়ু থেকে ডিম্বনালীতে প্রবেশ করলে পুরুষের সঙ্গে মিলিত হলে যদি ফার্টিলাইজেশন (নিষেক) হয়, এর সঙ্গে শুক্রাণু (স্পার্ম) মিলতে পারলে গর্ভধারণ হয়।
প্রাকৃতিকভাবে একটি ডিম্বাণু পরিপক্ব হওয়ার সময় ৮-১০টি এগ (ডিম্বাণু) নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু আমরা সুপারোবোলিশন প্রক্রিয়ায় ইঞ্জেকশন দিয়ে সেগুলোর বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করি।’
অনেকগুলো এগ ফার্টিলাইজেশন হলে অনেকগুলো ভ্রুণ তৈরি হয়। এগুলোকে শরীরের বাইরে ৩ থেকে ৫ দিন নার্চার কর হয়। এর মধ্যে বৃদ্ধি ভাল এমন ১ বা ২টি ভ্রুণকে স্ত্রীর শরীরে ছেড়ে দেওয়া হয়। এটাই সাধারণ প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় ভ্রুণটি জরায়ুতে নিজেকে সংযুক্ত করে। সারাবিশ্বে এভাবে টেস্টটিউব বেবি জন্ম দিতে ২৫ শতাংশের বেশি গর্ভধারণ হচ্ছে।
সংরক্ষণের (প্রিজারভেশন) ব্যাপারে মুশতাক আহমেদ জানান, সাসপেন্ড এনিমেশন প্রক্রিয়ায় ভ্রুণ ও এমব্রায়ো স্টক করা হয়। মাইনাস ১৮০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় রাখলে এগুলো জীবিত থাকে। অর্গানিলগুলো (শরীরের ক্ষুদ্র অংশ) চুপচাপ বসে থাকে সেগুলোর শক্তি শেষ হয় না। এ অবস্থা থেকে যদি কারো গর্ভধারণ হয়, তবে ভাল। কিন্তু না হলে বা আবার যদি গর্ভধারণ করতে চায়, সেক্ষেত্রে ওই ডিমগুলো ও এমব্রায়োগুলো আবার ব্যবহার করা হয়।

মুশতাক আহমেদ বলেন, ‘২০০৩ সাল থেকে শতাধিক ভ্রুণ ও এমব্রায়ো সংরক্ষণ করেছি। এগুলো এখন জমে গেছে। ভ্রুণ ও স্পার্ম সংরক্ষণের জন্যে আমরা একটা বাৎসরিক চার্জ রাখি। কারণ আমাদের নিয়মিত লিকুইড নাইট্রোজেন (জীবন্ত রাখার কৌশল) টপ আপ করতে হয়। এটা একটি স্পেশাল ডিভাইস।’
‘যারা অর্গানিলগুলো জমা রেখেছিলেন তাদের অনেকের বাচ্চা হয়েছে। একাধিক বাচ্চা নিতে এখন আর আগ্রহ নেই। জমে যাওয়ার কারনে আমরা ওইসব দম্পতির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু তারা আর এসবের ব্যাপারে দ্বায়িত্ব নিচ্ছেন না। পরে ১৮ মার্চ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে আবার যোগাযোগ করতে বলি।’
পুরুষদের শুক্রাণু সংরক্ষণের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘ সক্ষম শুক্রানু সংরক্ষণ করে রাখলে সেটি পরেও কাজে লাগানো যায়।’

‘আবার কেউ যদি বিদেশে যাওয়ার আগে শুক্রাণু সংরক্ষণ করে রেখে যেতে চান, সেটাও করা হয়। এর ফলে স্বামী বিদেশে থাকলেও দুজনের ইচ্ছা হলে স্ত্রী দেশে থেকেই গর্ভধারণ করতে পারেন।
এছাড়াও ক্যান্সারের থেরাপির কারণে পুরষদের শুক্রানু নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। এক্ষেত্রে ক্যান্সারের থেরাপি নেয়ার আগেই সংরক্ষণ করে রাখা যায়।
এছাড়াও কম বয়সে অনেকের মামস থাকলে অণ্ডকোষও ফুলে যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে তার শুক্রাণু ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
আবার কিছু ক্ষেত্রে কারণ ছাড়াই শুক্রাণু দিন দিন কমে যাচ্ছে, কিন্তু কারণ জানা যায় না, পরীক্ষা নিরীক্ষা করেও। তখন সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিই’, বলেন ডা. মুসতাক।
এ পর্যন্ত চারশোর উপর রোগীর চিকিৎসা দিয়েছেন এই চিকিৎসক। এর মধ্যে প্রায় দেড়শ নিঃসন্তান দম্পতির সন্তান হয়েছে।
উন্নত দেশগুলোতে ডোনার অর্গানিল প্রদান চালু রয়েছে কিন্তু বাংলাদেশের ধর্মীয় এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে এটা এখনো গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানান ডা. মুসতাক।
তবে সরকারের এ ব্যাপারে কোনও আইন নেই। বেসরকারি প্রচেষ্টাগুলোকে নিরব উৎসাহ দেয় সরকার।
মুসতাক জানান, তিনি নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী লোকগুলোর একজন মনে করেন যখন কোন নিঃসন্তান দম্পতি এসে বাচ্চা নিয়ে ফিরে যায়। তিনি বলেন, ‘এটা শুধু আমার পেশার সাফল্য নয়, একটা মানসিক তৃপ্তিও।’
তবে যাদের কোনও অবস্থাতেই বাচ্চা হয় না তাদেরও তেমন অভিযোগ থাকে না বলে জানান তিনি। ‘কারণ এখানে আসার পর আমরা ঘন্টাখানেক আলোচনা করি। সব কিছু জানার পর তারা অগ্রসর হয়। আমরা প্রথমেই পরামর্শ দিই’, বলেন ওই চিকিৎসক। চিকিৎসা পদ্ধতির খরচ সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘টেস্টটিউব বেবি নিতে সব মিলিয়ে খরচ পড়ে আড়াই থেকে ৩ লাখ টাকা।’
তবে এ চিকিৎসায় যে যন্ত্রপাতি ব্যবহার হয় সরকার যদি সেগুলো শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমোদন দেয়, এ চিকিৎসার খরচ কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব বলে জানান তিনি।
ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি ইনফারটিলিটি সেন্টার স্থাপন করতে কোটি টাকার উপর খরচ হয়। সরকারী উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরণের একটি সেন্টার স্থাপন করা সম্ভব হলে, গরীব রোগীরা কম খরচে চিকিৎসা পাবেন বলে আশা করেন তিনি।
কথা প্রসঙ্গে আরো জানা গেল, কিছুসংখ্যক দম্পতি আমেরিকা, কানাডা, থাইল্যান্ড ও ভারতে চেষ্টা করেও সন্তান লাভ করতে পারেনি। ডাক্তারের পরামর্শে দেশে চেষ্টা করায় সফল হয়েছেন।
মুসতাক আহমেদ জানান, ‘আগের চেয়ে বর্তমান সময়ে মানুষের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা বা প্রোডাক্টিভিটি কমে গেছে। মানুষ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। আবেগের উপস্থিতিও কমেছে। যেমন, ক্রমাগত দুঃচিন্তায় থাকলে প্রেসার হতে পারে। পুরুষের শরীরের শুক্রাণুগুলোও প্রচুর ছুটাছুটি করে। শরীরে প্রতি ৩ দিন পরপর ২০ থেকে ২০০ মিলিয়ন শুক্রাণু সার্কুলেশন হয়। এগুলোর শক্তি রয়েছে যা শরীর থেকে নেয়। যদি ব্যস্ততা, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি বাড়ে তবে শুক্রাণু শক্তি পায় না।
আবার আগে বিয়ের পর মেয়েদের গর্ভধারণের বয়সসীমা (ডিউরেশন) ছিল ১৫ থেকে ৪০, প্রায় ২৫ বছর। সেখানে এখন ২৫ থেকে ৪০, প্রায় ১০ বছর কমে গেছে।
এছাড়াও পুরুষদের অনেকেরই বিভিন্ন বাজে অভ্যাসের কারণে প্রজননের অঙ্গগুলোতে রোগজীবাণু হয় (জার্ম) হয়। এগুলো থেকে আক্রান্ত হয়।
বাংলাদেশে এ ধরনের প্রজনন চিকিৎসার প্রতিবন্ধকতা সর্ম্পকে ডা. মুসতাক বলেন, এখানে শিক্ষার হার কম। তাই এখনো অনেকই এ চিকিৎসা সর্ম্পকে জানেনই না।

এ ধরনের সন্তান প্রজননে কোনো ধরনের ধর্মীয় বাধ্য বাধকতা নেই বলে জানান তিনি।
কি ধরনের কাউন্সেলিং তারা করেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বিশেষ সেশনের মাধ্যমে মানসিক আশ্বস্ততা ও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা বৃদ্ধির জন্যে আমরা কাউন্সেলিং করি।’

ডা. মুসতাক জানান, কাউন্সেলিংয়েও যদি কাজ না হয় তবে যে সকল মহিলার বাধাহীন ডিম্বনালী রয়েছে ও ডিম্বস্ফোটন সন্তোষজনক তাদের জন্যে রয়েছে ওভারিয়ান স্টিমুলেশন। আল্ট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে ফলিকলের বৃদ্ধি মেপে উপযুক্ত সময়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হয়।
স্বামীর বীর্য থেকে সচল সক্ষম শুক্রানুগুলোকে ল্যাবে যন্ত্রের সাহায্যে আলাদা করে সঠিক সময়ে সুক্ষ ক্যাথেটারের সহায্যে স্ত্রীর জরায়ুতে প্রবেশ করানো হয় ইন্ট্রাইউটেরাইন ইনসেমিনেশন পদ্ধতিতে।
এরপরেই আসে টেস্টটিউব বেবীর প্রক্রিয়া। ডিম্বনালী বন্ধ হলে ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। ডিম্বাশয় থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ডিম্বাণু সংগ্রহ করে স্বামীর শুক্রাণুর সঙ্গে রেখে দেয়া হয়। জন্ম নেয়া ভ্রুণকে পরে স্ত্রীর জরায়ুতে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হয়।
কিন্তু শুক্রাণুর সংখ্যা, চেহারা বা গতিশীলতা ভাল না হলে ইন্ট্রা-সাইটোপ্লাজমিক স্পার্ম ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়। তারপর বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে ডিম্বাণুর মধ্যে শুক্রাণু ঢুকিয়ে দেয়া হয়। এরপর জন্ম নেয়া ভ্রুণকে স্ত্রীর জরায়ুর মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হয়। ইন্ট্রা-সাইটোপ্লাজমিক স্পার্ম ইনজেকশন প্রক্রিয়ার মতোই স্পার্মাটিড মাইক্রো ইনজেকশন ব্যবহার করে অপূর্ণ শুক্রাণু থেকে ভ্রুণ পাওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু যাদের বীর্যে কখনো শুক্রাণু পাওয়া যায় আবার কখনো পাওয়া যায় না অথবা যারা অনেকদিন দেশের বাইরে থাকেন, অতি হিম তাপমাত্রায় তাদের শুক্রাণু সংরক্ষণ করা যায়। তেমনি জন্ম নেয়া ভ্রুণকেও পরবর্তীতে ব্যবহারের জন্যে সংরক্ষণ করা যায়। এছাড়াও অ্যাসিসটেড হ্যাচিং পদ্ধতিতে নিষিক্ত ভ্রুণের খোলস চেঁছে দেওয়া হয়। এছাড়াও ব্লাস্টোচিস্ট ট্রান্সফার পদ্ধতিতে অধিক পরিপক্ক অবস্থায় ভ্রুণ দেয়া হয়।
বীর্য পরীক্ষার জন্যে সিমেন এনালাইসিস করা হয়। এছাড়াও ২৪ ঘন্টা সার্ভাইবিলিটি টেস্টের সুবিধা দেওয় হয়।

এছাড়াও টেস্টিকুলার বায়োপসি এবং টিভিএস করা হয় এ এখানে।

হাসপাতালের মূল্যবোধে বলা হয়েছে, তথ্যাদির গোপনীয়তা রক্ষা করা হয় এবং ধর্মীয় ব্যাপারগুলো মাথায় রেখেই চিকিৎসা দেয়া হয়।

সূত্র: বাংলানিউজ

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+